,

বঙ্গবন্ধুর ‘কে যেন’ এর দাবিদার এক সেনা পরিবার

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 16, 2019
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
৭১ এ মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসাদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে তাঁর কারাজীবনে সহায়তাকারীদের নাম বলতে গিয়ে ‘কে যেন’ উচ্চারণ করেন। সেই ‘কে যেন’ এর দাবিদার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধলাহাস গ্রামের সেনাসদস্য মৃত. কর্পোরাল এম এ মালেক সরকারের পরিবার। এ দাবিতে এত দিন ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ সেনা পরিবার।

শনিবার সকালে কুমিল্লা নগরীর নজরুল এভিনিউতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করে পরিবারে সদস্যরা।

মতবিনিময়ে পরিবারের পক্ষে তার ছেলে হুমায়ুন কবীর সরকার বলেন, পাকিস্তান ফেরত ওই বন্দিদের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুকে সহায়তাকারীদের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তিনি নাম মনে করতে না পেরে বলেন ‘কে যেন’! সেই ‘কে যেন”ই তার বাবা বলে দাবি করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তার পরিচয় দিতে চেয়েও নিয়ম কানুনের কারণে তা দিতে পারেননি।

হুমায়ুন করীর সরকার বলেন, তার বাবা কর্পোরাল এম এ মালেক পাকিস্তানের কারাগারে দায়িত্ব পালন করার সময় নামরিক আইন ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে গোপনে খাবার সরবরাহ করতেন। এ কাজ করতে গিয়ে একবার ধরা পড়ে কোর্টমার্শালে তার এম এ মালেক সরাকারের বিভিন্ন ধরণের সাজা হয়। ভাগ্যভাল থাকায় ’৭৩ সালের বন্দিবিনিময় চুক্তিতে প্রাণ বেঁচে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের হালিশহরের আর্টিলারী রেকর্ডস এর লে. কের্ণল মো. মুনির হাসান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ কার হয়েছে-দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত ১২/০২/৭২ এ উকারা, ০৮/০১/১৯৭৩বাননু এবং ১৯৭৩ সালের ৯ মার্চ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মান্ডি বাহাউদ্দিন বন্দি ছিলেন তিনি। ’৭৪ সালে সেই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর উচ্চারণ করা ‘কে’ই ছিলেন তার বাবা।

এম এ মালেককে বীরের মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যদিও এ মর্যাদার জন্য তখন তার বাবা কাজ করেননি তবু এ মর্যাদা পেলে এখন তার আত্মা শান্তি পাবে এবং একজন বীরকে তার যথাযথ মর্যাদা দেয়া হবে। তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাতও দাবি করেন।  মতবিনিময় সভায় পরবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।