All posts by jitu

এবার নোয়াখালীতে এসে ঘর বাঁধলেন ল্যাটিন আমেরিকার তরুণী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশি যুবকের প্রেমের টানে সুদূর ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পেরু থেকে নোয়াখালীতে এসেছেন আনা কেলি কারাঞ্জা সাওসিডো নামে এক তরুণী। এমনকি ভালোবাসার মানুষ আরমান বিয়েও করেছেন তিনি।

মো. আরমান হোসেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ঘাটলাবাগ এলাকার বারাই বাড়ির নুর আলমের ছেলে।

বৃহস্পতিবার কারাঞ্জা সাওসিডোরকে চাটখিলে নিয়ে আসেন আরমান। ভিনদেশি এই নববধূকে দেখতে আরমানের বাড়িতে ভিড় করছে আশপাশের মানুষ।

জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেসবুকে আরমানের সঙ্গে পরিচয় হয় পেরুর তরুণী কারাঞ্জা সাওসিডোর। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব গড়ায় ভালোবাসার সম্পর্কে। ৬ বছরের ভালোবাসা পূর্ণ হয় বিয়ের মাধ্যমে। গত ২ জুলাই পেরু থেকে বাংলাদেশে আসেন কারাঞ্জা সাওসিডোর। ঢাকায় বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করেন আরমান। ঐদিনই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন। কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর বৃহস্পতিবার কারাঞ্জা সাওসিডোরকে চাটখিলে নিয়ে যান আরমান। বর্তমানে তারা নিজ বাড়িতেই বসবাস করছেন। ভিনদেশি পুত্রবধূ পেয়ে খুশি আরমানের পরিবারও।

আরমান হোসেন বলেন, আনা কেলি কারাঞ্জা সাওসিডোর সঙ্গে আমার মোবাইলে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয়। ৬ বছর আমাদের মোবাইলেই কথা হয়েছে। তাকে কখনো সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি। দুজনে মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই। সে অনুযায়ী কারাঞ্জা সাওসিডো বাংলাদেশে এলে আমরা বিয়ে করি। নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

কারাঞ্জা সাওসিডোর ইংরেজিতে বলেন, আমাদের ভালবাসার সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে আমি নিজ ইচ্ছায় আরমানের কাছে ছুটে এসেছি। সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুখী হতে পারি।

ব্রাহ্মণপাড়ায় লাইসেন্সবিহীন ইউনিটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ( শশীদল ইউনিয়ন এর হরি মঙ্গল) লাইসেন্সবিহীন ইউনিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এনিয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জেন অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একজন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার(৪ জুলাই) কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিসের নির্দেশে ওই হাসপাতালের সকল কার্যক্রম মৌখিক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসনাত মোঃ মহিউদ্দিন। তবে বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে এসে দেখা যায়, মঙ্গলবার মৌখিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করলেও হসপিটাল কর্তৃপক্ষ এক সাটার লাগিয়ে ওই হসপিটালের ভিতরে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিটি হাসপাতালের কোন লাইসেন্স নাই। হাসপাতাল মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে লিফলেট, ফেস্টুন ও বড় বড় সাইনবোর্ড লাগিয়ে অবৈধভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করছেন।

প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে চলছে রোগীদের অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা ও প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চেম্বারে নিয়মিত না বসলেও প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে চিকিৎসকদের নাম লেখা হচ্ছে। ফলে রোগীরা প্রতারণা শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইসেন্স, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবিকা, প্যাথলজিস্ট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না থাকাসহ নানা অনিয়মের মধ্যে মাসের পর মাস হসপিটালের কার্যক্রম চলছে।

লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইউনিটি হসপিটালে চিকিৎসা সেবার মানসম্মত কোন পরিবেশ নেই বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় জরুরি বিভাগ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিমুক্ত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি, ঔষুধ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি নেই। এই ইউনিটি হসপিটালের বড় বড় সাইনবোর্ডে একাধিক চিকিৎসকের নাম থাকলেও তারা নিয়মিত চেম্বারে বসেন না। মালিকপক্ষ এসব চিকিৎসকেদের সাথে চুক্তি করে সাইনবোর্ডে তাদের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের ঠকাচ্ছে।

সিভিল সাজর্ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোন হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের একাধিক পরিচালক বলেন আমরা লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করেছি। আমরা আশা করি কিছু দিনের মধ্যে পেয়ে যাবো।  সিভিল সার্জেন অফিসের প্রতিনিধি দল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নিদের্শ দেন। আমরা বন্ধ রেখেছি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসনাত মোঃ মহিউদ্দিন বলেন,
ব্রাহ্মণপাড়ার হরিমঙ্গল বাজারে ইউনিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। লাইসেন্সবিহীন কোন হাসপাতাল পরিচালনা করার কোন সুযোগ নেই। কুমিল্লা সিভিল সার্জেন এর নিদের্শে গত মঙ্গলবার আমরা ওই হাসপাতালের সকল কর্যক্রম মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার নিদেশ দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশ না আসার পর্যন্ত ইউনিটি হাসপাতালের কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

কবিতা: বৃষ্টি বিলাপ

এ কে সরকার শাওন:

জন্মদিনের শুভ লগ্নে
মা মনির বিদায় ক্ষণে।
অন্তরে অতুষ্টি বিকৃষ্ট বৃষ্টি
বিষজ্বালা সবার মনে।

দুঃখ ঢেকে পরিপাটি পোষাকে
আলো ছড়ায় চাঁদমুখে।
অন্তরে রোদন বিমূর্ত ক্রন্দন
দুঃখের উত্তাপ বুকে!

অঝোর ধারায় ভারী বর্ষায়
পথ ঘাট টুইটুম্বর।
সর্পিল বাঁকা রাস্তা ফাঁকা
রাতের প্রথম প্রহর!

সেই ক্ষণে বিষণ্ণ মনে
মা মনি প্রস্তুত সফরে।
যাবে সুদূরে ভুবনেশ্বরে
ছাত্রত্বের নিরস খাতিরে!

দৃঢ় মনোবল চোখ ছলছল
হাসির রেখা ঠোঁটে।
অন্তর অচল তবু অবিচল
সন্মুখে চলছে ডাটে!

বাবা-মা পরিজন বন্ধু-স্বজন
সাথে চলছে তার।
শত শর বিঁধেছে পরপর
শোকার্ত অন্তর অসাড়!

বিদায় লগ্নে রেল ষ্টেশনে
বাবার মতই বুঝায়।
“অবুঝের মত হয়ো না বাপি,
দোয়া করো আমায়!”

বাবা মায়ের দোয়া খায়ের
তোমার জন্য বাপি।
মানুষ হও আলো ছড়াও
ঘুচাও যাবৎ তাপী!

হাত নেড়ে জানায় বিদায়
অন্তরাত্মা নড়বড়ে!
চাঁদমুখে আমাবস্যা নামে
বৃষ্টি নামে চোখ জুড়ে!

বৃষ্টি বারি অশ্রুতে মিলায়
ট্রেন মিলায় সুদুরে।
অন্তরে বর্ষায় অঝোর ধারায়
বিবর্ণ বৃষ্টি দু’ধারে।

কুমিল্লায় পুকুরের ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম বিজয়পুর ষাটকলোনী এলাকায় বাড়ির পাশের জলাশয়ে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত দুই শিশু ওই এলাকার রৌশন আলীর ছেলে আরাফাত হোসেন ( ৮) ও মনির হোসেনের ছেলে সায়েম (৭)।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী।

স্থানীয় নাইমুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবা রৌশন আলীর সাথে মাছ ধরতে যায় ছেলে আরাফাত ও তার বন্ধু সায়েম। জলাশয়ের একপাশে রৌশন আলী মাছ শিকার করছিল। আরেক পাশে আরাফাত ও সায়েমও মাছ শিকারের চেষ্টা করছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত তারা দু’জনে পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা আরাফাত ও সায়েমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

স্থানীয় লোকজন জানান, এখানে ছোট ছোট টিলা ছিল। দুর্বৃত্তরা পাহাড় কেটে গভীর জলাশয় বানিয়েছে। যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা নগরীতে উজিরদিঘিতে ডুবে আরাবি (৮) নামে এক শিশু মারা যায়।

আরাবির মামা নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা কাজী অনিক ইসলাম বলেন, তার বোন ও ভাগ্নি আরাবি সোমবার কুমিল্লায় বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে খেলতে গিয়ে দীঘির পানিতে ডুবে মারা যায় আরাবি।

নোয়াখালীতে ৩ হাসপাতালকে জরিমানা, আটক ২

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সদর উপজেলার মাইজদী বাজারে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রোগীদের হয়রানির দায়ে দুই দালালকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে হাসপাতালে লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র,মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অর্থদন্ড প্রদান করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান। ওই সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাস ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. সোহরাব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে নোয়াখালী ইউনাইটেড হাসপাতালেকে ২ লাখ টাকা, মুন হাসপাতালকে এক লাখ টাকা ও আদর হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মুন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগী ভর্তি করাতে আসা দুই দালালকে আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জনবল দেখাতে পারেন নি। এছাড়া তাদের ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার দায়ে তাদের জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান বলেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর চলে যাওয়ার ৩ বছর

 

বিনোদন ডেস্কঃ

দীর্ঘ ১০ মাস ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ২০২০ সালের আজকের এই দিনে (৬ জুলাই) মারা যান দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরের জাদুতে সংগীতপ্রেমীদের মাতিয়ে রাখেন এই কিংবদন্তি।

শারীরিক অসুস্থতার জন্য ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে যাওয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর এন্ড্রু কিশোরের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা হাল ছেড়ে দেওয়ায় শরীরে ক্যানসার নিয়েই ৯ মাস পর গত বছরের ১১ জুন দেশে ফেরেন এন্ড্রু কিশোর। ২০ জুন তাঁকে নেওয়া হয় রাজশাহী নগরীর মহিষবাথানে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায়। পরে ২০২০ বছরের ৬ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। ১৫ জুলাই রাজশাহী সার্কিট হাউসসংলগ্ন এলাকায় খ্রিষ্টানদের কবরস্থানে সমাহিত করা হয় এই শিল্পীকে।

বাংলা গানের এই ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ আধুনিক ও চলচ্চিত্রজগতের কালজয়ী অনেক গান তাঁর কণ্ঠে সমৃদ্ধ করেছেন। সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ অনুভূতি—সব ধরনের গানই তিনি গেয়েছেন। দীর্ঘদিন পুরোদস্তুর পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দুই বাংলায় গান করেছেন এন্ড্রু কিশোর।

সংগীত ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ গায়ক বিভাগে আটটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ জিতেছেন প্রয়াত এই গায়ক। এ ছাড়া দুটি ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ ও তিনটি ‘বাচসাস’ পুরস্কার’সহ এন্ড্রু কিশোরের ঝুলিতে আছে অসংখ্য সম্মাননা। তাঁর মৃত্যু বাংলা সংগীতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এন্ড্রু কিশোর চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি গেয়ে শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করেন।

‘বড় ভালো লোক ছিল’ (১৯৮২) চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এন্ড্রু কিশোর। মহিউদ্দিন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। এ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ১৯৮৪ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের তিনটি গানে কণ্ঠ দেন।

গানগুলো হলো ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’ ও ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’। এমন অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কিশোর নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধকসহ প্রায় সব ধারার গানে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন।

তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে আরও রয়েছে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারি ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে’ ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত জীবনে লিপিকা এন্ড্রু ইতির সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন এন্ড্রু কিশোর। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয়জনের নাম সপ্তক।

অশ্রুসিক্ত নয়নেই বিদায়ের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হতাশাজনক হারের পর আচমকা ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। সেখানেই অশ্রুসিক্ত নয়নে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন তামিম।

আজ দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রামের হোটেল টাওয়ার ইনে সংবাদ সম্মেলনে তামিম তার অবসরের ঘোষণা দেন। নিজের ঘরের মাঠেই ক্যারিয়ারের ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন বলে জানান চট্টলার বিখ্যাত খান পরিবারের সন্তান। তামিম বলেন, ‘আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’

আফগানদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর আজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন তামিম। দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলে হঠাৎ করে সেটি পিছিয়ে দুপুর দেড়টায় নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়।

তামিমের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা শুনেই আশঙ্কা করা যাচ্ছিলো বড় কিছুর ঘোষণা আসতে চলেছে। এবার সেই আশঙ্কা সত্যি করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন তামিম।

দেড়টা বাজার আগ থেকেই সংবাদ সম্মেলনের ভেন্যু চট্টগ্রামের হোটেল টাওয়ার ইনের বাইরে বাড়তে ছিলো ভক্ত-সমর্থক আর সাংবাদিকদের আনাগোনা। নির্ধারিত সময়েই হোটেলে হাজির হন তামিম। সংবাদ সম্মেলন শুরু হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের ঘরের ছেলে। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন চট্টলার ‘খান সাহেব’।

১৮ মিনিটের বক্তব্যের শুরুতেই তামিম বলেন, ‘গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই আমার শেষ আন্তর্জাতিক খেলা। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এই মুহূর্তে অবসরের ঘোষণা দিলাম। এই সিদ্ধান্তটি আমি হুট করে নেইনি। আমি গত কয়েকদিন থেকে এটা ভাবছিলাম। আমি আমি পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি মনে করি এটাই সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার।’

কান্নাভেজা কণ্ঠে তামিম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আমি সবসময়ই একটা বলেছি, আমি ক্রিকেট খেলি আমার বাবার স্বপ্নপূরণ করার জন্য। আমি জানি না তাকে কতটা গর্বিত করতে পেরেছি এই ১৬ বছরে।’

নিজের ১৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাশে থাকার জন্য কোচ, বিসিবি কর্মকর্তাদের থেকে শুরু করে সতীর্থদের ধন্যবাদ জানান তামিম। বলেন, ‘ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় আমার সব সতীর্থ, সব কোচ, বিসিবির কর্মকর্তাগণ, আমার পরিবার ও যারা আমার পাশে ছিলেন, নানাভাবে সহায়তা করেছেন, ভরসা রেখেছেন এবং আমার ভক্ত-সমর্থক, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারী, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার অবদান ও ভালোবাসায় আমি চেষ্টা করেছি সব সময় দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে।

যতক্ষণ মাঠে খেলেছেন ততক্ষণ দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন জানিয়ে তামিম বলেন , ‘আসলে আমার খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমি একটা জিনিসই বলতে চাই, সেটি হলো, আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি ভালো খেলার। আমি আসলেই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। আমি যখনই মাঠে নেমেছি, আমি আমার শতভাগ দিয়েছি।’

অবসরের পর বাকি জীবনের জন্য ভক্ত-সমর্থকসহ সকলের কাছে দোয়া চেয়ে তামিম বলেন, ‘জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।’

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ জুলাই বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ডিমাতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার রুমালিয়া ছড়া গ্রামের মৃত মোঃ নুর এর ছেলে মোঃ ইমাম হোসেন (২৩) এবং একই গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে আমেনা বেগম (২৭)।

পৃথক অন্য একটি অভিযানে ৫ জুলাই রাতে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ছোটরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ একজনকেেআটক করা হয়। সে কুমিল্লার শাসনগাছার ঈদগা গ্রামের ইকরাম হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৬)।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

দেবিদ্বারে সিএনজি-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

 

ইসতিয়াক আহমেদঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে।

বুধবার রাত ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকায় এই সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- মুরাদনগর উপজেলার বাকরনগর ইউনিয়নের গফুরনগর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী নাসিমা আক্তার খুকি (৩৫) এবং তাদের মেয়ে নুসরাত (১২)। একই উপজেলার গকুলনগর এলাকার জয়দল হোসেনের ছেলে সিএনজি চালক মো: দেলোয়ার হোসেন (৩৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কুমিল্লাগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটমুখী একটি সিএনজির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানটি সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যায়। দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিএনজিটি উদ্ধার করে এবং সিএনজির ভিতর থেকে চালক দেলোয়ার ও নাসিমার মরদেহ উদ্ধার করে। নাসিমার সাথে থাকা তার ১২ বছরে মেয়ে নুসরাতকে ঘন্টাখানেক পর কাভার্ড ভ্যানের নিচে পানির নিচে থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয়ে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনা শুনার পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিএনজি ও মরদেহ উদ্ধার করি। কাভার্ড ভ্যানটি রেকারের মাধ্যমে উদ্ধারের কাজ চলছে।