All posts by jitu

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি: ১৫ টাকা চালের কার্ড প্রতি ১৫০০-২৫০০ টাকা করে আদায়

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিতে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের যোগসাজশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি চালের নতুন কার্ডপ্রতি ১৫০০-২৫০০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হতদরিদ্রদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিনা পয়সায় এসব কার্ড সরবরাহ করলেও কার্ড নবায়নে এবং নতুন কার্ড দিতে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন চরএলাহী ইউনিয়নে গেলে এমন অভিযোগ করেন কার্ডধারী হতদরিদ্র নারী-পুরুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া নতুন কার্ড এবং পুরাতন কার্ড নবায়ন হয়না। ১৫শ টাকার এক টাকাও কম নেয়না। অনেক উপোস কাপোস থেকে মানুষের থেকে এনে এ টাকা দিয়েছি। না হলে কার্ড পাবোনা। তাহলে না খেয়ে মারা যাব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ৮নং চরএলাহী ইউনিয়নের ১হাজার ১৭০জন হতদরিদ্রের কাছ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। চরএলাহী ইউনিয়নের বর্তমান ডিলার মিজান ও তৎকালীণ ডিলার রাজীব কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়াম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব কামাল উদ্দিনের যোগসাজশে ইউপি সদস্য এবং ডিলাররা এসব টাকা সংগ্রহ করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে দেন। উপজেলা খাদ্য অফিস,ইউপি সচিব ও দুইজন ডিলার এবং ১০জন ইউপি সদস্য আদায়কৃত টাকার ভাগের একটা অংশ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে কম দামে চাল সরবরাহের জন্য চরএলাহী ইউনিয়নের ১১৭০জন মানুষকে কার্ড দেওয়া হয়। এ কার্ড নবায়নের জন্য এবং নতুন কার্ড দিতে প্রত্যেক কার্ডধারীর কাছে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা নেওয়া হয়েছে।খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাদ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ডিলাররা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, তার পরিষদের সদস্যরা এবং তাদের মনোনীত লোকজন এই টাকা আদায় করেছেন। কার্ডধারী একাধিক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিস খরচের নাম করে এই টাকা আদায় করেছেন ডিলাররা। আবার চাল বিতরণের সময় অতিরিক্ত ৩০ টাকা অবৈধভাবে আদায় করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলার সালাউদ্দিন ও মিজান।

চরএলাহী ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইসলাম জানান, আগে আমরা ১০টাকা চালের কার্ড বিনে পয়সায় পেয়েছি। পরে ডিলার মিজান ইউএনও এর নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন তিনি কিছু জানেননা। যারা টাকা দিয়েছে তাদের এক পরিবারে ৪-৫জনেও কার্ড পেয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেনি। তারা কার্ড পায়নি। কার্ড প্রতি ১৫শ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, আমার থেকে কার্ড দেওয়ার জন্য ১৫০০টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে আমাকে কার্ড না দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। একেক জনের কাছ থেকে ১৫শ থেকে ২৫শ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডিলার মিজানের চাল বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন খোদ ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক।

একাধিক ডিলার জানান, এসব অনিয়মের আরেক মূলহোতা হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে সাইলো অপারেটর শাহাদাত হোসেন শামীম।। সে নিজেকে অফিস সহকারী পরিচয় দেয়। তার কারসাজিতে এখানে তৃণমূলে কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়। তাকে ঘুষ দেওয়া ছাড়া কাজ করা যায়না।

অভিযুক্ত ডিলার মিজানুর রহমান মিজান অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,কাগজে কলমে আমিতো ডিলার নয়। এ বিষয়ে আমি জানিনা। ডিলার আমার ছোট ভাই মোজাম্মেল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব কামাল উদ্দিন বলেন,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজির চালের কার্ডে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে একাধিক দিন একাধিকবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাজীব চন্দ্র রায়ের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। তবে অফিস সহকারী শাহদাত হোসেন শামীম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নাকচ করে দেন।

চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন,এ বিষয়ে আমি জানিনা। তবে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনাই। এ রকম কোনো প্রমাণাদি নেই। চেয়ারম্যানের যোগসাজশে হয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণ থাকলে বিচার হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মেজবা উল আলম ভূঁইয়া বলেন, কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার আলেখারচর হতে ৪৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা সদরের আলেখারচর এলাকা হতে ৪৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল ১২ এপ্রিল ভোররাতে সদরের আলেখারচর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার গঙ্গানগর গ্রামের সুরুজ মিয়া এর ছেলে আল আমিন (২৯)।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

চৌদ্দগ্রামে হত্যাসহ ৩ মামলার আসামী রহমান গ্রেফতার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ তিন মামলার আলোচিত আসামী আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

সে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার গ্রামের মোহাম্মদ উল্যাহর ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহমান দীর্ঘদিন এলাকায় চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সাথে জড়িত। সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঘিনাগাজী রাস্তার মাথায় মারামারির সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রামের আলোচিত জামাল হোসেন প্রকাশ বাক্কা জামাল ও জামাল হত্যা মামলার অন্যতম স্বাক্ষী শাকিল হত্যা মামলা এবং একটি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে।

তাকে আটকের কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। তার আটকের সংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আলকরা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘ধর্তব্য অপরাধ নিবারণ কল্পে আবদুর রহমানকে গ্রেফতার শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

কুমিল্লায় পরকীয়াতে বাঁধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা, ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

 

ইসতিয়াক আহমেদ:

কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পরিবহন নেতা রেজাউল করিম রাজা মিয়াকে হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। এই সময় তিনজনকে ১০ হাজার করে অর্থদণ্ড প্রদান করে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত-৫ এর বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল (২৫), একই উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের আউয়াল কমিশনারের বাড়ীর মৃত রেজাউল করিম রাজা মিয়া স্ত্রী মোসাঃ আলো আক্তার (৩০) এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া জয়নাল মেম্বার বাড়ীর আঃ সামাদ প্রকাশ্যে সামাদ সরকার এর ছেলে মোঃ রাসেদ (২৮)।

মামলার এজাহারে জানা যায় মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরাতন চরচাষি ছায়েদ আলী মুন্সী বাড়ীর মৃত ছোয়াব আলী বেপারীর ছেলে মৃত মোঃ রেজাউল করিম রাজা মিয়া তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাহার শ্বশুর সাবেক কাউন্সিলর আঃ আউয়াল মিয়ার বাড়ির পাশে জমি ক্রয় করে বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করতেন।

এই সময় দাউদকান্দি বাসষ্ট্যান্ডে গজারিয়া পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন।

রাজা মিয়ার চাচা আঃ রউফ দাউদকান্দি উপজেলাধীন দোনারচর গ্রামে বসবাসরত অবস্থায় ২০১৪ সালের ১২ জুন রাত সাড়ে ১০টায় আঃ রউফ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃত রাজা মিয়াকে জানাতে মোবাইলে ফোন করে না পেয়ে তার বড় ভাই খাজা মিয়া ঐ রাতে দোনারচর চলে যান। এর পরদিন ১৩ জুন খাজা মিয়ার ছেলে সোহাগ ফোন করে জানায় আঃ আউয়ালের বাড়ির পাশে উঠানে রাজা মিয়াকে মেরে ফেলে রেখেছে । খবর পেয়ে খাজা মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজা মিয়ার লাশ দেখতে পান।

২০১৪ সালের ১৪ জুন ভিকটিমের বড় ভাই খাজা মিয়া বাদী পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রাজা মিয়াকে হত্যার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। পরে পুলিশ সন্ধেহজনভাবে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অপর দুই আসামী তাপস চন্দ্র শীল ও রাসেদ এর নাম বললে পুলিশ অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

আসামি গণ আদালতে ১৬৪ ধারার বিধানমতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করলে দাউদকান্দি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রঞ্জন কুমার ঘোষ মামলার ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে আসামীগণের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করলে আদালত ২০১৫ সালের ২৭ মে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে।

রাষ্ট্রপক্ষ ২১জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে পলাতক আসামী তাপস চন্দ্র শীল, পলাতক আসামি মোসাঃ আলো আক্তার এবং আসামি মোঃ রাসেদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষনাকালে আসামি রাসেদ ডকে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি মোসাঃ আলো আক্তার ও তাপস চন্দ্র শীল পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি এড. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. নোমান ও এড. মাসুদ সালাউদ্দিন।

এদিকে, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এপিপি নজরুল বলেন- এর ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার এজাহারকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষ শীঘ্রই রায় কার্যকর করার জন্য জোর দাবী জানান।

অপরদিকে, আসামী পক্ষের বিজ্ঞ কৌশলী বিজ্ঞ এডভোকেট মোঃ মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, এ রায়ে আসামী পক্ষ ক্ষুদ্ধ। রায়ের কপি হাতে পেয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

ব্রাহ্মনপাড়ায় পৃথক ২টি অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

পৃথক অভিযানে কুমিল্লার ব্রাহ্মনপাড়া চান্দলা ও মাধবপুর এলাকা হতে ১৪ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারিকে আটক করেছে ব্রাহ্মনপাড়া পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) ব্রাহ্মনপাড়া থানার এসআই সৌরভ হোসেন ও এসআই মাহবুবুর রহমান ফোর্সসহ ব্রাহ্মনপাড়া চান্দলা ও মাধবপুর এলাকায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ব্রাহ্মণপাড়া ৩নং চান্দলা থেকে ১০ কেজি অপরদিকে ব্রাহ্মণপাড়া ১ নং মাধবপুর থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া মাদক কারবারিরা হলেন , নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার রেজ্জাকপুর (বসুমিয়া বেপারী বাড়ী) গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ছেলে মোঃ ফয়সাল (২৫), অন্যজন হলেন জামালপুর জেলার জামালপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড এর বাপ্পী শেখের স্ত্রী ছাপা খাতুন (৩০) ।

উক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মনপাড়া থানার পৃথক ২ টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়।

সৌদিতে ওমরাহ শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল বাংলাদেশি যুবকের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থল ফেরার পথে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী মো. লিটন মিয়া (৩০)।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর নিহত লিটন মিয়ার বাড়িতে বইছে শোকের মাতম।

নিহত মো. লিটন মিয়া উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দি গ্রামের চাঁন মিয়া সরকারের একমাত্র পুত্র। জীবিকার সন্ধানে ৬ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান লিটন মিয়া। লিটন মিয়া সৌদি আরবে দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

নিহত লিটন মিয়ার বাবা চাঁন মিয়া সরকার জানান, জায়গা জমি বিক্রি করে ৬ বছর আগে সৌদি আরবে পাঠাই আমার সন্তানকে। এ বছর ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হয়। গত শনিবার তার এক বন্ধু ফোন করে এ খবর জানিয়েছেন। এ শোক আমি সইবো কিভাবে। আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী লিটন।

নিহত লিটন মিয়ার মা নিলুফা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, গত শনিবার ইফতারের আগমুহূর্তে লিটনের মৃত্যুর খবর আমরা জানতে পেরেছি। তবে সে কথা আমার বিশ্বাস হয়নি। কিছুদিন আগেও ভিডিও কলে সে বলেছিল ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে টাকা পাঠাবে। কিন্তু তার আগেই আল্লাহ তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেল। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।

লিটন মিয়ার ছোট ভগিনীপতি আল-আমীন জানান, নিহত লিটন মিয়ার মরদেহ একটি সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনার চেষ্টা চলছে।

৩০ এপ্রিল হত্যা করা হবে সালমান খানকে, পুলিশের কাছে ফোন

 

বিনোদন ডেস্কঃ

ফের হত্যার হুমকি দেয়া হলো বলিউড ভাইজান সালমান খানকে। মার্চ মাসেই ই-মেইলে এ তারকাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য হুমকি এসেছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং থেকে। কিন্তু এবার নিজেকে রকি ভাই দাবি করে সরাসরি মুম্বাই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বলিউড তারকাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, সালমানকে হত্যার হুমকি দেয়ার পর চিন্তিত মুম্বাই পুলিশ। তারা অভিনেতার নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি রাখছে না।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে রকি যোধপুরের বাসিন্দা। সে স্বঘোষিত গো-রক্ষক। আগামী ৩০ এপ্রিল খুন করা হবে সালমানকে, এমনই হুমকি দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার (১০ এপ্রিল) পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি ফোন আসে। তখন ফোন করা ব্যক্তি নিজেকে রাজস্থানের যোধপুরের রকি ভাই পরিচয় দিয়ে সালমান খানকে ৩০ এপ্রিল প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

এদিকে অনেক আগেই পুলিশের কাছে প্রমাণ এসেছে, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং অভিনেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। এ কারণে তারকাকে ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে সালমানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরাও তৎপর হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে যোধপুরে সিনেমার শুটিং চলাকালীন দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ উঠে সালমানের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাঁটা হয়ে আছেন বলি নায়ক। এর আগে একাধিকবার তাকে শার্প শ্যুটার দিয়ে হত্যার জন্য চেষ্টা করেছে লরেন্স বিষ্ণোই। ২০১৮ সালে সে প্রকাশ্যে বলেছিল, যোধপুরে সালমানকে হত্যা করব আমরা।

আখাউড়ায় জমির জের ধরে বড় ভাইকে পিটিয়ে হ’ত্যা করলো ছোট ভাই

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয় তার। এর আগে সন্ধ্যায় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান (৫০)। তিনি উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নোনাসার গ্রামের আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, আব্দুর রহমানের বসতবাড়ি ও পুকুরের জায়গা নিয়ে ছোট ভাই খলিলুর রহমানের সঙ্গে একাধিক মামলাসহ ২০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে সন্ধ্যায় আব্দুর রহমান মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়িতে আসার পথে খলিলুর রহমান ও তার ছেলে তানভীর ও বাবুসহ ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খলিলুর রহমান পলাতক। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে।

১৪ লিটার দুধে ২৬ লিটার পানি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১৪ লিটার দুধের সঙ্গে ২৬ লিটার পানি মিশিয়ে বিক্রির সময় জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মের কর্মচারী ফারুক হোসেনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রামগঞ্জের ইউএনও উম্মে হাবীবা মীরা।

এর আগে সোমবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টায় রামগঞ্জ থানার পিছনে ওয়াবদা সড়কের চৌরাস্তায় ভেজাল দুধ বিক্রি করতে গেলে জনতার হাতে আটক হয় দুধ বিক্রেতা ফারুক হোসেন। পরে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে রামগঞ্জ পৌর সেনেটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মীরা এসে দুধগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন, দুধের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি মিশানো হয়েছে।

এ সময় দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে বিক্রেতা ফারুককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবীবা মীরা। পরে পানি মিশ্রিত দুধ পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদিয়া এতিমখানায় দিয়ে দেন তিনি।

ভেজাল দুধ বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, আমি জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মে চাকরি করি। ফার্মের মালিক বাচ্চু মিয়া আমাকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৪০ লিটার দুধ দেয়। আমি সেগুলো ৫০, ৬০,৭০ টাকা দরে এখানে বিক্রি করি। এই খামার থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ লিটার দুধ পুরো রামগঞ্জে বিক্রি করা হয়। আজকে ১৪ লিটার দুধে ২৬ লিটার পানি মিশানো হয়েছে বলে ফারুক জানিয়েছে।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, আমরা যখন এখান থেকে দুধ ক্রয় করি তখন বাড়িতে গিয়ে দেখি দুধের অধিকাংশই পানি। আমাদের মনে সন্দেহ থাকার কারণে সাংবাদিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় তাকে পানি মিশানো ভেজাল দুধসহ আটক করি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবিহিত করেন। জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মের মালিক বাচ্চু মিয়া বলেন, মানুষ ৩০-৪০ টাকা দিয়ে দুধ কিনে। দুধে পানি মেশাবোনাতো কি মেশাবো।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবীবা মীরা বলেন, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে বিক্রেতা ফারুককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একই অপরাধে জড়ালে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হবে।