All posts by jitu

চান্দিনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিক খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা দোল্লাই নবাবপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আশিকুল ইসলাম আশিক খান চান্দিনা উপজেলার বরকরই এলাকার মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে।

চান্দিনা থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগের একটি তদন্তাধীন মামলায় তাকে গ্রেফতার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলার চেষ্টা, যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলাকালে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এক যুবককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) নগরীর মোগলটুলি এলাকায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই দণ্ডাদেশ দেন। আদালত পরিচালনা করেন কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।

জানা যায়, অভিযান চলাকালে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাধা সৃষ্টি করেন। সে সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আচমকা কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও রামদা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং হামলার চেষ্টা চালান।

এ ঘটনায় সেখানে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার চেষ্টার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন অনুযায়ী ওই যুবককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডিত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা জানায়, নগরবাসীর সুবিধার্থে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কুসিকের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা বা আইনি কাজে বাধা সৃষ্টির মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) রাতে উপজেলার বিটেস্বর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিটেস্বর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মো. হান্নান মিয়া। সে ওই ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের শাহ আলম মিয়ার ছেলে। একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান। তিনি নোয়াদ্দা গ্রামের প্রধানবাড়ীর আবুল কাসেমের ছেলে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক আজ শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

কিশোরীর আপত্তিকর ভিডিও: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ওই সুপারকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মাদরাসার সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম।

আটককৃত ব্যক্তি হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০)। তিনি বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, এক কিশোরীর সঙ্গে মিজানুর রহমানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে মাদরাসা কমপ্লেক্সে আটকে রাখেন। পরে কয়েকজন তাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন এবং মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেন।

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম বলেন, মাদরাসা সুপারের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে কিছু ভিডিও দেখে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে সে বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। সেখান থেকে ভিডিওগুলো স্থানীয় কয়েকজনের হাতে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে তার দাবি।

অভিযোগকারী কিশোরী জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করতেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন। কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, পরে তাকে অচেতন করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন মাদরাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলে নিরাপদ খাবার পানির স্থাপনা উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার পানির নতুন স্থাপনার উদ্বোধন করা হয়েছে। Water & Sanitation for Urban Population (WSUP) বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শনিবার (১৫ আগস্ট) এ স্থাপনার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা টিপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান।

নতুন এই নিরাপদ খাবার পানির স্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতনতা তৈরিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় অনুষ্ঠানে অএ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং WSUP বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ওয়ারী থানা ছাত্রদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত ওয়ারী থানা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়া এই কমিটির অনুমোদন দেন।

নবগঠিত এই কমিটিতে আমজাদ হোসেন মামুনকে সভাপতি এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন:সিনিয়র সহ-সভাপতি: রাব্বি ইসলাম নাঈমসহ-সভাপতি: মোবারক হোসেন মুন্নাসিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আসাদ হোসেনযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মেহেদী হাসান সিয়ামযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আকাশ চৌধুরী ইমনসাংগঠনিক সম্পাদক: ফাইজান ইকবাল আশিককমিটি অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে ওয়ারী থানা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নবগঠিত এই আংশিক কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের তৈয়া চৌকিদারের বাড়িতে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে পানি ছুড়ে মারার অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির মোস্তফা ও জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) তৈয়া চৌকিদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ অভিযোগ করেন সৌদি আরব থেকে এক নারী। সেও একই বাড়ির বাসিন্দা। একই সময় বিষয়টি বরুড়া থানাকেও তিনি অবগত করেন বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী তারা ঘরের জানালা দিয়ে একই বাড়ির এক নারীর উপর পানি ছুড়ে মারার অভিযোগ তুলে মোস্তফা ও জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর সঙ্গে এমন আচরণ মানবিক ও সামাজিকভাবে কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সার নিয়ে অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স: কৃষি সচিব

শেখ ফরিদ উদ্দিন:

কৃষি সচিব মোঃ সেলিম খান বলেছেন, কৃত্রিম সার সংকট তৈরী ও কৃষকের সার প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সার নিয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাঠপর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব মো: সেলিম খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সারা দেশের মত রাজশাহী বিভাগেও সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে । প্রয়োজনে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদানে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু সরবরাহে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তারপরও যদি কোন অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সার সংকট তৈরী ও কৃষককে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠিন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সারের দূর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই কোন ভাবে ছাড়দেয়া হবে না। সরকার এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে।

তিনি আরও জানান, সারাদেশব্যাপি সার ব্যাবস্থাপনায় অনিয়ম, দূর্নীতি প্রতিহত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন বিভাগে মাঠপর্যায়ে সরজমিন পরিদর্শন ও সরাসরি কৃষকদের সাথে মতবিনিময়ের কর্মসূচি গ্রহন করেছি। এমন কর্মসূচীর অংশ হিসাবে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় শনিবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও কৃষকের সাথে মতবিনিময় করেছি।

কৃষকের সার প্রাপ্তিতে সমস্যাবলি সমাধান কল্পে মন্ত্রনালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সার ডিলার প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন. ম বজলুর রশিদ এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ এর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ডিএই এর মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) এর চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন।

তাছাড়া রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলাপ্রশাসকগন, সকল জেলার কৃষি বিভাগের উপ পরিচালকগন, পুলিশের ডি আইজি জি, বিজিবি ও র্যাব কর্মকর্তা, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলার সার ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগনসহ উপজেলা কৃষিকর্মকর্তাসহ সংশ্লিস্ট কর্কর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্মসূচীর অধিনে আজকে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানাযায়। একই কর্মসূচির আওতায় আগামীকাল রবিবার রংপুর বিভাগেও সার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি তথ্য বিভাগের পরিচালক মশিউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাংলাদেশ, বাস্তবায়নের পথে অদৃশ্য বাধা

বিশেষ প্রতিনিধি:

একটি দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন শুধু সরকারের নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করে না; সেই নীতি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার ওপরও নির্ভর করে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপথ। বাংলাদেশও এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারকে একদিকে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের যে লক্ষ্য সামনে এনেছেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি শক্তিশালী, উৎপাদনমুখী ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে জনগণের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’—এই স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও উদ্যোগে সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপরেখাও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি খাতের বিকাশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করছেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে হলে শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে, নতুন শিল্প গড়ে উঠতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদানই সবচেয়ে বেশি। উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের বড় অংশই এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

অতএব, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যদি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী না হন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করাও কঠিন হবে। কারণ কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী একটি দেশের বাজারে প্রবেশের আগে সেখানকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বেসরকারি খাত এখনো নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দলীয়করণের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মামলা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যবস্থা এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক চাপের কারণে ব্যবসায়ী সমাজে আতঙ্ক তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে? সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইতিবাচক বার্তা এলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত নয়। বরং সরকারের অভ্যন্তরের কিছু মহলের নিষ্ক্রিয়তা, গড়িমসি কিংবা ভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

প্রথমত, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা দ্রুত চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। উৎপাদন ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা। বিনিয়োগের প্রথম শর্ত নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী বারবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও চাঁদাবাজি, দখলদারি, মব সন্ত্রাস এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একজন উদ্যোক্তা যদি নিজের প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে তিনি নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত হবেন।

তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অভিযোগ, কুৎসা ও চরিত্রহননের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করে তা না পেলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠছে। প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

চতুর্থত, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি। রাজনৈতিক বিবেচনা বা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নিষ্পত্তি দেখা যাচ্ছে না। একজন উদ্যোক্তা যদি বছরের পর বছর মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক কিংবা আইনি জটিলতায় থাকেন, তাহলে তার পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নতুন বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পঞ্চমত, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উদ্যোক্তাদের মূল্যায়ন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদানই ব্যবসায়ীদের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও এখনো ‘আমার লোক’ ও ‘তোমার লোক’ বিবেচনায় আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ভাগ করলে অর্থনীতির ক্ষতি হয়। কারণ বিনিয়োগকারী শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন।

ষষ্ঠত, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক হিসাব জব্দ। ব্যবসার সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কিংবা নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য উদ্যোক্তাদের নিয়মিত বিদেশে যেতে হয়। কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ছাড়া দীর্ঘদিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একইভাবে ব্যাংক হিসাব দীর্ঘদিন আটকে থাকলে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমও থমকে যেতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া বজায় রেখেও ব্যবসা সচল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সপ্তমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট। শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে গ্যাসের সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু উদ্যোক্তা নয়, শ্রমিক, সরবরাহকারী, ব্যাংক এবং সামগ্রিক অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অষ্টমত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ব্যবসা শুরু করা, অনুমোদন নেওয়া, জমি ও ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়া কিংবা কর-ভ্যাটসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রতা এখনো উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসা সহজ করার নির্দেশনা দিলেও মাঠপর্যায়ে কোথাও কোথাও পুরোনো পদ্ধতি ও জটিলতা বহাল রয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত যদি নিচের স্তরে গিয়ে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

নবমত, সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো। বিভিন্ন কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এসব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া, প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া এবং কর্মসংস্থান রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া অর্থনীতির স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের পরও যদি সংশ্লিষ্ট মহলের অসহযোগিতায় এসব উদ্যোগ আটকে যায়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।

দশমত, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সহজীকরণ। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন পর্যায়ে এখনো হয়রানি ও জটিলতা রয়েছে। কর আদায় রাষ্ট্রের জন্য জরুরি হলেও তা যেন বিনিয়োগ ও ব্যবসার পথে প্রতিবন্ধক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও বেসরকারি খাতকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র নীতি ও পরিবেশ তৈরি করবে, আর উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবেন। এই পারস্পরিক সহযোগিতাই হতে পারে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্বের সফল মুক্তবাজার অর্থনীতিগুলোর অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। সরকার ব্যবসা করবে না; সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে উদ্যোক্তারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন, বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন। বাংলাদেশেও সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু ওপর থেকে নির্দেশনা দিলেই হবে না; সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অভ্যন্তরে যদি এমন কোনো মহল থাকে যারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে, উদ্যোক্তাদের আস্থা নষ্ট করছে কিংবা বিনিয়োগের পথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কারণ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সময় প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। একটি কারখানা বন্ধ থাকা মানে শুধু একটি ব্যবসা বন্ধ থাকা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকের ঋণ, সরবরাহকারীর ব্যবসা, সরকারের রাজস্ব এবং একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একইভাবে একজন উদ্যোক্তার আস্থা হারানো মানে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিনিয়োগ হারানো।

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই শুধু অর্থের সংকট নয়—আস্থার সংকট, বাস্তবায়নের সংকট এবং নীতির সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের সমন্বয়ের সংকট। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে উন্নয়নবিরোধী মানসিকতা, অযথা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং উদ্যোক্তাবিরোধী আচরণের অবসান ঘটাতে হবে।

দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্য শক্তিশালী হলে তবেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আর বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রাজস্ব বাড়বে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক স্বপ্নকে শুধু নীতিপত্রে নয়, বাস্তব অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়—প্রধানমন্ত্রী যখন অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখন সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বাধা তৈরি করছে কারা? তাদের চিহ্নিত করা এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম, দক্ষ ও আন্তরিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

দেবিদ্বারের ইউসুফপুর ইউনিয়নে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক ইয়ামিন আলী সদস্য সচিব জাবেদ- মূখ্য সংগঠক শামীম

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় ছাত্রশক্তি দেবিদ্বার উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে অনুমোদিত কমিটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে মো. ইয়ামিন আলীকে আহ্বায়ক, মো. হৃদয় সরকারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাবেদ খান পাঠানকে সদস্য সচিব এবং শাকিব আল হাসান শামিমকে মুখ্য সংগঠক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংগঠক রাখা হয়েছে। অনুমোদিত কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যসহ মোট কয়েকটি সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের।

জাতীয় ছাত্রশক্তি দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাজেদুল রাশেদ রাফসান, সদস্য সচিব তানভীর হাসান তুষার এবং মুখ্য সংগঠক কাজী মিজানুর রহমানের সুপারিশক্রমে ইউসুফপুর ইউনিয়ন শাখার এ কমিটি অনুমোদন করা হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্রসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিও এক বছরের জন্য অনুমোদিত।

নতুন কমিটির নেতারা দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ইউসুফপুর ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।