,

নবীনগর কোম্পানিগঞ্জ সড়কের বেইলি সেতুতে দুলছে জনসাধারণের জীবন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
May 27, 2018
news-image

 

মো. দেলোয়ার হোসেন, নবীনগর :
প্রায় সাড়ে ৬ লাখ জনসাধারণের বসবাস ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা। এই নবীনগর উপজেলা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা যাওয়ার একমাত্র সড়ক নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়ক। প্রতিনিয়ত নানান কাজে এই সড়কটি দিয়েই এই উপজেলার জনসাধারণ ছুটে চলছে দুর্বার গতিতে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এই সড়কটি বর্তমান সরকারের আমলে স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে সংস্কার করা হলেও মেরামত বা পুন:স্থাপন করা হয়নি সড়কের মাঝে থাকা একাধিক বেইলি সেতু। এর মধ্যে কড়ই বাড়ি নামক স্থানের বেইলি সেতুটির অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সেতুটির সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের চোখ যেন এই সেতুটির দিকে পড়ছেই না।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে একাধিক বেইলি সেতু থাকলেও কড়ই বাড়ি বেইলি সেতুটি যায় যায় অবস্থা। সেতুটি নির্মানে ব্যবহার করা হয়েছে ষ্টিলের স্লিপার ও পাটাতন। বর্তমানে এই স্লিপার এবং পাটাতনে মরিচা ধরার ফলে পাটাতন ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়ে সেতুর অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। এ যেন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার মতো। এই সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক্টর, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ, শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁিক নিয়ে যাতায়াত করছে। প্রায় সময় গাড়ির চাকা সেতুর পাটাতনের গর্তে ঢুকে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক সময় যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, দেশ যেখানে ডিজিটালাইজড হচ্ছে সেখানে আমাদের নবীনগরে এখনো সেই মান্ধাতার আমলের বেইলি সেতু কেন? এ সেতুটি দীর্ঘদিন নাজুক অবস্থায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত এই সেতুটি যেন সঠিক সংস্কার বা পুন: নির্মান করা হয়। অচিরেই যদি এই সেতুটি মেরামত বা পুন:নির্মাণ করা না হয় তাহলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ মুঠোফোনে (০১৭৩০৭৮২৬৪৭) দৈনিক আজকের কুমিল্লাকে জানান, নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের বেইলি সেতুগুলির সাময়িক মেরামত আমরা করে দিব। তবে স্থায়ী ভাবে সেতু নির্মাণের জন্য বেইলি সেতুগুলির মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে, কিছু রিপোর্ট আমাদের কাছে চলে এসেছে আর কিছু বাকি আছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারব।