,

হৃদরোগে মৃত্যু নয় বরং আত্মহত্যা করেছিলেন ম্যারাডোনা!

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
December 23, 2020
news-image

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক মাস হতে চলল। কিন্তু বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়োগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে এখনও নানা রহস্য বেরিয়ে আসছে।

এবার তার মৃত্যু নিয়ে নতুন একটি তথ্য সামনে এসেছে। তার এক চিকিৎসক এই বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। সেই চিকিৎসক জানান, ম্যারাডোনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, বরং তিনি আত্মহত্যা করেছেন!

গেল ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। তবে ম্যারাডোনার সাবেক চিকিৎসক আলফ্রেডো কাহে দাবি করেন, আত্মহত্যা করেছেন ম্যারাডোনা। আলফ্রেডো দীর্ঘদিন ম্যারাডোনার চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের চিকিৎসক ছিলেন তিনি।

আর্জেন্টিনা রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ‘ম্যারাডোনার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক ধরনের আত্মহত্যা ছিল। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কোন কিছুই ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। ম্যারাডোনার মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই ওর সাবেক বান্ধবী ভেরোনিকার সঙ্গে কথা হয়েছিল। শুনেছি ম্যারাডোনা ভেরোনিকাকে বারবার বলত সে আর বাঁচতে চায় না। আমার কাছে ম্যারাডোনার মৃত্যু তাই আত্মহত্যাই মনে হয়েছে।’

এছাড়া ম্যারাডোনার চিকিৎসক আলফ্রেডো আরও এক বিস্ফোরক তথ্য দেন এই সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান, এর আগে ২০০৭ সালেও নাকি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন ফুটবল কিংবদন্তি।

তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে কিউবার রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত চলন্ত বাসে ধাক্কা মেরেছিল ম্যারাডোনা। তবে বড়সড় দুর্ঘটনা হয়নি। পরে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলে? জবাবে সে বলেছিল, হ্যাঁ, আজ পারলাম না, তবে ভবিষ্যতে আবার চেষ্টা করব।’

তবে এতকিছুর পরও ম্যারাডোনার মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আলফ্রেডো। হাসপাতালে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও তোলেন তিনি। এছাড়া চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সম্পর্কে আলফ্রেডো বলেন, কোনো সন্দেহ নেই দিয়েগোর চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর তাকে কেন বাড়িতে পাঠানো হলো এ নিয়েও অভিযোগ তোলেন ম্যারাডোনার সাবেক এই চিকিৎসক।

এদিকে, ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তার চিকিৎসক লিওপোল্ডোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ তুলেছিল ম্যারাডোনার পরিবারও।