All posts by jitu

কুবিতে ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে হল প্রাধ্যক্ষকে শাসানোর অভিযোগ

 

কুবি প্রতিনিধিঃ

‘এই হল আমার, আমার কথাতেই হল চলবে। যাকে যেখানে খুশি সিট বরাদ্দ দেব। আপনাকে এই হলের দায়িত্ব কে দিয়েছে?’- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট সাহেদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য ওই হলের ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ফাইজা মেহজাবিনের।

শনিবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শেখ হাসিনা হলের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হল পরিদর্শনে এসে সমস্যা সমাধানে ফাইজার সাথে কথা বলতে গেলে সে এমন মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে জানা যায়, শেখ হাসিনা হলের ২১৪ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ১২ তম আবর্তনের প্রেয়শী সানা অন্য রুমে স্থানান্তর হওয়ার জন্য হল প্রভোস্ট বরাবর আবেদন করলে তাকে ২১৬ নম্বর রুমের একটি সিটে এলটমেন্ট দেয়া হয়। কিন্তু রুম স্থানান্তর করতে গিয়ে প্রেয়শী তার নতুন সীটে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম আবর্তনের রায়হানা আনজুম মিম নামে এক শিক্ষার্থীকে অবস্থান করতে দেখেন। ঘটনা সমাধানের জন্য হল প্রভোস্টকে ফোন দিলে হল প্রভোস্ট সাহেদুর রহমান হলে এসে ১১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীকে এখানে অবস্থানের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি কাজী ফাইজা মেহজাবিনের নাম বলেন।

সেই সূত্র ধরে লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী ফাইজা মেহজাবিনকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে প্রভোস্টকে উদ্দেশ্য করে তিনি উপরোল্লিখিত মন্তব্য করেন ।

এ সময় হলে অবস্থারত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ফাইজার এমন আচরণ নতুন কিছু না। সে একজন শিক্ষক সম্পর্কে যদি এমন মন্তব্য করতে পারে, তাহলে ভাবুন আমাদের সাথে কী ধরনের আচরণ করে থাকে! প্রতিদিন সকাল বেলা তার চিল্লাচিল্লিতে আমাদের ঘুম ভাঙে। হলে অবস্থানরত সকল শিক্ষার্থী তার প্রতি বিরক্ত। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা উক্ত হলের হাউজ টিউটর মো. আল আমিন বলেন, ‘হল প্রভোস্টের সাথে ফাইজার আচরণ শিক্ষার্থী সুলভ নয়।’

এ ব্যাপারে কাজী ফাইজা মেহজাবিন বলেন,’স্যারকে এই ধরনের কোন কথা বলিনি। কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, এই হল তো আমারও।’

এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট সাহেদুর রহমান বলেন,’হলে কোন শিক্ষার্থী উঠবে আর কোন শিক্ষার্থী উঠবে না, এই এখতিয়ার সম্পূর্ণ হল প্রসাশনের। একজন শিক্ষার্থী তো এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে হল সংস্কৃতি আমরা তৈরি করতে চাচ্ছি তা শুধুমাত্র সম্ভব হচ্ছে না ফাইজার জন্য।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই শেখ হাসিনা হলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের আগে শেখ হাসিনা হলে উঠতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভাইবা নিয়ে সিটে উঠানো হয়। কিন্তু হল উদ্বোধনের পর থেকেই ফাইজা নিজের খেয়াল খুশিমতো সিট বদল করতে থাকেন। এছাড়া বরাদ্ধকৃত সিটে না উঠতে হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সেই সকল সিটে নিজের খেয়ালখুশি মতো শিক্ষার্থী তোলার ঘটনা রয়েছে। শুধু তাই নয় হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা রাত ৯ টার পর হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবে না, হল গেটে শিক্ষার্থীদের কেউ এগিয়ে দিতে পারবে না সহ নানা ধরনের নিয়ম তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হল প্রশাসন সিট দিয়েছে। কিন্তু ফাইজার কথা হচ্ছে সেই সিট বাঁচিয়ে রাখতে গেলে নাকি ছাত্রলীগ করতে হবে! যারা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না তাদের সিট নিয়ে সে বরাবর ঝামেলা করে।

এ ব্যাপারে কাজী ফাইজা মেহজাবিন বলেন, আমি এরকম কিছুই করি নাই। হলের সিটে এলটমেন্ট তো আমি দেই না। হলে প্রশাসন দেয়। আমাদের হলে অবৈধ কিছু হয় না।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা হল উদ্বোধনের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও প্রথম আসন বরাদ্দের লিস্টে নাম আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু কাজী ফাইজা মেহজাবিন তার হল ফি ১,২৫০ টাকা হল প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয়নি। বিষয়টি হল প্রসাশনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট মো. সাহেদুর রহমান বলেন, সবাই দিলেও সে হল প্রশাসনকে এই টাকা বুঝিয়ে দেয়নি। আমি বেশ কয়েকবার বলেছি কিন্তু সে নানা অজুহাতে দেখায়। নিয়ম অনুযায়ী তার সিট বাতিল হওয়ার কথা। আমি তার সাথে এই ব্যাপারে সামনে কথা বলবো। হল প্রশাসনকে টাকা বুঝিয়ে না দিলে আমি তার সিট বাতিল করার প্রক্রিয়ার দিকে আগাব।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, হল চালাবে প্রশাসন। এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। আমি বিষয়টা অবগত হয়েছি। বিষয়টি আলোচনা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, তাকে (ফাইজা মেহজাবিন) দায়িত্ব দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সাধারণ মেয়েদের সমস্যা সমাধান করার জন্য। সে যদি ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় কিছু করে থাকে, আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। তবে ছাত্রলীগের হল ইউনিটের সভাপতি হিসেবে সে কোনো শিক্ষার্থীকে সিটে উঠাতেই পারে।

শেখ হাসিনা হল ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথেও খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রুয়েছে কাজী ফাইজা মেহজাবিনের বিরুদ্ধে। বাসে থাপ্পড় মারার ঘটনাও রয়েছে এর মধ্যে। গত বছরের নভেম্বরের ৯ তারিখ বাসে সিট রাখাকে কেন্দ্র করে এক ছেলে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সেই শিক্ষার্থীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ছাড় পান সেই ঘটনায়।

ইপিআই বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার:

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ”ইপিআই” বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ০-১৫ মাস বয়সী শিশুদের ১০টি মারাত্বক রোগ হাম, রুবেলা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, যক্ষা, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি প্রতিরোধে টিকাদান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। শিশুদের পাশাপাশি ১৫-৪৯ বয়সী নারীদের ৫ ডোজ টিটি টিকা নেওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সরসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র তথ্য অফিসার নাছির উদ্দিন। বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন এইচ আই ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও ইউপি সচিব মো: সহিদ উল্লাহ। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, ঈমাম, পুরোহিত, সাংবাদিক প্রমুখ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কুমিল্লা মিডিয়া ক্রিকেটে রিপোর্টার্স ইউনিটি চ্যাম্পিয়ন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মিডিয়া ক্রিকেটে ফটো সাংবাদিক ফোরামকে ১ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন  রিপোর্টার্স ইউনিটি।

রবিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় টসে জিতে রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে ব্যাট করে ফটো সাংবাদিক ফোরাম ২৫ ওভারে ১৯৫ রান করেন। দলের পক্ষে তামজিদ হোসেন লিপু ৩৮ রান করেন।  জবাবে ব্যাট করতে নেমে  রিপোর্টার্স ইউনিটি ৯ উইকেট হারিয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই জয় তুল নেন। সোহান সর্বোচচ ৫০ রান করেন ও আবরার আল দাইয়ান করেন  ৩৬ রান । ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন সোহান এবং টুর্ণামেন্ট সেরা হয়েছেন মোস্তাফিজ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: কাবিরুল ইসলাম খান। এ সময় কুমিল্লার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক দিলীপ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এবং হিউম্যান বিয়িং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ জিতুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুল মান্নান। এ সময়  আরো বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি খায়রুল আহসান মানিক,জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি সাদিক মামুন,  টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ন কবির রণী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সি,  আরটিভির প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া, দেশরূপান্তরের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন জাকির। এছাড়া চার টিমের পক্ষ থেকে  জাগরণী টিভির প্রতিনিধি আশিকুর রহমান আশিক, আজকের পত্রিকার জহিরুল হক বাবু ও ভোরের কাগজের আনোয়ার হোসাইন বক্তব্য রাখেন।

গতকাল শনিবার (৪ মার্চ) সকালে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে টুর্ণামেন্টটির উদ্বোধন করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: আফজাল হোসেন। ওই সময় কুমিল্লার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক দিলীপ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এবং হিউম্যান বিয়িং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ জিতুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রোশান আলী মাষ্টার, বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমি, চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি খায়রুল আহসান মানিক, দৈনিক পূর্বাশার সিনিয়র প্রতিবেদক সহিদ উল্লাহ, ভোরের কাগজের প্রতিনিধি এম ফিরোজ মিয়া ও দেশরূপান্তরের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন জাকির। এ সময় টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মুন্সি, জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি সাদিক মামুন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফ উদ্দিন রণীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ইয়ুথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন প্রথমে ব্যাট করে ১৫৯ রান করেন। পরে ফটো সাংবাদিক ফোরাম ব্যাট করে জয় তুলে নেন। আমাদের কুমিল্লার মোস্তাফিজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন। দিনের অপর ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটি ১৯২ রান করেন। পরে কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন ১৮২ রান করেন। আগামীকাল ফাইনালে রিপোর্টার্স ইউনিটি ফটো সাংবাদিক ফোরামের মুখোমুখি হবে।

কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও হিউম্যান বিয়িং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই টুর্ণামেন্টটির আয়োজন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামি বক্তার জিহ্বা কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মাওলানা শরীফুল ইসলাম শনিবার রাতে মাহফিলে বক্তব্যে শিয়া মতানুসারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। মাহফিল শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর রেলস্টেশন এলাকায় কয়েক ব্যক্তি হামলা চালিয়ে মাওলানা শরীফুলের জিহ্বা ও ঠোঁটের অনেকটা অংশ কেটে ফেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাওলানা শরীফুল ইসলাম ভূইয়া নামে এক ইসলামি বক্তার জিহ্বা কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ উঠেছে, শিয়া অনুসারীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় পরিকল্পনা করে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাতে উপজেলার আজমপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। শুধু জিহ্বা নয়, তার দেহের বিভিন্ন অংশেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মাওলানা শরীফুল ইসলাম ভূইয়া বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক ও সদর উপজেলার চাপুইর গ্রামের মাওলানা আব্দুর রশিদ ভুঁইয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার রাতে বিজয়নগরের দৌলতবাড়ি এলাকায় মাহফিল করেন মাওলানা শরীফুল ইসলাম। মাহফিলে বক্তব্যে তিনি শিয়া মতানুসারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।

মাহফিল শেষে মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে আখাউড়া উপজেলার আজমপুর রেলস্টেশন এলাকায় কয়েক ব্যক্তি তার গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাওলানা শরীফুলের জিহ্বা ও ঠোঁটের অনেকটা অংশ কেটে ফেলে। তাছাড়া লাঠি দিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ওবায়দুল্লাহ নামে আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দৌলতবাড়ি মাহফিলে শিয়াদের উদ্দেশ করে বিরূপ বক্তব্য দিয়েছিলেন মাওলানা শরীফুল ইসলাম ভূইয়া (নূরী)। মাহফিলে শেষে তার এক ভাগ্নের সঙ্গে মোটরসাইকেলে চড়ে ফেরার পথে একদল শিয়াপন্থী হামলা চালায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।’

তিনি জানান, এই হামলার প্রতিবাদে শ্রীপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রোববার জোহর নামাজের আগে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন দুলাল বলেন, ‘শিয়া অনুসারীদের নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় পূর্ব পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সে সঙ্গে দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘মাওলানা শরীফুল ইসলাম ইসলামপন্থী আরেকটি দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা করেছে এমন খবর শুনেছি। তবে ওনার পক্ষে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি।

‘আমি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। তারা বলেছেন, বক্তা শরীফুল ইসলাম ভূইয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পর অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

কমিটি নিতে ছাত্রলীগের সভাপতিকে পেটালেন সাধারণ সম্পাদক

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তারেকুল ইসলামকে আটকে রেখে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত বাদশার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার চাষিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তারেকুল ইসলাম জানায়, আমাকে সভাপতি করে গত ১৮ দিন আগে উপজেলার ৩ন‍ং চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে গত ১মার্চ নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আমাকে না জানিয়ে ৬নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ করে। এরপর রাতে সে আমাকে জানায়। তখন আমি তাকে বলি তুই আমাকে ছাড়া কমিটি দিলি। আচ্ছা অসুবিধা নেই, যারা সংশ্লিষ্ট আছে তাদের সাথে কথা বলে এটা আমি সহি শুদ্ধ করে দেব। তবে এসব কাজ আর করিসনা।

তারেকুল বলেন, পরবর্তীতে নোয়াখালী-১ আসনের (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম সাহেবের সাথে আমার কথা হয়। পরবর্তীতে এমপি আমাকে ফোন দিয়ে বলে, এ তুমি কোথায়, তুমি বাদশাকে ফোন দাও। পরে আমি এবং এমপি সাহেব বাদশাকে ফোন করি। কিন্তু সে কারো ফোন রিসিভ করেনি। তখন এমপি আমাকে জানায় কালকে ১১টার মধ্যে তুমি বাদশার কাছে যাবে। সে কেন এমন করতেছে আমার মাথায় ধরছেনা।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, পরের দিন চাষিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাদশার সাথে আমার দেখা হয়। পরে সে সেখান থেকে আমাকে মহিনের অফিসে নিয়ে যায়। ওখানে নিয়ে যাওয়ার পর সে আমাকে বলে ৬নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিতে স্বাক্ষর করতে। আর বাকী ৮টি ওয়ার্ডের কমিটি কোন দিন দিবেন। এ বলে চাপ সৃষ্টি করে। তখন আমি তাকে জানায় আমাদের ইউনিয়ন কমিটিও এখানো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও এমপির দিকনির্দেশনা ছাড়া আমি কিভাবে কমিটি দেব। তখন সে আমাকে বলে আপনি এখনই কমিটি দিবেন। আমার কাছে ৮টি ওয়ার্ডের সব কাগজ রেডি আছে। আপনি এখন স্বাক্ষর দেন। একপর্যায়ে আমার মা-বাবা ধরে আমাকে গালমন্দ করে গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিড়ে ফেলে। একই সাথে আমাকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। আমার নাক,কান, চোখে জখম করে রক্তাক্ত করে ফেলে। সে আমার রক্ত বের হওয়া পর্যন্ত আমাকে পেটাতে থাকে। এখন আমি আমার চোখ নিয়ে দুচিন্তায় আছি। আমার চোখের অবস্থা বিষণ খারাপ। আমি বাম চোখে ঝাপসা দেখছি। আমি চোখ হারাতে বসেছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারেকুল বলেন, হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বাদশা নেশামুক্তির জন্য রিহ্যাবে ছিল। পেটানোর পর থেকে স্থানীয় এমপি এইচ এম ইব্রাহীম সাহেব আমার কোন খোঁজ নেয়নি। বাদশা তার অনুসারী। এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হয়েছে বলে এ ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত বাদশা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন,সভাপতি নিজে আমার সাথে ঝামেলা করেছে।

সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন সুজন বলেন,এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। তাকে এখন চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় ফোরামে বসে এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জিয়াউল হক জিয়া বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার নোয়াখালী-১ আসনের (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৌদিতে যান্ত্রিক জীবনে প্রশান্তির খোঁজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আনন্দ ভ্রমণ

 

সালাহ উদ্দিন সোহেল, সৌদি আরব থেকেঃ

সৌদি আরবে রিয়াদের আল হায়ের পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিবার নিয়ে আনন্দ ভ্রমণ ও পুরুষ্কারের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রিয়াদের দক্ষিণে আল হায়ের পার্কে এই আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আনন্দের মাত্রা বাড়াতে আয়োজন করা হয়েছিল কুইজ ও খেলা ধুলার। এ সময় খেলার বিজয়ীদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন আয়োজকরা।

কর্ম ব্যস্ততার মাঝে এই আনন্দ ভ্রমণ কিছুটা সময়ের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল কর্মময় যান্ত্রিক জীবনের নিষ্ঠুর সময়টাকে। সামান্য সুযোগ হলেই পরিবারসহ অনেক বাংলাদেশিরা যান্ত্রিক জীবনে প্রশান্তির খোঁজে ছুটে আসেন এ পার্কে। রিয়াদে অসংখ্য বিনোদনের জায়গা থাকলেও আল হায়ের পার্কটি পাহার ও ল্যাকের পানিতে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্য মন কাড়ে।

কুমিল্লার তিতাসে বাজারের ব্যাগ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার তিতাসে ভুট্টাখেতের পাশে ফেলে যাওয়া এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার মজিদপুর গ্রামের দক্ষিণ চক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কুমেক মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের দক্ষিণ চকের পাড়া সংলগ্ন ভুট্টাখেতের পাশে কৃষিজমির সেচ প্রকল্পের শুকনো ড্রেনে বাজারের ব্যাগের মধ্যে একটি নবজাতক দেখতে পায় স্থানীয়রা। তখন পুলিশকে খবর দিলে শুক্রবার সন্ধ্যায় নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসে।

স্থানীয় অনেকের ধারনা, নবজাতকটি কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। কেউ হয়তো তার অপকর্ম ঢাকতে নবজাতকটিকে এখানে ফেলে যায়।

তিতাস থানার এসআই ইমরুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করেছি। নবজাতকটি ছেলে। এক বা দুই দিনের মধ্যে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কুমেকে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে আবেদন করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে শুকনো খাল থেকে বস্তাবন্দি কঙ্কাল উদ্ধার

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বস্তাবন্দি কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাধিন চাটিতলা গ্রামের দক্ষিণ পাশের দৈয়ারা-বরৈয়া সড়কের নিকটবর্তী কৃষ্ণচরা নামক শুকনো খাল থেকে অজ্ঞাতনামা এ কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে কৃষ্ণচরা খাল খননের কাজ চলছে। খননকাজে নিয়োজিত লোকজন বস্তাবন্দি কঙ্কালটি দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিলে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঙ্কালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী জানান, ‘৯৯৯ এ কল পেয়ে কৃষ্ণচরা খাল থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। কঙ্কালের পাশ থেকে উদ্ধারকৃত পরিধেয় বস্ত্র ও বেল্ট দেখে ধারণা করা হচ্ছে কঙ্কালটি পুরুষ মানুষের। উদ্ধারকৃত কঙ্কালের সুরতহাল শেষে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যখন খালে পানি ভরপুর ছিলো তখন হয়তো বস্তাবন্দি লাশটি ভেসে এসেছিলো অথবা কেউ খালের ভেতর লাশটি লুকিয়ে রেখেছিলো । তদন্ত সাপেক্ষে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।’