,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরিবের চালে আ’লীগের নেতাসহ ৮৪ বড়লোকের নাম!

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
May 13, 2020
news-image

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

ধন মিয়ার চার ছেলে প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে পাকা ঘর। বাড়িতে দোতলা ঘর থাকা শওকত ওসমান ধানের ব্যবসা করেন। বাড়িতে পাকা ভবন থাকা বাচ্চু মিয়ার তিন ছেলে প্রবাসে থাকে। ধন মিয়া ৭নম্বর ওয়ার্ডে এবং শওকত ওসমান ও বাচ্চু মিয়া থাকেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। এই পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে ওএমএস’র নামের তালিকায়। এই তালিকায় রয়েছেন ১০নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের দুই ভাই। তাঁরা প্রত্যেকেই স্বচ্ছল। আছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও চালের ডিলার মো. শাহ আলমের ভাই, স্ত্রী, শ্যালক, মেয়ে পরিবারের ১২ সদস্য। ডিলারের রয়েছে বহুতল ভবন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমন ৮৪ জন ধনী মানুষের এর নাম উঠেছে ওএমএস’র তালিকায়। এ ছাড়া স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রী, একই নাম দুইবার, চাল নিতে আগ্রহী নন এমন নামও উঠানো হয়। ওই নামের সংখ্যা সাত। মূলত কাউন্সিলর, ডিলারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে এসব নাম উঠেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ৯ হাজার ৬০০ জন ওমমএস’র সুবিধা পাচ্ছেন। ওমমএস’র কার্ডধারিরা ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারেন। মূলত সমাজের হতদরিদ্রদের জন্য সরকার এ ধরণের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।

তালিকা তৈরিতে অনিয়ম নিয়ে গত সোমবার হওয়ার জেলা ওএমএস কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌঁলা খান ইতিমধ্যেই ডিলার মো. শাহ আলমকে কেন তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামর্থবান ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং তালিকা তৈরিতে সতর্কতা অবলম্বন করতে পৌর মেয়র নায়ার কবিরকে চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসক। চিঠির সঙ্গে ৯১ জনের নামের তালিকাও জুড়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তালিকা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে ৭, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। এ ছাড়া ২, ৩, ৫, ৭, ৮, ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কিছু অনিয়ম পাওয়া যায়। তবে ১, ৬ ও ১১ নং ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় নি। সবচেয়ে আলোচিত ১০নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ওএমএস ডিলার মো. শাহ আলমের পরিবার ও বেশ কয়েকজন স্বজনের নাম উঠেছে ওএমএস তালিকায়। এর মধ্যে তালিকার ১২ নম্বরে মেয়ে আফরোজা ও ১৬ নম্বরে রয়েছে স্ত্রী মোছাম্মৎ মমতাজ আলমের নাম। এ ছাড়াও শাহ আলমের তিন ভাই-বোন মো. সেলিম (পরিবহন শ্রমিক নেতা), মো. আলমগীর ও শামসুন্নাহারের নাম রয়েছে ৮, ৯ ও ২৭ নম্বর ক্রমিকে। আরেক ভাই খোরশেদ মিয়ার ছেলে প্রবাসী নাছিরের নাম রয়েছে সাত নম্বরে। তিন নম্বরে রয়েছে শ্যালক তাজুল ইসলাম ও ১৩ নম্বরে শ্যালক শফিকুল ইসলামের নাম। আরেক শ্যালকের স্ত্রী জান্নাতুল ইসলামের নাম রয়েছে ১০ নম্বরে। শাহ আলমের বোনের তিন দেব মতিউর রহমান, মাহবুবুর রহমান, লুৎফুর রহমানের নাম রয়েছে ৭২, ৭৩ ও ৭৪ নম্বরে।

ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকবুল হোসেনের ভাই গোলাম রাব্বানী, মো. হানিফ ও মো. আরিফের নামও রয়েছে তালিকায়। হানিফ ও গোলাম রাব্বানী পেঁয়াজ রসুন ব্যবসায়ী এবং আরেক ভাই আরিফ কাঁচামালের ব্যবসায়ী। এমন অনেক নাম রয়েছে গরীবের এই তালিকায়।

জেলা চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালক মো. শাহ আলম সাংবাদিকদেরকে বলেন, স্বচ্ছভাবে চলতে গেলে গরীব থাকতে হয়। আমিও গরীব। পৈতৃক টাকায় বিল্ডিং করেছি। এখন আমি ২২ লাখ টাকা ঋণ আছি। আমার মেয়ের জামাইও বেকার। এমন চিন্তা করেই নাম দিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে দেখুক।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ওএমএস কার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম ওঠার বিষয়টি জেলা ওএমএস কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় ৯১ জন সামর্থ্যবানকে চিহ্নিত করে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।