,

“স্যারে কইছে অহন আর এডি দেয় না”

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
August 28, 2021
news-image

আরিফ আজগরঃ

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর কক্ষের সামনে বসেছিলেন এক গেঁয়ো নারী। পায়ে জুতো নেই, ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, দেখেই বুঝা যাচ্ছে অসুস্থ।

কিছুক্ষণ পর তার কাছে এলো এক পুরুষ। পুরুষটির হাতে একটি কাগজ। ডিসি অফিসের কেউ একজনকে সেই কাগজটি দেখিয়ে কিছু একটা বলছিল। সেই লোক উচ্চবাক্যে তাদের চলে যাওয়ার কথাটি কানে এলো। সামনে এগিয়ে বিষয়টি জানার কৌতূহল জন্মালো।

লোকটির কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম কী সমস্যা। লোকটি তখন ফ্লোরে বসে থাকা নারীটিকে দেখিয়ে বললো, আমার ইস্তিরি, দীর্ঘদিন ধইরা অসুস্থ, ডিসি স্যারের এনে আইছিলাম একটু সাহাইয্যের লাইগ্গা, স্যার তো নাই, একজনেরে জিগাইলাম কিয়ারমু। উনি অফিসডা (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এর) দেহায়া কইছে এই স্যারের কাছে যান। হেয়ানো গেছিলাম আর “স্যারে কইছে অহন আর এডি দেয় না”।

হাতের কাগজটি নিয়ে পড়লাম। লোকটার নাম আবুল হাশেম, পেশায় একজন রিক্সাচালক। বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের কুশাইয়া গ্রাম। তার স্ত্রী জমিলা খাতুন বছর দুয়েক আগে স্ট্রোক করেন, পাশাপাশি প্যারালাইসিস হয়ে শরীরে একাংশ অবস হয়ে গেছে। আগে কথা বলতে পারতো, এখন একদম কথা বলতে পারে না। অসহায়, নিঃস্ব রিক্সাচালক আবুল হাশেম ৩ মেয়ে আর ১ ছেলের জনক। কোনোরকম পেটের দায় মেটানো আবুল হাশেম এর স্ত্রীর অসুস্থতায় আরো বেশি নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। চিকিৎসার সাহায্যের আবেদন পত্র নিয়ে দোর থেকে দোর দৌড়াচ্ছেন আবুল হাশেম।

আবেদন করেছিলেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরও। সেখান থেকে সাহায্য না দিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ডিসি অফিসে আবেদন করার। ডিসি অফিসে আবেদন করেও আশাহত আবুল হাশেম। তার স্ত্রীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা আর টানাপোড়েনের ঘরের চাল টেকাতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তার সাথে যোগাযোগ করার মোবাইল নম্বর – ০১৪০২৯৩২২৭২