All posts by jitu

অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৬ টন জ্বালানি তেল জব্দ

অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৬ টন জ্বালানি তেল জব্দ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধভাবে মজুত ৬ টন জ্বালানি তেল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বিমানবন্দর এলাকার একটি অবৈধ আস্তানা থেকে প্রায় ৩০ ড্রাম ডিজেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার লিটার, যা প্রায় ৬ টনের সমপরিমাণ। এ সময় তেল লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি পাম্পও জব্দ করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া জ্বালানি তেল ও সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

অভিযান শেষে জব্দ করা মালামাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর নায়েবে আমির মুসলেহ উদ্দীন, সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেল এবং সহকারী সেক্রেটারী কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনসহ অনেকে।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদেরা আমাদের অমূল্য সম্পদ। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং তা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি আদর্শ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

জামাতের এ নেতা আরো বলেন, স্বাধীনতা কেবল একটি অর্জন নয়—এটি একটি চলমান দায়িত্ব, যা প্রতিনিয়ত সুরক্ষা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।

এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে প্রায় দুই হাজার দুইশত জন অংশগ্রহণ করেন। সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে র‍্যান্ডম পদ্ধতিতে ৩ জন বিজয়ী নির্বাচন করে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’ বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি

স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’ বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘Go Green Initiative’ (গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ)-এর ব্যানারে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সেনানিবাসের সকল ব্রিগেড কমান্ডারগণ, স্টেশন কমান্ডার, কমান্ড্যান্টবৃন্দ, প্রায় ৫০০ বিভিন্ন পদবীর সেনাসদস্য এবং ২৫ জন শিশু কিশোর অংশগ্রহণে এ সাইকেল র‍্যালির উদ্বোধন করেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম-উদ-দৌলা, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি, পিএইচডি।
স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’ বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি

উদ্বোধন শেষে মেজর জেনারেল মোঃ নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, পরিবেশবান্ধব একটি আবাসিক ও কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে কুমিল্লা সেনানিবাস-এ ‘Go Green Initiative’ নামে একটি সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ চলাচলে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ ২০২৬ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত সাইকেল র‍্যালিতে অংশ নেন সেনানিবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। পরিবেশবান্ধব, সহজপ্রাপ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তোলাই ছিল এই র‍্যালির মূল উদ্দেশ্য।

স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লা সেনানিবাসে ‘গো গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’ বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১০০টি সাইকেল এবং ‘আনন্দ পরিবহন’ নামে দুইটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি সংযোজনের মাধ্যমে ‘Go Green Initiative’-এর যাত্রা শুরু হয়। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের ব্যবহার কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এছাড়াও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ ও অনাবাদি ভূমি ব্যবহার করে ৩.৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার পাওয়ার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ‘Go Green Initiative’ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোবারক উল্লাহ মজুমদারের মৃত্যুতে দেবপুর ফাউন্ডেশনের শোক

স্টাফ রিপোর্টার।।

দেবপুরের কৃতি সন্তান মামটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মোবারক উল্লাহ মজুমদারের মৃত্যুতে দেবপুর ফাউন্ডেশন গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি মরহুম বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান দেবপুর ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি ।

প্রসঙ্গত, মোবারক উল্লাহ মজুমদার ২৫ শে মার্চ সকালের দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে লাকসাম উপজেলার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সদরের আমড়াতলীতে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযান

হাবিবুর রহমান মুন্না।। 

কুমিল্লা সদরের আমড়াতলী এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার(২৫ মার্চ) ভোররাতে পরিচালিত এ অভিযানে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তারের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অভিযানে সহযোগিতা করে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ কুমিল্লা আদর্শ সদর আর্মি ক্যাম্পের একটি দল। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে অন্যত্র ভরাট করার অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমড়াতলীর কোটিশ্বর এলাকার বাসিন্দা সালাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এতে এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

অভিযানকালে অভিযুক্ত সালাম সরকারকে না পাওয়া গেলেও তার ভাতিজা মুজাহিদকে পাওয়া যায়। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা না হয়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার বলেন,“ফসলি জমি রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনোভাবেই কৃষিজমির মাটি কেটে পরিবেশ ও কৃষির ক্ষতি করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

যশোর ও খুলনা দখল করতে চান কলকাতার বিজেপি নেতা

যশোর ও খুলনা দখল করতে চান কলকাতার বিজেপি নেতা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশের যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ সময় তার পাশে মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়কার সহযোগী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) কলকাতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি দেন। আর এ জন্য তিনি বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন।

শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ হতে দেব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তার বি-টিম হুমায়ুন কবীররা যত‌ই চেষ্টা করুক, নতুন করে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যদি হয় সেটাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি হিন্দুরা বাংলাদেশ ভেঙে জমি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হন।

বিশেষ করে যশোর ও খুলনা অঞ্চলকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার কথা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন।

ইরানের মুক্তা দ্বীপ খার্গ: হামলার লক্ষ্যবস্তু কেন?

ইরানের মুক্তা দ্বীপ খার্গ: হামলার লক্ষ্যবস্তু কেন?

 

কর্নেল নাজমুল হুদা খান (অব.):

সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিন দফায় দীর্ঘ দিন কুয়েতে প্রেষণে নিযুক্ত ছিলাম। ডুবুরি রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার সুবাদে সে দেশের নৌবাহিনীর ডুবুরি এবং স্পেশাল ফোর্সের সাথে কাজ করেছি। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত কুয়েতের নয়টি দ্বীপ এবং সমুদ্রে অবস্থিত কুয়েতের বহু সংখ্যক তেলের রিগের নিরাপত্তা ও রুটিন তদারকি করা ছিল আমাদের টিমের যৌথ দায়িত্ব। সে হিসেবে কুয়েত, প্রতিবেশী ইরাক ও সমুদ্র

সীমান্তবর্তী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ও স্থাপনা সম্পর্কে কমবেশি অবহিত থাকার চেষ্টা করেছি। আমার “কুয়েত ও কায়া কথা” বইটিতে কুয়েতের নয়টি দ্বীপ সম্মন্ধে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।

সম্প্রতি সংঘটিত যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইল- ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের সম্পৃক্ততায় সম্প্রতি ইরানের অন্যতম খার্গ দ্বীপটি শিরোনামে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালীতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব দেশের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে না দিলে ইরান অধ্যূ্ষতি খার্গ দ্বীপে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু কেন? আসুন জানি দ্বীপটি সম্পর্কে কিছু তথ্য ।

খার্গ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের একটি ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ। একে ইরানের “অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড” বলা হয়, কারণ দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে সম্পন্ন হয়।পারস্য উপসাগরের হাতেগোনা কয়েকটি দ্বীপের মধ্যে এটি একটি, যেখানে প্রাকৃতিক মিঠা পানির উৎস রয়েছে।যার ফলে এখানে প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রায় ২৫ বর্গ কিমি আয়তনের পাথুরেপ্রবাল দ্বীপটিতে মাত্র নয় হাজারের মত মানুষের বসবাস রয়েছে। খার্গ দ্বীপটি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় জনসাধারণের জন্য অধিকাংশ সময় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে; তাই দ্বীপটি প্রায়শঃই ” নিষিদ্ধ দ্বীপ ” হিসাবে পরিচিত।এই দ্বীপে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত সপ্তম শতাব্দীর একটি খ্রিস্টান মঠের ধ্বংসাবশেষও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এখানে সমাধি, মন্দির এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ থেকে ৩৩০ অব্দের মধ্যে নির্মিত শিলালিপি রয়েছে।

খার্গ দ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম অফশোর অপরিশোধিত তেল টার্মিনালগুলোর একটি। এখান থেকে তেল মূলত চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপের তেল রপ্তানি সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইরানের অর্থনীতি তাৎক্ষণিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটার (১৬ মাইল) এবং হরমুজ প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার (৩০০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত । সংলগ্ন উপকূলীয় বুশেহর প্রদেশ দ্বারা শাসিত এই দ্বীপটি ইরানের তেলজাত পণ্যের ৯০% পর্যন্ত রপ্তানির পাশাপাশি ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল (৫ মিলিয়ন ঘনমিটার) পর্যন্ত তেল সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে। দ্বীপটি ইরানের বেশ কয়েকটি স্থলভাগের তেলক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থিত; যেখান থেকে খার্গ পর্যন্ত পানির নিচে পাইপলাইন চলে গেছে।খার্গ শহর এবং খার্ক বাতিঘর এই দ্বীপে অবস্থিত। ১৯৬০-এর দশকে এটি একটি প্রধান তেল টার্মিনালে পরিণত হওয়ার আগে, ইরানি লেখক জালাল আল-এ-আহমদ বিখ্যাতভাবে দ্বীপটিকে “পারস্য উপসাগরের অনাথ মুক্তা” বলে অভিহিত করেছিলেন।

দ্বীপটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। বহু শতাব্দী ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল, যা ষোড়শ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে ডাচ ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল।মধ্যযুগে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে খার্গকে মুক্তার একটি ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভারত ও দক্ষিণের বন্দর বসরার মধ্যে চলাচলকারী বাণিজ্য জাহাজগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল হিসেবে কাজ করত । এ সময় এখানে মুক্তা আহরণ ও বাণিজ্যের পাশাপাশি, খার্গের অর্থনীতি ফল এবং খেজুর চাষের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল।

পর্তুগিজরা ১৬২২ সাল পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীকে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। পারস্য এবং এশিয়ায় স্বার্থযুক্ত অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিগুলির বিরুদ্ধে প্রণালীটির সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য খার্গ দ্বীপে তারা পর্তুগিজ দুর্গ নির্মাণ করেছিল। ব্রিটিশরা এক সময় দ্বীপটি অল্প সময়ের জন্য দখল নিয়েছিল।

বিংশ শতাব্দীতে রেজা শাহ পাহলভী খার্গকে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্বাসনের স্থান হিসেবে পুনঃব্যবহার করেন, যা সেখানে ব্যাপক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। ১৯৫৬ সালেপাইপলাইনের মাধ্যমে আনা তেল ধারণ করার জন্য খার্গে তেল জলাধার নির্মাণের কাজ শুরু হয় । এ সময়দ্বীপটির সাথে প্রায় ১৬০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয় এবংখার্গ বিশ্বের বৃহত্তম তেল চালান টার্মিনাল হিসাবে বিবেচিত হতে থাকে।

১৯৬০-এর দশকে, ইরান উপসাগরের মহীসোপানে দুই দেশের ভূখণ্ডের বিস্তৃতি নিয়ে সৌদি আরবের সাথে আলোচনায় বসে । তারা একটি সংশোধিত সমদূরত্ব রেখায় সম্মত হয়, যার ফলে খার্গ ইরানের এখতিয়ারভুক্ত হয়। ১৯৬৯ সালে, শাহের শাসনামলে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি এবং মার্কিন কোম্পানি অ্যামোকোরঅংশীদারিত্বে দ্বীপটিকে একটি তেল টার্মিনালে পরিণত করা হয় । এভাবে ক্রমান্বয়েখার্গ দ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম অফশোর অপরিশোধিত তেল টার্মিনাল এবং ইরানি তেলের প্রধান সমুদ্র টার্মিনালে পরিণত হয়।
১৯৭৯ সালে, ইরানি বিপ্লবের পর, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি আমোকোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে । বিপ্লবের পর থেকে চলমান নিষেধাজ্ঞাসত্ত্বেও, ইরান আত্মনির্ভরশীলতা বিকাশের জন্য এবং অন্যান্য দেশের মাধ্যমে তেল পাঠানো এড়াতে দ্বীপটিতে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।

দখল- পুনর্দখলের পাশাপাশি দ্বীপটিতে সামরিক হামলা নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দ্বীপটিতে বোমা হামলা চালানো হয়েছিলএবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে ইরাকি বিমান বাহিনীর ভারী বোমাবর্ষণে স্থাপনাগুলো অচল হয়ে পড়ে। বর্তমান সংঘাতের শুরু অর্থাৎ মার্চ মাসেই ইসরায়েল দ্বীপটিতে বোমা হামলার কথা বিবেচনা করছে;অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটি দখল করার পক্ষে ছিল। গত ১৩ মার্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে, সংঘাতের অংশ হিসাবে দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলিতে বোমা হামলা করা হয়েছে । প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানারপরও দ্বীপের তেল পরিকাঠামো অক্ষত ছিল। ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিঃ ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল উম্মুক্ত করে না দিলে খার্গ দ্বীপটিতে হামলার ঘোষণা দেয়।

লেখক:

কর্নেল নাজমুল হুদা খান (অব.)
পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস
বিআরবি হাসপাতাল।

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেছে বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেছে বাস, বহু হতাহতের শঙ্কা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে নদীতে পড়ে গেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পল্টুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। বাসটিতে বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রী নদীতে তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাট এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

লালমাইয়ে ভাইরাল হওয়া সেই শিশুকে ডাকলেন ইউএনও : সৎ মাকে করলেন সতর্কবার্তা

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

সৎ মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মায়ের কবরের পাশে বসে কান্না করা এক শিশু কন্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ ঘটনায় কুমিল্লার লালমাই উপজেলা প্রশাসন অভিযুক্ত সৎ মা আয়েশা আক্তারকে ডেকে সতর্ক করেছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট মেয়েটি মায়ের কবরের পাশে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, “আমারে কেন আপনার লগে নিয়ে গেলেন না? আম্মু গো আইছি, বার অও… আমাকে নিয়ে যাইতে পারেন না? কিল্লাই থুই গেলেন?”—যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি করে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শিশুটিকে এবং তার সৎ মাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডাকা হয়।
সেখানে উপস্থিত হয়ে সৎ মা আয়েশা আক্তার দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। শিশুটি ও তার বোন—দুজনই সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সৎ মাকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সাংবাদিকদের কলম হোক দেশ ও জাতির কল্যাণে- কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মোঃ মোস্তাক মিয়া বলেছেন, সাংবাদিকদের কলম দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত।

সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে হবে গণমাধ্যমকর্মীদের।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের প্রতিটি শব্দ ন্যায় ও নীতির পথে অটল থাকুক। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে কেউ অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।”

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কুমিল্লার বুড়িচং প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং অপসাংবাদিকদের প্রতিহত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ মুসলেহ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন, সাবেক সভাপতি আ.হ.ম তাইফুর আলম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম সাইফুল ইসলাম টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল, আবু নাসের মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ।

এর আগে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বুড়িচং উপজেলায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি বুড়িচং ডাক বাংলোর সংস্কার কার্যক্রমসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।