All posts by jitu

শিক্ষামন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে কুবি উপাচার্যের শোক বার্তা

 

চাঁদনী আক্তার, কুবিঃ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি এর মা বেগম রহিমা ওয়াদুদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন।

রবিবার ৭ মে উপাচার্যের স্বাক্ষরিত প্যাডে এ শোক বার্তা জানানো হয়। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় উপাচার্য আরও বলেন, আমি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে বেহেস্ত নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই দুঃখ সইবার শক্তি দেন।

বুড়িচংয়ে স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ও পুরাতন টিউবওয়েল তুলে ফেলার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ও টিউবওয়েল তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে খাড়াতাইয়া ইসলামিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান এর বিরুদ্ধে।

এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা নিয়ে যেহেতু একটি মামলা চলমান সেহেতু মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার কাজ না করার জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গত ৭ মে রবিবার ২০২৩ তারিখে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের জন্য খাড়াতাইয়া পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে চারা গাছ কেটে ফেলে এবং টিউবওয়েল উপড়ে ফেলে ট্রাক দিয়ে মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য একটা রাস্তা করায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ করলে থানার এসআই মাহবুবুর রহমান খাদিম সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, গত করোনা কালীন সময়ে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন ভবন ভেঙে ভবন নির্মাণ কার্যাদেশ আসে। ঠিকাদার হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ের সয়েল টেষ্ট করেন। ভবন নির্মাণকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের পাশে অন্যত্র অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, এলাকার মাহফুজুর রহমান নামে একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার ফলে ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যান এর বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অপর দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের জমিসংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। যার ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন না থাকায় বাশের বেড়ার ঘরে ২০০ শতাধিক নিয়ে বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকের প্রতিদিনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সহকারী মহিলা

শিক্ষক অভিযোগ করে জানান, আমাদের অস্থায়ী কার্যালয়ে ওয়াশরুম (বাথরুম), পানি খাওয়ার টিউবওয়েল, নামাজ পড়ার ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তার আশেপাশে বাধ্য হয়ে প্রস্রাব করতে হচ্ছে। অপরদিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকরা আশেপাশের বাড়ি ঘরের ওয়াশরুম ব্যবহার করছেন। আবার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার টিউবওয়েল ও ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গেলে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষীকা আরও জানান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় মাদ্রাসা পাশে ৭ শতক জমিতে উপজেলা বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে একটি ভবন নির্মাণ করতে গেলে ঐ ভবনের জায়গার নামে ব্যাক্তিমালিকানা দাবি করে একটি মামলা করলে তার নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এমতায় অবস্থায় শিক্ষক- শিক্ষিকারা দিশেহারা হয়ে যায় এভেবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু তার স্হান নেই। এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাইমূল ইসলাম ভূইয়ার বলেন আমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন সহ স্হানীয় গণ্য মান্য ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও মামলার বাদীপক্ষদের সাথে চলমান সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য আমি কার্যাদেশ পেয়েছিলাম। সয়েল টেষ্ট করার পর ব্যাক্তি মালিকানা দাবি করে মামলা করায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আরও বলেন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ নিয়ে ১০-১২ টি বৈঠক হয়েছে । যার কোনো কার্যকরী সুরহ হয়নি। অপরদিকে তিনি বলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা খুব শোচনীয় ও ভিবিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষীকা নাসরিন আক্তার ২০২২ সালে বুড়িচং থানায় একটি অভিযোগ করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন এর সাথে আলোচনা করে রাস্তা করা হয়েছে এবং কাজ শেষে টিউবওয়েলটি পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসাঃ ফৌজিয়া আক্তার বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটা আসলে দুঃখজনক ঘটনা যা নজিরবিহীন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ শাহিদা আক্তার বলেন, আমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে এ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য বলেছি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করার জন্য আমি একটি বরাদ্দ দিয়েছি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে। এ ভবনটিও নির্মাণ করতে পারছে না স্থানীয় চেয়ারম্যান। তিনি বলেন ৫ বিদ্যালয়ের ৫ শতক জমটি নিষ্কন্টক। তিনি জানান পূর্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ স্থানটি নিয়ে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। রবিবার প্রধান শিক্ষীকা আমার কাছে চলমান বিরোধ নিয়ে আসলে আমি বুড়িচং থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পাঠাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে থাকি।

পরীক্ষায় নকল সরবরাহ: যুবকের কারাদন্ড ও ৩ শিক্ষককে অব্যাহতি

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল সরবরাহের দায়ে এক যুবককে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরদিকে, নকলসহ এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার এবং দায়িত্ব অবহেলায় তিন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার আমিশা পাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের ও খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ সব ঘটনা ঘটে।

দন্ডপ্রাপ্ত কাউসার আলম (২২) উপজেলার পাদিপাড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ির মমিন উল্যার ছেলে।

জানা যায়, আমিশা পাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক আত্মীয়কে নকল সরবরাহ দায়ে কাউসার আলম নামে এক এক যুবককে আটক করে কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া । একই কেন্দ্রের দায়িত্বরত কেশারখিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও আমিশাপাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া এক পরিক্ষার্থীর পকেটে নকল পাওয়ায় তাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

অপরদিকে, উপজেলার খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজ পরিক্ষা কেন্দ্রে নিজ দায়িত্বের অবহেলা করায় আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ওই শিক্ষক দায়িত্ব অবহেলা না করার শর্তে মুচলেকা প্রদান করেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলা গানের কিংবদন্তি গায়ক সুবীর নন্দী চলে যাওয়ার ৪ বছর আজ

 

বিনোদন ডেস্কঃ

বাংলা গানের কিংবদন্তি গায়ক সুবীর নন্দী চলে যাওয়ার চার বছর আজ। কিন্তু জনপ্রিয় এ শিল্পীর চলে যাওয়ার দিনে কোন আয়োজনই রাখা হয়নি। গানে গানে দর্শক-শ্রোতারা কিংবদন্তি এই শিল্পীকে মনে রাখলেও সংগীতের লোকেরা তার চলে যাওয়ার দিনটিকে ভুলেই বসে আছেন!

তবে শিল্পীর চলে যাওয়ার দিনে বিষাদই যেনো সঙ্গী তার পরিবারের। সুবীর নন্দীর মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী ও স্ত্রী পূরবী নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেল পারিবারিকভাবেই সুবীর নন্দীকে স্মরণ করছেন তারা। তবে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

চলচ্চিত্রের গানের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জনকারী সুবীর নন্দী আবহমান বাংলার লোকগান, আধুনিক গান এবং নজরুল সংগীত শ্রোতাদের কাছেও সমান বরেণ্য। মহানায়ক, শুভদা, শ্রাবণ মেঘের দিন, মেঘের পরে মেঘ ও মহুয়া সুন্দরী চলচ্চিত্রে গান গেয়ে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

কিন্তু কির্তিমান এই গায়কের মৃত্যুর দিনে সংগীতের কোনা সংগঠনকে তাকে স্মরণের আয়োজনের খোঁজ মিলেনি।

সুবীর নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার নন্দীপাড়ায় এক কায়স্থ সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম নেন। তার ডাক নাম বাচ্চু। তার পিতা সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক। তার মা পুতুল রানীও গান গাইতেন। মায়ের কাছেই হয় তার সংগীতের হাতেখড়ি।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান গাইতে পছন্দ করতেন সুবীর নন্দী। বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে। সংগীতচর্চার পাশাপাশি ব্যাংকে চাকরি করতেন তিনি। ২০১৯ সালের ৭ মে ৬৫ বছর বয়সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান ওই বছরেই সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত এই শিল্পী।

চৌদ্দগ্রামে এমপি মুজিব গ্রুপের সাথে মিজান গ্রুপের সংঘর্ষ, দোকানপাট ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আ’লীগের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৬ মে)  সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত আ’লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বাজারের কয়েকটি  দোকান ভাংচুর করা হয়।

চৌদ্দগ্রামের  পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান জানান, জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আমার বাড়িতে  আ’লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সভা করছিল। এ সময় রাস্তার  ওপাশে এমপি মহোদয়ের নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হয়।  থানা থেকে পুলিশ এসে আমার বাড়িতে সেই প্রতিবাদ সভা দেখে চলে যায়।  প্রতিবাদ সভা শেষ করে  জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় এমপি মহোদয়ের নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আমার ভাইয়ের প্রাইম সুইটস দোকানের সার্টারসহ বাজারের কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। আমাদের দুইজন লোক আহত হয়েছে। আমরা মৌখিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করেছি।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ বাবুল বলেন, মেয়র মিজান জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তিদের নিয়ে শান্তির চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান আরো জানান, আমাদের নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছে। আর এই মিছিলে এমপির লোকদের হামলার বিষয়টি হতাশাজনক। এমপির লোকদের এই হামলা জামায়াত শিবিরকে উৎসাহিত করার শামিল।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে এমপি গ্রুপের লোকজন বাজার ছেড়ে পিছু হটে।

চকবাজার নুরে মদিনা মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ হবে

স্টাফ রিপোর্টার:

অতিসত্বর নিম্ন লিখিত পদে শিক্ষক ও শিক্ষিকা নিয়োগ প্রদান করা হবে।

হাফেজ দুইজন নিম্নে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আরবী শিক্ষক একজন , শিক্ষাগত যোগ্যতা, কামিল/ দাওরা,
একাডেমিক শিক্ষক তিনজন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ এস সি / অনার্স

আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১০ তারিখের মধ্যে স্ব হস্তে লিখিত আবেদন পত্র শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র নিয়ে অফিসে সরাসরি স্বাক্ষাত করার জন্য আহবান করছি।

যোগাযোগের ঠিকানা
নুরে মদিনা মাদরাসা চকবাজার কুমিল্লা, ০১৯৮০৫৭৫৩৮৩/ ০১৬৩২৩০৮২১২/০১৬৪৮০০৫০৯৯

যুক্তরাষ্ট্রের শপিংমলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৯

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। টেক্সাসের ডালাসের উত্তরাঞ্চলের একটি শপিংমলে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ইমার্জেন্সি সার্ভিস। খবর বিবিসির।

অ্যালেন শহরে ওই হামলার পরপরই শপিংমল থেকে শত শত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক বন্দুকধারী শপিংমলের লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।

এদিকে ওই হামলার পর পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারী নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, একজন ব্যক্তিই বন্দুক নিয়ে হামলা চালিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। ওই হামলায় কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট এই বন্দুক হামলাকে ‌‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

ফনটাইন পেটন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শপিংমলে তার কানে হেডফোন থাকার পরেও তিনি গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, লোকজন যখন শপিংমল থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল তখন তারা বাইরে বেশ কয়েকজনের মরদেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি প্রার্থনা করছিলাম যেন এর মধ্যে কোনো শিশু না থাকে। কিন্তু বেশ কয়েকজন শিশুও নিহত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ বলছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১৯৮টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে টেক্সাস পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ওই ব্যক্তি নয় বছর বয়সী এক শিশুসহ তার পাঁচ প্রতিবেশীকে গুলি করে হত্যা করে।

 জামাল হত্যাকান্ডে জড়িত সোহেলসহ ৩ জন গ্রেফতার, বিদেশে পালিয়েছে ৫ জন

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম মাষ্টারমাইন্ড সোহেল সিকদারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ৫ আসামি বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানায়। এতে করে কিলিংয়ে অংশ নেওয়া আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ার আশংকা রয়েছে।

রবিবার (৭ মে) বেলা ১১ টায় প্রেস ব্রিফিং করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে.কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে মোঃ ইসমাইল (৩৬), তিতাস উপজেলার মনাইরকান্দি গ্রামের মো: আক্তার হোসেন শিকদারের ছেলে মোঃ শাহীনুল ইসলাম @সোহেল শিকদার (৪০) দাউদকান্দি উপজেলার গোপচর গ্রামের মৃত. বজলুর রহমানের ছেলে শাহ আলম @পা কাটা আলম (৩৬)।

গত ৩০ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের সামনে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন (৪৫) খুন হন। ঐ দিন রাত আনুমানিক ২০:১০ ঘটিকায় ০৩ জন বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের পাশে একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় জামাল হোসেনের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই সময়ে বোরকা পরিহিত হামলাকারীরা জামালের উপর এলোপাথাড়িভাবে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। অতঃপর জামাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত জামালকে ঘটনাস্থলের উপস্থিত লোকজন গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে। হত্যাকান্ডের পরপরই র‌্যাব-১১ ও র‌্যাব সদর দপ্তরের একাধিক গোয়েন্দা দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আসামীদের সনাক্তকরণের নিমিত্তে কাজ শুরু করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ০২ মে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত ৩ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী স্বাভাবিক পথচারীর বেশে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময়ে ভিক্টিম জামাল , হত্যায় জড়িত ৩ নং আসামী মোঃ ইসমাইল (৩৬) ও এলাকার পূর্ব পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সাথে একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিল। বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতর্কিত ভিকটিম জামালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় ভিকটিম জামাল এর সাথে বোরকা পরিহিত একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর ধস্তাধস্তি হয় এবং ভিকটিম জামাল তাকে ঝাপটে ধরে ফেলে। তখন সাথে থাকা বোরকা পরিহিত অপর একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জামালকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং বোরকা পরিহিত অপর ব্যক্তি তার সাথে থাকা পিস্তল দিয়ে ভিকটিম জামালকে খুব কাছ থেকে মাথায় ও বুকে গুলি করে দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অন্য আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আসামীরা দৌড়ে পালানোর সময় একজনের বোরকার মুখের আবরণ খুলে যায় ও একজনের সাথে আরেকজনের ধাক্কা লেগে একজন আসামীর হাত থেকে তার সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি মাঠিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে অস্ত্র কুড়িয়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশের আরো কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পাই ঘটনাস্থলে আসার যে রাস্তা আসামীরা ব্যবহার করেছে সেই একই রাস্তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে সামান্য পরিবর্তিত রাস্তায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে এই ফুটেজটি বিশ্লেষণ করে আমরা আসামীদের হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুইটি বোরকা ও দুইটি হিজাব উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং বোরকা উদ্ধারের নিকটবর্তী একটি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই তিনজন ব্যক্তি যাদের মুখমন্ডল দেখা না গেলেও অবয়ব দেখে বোঝা যায় তারা দ্রুতগতিতে হেটে চলে যাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী বোরকা পরিহিত ব্যক্তিদেরকে আমরা মোটামুটি নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করতে পেরেছি। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের বিষয়টি মাথায় রেখে এই মূহুর্তে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

সকল তথ্য উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মাঠ পর্যায় হতে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ মে দিনে ও রাতে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ এলাকা, ঢাকা জেলার রায়েরবাগ এলাকা ও কালশী, মিরপুর এলাকা হতে উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় ৩ নং আসামী মোঃ ইসমাইল, ৪ নং আসামী মোঃ শাহীনুল ইসলাম @সোহেল শিকদার এবং ৭ নং আসামী শাহ আলম @পা কাটা আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম জামালের হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ডটি সংঘঠিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ ইসমাইল এর বিরুদ্ধে ২ টি হত্যা মামলাসহ মোট ৩ টি মামলা, শাহীনুল ইসলাম @সোহেল শিকদার এর বিরুদ্ধে ৩ টি হত্যা মামলাসহ মোট ৯ টি মামলা ও মোঃ শাহ আলম এর বিরুদ্ধে ১ টি হত্যা মামলাসহ মোট ১০ টি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এই মামলার এজাহারভুক্ত ০৯ জন আসামীর মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এজাহারনামীয় ০১ নং আসামী সুজন নেপালে, ০২ নং আসামী আরিফ নেপালে, ০৫ নং আসামী বাদল দুবাইতে, ০৬ নং আসামী শাকিল ভারতে, ০৮ নং আসামী অলি হাসান সৌদি আরবে পালিয়েছে ও ০৯ নং আসামী কালা মনির পলাতক অবস্থায় আত্নগোপনে রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আসামীদের দেশে ফেরাতে এবং হত্যার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাব-১১ এর প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে বলে র‌্যাব জানায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।