All posts by jitu

দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন

 

জাকির হোসেন হাজারীঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ. এফ. এম. তারেক মুন্সি স্বাক্ষরিত এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এম. এ. লতিফ ভূঁইয়াকে ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কগণ হলেন, আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, আহমদ হোসেন তালুকদার, এম. এ সাত্তার, মোঃ মাহবুব হোসেন মোহন, মোঃ শাহজাহান সরদার, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মজিবুর রহমান মজিব, হেলাল ইসহাক, আনোয়ার হোসেন, মোঃ শাহ জালাল, মোঃ শাহ আলম, মোঃ কামাল হোসেন, এনামুল হক তালুকদার সফর, এডভোকেট ফরিদা ইয়াসমিন, মোঃ ইব্রাহিম খলিল, মাইনুল ইসলাম ঢালী, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও আজমুলুর রহমান নিপুন।

কমিটির সদস্যরা হলেন, এ.কে.এম সামসুল হক, আলহাজ্ব আবুল হাসেম, মোঃ হুমায়ুন কবির সরকার, মিঞা মোঃ শফিকুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, সফিকুল ইসলাম মাস্টার, জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজী, মোঃ আবদুল আউয়াল, আল এমরান খান, মোঃ কামাল হোসেন, তসলিম আহমেদ, মোঃ মিজানুর রহমান, আবদুল বারেক সরদার, আকতারুজ্জামান খোকন, জহিরুল হক মুক্তার, মোঃ মোরশেদ আলম, মোঃ মহসিন মিয়া, মোঃ নূরুল আমিন মোল্লা ও আবদুল মতিন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দলকে শক্তিশালী, গতিশীল এবং আন্দোলনমুখী করার লক্ষ্যে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিয়ে সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে।

সদর দক্ষিণে পৃথক অভিযানে ১৮ কেজি গাঁজাসহ ২ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ১৮ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ এপ্রিল রাতে সদর দক্ষিণের চাঙ্গিনী এলাকা থেকে ১২ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক নোয়াগ্রাম গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ বেলাল হোসেন (২২)।

পৃথক আরেকটি অভিযানে ৫ এপ্রিল রাতে সদর দক্ষিণের দলিবটগ্রাম এলাকা থেকে ০৬ গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক লালমাইয়ের মাধবপুর গ্রামের আলী আক্কাসের ছেলে মোঃ মীর হোসেন (২৪)।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব জানায়, উভয়েই দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির প্রতিনিধি সভা থেকে কুবি কর্মচারী আটক

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি

যুবদল-বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল থেকে আটক হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কার্য সহকারী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ আলম।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলে আয়োজিত কনফারেন্সে যুবদল-বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিল চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাসুদ আলম বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার যুবদলের ইফতার মাহফিলে যোগ দেন তিনি।নেতাকর্মীদের আলোচনার এক পর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইফতার মাহফিলে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার পর বিপত্তি ঘটে। পুলিশ প্রশ্ন তোলেন, তারেক বিদেশে পলাতক আসামী। ভিডিও কনফারেন্সে তারেকের এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেওয়া নিয়ে কেনো পুলিশকে আগে জানানো হয়নি। পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে পুলিশ বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। আটককৃত ২০ জন বিএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে একজন হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশন দপ্তরের কর্মচারী মাসুদ আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোরশেদ।
এবিষয়ে আরোও বলেন, মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) টাউনহলে বিএনপির সমাবেশ ছিলো। সেখানে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পরবর্তীতে তারা পুলিশের উপর হামলা করলে গ্রেফতার করা হয়। কুবি কর্মচারীর নামে আগে কোনো মামলা ছিলো না। নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন মো. মহসিন, আমি এখন পর্যন্ত এবিষয়ে অবগত ছিলাম না। এখন যেহেতু জেনেছি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করবো।

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, মাসুদ আলমকে আটকের বিষয়ে আমরা পুলিশ প্রশাসন থেকে কোনো চিঠি পাইনি।

নোয়াখালীতে ঘুষ দিতে অপারগতার জেরে সাংবাদিককে মারধর

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঘুষ দিতে অপারগতার জেরে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তা ও মারধরের শিকার মো. করিম নুরী (৬৫) দৈনিক সবুজ নিশান নামের একটি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে জেলায় কর্মরত। এ ঘটনায় তিনি বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী শাহদাত ইসলাম ও সহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেছেন।

সাংবাদিক মো. করিম নূরী জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে মো. করিম নূরী উল্লেখ করেন, তার ভাগনে বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানতপুর গ্রামের মো. রাসেলের (৪৫) ভবনের জন্য বিউবোর বেগমগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ–সংযোগের জন্য আবেদন করেন। এরপর থেকে বিউবোর লোকজন অামাকে অস্বচ্ছ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবার জন্য নগদ ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করায় অতর্কিতে হামলা চালায়।

করিম নুরী জানান, কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনের নকশা দেখে একবার ৮টি, আরেকবার ১৬টি এবং সর্বশেষ ২৪টি মিটার বসাতে হবে বলে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত ইসলামের কক্ষে গেলে সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে ঘুষ দাবির বিষয়টি ভাগনেকে কল করে জানানোর সময় কক্ষে থাকা বিউবোর কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তারা তার গলা টিপে ধরেন ও তাকে মারধর করেন।

ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বিউবোর বেগমগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহদাত ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু তথ্য ঘাটতির কারণেই বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তিনি বলেন, অাবেদন ছিলো ৮ বাসার, আমার লোক গিয়ে দেখলো ৪ তলা বিল্ডিং ১৬ ফ্ল্যাট কিন্তু বাড়ির অনুমোদনে দেখা গেলো ৬ তলা তাই ২৪টি মিটার লাগবে বলায় তিনি ভেবেছেন আমরা ঘুষ দাবি করছি।

তিনি বলেন, নুরী সাহেব (মো. করিম নূরী) অফিসের ভেতরে খুব জোরে জোরে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে ওনার কাছে ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে মুঠোফোনে কাউকে জানাচ্ছিলেন। তাই একটু কথা–কাটাকাটি হয়েছে। ঘুষ দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন।

মারধর ও ১৭টি বিদ্যুৎ মিটারের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অমার কক্ষের বাইরে হয়েছে কী না আমার জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনিকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

লাকসামের প্রবাসী বাবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনকে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমেরিকা ফেরত আকবর হোসেন বাবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বেলা ১১টায় কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাসিরন জাহান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, লিপি আক্তার, রহমত উল্লাহ রনি, কামাল হোসেন, তাজুল ইসলাম ও সজিব। তারা সবাই নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নিহতের ছোট ভাইয়ের বউ লিপি আক্তার। অন্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী। রায়ের সময় লিপি আক্তার ও সজিব পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামির সামনেই রায় পড়ে শোনান বিচারক।

মামলা সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালী-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ এলাকায় ডোবা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, উদ্ধারকৃত মরদেহ নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার উলু পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমেরিকা ফেরত আকবর হোসেন বাবুলের। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

এদিকে এ ঘটনায় কুমিল্লা লাকসাম থানার উপপরিদর্শক শেখ মিল্টন রহমান বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা দায়ের করেন।

আইনজীবী জাহিদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় ১৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান করেন। আসামিদের মধ্যে তাজুল ইসলাম রুবেল ছাড়া বাকি চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালত এ রায় দেন।

“প্রশান্তি এ মাটিতেই”

“প্রশান্তি এ মাটিতেই”

নাজমুল হুদা খান

প্রতি বছর একটা সীতাকুন্ডু,
চানখাঁরপুল কিংবা বংগবাজার।
ভস্মিভূত সবে বিয়ের পিড়িতে বসা
তরুনী বোনটির সোনালী মুখ,
ভিখেরি বনে যায় তরুন কোন উদ্যোক্তা।

ফের বছর প্রমত্ত বন্যা,
ভাসিয়ে নেয় সুখের স্বপ্নে বাঁধা
কোন যুগলের ঘর।
নতুন কোন মাঝির পাল তোলা নৌকা,
ডুবে যায় খরস্রোতা ঘূর্ণিতে।

বাদ নেই কোন বছর;
বাড়ী ফেরার হাইওয়ের দূর্ঘটনায়,
পরিবারের সব হারিয়ে
অনাথের খাতায় নাম উঠে,
ছোট্ট শিশু কিংবা উঠতি কোন তরুনীর।

তারপরও এ মাটি এ বাটি এ নদী
আমায় দূর্নিবার ঘূর্ণনে টানে।
অর্ধ সেঞ্চুরী পেরিয়েও মার্কিন মুলুকে,
শাড়ীতে শহীদ মিনারের চিহ্ন
গুংগুরের ছন্দে বাজে ভাষা শহীদের গান।

এ বাতাস এ আকাশ এ পাহাড়,
বার বার ফিরিয়ে আনে এ তটে।
মনের আকুতি প্রজন্মের হাতে থাকুক
এ ভাষায় কথা বলা তরুন তরুনীর হাত;
সৃষ্টি হোক আরেকটি বাংলা ব-দ্বীপ।

এখানকার মাছের ঝোল বাসমতির ভাত,
বড্ড পছন্দ স্বাদকুড়িদের।
শীতের দেশের বার-বি-কিউর চুলো বন্ধ রেখে,
তাই বার বার ফিরে আসি এ তলাটে;
পুঁই শাক শুটকি উছতে ভাজিদের ভীড়ে।

পিচ ঢালা সরু রাস্তা,গেয়ো মেঠো পথে
চলতেই গহীন আনন্দ।
আরবের ট্রাফিকবিহীন শহর থেকে শহরে,
ল্যান্ডক্রুইজার কিংবা পাজেরোর সুইচ বন্ধ করে,
এখানেই প্রসন্নতা মা তোমার প্রশান্ত মাটিতে।

কুবিতে শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্যতা কেড়ে নিলেন ড.বনানী বিশ্বাস!

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালার তোয়াক্কা না করে নিজের পদোন্নতি বোর্ডে নিজেই সভাপতিত্ব করা, বারংবার সহকর্মী-শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিভাগে অন্য শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে নিজের প্রভাব বিস্তার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আইন না মেনে একইসঙ্গে দুই পদে বহাল থাকার অভিযোগের পর এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্নাতকোত্তর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের থিসিস পেপারের ভাইভা বোর্ডে এবং সেমিস্টার ফাইনাল খাতায় নম্বর টেম্পারিং করার অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত কয়েক দিন যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে (ফেইসবুক) নম্বর টেম্পারিং এর বিষয়টি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের নম্বর টেম্পারিং এর রেজাল্ট শীট সহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নামের একটি গ্রুপে লিখেছেন, আমার স্বপ্ন ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো। কিন্তু ইংরেজি বিভাগে পড়ে আমার জীবন শেষ। স্নাতকে আমার রেজাল্ট অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু স্নাতকোত্তরে এক ঘসেটি বেগমের বদ নজর পড়লো আমার উপর। এর কারণ হচ্ছে আমি অন্য শিক্ষকদের অনুসরন করি। যাকে আমি অনুসরণ করি বনানী ম্যাম তাকে একদম সহ্য করতে পারেন না। বলি হলাম আমি।আমাকে এমনভাবে আটকানো হলো যাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে আবেদন না করতে পারি।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, স্নাতকে ভালো ফলাফলধারীরা স্নাতকোত্তর ২য় সেমিস্টারে থিসিস করার সুযোগ পেয়ে থাকে। যেখানে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.২৫ হলে শিক্ষার্থী তার পছন্দ শিক্ষকের অধীনে থিসিস করতে পারবেন। একজন শিক্ষকের অধীনে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষার্থী এই পেপার করার নিয়ম রয়েছে। স্নাতকোত্তর ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বনানী বিশ্বাসের অধীনে ৩ জন, অধ্যাপক ড. এমএম শরীফুল করিমের অধীনে ২জন, সহকারী অধ্যাপক আবুল হায়াতের অধীনে ৩ জন ও সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানার অধীনে ২ জনসহ মোট ১২জন থিসিস করার সুযোগ পেয়েছিলো। এতে ফাইনাল ভাইভা বোর্ডে বনানী বিশ্বাস এবং শারমিন সুলতানার বিরাগভাজনের শিকার হয় আবুল হায়াত ও শরীফুল করিমের অধীনে থিসিস করা শিক্ষার্থীরা। হায়াত ও শরিফুলের অধীনে থিসিস করা শিক্ষার্থীদের ‘সি+’ ও ‘বি-’ গ্রেডে নম্বর দেয়া হয়, যেখানে বনানী ও শারমিনের অধীনে থিসিস করা ৫ জনই পেয়েছে ‘এ’ এবং ‘এ+’ গ্রেডে। এতে ফল বিপর্যয় ঘটে শিক্ষার্থীদের।

এর আগে স্নাতকোত্তর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের দুইজন শিক্ষার্থী ১ম সেমিস্টারে অন্যান্য কোর্সে ‘এ’ এবং ‘এ-’ পেলেও বনানীর কোর্সে পায় ‘বি’ ও ‘বি-’। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তারা যেন পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে আবেদন করতে না পারে সেজন্য কোর্স শিক্ষক ইচ্ছেকৃত ভাবে নম্বর কমিয়ে দিয়েছেন। একই ব্যাচের দুইজন শিক্ষার্থী পরবর্তী সেমিস্টারে শরিফুল করীমের অধীনে থিসিস করায় নম্বর কমিয়ে দেয় বিভাগের বনানী ঘনিষ্টজন শিক্ষক শারমিন সুলতানা। ফলে তারা পেয়েছেন ‘বি-’। এটা কোনভাবে গ্রহণযোগ্য না বলে জানান একাধিক শিক্ষকরা।

কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে নাম্বার টেম্পারিং হচ্ছে? এবিষয়ে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনার পরিচালক ড. মোহাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে কেন শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে? এটা এক ধরণের অপরাধ। একজন শিক্ষকের নৈতিকতা থাকলে এই কাজ করা সম্ভব না।

স্নাতকোত্তর ২০১৯-২০ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, একাধিক সেমিস্টারে ১ম, ২য় হওয়ার শিক্ষার্থীরা কিভাবে ভাইবাতে ‘সি’ এবং ‘সি+’ পায়! আমরা রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার আগে জানতাম যারা বনানী ম্যামের অধীনে থিসিস করবে তারা ভাইভাতে ‘এ+’ বা ‘এ’ পাবে। রেজাল্ট প্রকাশের পর সেটাই হয়েছে। কারণ আমরা জানি তিনি পছন্দের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটা করেন।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা অন্যান্য কোর্সে ভালো করলেও ম্যামের কোর্সে ভালো করতে পারিনা। কারণ ওনি নির্দিষ্ট কয়েকজনকে নম্বর দেয়। এছাড়া ওনার অধীনের থিসিস না করায় তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়। যার ফলে এর প্রভাব ফলাফলে দেখতে পাচ্ছি।

বিভাগটির একাধিক শিক্ষকরা বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। শিক্ষকরা নম্বর টেম্পারিং করলে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। একজন শিক্ষকের নৈতিকতা থেকে এরকম কাজ করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীরা যেকোনো শিক্ষকের অধীনে থিসিস করতে পারে। এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। সেক্ষেত্রে কেন শিক্ষককের ব্যক্তিগত আক্রোশ শিক্ষার্থীদের ফলাফলের উপর পড়বে? এটা কোনভাবে কাম্য নয়।

তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নারাজ অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বনানী বিশ্বাস ও শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের নম্বর টেম্পারিং এর বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এখন যেহেতু জানলাম, শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব। সেটা যেই হোক, প্রমাণ পেলে আমরা বিষয়টি দেখবো।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একাধিক অভিযানে ৪৩ কেজি গাঁজাসহ আটক ৫

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একাধিক অভিযানে ৪৩ কেজি গাঁজাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৫ এপ্রিল) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান, আলমগীর হোসেন ও মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় ২৫ কেজি গাঁজাসহ জয়নাল আবেদীন ও নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মো: নাছির (২৭) প্রকাশ টোকাই নাছির, সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৪০), ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বেউতা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে জয়নাল আবদীন (৩৫), একই এলাকার আলী আক্কাসের ছেলে নুরুজ্জামান (৩৮) ও চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে শাহাদাত (৩৩)।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক লিটন চাকমা ও বিকাশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের ঘাসিগ্রাম এলাকার মাহবুবুর রহমানের বাড়ির রাস্তার উপর হতে ১৪ কেজি গাঁজাসহ নাছির ও সুমন নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

অপরদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স পৌরসভার লক্ষীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রান্নাঘর থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ শাহাদত নামে একজনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে না: ওবায়দুল কাদের

 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব না করে শুধু ঘরে বসে থেকে বিবৃতি প্রদান করে। ফলে এ রকম ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়েও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য তাদের চিরাচরিত অপরাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবাজারে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনায় সরকারি নানা সংস্থার সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করে। অথচ এ রকম ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনায় সেখানে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় সাহায্য করা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় এগিয়ে আসা- এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বিএনপি গ্রহণ করেনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তারই নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

তিনি আরও বলেন, আগুনের লেলিহান শিখা ৪টি মার্কেটের ৫ হাজার দোকান ভস্মীভূত করার পাশাপাশি পুড়িয়ে ছাই করেছে ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ও ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের জীবিকার অবলম্বন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটসহ সরকারের ৬টি সংস্থা সরাসরি অংশগ্রহণ করে এবং তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।

‘বিএনপি তামাশার নির্বাচনে বিশ্বাস করে না’ মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির প্রতিভূ বিএনপি এ দেশে বার বার তামাশার নির্বাচন আয়োজন করেছে। সামরিক শাসন জারি র