All posts by jitu

নগরীর ১৭নং ওয়ার্ড আ’লীগ সেক্রেটারির বাসার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার:
অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ও বকেয়া আদায় কার্যক্রম চলাকালে বুধবার (৯ আগস্ট)  বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ নগরীর মোগলটুলি,পুরাতন চৌধুরীপাড়া,সংরাইশ ও শুভপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ১০ টি অনুমোদনহীন অতিরিক্ত চুলা ও বিল বই ছাড়া ১৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

এসময় কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সুজানগর এলাকায় মৌলভী বাড়ির মৃত ফরহাদ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়ার ৬ তলা ভবনে ৩ টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ও ৬ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা বকেয়া পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানান বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ।

একই এলাকায় আম্বর আলী শাহ মাজার সংলগ্ন এসহাক মিয়া  ৪ শতক একটি বাড়ি কিনেন গ্যাস সংযোগসহ হানিফ মিয়া থেকে। সেই সংযোগটিও অবৈধ সংযোগ বলে গণ্য হওয়ায় বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ও মামলা দায়ের করেন ।

স্থানীয় আরো অনেকে বলেন, যেই সময়ে আমরা বিল পরিশোধ করেও সময় মতো গ্যাস পাইনা, ঠিক সেই সময়ে কিভাবে আওয়ামী লীগ নামধারী হানিফ মিয়া তার ৬ তলা বিল্ডিংয়ে  ৩ টি অবৈধ সংযোগ দিয়ে ভাড়া খায়।
আমরা কুমিল্লা বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি এমন প্রতারণার জন্য যেন কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা প্রদানে কুবি ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে চুক্তিপত্র

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নতমানের সেবা ও সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে (০৯ আগস্ট) বুধবার সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।

এই চুক্তির ফলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন ফি বা চার্জ প্রদান করতে পারবেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে কোনো ফিস জমা দেয়ার জন্য সরাসরি ব্যাংকে উপস্থিত হতে হয়, এর ফলে শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হয়, অযথা অনেক সময় নষ্ট হয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির পক্ষে প্রিন্সিপাল অফিস কুমিল্লার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনির হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র হস্তান্তর করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এফ এম আবদুল মঈন এবং ব্যাংকের সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আফজাল করিম।

চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি  স্মরণীয় দিন, কেননা আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্য একত্রিত হয়েছি’।

উপাচার্য আরো বলেন, যদিও দুইটি প্রতিষ্ঠান দুইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে , কিন্তু আমাদের একটি সার্বজনীন লক্ষ্য রয়েছে, আর তা হলো দেশের নাগরিকদের সেবা প্রদান করা। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আজ দুইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হল এবং সম্পর্কের যাত্রা শুরু হল, তা দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং সময়ের সাথে সাথে আরো নুতন মাত্রা যোগ হবে।

ব্যাংকের সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আফজাল করিম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূইয়া, উপ-পরিচালক মোঃ নাছির উদ্দিন, এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুভাষ চন্দ্র দাস, জেনারেল ম্যানেজার তাওহিদুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নূরুন নবী, শরিয়ত উল্লাহসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লার চান্দিনায় পুকুর থেকে রাজমিস্ত্রীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে রাজ মিস্ত্রীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের করতলা গ্রামের ছাড়াগাঁও নামক পাড়া থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাজ মিস্ত্রীর নাম মো. আরিফ (৩২)। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার পিতার নাম জানা যায়নি। সে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার কালিপুর গ্রামের বাসীন্দা বলে জানা গেছে।

চান্দিনা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস.আই) মো. জহির উদ্দিন জানান, নিহত মো. আরিফ করতলা গ্রামের ছাড়াগাঁও নামক এলাকায় একটি বাড়িতে তার স্ত্রী পরিচয়ে একজন মহিলাসহ দেড়-দুই বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রীন কাজ করতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। গত ২-৩ দিন ধরে তার ভাড়া ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা চান্দিনা থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে
স্থানীয়রা ওই বাড়ির পুকুরে একটি বস্তা ভেসে থাকতে দেখে। পুলিশ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বস্তা বন্দী অবস্থায় রাজ মিস্ত্রী আরিফ এর লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথায় আঘাতের দাগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আরিফ স্ত্রী পরিচয়ে একজন মহিলাকে নিয়ে মাইজখার ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার ফাতেমা’র বাড়িতে ভাড়া থাকতো। গত ২-৩ দিন যাবত তার স্ত্রীকেও এলাকায় দেখা যায়নি। স্ত্রী পালিয়ে গেছেন বলে এলাকাবাসীর ধারনা। এই দম্পতির কোন সন্তান ছিল না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। লাশ উদ্ধার করার কাজ চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগরে নিলাম ছাড়াই পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট বিক্রির অভিযোগ সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নিলাম ছাড়াই লক্ষাধিক টাকার পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের লোহার খাঁচা সহ সকল মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার ৬ দিনেও প্রশাসন অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ১৫ বছর আগে জাহাপুর ইউনিয়নের বড়ইয়াকুড়ি গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক মীর এর বাড়ীতে আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল।

গত কয়েক বছর ধরে সেখানে পানি পরিশোধন না করার ফলে পুরো প্ল্যানটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

বড়ইয়াকুড়ি গ্রামের বাবুল স্বর্ণকার জানান, গত শুক্রবার (৪ আগষ্ট) জুম্মার নামাজের পরে কিছু লোক এগুলো ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করার পর তারা জানায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক মীর ও তার ছেলে সৈয়দ হাসান ২৭ হাজার টাকার বিনিময়ে একই গ্রামের জীবন মিয়ার কাছে বিক্রয় করেছে।

তবে বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত আহমেদ বাধা দিলেও তারা শোনেনি।

এ বিষয়ে জীবন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমরা কয়েকজনে মিলে ২৭ হাজার টাকার বিনিময়ে পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট এর লোহার খাঁচা সহজ সকল জিনিসপত্র সাবেক চেয়ারম্যান ও তার ছেলের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। তবে এ বিষয়টি বর্তমান চেয়ারম্যান কেও আমরা জানিয়েছি তিনি জানেন। এখন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করিনি, এটি নাকি উপজেলায় দিতে হবে সেজন্য।

অভিযুক্ত সাবেক জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক মীর বলেন, এই পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট আমি একটি এনজিও থেকে এনেছিলাম। পানি পরিশোধন না করায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। বর্তমান চেয়ারম্যান তার বাড়িতে যাবার সুবিধার্থে সে বিক্রয় করে দিয়েছে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। মূলত আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

আরেক অভিযুক্ত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক মীরের ছেলে সৈয়দ হাসান বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান এটি বিক্রি করেছে আমরা শুনেছি। এখন কি কারনে আমাদের বিরুদ্ধে এধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহই ভাল জানে। আমরা বিক্রি বা টাকা এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা।

জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত আহমেদ বলেন, আমি শুনেছি কে বা কাহারা পানি পরিশোধন প্ল্যান্টটি ভেঙে নিয়ে গেছে। যেহেতু এটি সরকারি সম্পত্তি আমি চাই প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, এ ধরনের কাজ করতে হলে প্রথমেই নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে বিক্রয় করতে হয়। পরে সেই টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে ব্যবহার করতে হয়। এখানে তার কোনটাই করা হয়নি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টায় হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বায়না কবলা সূত্রে মালিকানা নিশ্চিতের পর ২২ বছরের দখলীয় জায়গা জোরপুর্বক দখলের চেষ্টায় দু’দফা হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে সুজন (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের বলহরা গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। গত শনিবার সকালে একই ইউনিয়নের বলহরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগি আবুল হাশেম। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগির পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় জিডি করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তদন্ত সাপেক্ষে এবং ভুক্তভোগি কর্তৃক ১৪৫ ধারায় আদালতে দায়েরকৃত একটি মামলার (নং ৮৩৫/২৩) আদেশের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করে পুলিশ। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৪ জুন উপজেলার ব্রহ্মপুর মৌজার সাবেক ১১৮৯ ও হালে ১৫০৩ দাগে সর্বমোট ১৫ শতক জায়গা করিমুন নেছা প্রকাশ করফুলের নেছার নিকট থেকে বলহরা গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী হোসনেয়ারা বায়না দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দখলদার স্বত্ত্ববান হন। এরপর থেকে ক্রয়কৃত জায়গার পূর্ব অংশে পুকুর খনন ও পশ্চিম অংশে দালানঘর নির্মাণ (যার সাবেক হোল্ডিং ১৫৩, বর্তমান অনলাইন হোল্ডিং নং ৪৯৮) হোসনেয়ারা তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন। গত শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া কতিপয় বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে বাড়ীঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা হোসনেয়ারার দখলীয় ভূমির (বসতবাড়ীর) সীমানা প্রাচীর (টিনের বেড়া) ভাংচুর ও গাছপালা কর্তন সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে জায়গাটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগির স্বামী আবুল হাশেম আগের জিডির আলোকে থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। এর আগেও সুজন মিয়া একই কায়দায় হোসনেয়ারার বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকদফা শালিস বৈঠকেও বিষয়টির মীমাংশা না হওয়ায় ভুক্তভোগি আদালতের স্মরণাপন্ন হন। আদালত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া জায়গার মূল মালিক করিমুন নেছার ভাই মফিজুর রহমানের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে কয়েক দফায় বিবাদমান জায়গার কিছু অংশ খারিজ আবেদন করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা বাতিল করে দেন। এরপরও সুজন বিভিন্ন কলাকৌশলে হোসনেয়ারার পরিবারকে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে।

এ বিয়য়ে ভূক্তভোগির স্বামী আবুল হাশেম বলেন, ‘২২ বছর আগে জায়গা কিনে বসতভিটা তৈরী ও ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। এখন আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া বিভিন্নভাবে আমাদেরকে বারবার হয়রানি করছে। গত শনিবার সে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষিদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

বলহরা গ্রামের হাবিল মিয়া ও মহসিন বলেন, ‘২২ বছর ধরেই দেখছি আবুল হাশেম এ জায়গায় বসবাস করছে। জায়গাটি সুজনের বাবা আব্দুল মতিনই তাদেকে ক্রয় করে দিয়েছেন। ২০১২ সালে বায়না দলিলও সম্পন্ন হয়েছে। এখন সে জমি বিক্রেতার ভাই মফিজের সহযোগিতা ও স্থানীয় কিছু খারাপ লোকের কু-পরামর্শে আবুল হাশেমকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। শুনেছি শনিবারে সুজনই আবুল হাশেমের টিনের বেড়া ভাংচুর করেছে স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করার পরও মীমাংশা না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল দিলে অভিযুক্ত সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আপনারা যা মনে চায় তাই লেখেন।’ এরপর তিনি কলটি কেটে দেন। পরে তাকে বারবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘আবুল হাশেম তার মামা শ্বশুর আব্দুল মতিনের মাধ্যমে করিমুন নেছার নিকট থেকে তার স্ত্রী হোসনেয়ারার নামে ১৫ শতক জায়গা ক্রয় করে। আব্দুল মতিন জীবিত থাকাবস্থায় করিমন নেছা ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ক্রয়কৃত জায়গার দখল বুজিয়ে দিলে আবুল হাশেম সে জায়গায় বাড়ীঘর নির্মাণ করে দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ বসবাস করছে। জায়গা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আমি নিজেও স্বাক্ষী ছিলাম। এখন আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন আবুল হাশেমকে হয়রানি করছে।’

কুবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইলিয়াসের ১২ বছরের কারাদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

অস্ত্র আইনের মামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক বেগম সেলিনা আক্তার এ রায় দেন।

কুমিল্লা আদালতের অতিরিক্ত পিপি মুজিবুর রহমান বাহার জানান, ২০১৫ সালে কুমিল্লার কোটবাড়ির সালমানপুর এলাকায় দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি মোটরসাইকেলসহ ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সে সময় র‍্যাব বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার দুপুরে আদালত রায় ঘোষণা করেন। তবে এ সময় ইলিয়াস আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য, টেন্ডারবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন, নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে বহুবার সংবাদ প্রকাশ হয়।

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ আটক ২

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৩৭ হাজার ৮০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৪০ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ আগস্ট জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন অশোকতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা। উক্ত অভিযানে ৩৭ হাজার ৮০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজনকে আটক করা হয়। সে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন উত্তর রেইসকোর্স গ্রামের মোঃ আব্দুল বাতেন এর ছেলে মোঃ জাকারিয়া হোসেন (৩৫)।

পৃথক অন্য একটি অভিযানে ৯ আগস্ট জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন কালিকাপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা। উক্ত অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়। সে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামের রুক মিয়ার ছেলে এমদাদুল হক মারুফ (৪৪)।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুবি সাংবাদিক ইকবালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্যসহ ৮ জনকে আইনি নোটিশ

 

কুবি প্রতিনিধিঃ

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ ৮ জনকে আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে । ইকবাল মনোয়ারের পক্ষে এ আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ডাকযোগে এবং ই-মেইলে এ আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এ অবৈধ বহিষ্কারাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়।

আইনি নোটিশে বলা হয়, যে অফিস আদেশের মাধ্যমে ইকবালকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সে আদেশে কোনো আইন বা বিধির উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তাঁর সংবাদে উল্লেখিত উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃতের আপাত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উপাচার্য তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই ইকবালকে বহিষ্কার করেছেন। এছাড়া গত ৬ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়ে ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে উপাচার্যের নিকট চিঠি দিয়েছেন ইকবাল। এখন পর্যন্ত সে চিঠির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর ৩২ নং ধারা অনুযায়ী শৃঙ্খলা বোর্ড থাকার কথা থাকলেও সে সংক্রান্ত কোন বোর্ড এবং বিধি পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বেআইনী ও এখতিয়ার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইকবাল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন, যার সাথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কার্যক্রমের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, কোনো সংবাদের বিষয়ে যদি উপাচার্য সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। তা না করে ইকবালকে বহিষ্কার করে উপাচার্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ইকবাল সংবাদকর্মী হিসেবে শুধুমাত্র উপাচার্যের বক্তব্য তুলে ধরেছেন, যার অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২)(খ) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করেছেন মর্মে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে । এছাড়া ইকবালকে তার অবস্থান ব্যাখ্যার জন্য কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়ে বহিষ্কারাদেশ দেওয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির চূড়ান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে ।

আইনি নোটিশের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ নামে একটি আইনি নোটিশ ই-মেইলের মাধ্যমে পেয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলাপ করবো।

আইনি নোটিশ প্রেরণের বিষয়ে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, সংবাদ প্রকাশ করে ইকবাল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন আইনের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করেছে সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেনি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদলিপি কিংবা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রেস কাউন্সিলেও অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি লঙ্ঘন ছাড়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী তিন দিনের মধ্যে ইকবালের অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে আদালতে মামলা করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই উপাচার্যের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ২ আগস্ট সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক ও যায়যায়দিনের প্রতিনিধি ইকবাল মনোয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।