All posts by jitu

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেছে বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেছে বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীতে পড়ে গেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পল্টুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। বাসটিতে বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রী নদীতে তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাট এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

লালমাইয়ে ভাইরাল হওয়া সেই শিশুকে ডাকলেন ইউএনও : সৎ মাকে করলেন সতর্কবার্তা

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মায়ের কবরের পাশে বসে কান্না করা এক শিশু কন্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ ঘটনায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলা প্রশাসন অভিযুক্ত সৎ মা আয়েশা আক্তারকে ডেকে সতর্ক করেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট মেয়েটি মায়ের কবরের পাশে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, “আমারে কেন আপনার লগে নিয়ে গেলেন না? আম্মু গো আইছি, বার অও… আমাকে নিয়ে যাইতে পারেন না? কিল্লাই থুই গেলেন?”—যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি করে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শিশুটিকে এবং তার সৎ মাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডাকা হয়।
সেখানে উপস্থিত হয়ে সৎ মা আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিশুটি ও তার বোন—দুজনই সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সৎ মাকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সাংবাদিকদের কলম হোক দেশ ও জাতির কল্যাণে- কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ মোস্তাক মিয়া বলেছেন, সাংবাদিকদের কলম দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত।

সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে হবে গণমাধ্যমকর্মীদের।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের প্রতিটি শব্দ ন্যায় ও নীতির পথে অটল থাকুক। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে কেউ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।”

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কুমিল্লার বুড়িচং প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং অপসাংবাদিকদের প্রতিহত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ মুসলেহ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন, সাবেক সভাপতি আ.হ.ম তাইফুর আলম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল, আবু নাসের মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ।

এর আগে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বুড়িচং উপজেলায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি বুড়িচং ডাক বাংলোর সংস্কার কার্যক্রমসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

বিতর্ক এড়াতে কড়া অবস্থান: ইউসুফ মোল্লা টিপুর স্পষ্ট বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেছেন, কোনো অন্যায়কারী বা বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে তার ন্যূনতম সম্পর্কও নেই।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে এ নিয়ে সতর্ক পোস্ট করেন।যা মুহুর্তেই নেটিজনদের নজরে আসে।

এর আগে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
টিপু জানান, বিপুল জনসমাগমের মধ্যে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি তার সঙ্গে ছবি তুলেছে বলে পরে তিনি জানতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“কেউ যদি এসব ছবি বা বিষয় ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে, তবে আমাকে সরাসরি অবগত করার অনুরোধ করছি।”

তিনি আরও বলেন, জনসমাগমের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

এ সময় তিনি কুমিল্লা মহানগরবাসীর সুচিন্তিত মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।
টিপুর এ বক্তব্য কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই এবং মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ নেতার নেতৃত্বে বসতঘরে ভাংচুর, লুটপাট, নারীর শ্লীলতাহানি

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।। 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আ’লীগ নেতা মনোহর আলীর নেতৃত্বে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটসহ নারীদের শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের যুগীরহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগীরহাট গ্রামের আ’লীগ নেতা মনোহর আলী, মোঃ শাহজাহান, জালাল হোসেন, মোঃ বসির ও আবুল কাশেম রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ইতোপূর্বে একই গ্রামের হাফেজ মজুমদার এবং তাঁর পরিবারকে বেশ কয়েকবার মারধর ও হুমকি দিয়ে আসছে। তারা গত বছরের ২২ নভেম্বর হাফেজ মজুমদারের পিতা শফিকুর রহমান মজুমদারকে বাড়ির পাশের মসজিদে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। হামলার কয়েকদিন পর শফিকুর রহমান মজুমদার মারা যান। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রাত ১২টায় মনোহর আলীর নেতৃত্বে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তারা হাফেজ মজুমদারের বসতঘর ও রান্নাঘর ভাংচুর করে লুটপাট করে। হামলাকারী জালাল হোসেন ঘরে থাকা আয়েশা আক্তার ও আমেনা আক্তারকে কিল ঘুষি দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এছাড়াও মোঃ বসির অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুধাবা আফরিনের গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা থেকে ৯৯৯-এ কল করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে আ’লীগ নেতা মনোহর আলী বলেন, ‘আমিও একটি অভিযোগ করেছি। সেটির তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলতে রাজি নয় তিনি’।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফীন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

বুড়িচংয়ে পুলিশের চেকপোস্ট অভিযানে ৯ মাদকসেবী গ্রেফতার 

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পুলিশের পরিচালিত অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ৯ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন ২২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বুড়িচং থানাধীন ২নং বাকশিমুল ইউনিয়নের পাল্টি রাজাপুর এলাকায় (বাচ্চু মিয়ার বাড়ির সামনে) কুমিল্লা-টু-বাগড়া পাকা সড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার(২৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. নিপু (৩০), পিতা: মো. কবির, সাং: ভাটপাড়া, ০৩নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রুবেল মিয়া (৩০), পিতা: কবির আহম্মেদ, সাং: পয়াত (উত্তরপাড়া), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং; মো. সাব্বির খন্দকার (৩০), পিতা: হারুন অর রশিদ, সাং: ঢলিপাড়া, ১৯নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. জাহিদ (৩০), পিতা: মৃত রফিকুল ইসলাম, সাং: নুরপুর, ১৮নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রাসেল (৩৩), পিতা: মৃত শফিকুল ইসলাম, সাং: মুরাদপুর, ১৪নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. রিপন (৩০), পিতা: হাজী আ. রশিদ, সাং: দক্ষিণ হরিপুর (করিমের বাড়ি), থানা: বুড়িচং; মো. শুভ ইসলাম (৩২), পিতা: মো. কামাল হোসেন, সাং: দৌলতপুর (কামালের বাড়ি), ৪নং ওয়ার্ড, থানা: কুমিল্লা কোতয়ালী; মো. ইমরান হোসেন (১৬), পিতা: আনোয়ার হোসেন, সাং: শিকাপুর (মনির মেম্বারের বাড়ি), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং; ইয়াছিন আরাফাত (২১), পিতা: আব্দুল জলিল, সাং: খাড়াতাইয়া (পশ্চিমপাড়া, হাজী বাড়ি), ৪নং ষোলনল ইউপি, থানা: বুড়িচং।

আটককৃতদের বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখিত মতামত প্রদান করেন।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে আটককৃতদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

নগরীর কাশারীপট্টিতে বাড়িতে ঢুকে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, কিশোর গ্যাং লিডার সায়েম আটক

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাশারীপট্টি এলাকায় বাড়িতে ঢুকে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাং ‘বজ্রপুর সায়েম গ্রুপ’-এর নেতা সায়েমকে আটক করে র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা সায়েমকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

আহত শিক্ষার্থী বিজয় কাশারীপট্টি এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। হামলার পর তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত সায়েম একই ওয়ার্ডের বজ্রপুর এলাকার কাইয়ুম মিয়ার ছেলে এবং একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে রাহুল, হৃদয়, পিয়াস, কালাসহ প্রায় ২০ জনের একটি দল দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে এ হামলায় অংশ নেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়েম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কয়েক মাস আগে একই গ্রুপের হামলায় কাশারীপট্টি এলাকার পরিবহন নেতা হাজী মাশুক গুরুতর আহত হন।

এছাড়া গত এক বছরে একাধিকবার মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এ গ্যাংটি। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ মৃত্যুর ঘটনায় ২ গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই গেইটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শেফালী আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

সোমবার(২৩ মার্চ) লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু’র অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী শেফালী আক্তার নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রী ছিলেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানা ঈদ উপলক্ষে দেশে এসে চুয়াডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে যান। পরে ঈদের দিন কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

একই ঘটনায় আহত সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৮ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ট্রেন প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন— চাঁদপুরের চাপাতলির তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫), লক্ষ্মীপুরের সাঈদা (৯), যশোরের পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)।

চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় হৃদয় নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার প্রদান করেছে জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামে এ হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার কাজী মো. শাহিন, জাহাঙ্গীর আলম, ফখরুল আলম টিপু, ইমাম হোসেন, জসিম উদ্দিন, নাহিদ, শুভ, রাফিসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান বলেন, “মানবসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের অবহেলিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”

ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক উপকরণ প্রদান তাদের চলাফেরা সহজ করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কিংবদন্তিদের বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’

স্টাফ রিপোর্টার।।

আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) তৃতীয় সংস্করণে অংশ নিতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’ দল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নতুন মৌসুমে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

ডব্লিউসিএলের তৃতীয় সংস্করণে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ায় এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সাতটি দেশের দল। এর আগে থেকেই এই টুর্নামেন্টে খেলছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ২০২৬ মৌসুমকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

অবসরপ্রাপ্ত তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। টুর্নামেন্টটিতে খেলেছেন যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মঈন আলি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলসহ ক্রিকেটের অনেক কিংবদন্তি।

ডব্লিউসিএলকে আয়োজকেরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম আসরে ৩২ কোটি ৫০ লাখের বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেন। দ্বিতীয় আসরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৩১ লাখে, যা লিগটির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দ্রুত বিস্তারের প্রমাণ।

ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হর্ষিত তোমর বলেন, গত দুই বছরে সমর্থকদের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের পক্ষে জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই উদ্যোগকে দেশের ভক্তদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে ক্রিকেটের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এই অংশগ্রহণ।

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলের অংশীদার ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ডব্লিউসিএলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, কারণ এই প্রতিযোগিতাকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করব।‘

বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে ডব্লিউসিএলের তৃতীয় আসর আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংস্করণ হতে পারে।

সবশেষ ২০২৫ ডব্লিউসিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নস দল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হওয়া ফাইনালে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বাধীন দলটি।