All posts by jitu

যুক্তরাষ্ট্র্রে ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্র্রে ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রকে ধর্ষণে অভিযুক্ত একজন নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রকে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টেনেসির কোভিংটন পুলিশ বিভাগের এক বিবৃতিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ অ্যালিসা ম্যাককমন (৩৮) নামের ওই শিক্ষককে তার কোভিংটনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রকে লাঞ্ছিত ও যৌন হয়রানি করার নতুন অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে।

পিপল বলছে, এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর চার্জার অ্যাকাডেমির সাবেক ওই শিক্ষককে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে দুই সন্তানের জননী এই শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেননি।

টেনেসির কোভিংটন পুলিশ বিভাগ (সিভিডি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় বলেছে, সাবেক শিক্ষক অ্যালিসা ম্যাককমন একটি নতুন ফোন নম্বর ব্যবহার করছেন এবং একজন ভুক্তভোগীর সাথে আবারও যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে সিপিডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তথ্য পেয়েছে।

বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, কিশোরদের কাছে পরিচিত একটি কোড ওয়ার্ড ব্যবহার করে ম্যাককমন এক ভুক্তভোগীকে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রায়ই নগ্ন ছবি পাঠানোর আগে একই ধরনের কোড পূর্বেও ব্যবহার করেছিলেন তিনি। আর ওই কোডের মাধ্যমে কিশোর একা আছেন কি না তা তিনি নিশ্চিত হতেন ম্যাককমন। পূর্বে একই নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগী কিশোরের সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।

কোভিংটনের পুলিশ প্রধান ডোনা টার্নার বলেছেন, ‘ম্যাককমনের কর্মকাণ্ড কেবল আতঙ্কিত হওয়ার মতোই নয়, বরং সিপিডি তার সই করা বন্ডের শর্তাবলির পরিষ্কার লঙ্ঘনের বিষয়েও উদ্বিগ্ন।’

পরে অভিযুক্ত নারী শিক্ষককে টেনেসির টিপটন কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছাত্রের সাথে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত এই শিক্ষককে টিপটন কাউন্টির জেনারেল সেশন কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে। তার আগে পর্যন্ত তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেলো স্কুল শিক্ষকের

লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেলো স্কুল শিক্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দৌলতগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল ইসলাম লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ ইউনিয়নের আউশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লাকসাম বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক ছিলেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, লাকসাম-দৌলতগঞ্জ এলাকায় রেললাইনের পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এসময় ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তার শরীরের একটি অংশ। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

বিবাহিত ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ একেবারেই অযৌক্তিক : তথ্যমন্ত্রী

বিবাহিত ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ একেবারেই অযৌক্তিক : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র আবাসিক হলে থাকা বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের হল ছাড়তে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। জবির বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ দীপিকা রাণী সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের হল ছাড়তে বলা হয়। এ সিদ্ধান্তকে একেবারেই অযৌক্তিক বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, আমরা কাগজে নিউজটা দেখেছি। আমি আশ্চর্য হয়েছি যে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে নিতে পারে। বিয়ে করলে ছাত্রীরা হলে থাকতে পারবে না এরকম সিদ্ধান্ত আমার দৃষ্টিতে একেবারেই অযৌক্তিক। এরকম সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়, এটা হতেই পারে না।

দেশে বিদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনমুক্ত (ক্লিনফিড) সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরে কতটুকু উন্নতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কী করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্লিনফিড না থাকার কারণে প্রতিবছর কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যেত৷ এখন ক্লিনফিড চালু হওয়াতে কী লাভ হয়েছে সেটি টেলিভিশনের মালিকরা বলতে পারবেন। তবে কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো আছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিদেশি টিভির মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শন বা বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়াতে আমাদের টেলিভিশন শিল্প উপকৃত হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের দেশ থেকে যে ৫০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন চলে যেত সেটি বন্ধ হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মিডিয়া শিল্পের জন্য ভালো হয়েছে। ক্লিনফিডের উপকার শুধু টেলিভিশন শিল্প পাচ্ছে তা নয়, পুরো মিডিয়া শিল্পই এর সুফল পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কিছু আইএসপি প্রতিষ্ঠান যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার তারা কিন্তু ক্লিনফিড চালাচ্ছে না। তারা তাদের মতো ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। সেটি নিয়ে কাজ চলছে৷ আজকে এটিও একটি আলোচনার বিষয় এবং এটিও বন্ধ করতে হবে।

মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কোনো ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কোনো ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসবাদ বা একইভাবে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

লন্ডনের মেথোডিস্ট সেন্ট্রাল হল ওয়েস্টমিনস্টারে তার সম্মানে আয়োজিত একটি কমিউনিটি সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৩-১৪ সালে যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন ও লঞ্চসহ বহু ধরনের যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে জনগণকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছিল। তথাকথিত আন্দোলনের নামে।

তিনি জানায়, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নারীসহ অনেক লোক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছিল এবং তারা তাদের আঘাত নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্দোলনে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সন্ত্রাসবাদে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা এবং দেশের সম্পত্তি নষ্ট করা তাদের আন্দোলন। এর আগে ২৯ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জীবন নিয়ে এমন কোনো চেষ্টা করা হলে কোনো ক্ষমা করা হবে না।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জানান, গণতন্ত্রের কথা বলা বিএনপির পক্ষে শোভা পায় না কারণ তারা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ধোঁকাবাজি খেলেছে।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই দেশের জনগণ তাদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ কখনই ভোট কারচুপিকারীদের ক্ষমতায় বসতে দেয় না। বিএনপি-জামায়াত জোট ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করে এবং সেই তালিকা দিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করে।

উল্টো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অনেকেই তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার সরকার নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সমস্ত সংস্কার করেছে।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা স্বচ্ছ ব্যালট বক্স চালু করেছে এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছে।

শেখ হাসিনা জানায়, বিএনপি এখন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আন্দোলন করছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তার ওপর ন্যস্ত নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড স্থগিত করার পর খালেদা জিয়াকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার কিছুই করার নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী যা করতে পারেন তাই করেছেন।

অনেকেই এখন যুক্তি দিচ্ছেন, ‘আইন নিজের গতিতে চললেও খালেদা জিয়ার প্রতি আমি বেশি সহানুভূতি দেখাতে পারি’। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড, ২১ আগস্ট, ২০০৪ গ্রেনেড হামলা, শেখ রেহানার বাড়িটিকে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে পরিণত করা, যা তিনি জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রণীত আইনের অধীনে পেয়েছিলেন এবং তা বিএনপি সরকারের লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখ করেন। ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর তাকে (শেখ হাসিনা) খালেদা জিয়ার বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না দেবার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কীভাবে খালেদা জিয়ার জন্য আমার কাছ থেকে আরও সহানুভূতি আশা করে।

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পটভূমিতে, অনুমোদন এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, তিনি খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করতে তার সরকারের পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল ও ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত করেছে এবং এখন ২০৪১ সালের মধ্যে এটিকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

ভারত কখনও বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের চিন্তা করে না: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

ভারত কখনও বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের চিন্তা করে না: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

স্টাফ রিপোর্টার:

‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা যেমন ভৌগোলিক, তেমন ভাষার আবার সংস্কৃতিরও। ভারত কখনও বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের চিন্তা করে না। এটি আমাদের বিশেষ সম্পর্ক।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নে কাশিনগর ডিগ্রি কলেজে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

সোমবার বিকালে ভারত সরকারের অর্থায়নে ডিগ্রি কলেজের নির্মিত স্নাতক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন কাশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন ও অন্যান্য আয়োজকরা।

এসময় ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ভারত স্বাধীনতার পর থেকে সহযোগিতা করে আসছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধু দেশের প্রতি ভারতের উপহার।

২০২০ সালে করোনা সংকটের মাঝেই এই ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। গত বছরেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাংলাদেশে অনেক প্রজেক্ট ভারতের অর্থায়নে হচ্ছে। এই কাজটি সবচেয়ে ভালো ও সমৃদ্ধ।

আমি বিশ্বাস করি এই অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মানে এগিয়ে যাবে। এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আর বাইরে যেতে হবে না। সামাজিক ও আর্থিক উন্নতি হবে।

এসময় তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারত বহু আগ থেকেই বাংলাদেশের মিত্র। দুদেশ এক সাথেই সমৃদ্ধ হচ্ছে।

যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ভারত যে সহযোগিতা করেছে তা বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা। এতেই বুঝা যায় বাংলাদেশকে ভারত প্রথম প্রায়োরিটি দেয়। বাংলাদেশের রেলপথ, সড়ক পথসহ সকল ক্ষেত্রেই ভারতের অবদান রয়েছে। এই উন্নয়ন সহায়তা সবসময় অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ভারতীয় হাই কমিশনার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মজিবুল হক মুজিব এমপি, দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কেমন আছেন কুবির ৪৪ ভাগ ছাত্রী!

কেমন আছেন কুবির ৪৪ ভাগ ছাত্রী!

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ অতিবাহিত হলেও নানা বঞ্চনা এবং বিভিন্ন সংকটে কাটছে ছাত্রীদের অবস্থা। ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের জন্য নেই কোন সাধারণ কক্ষ এবং পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা।

আবার ছাত্রীদের অনেকে নিজ বাসা থেকে এসে ক্লাস করায় ক্লাস পরীক্ষার মাঝে দীর্ঘ বিরতিতে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নারী কর্মকতা ও কর্মচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তরের একাডেমিক শাখার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (৭ আগস্ট ২০২৩) জানা যায়, মোট শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ ছাত্রী। তবে ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষায়িত সেবা অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হল (নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল এবং শেখ হাসিনা হল) মিলিয়ে মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে। আবার আসন সংকট থাকায় হলের বেশকিছু সিটে দুজন করে শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। যা মোট ছাত্রীর ২৫ শতাংশ।

হল প্রভোস্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে সিট সংখ্যা ১৯৭ টি হলেও শিক্ষার্থী থাকেন ৩০০ জন। অপরদিকে শেখ হাসিনা হলে সিট সংখ্যা ২৫৬ টি হলেও সেখানে শিক্ষার্থী থাকেন ৩৬৬ জন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এবং অন্যান্য অনুষদ ভবনগুলোর কোনটিতেই নেই সাধারণ কক্ষের সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থাকলেও যেসকল ছাত্রীরা ধর্মচর্চায় আগ্রহী তাদের জন্য নেই নামাজ পড়ার নির্ধারিত কোন স্থান।

আবার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও তাদের জন্যেও নেই কোন ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার। ফলে নারী সদস্যদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের মধ্যে শুধু বিজ্ঞান অনুষদে মেয়েদের জন্য নামাজের কক্ষ রয়েছে। কিন্তু সেখানেও অযু করার ব্যবস্থা নেই। এমনকি প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্যও নামাজ আদায়ের কোনো স্থান দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক কালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মেয়েদের জন্য সাধারণ কক্ষ। তাছাড়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য সাধারণ কক্ষের সুবিধা রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র নারী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ছাত্রীদের দুটি হলে প্রভোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরুষ শিক্ষকদের। যদিও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায় ছাত্রী হলগুলোতে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয় নারী শিক্ষকদের।

ছাত্রীদের অভিযোগ, একজন নারী প্রাধ্যক্ষের কাছে কাছে ছাত্রীরা যেভাবে সাবলীলভাবে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে পারেন, কোনো পুরুষ প্রাধ্যক্ষের কাছে তা বলতে পারেনা তারা।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান আল আভী বলেন, মেয়েদের জন্য বিশেষ রুম বা কমন রুম দরকার। প্রায় সময়ই দেখা যায় একটা ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ক্লাসের জন্য বাহিরে বারান্দায় বা সিঁড়িতে অবস্থান করতে হয়। এটা অনেকটাই যন্ত্রণাদায়ক। আবার কিছু ছাত্রী আছে যাদের ছোট শিশু নিয়ে ক্লাসে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে বাহিরে দাঁড়িয়ে অবস্থান করাটা কিংবা শিশুকে খাবার খাওয়ানোর জন্য হলেও একটা বিশেষ কক্ষ দরকার, যেখানে তারা নিরাপদে সকল কার্যক্রম করতে পারবে, কিছুটা সময় অবস্থান করতে পারবে। যদি শিশুদের জন্য একটি ডে-কেয়ার কক্ষ দেয়া যায়, তাহলে অনেক মা শিক্ষার্থীই উপকৃত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নামাজ পড়ার জন্য কোনো জায়গা নেই। আলাদা রুম থাকলে এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগতো না। এই সমস্যার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান নেই।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কমনরুম নেই, এটা থাকাটা খুব জরুরি। লম্বা সময় ধরে ক্যাম্পাসে থাকতে হয়, এক্ষেত্রে মেয়েদের ওয়াশরুমে যাওয়া, হাইজিন মেনটেইন করা কষ্টকর হয়ে যায়। এছাড়াও কিছু মেয়েলি ব্যাপার আছে যেগুলোর জন্য প্রাইভেসি দরকার। সাধারণ কক্ষে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে অনেক দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, বড় বড় মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। একইরকম জরুরি ভিত্তিতে মেয়েদের সমস্যাগুলোর দিকে আলোকপাত করে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান জানান, সাধারণ কক্ষ আর নামাজের কক্ষের ব্যাপারে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, এটি অনেক পুরনো দাবী। এ ব্যাপারে আমি উপাচার্য মহোদয়কে বলেছি, ‘তিনি বলেছেন এই মুহূর্তে আমাদের এই ক্যাপাসিটি নেই, তবে এই ব্যাপারটি সমাধানের জন্য কাজ করবো’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন বলেন, ছাত্রীদের জন্য সাধারণ কক্ষ থাকা অবশ্যই দরকার কিন্তু বর্তমান ক্যাম্পাসে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। বর্তমানে এখানে সকল সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নতুন ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সকল সুবিধাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যখন নতুন ক্যাম্পাস চালু হবে তখন এই ক্যাম্পাস অনেকটা খালি হয়ে যাবে, তখন আমরা এখানে কমনরুমের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

কুবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষক দ্বন্দ্ব

কুবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষক দ্বন্দ্ব

কুবি প্রতিনিধি:

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বঙ্গবন্ধু কাপ আন্ত:বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে উপাচার্যের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ২-০ গোলে আইন বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে খেলা শেষে পক্ষপাতিত্বমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ এনে রেফারির দিকে তেড়ে যান আইন বিভাগের খেলোয়াড়রা। এসময় সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত তাঁদেরকে থামাতে এগিয়ে গেলে তাঁর সাথে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি ঘটে। এক পর্যায়ে অমিত দত্তকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর নাজমুল হোসেন হৃদয় নামে এক শিক্ষার্থী দৌড়ে চলে যেতে লাগলে তাঁকে বাধা দেন ক্রিড়া কমিটির আহ্বায়ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আইনুল হক। এরপর তাঁকে মারধর করেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা। এসময় আবারও হাতাহাতি শুরু হলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও সেখানে গিয়ে যুক্ত হোন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সে ফুটেজে এসবের সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত বলেন, ‘উদ্ধুত পরিস্থিতে প্রক্টরিয়াল বডির যে কাজ ছিল, আমি তা-ই করেছি। শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে রেফারির দিকে তেড়ে যাচ্ছিলো। আমি থামাতে গেলে তাঁরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমি দু’বার মাটিতে পড়ে গিয়েছি।’

তবে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল উল্টো দাবি করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খেলা শেষে আমি স্টেজের পাশেই ছিলাম। হুড়োহুড়ির মধ্যে অমিত স্যার আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমি যখন উঠি তখন আবার আমাকে ফেলে দিয়েছে। তিন জন স্যার, রানা স্যার (প্রক্টর ওমর সিদ্দিকী), অমিত স্যার, লাল শার্ট পরা আরেকজন (আইনুল হক)। তাঁরা আমার কলার চেপে ধরে। তারপর রানা স্যার আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে। পিছন থেকে আমাকে গলা চেপে ধরে। ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে আমার ব্লিডিং হয়েছে।’

আইন বিভাগের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের দলের ছেলেরা হৈহুল্লোড় করে। এরপর অমিত স্যার আমাদের একজনের কলার ধরে নিচে ফেলে মারধর করে। শিক্ষকের এমন মারধর দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি।’

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কাউকে মারিনি। প্রক্টরিয়াল বডি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে।’

ক্রিড়া কমিটির আহ্বায়ক মো. আইনুল হক বলেন, ঘটনার সময় দেখলাম একটা ছেলে দৌড়াচ্ছে। তখন তার দৌড় দেখে মনে হলো কেন সে দৌড়াচ্ছে। তখন তাকে আটকানোর চেষ্টা করলাম। পরে শুনলাম ছেলেটা রেফারির সাথে উদ্ধত হয়েছে। খেলায় যারা পরাজিত হয় তাদের একটা অভিযোগ থাকে। রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ সত্য নয়।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিবেন না বলে প্রতিবেদকের কল কেটে দেন।