All posts by jitu

কথা রাখলেন মদরিচ, মরক্কোকে হারিয়ে তৃতীয় ক্রোয়েশিয়া

 

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ থাকে না। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুদল ভাঙা মন নিয়ে খেলতে নামে এই ম্যাচটা। তৃতীয় হতে পারলে ভালো, না হলেও ক্ষতি কিছু নেই–––এমনটাই মনোভাবই থাকে দলগুলোর। তবে মাঠে নেমে জয়ের চেষ্টা করে ঠিকই।

আজ কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জয়ের জন্যই ঝাঁপিয়েছে ক্রোয়েশিয়া–মরক্কো। দুদলের ফুটবলারদের মধ্যে দেখা গেছে উত্তেজনাও। তুমুল লড়াই শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের জয়ে হেসেছে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াই।

১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার ২৪ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে তৃতীয় হলো ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তৃতীয় হওয়ার রেকর্ডটা অবশ্য চারবারের বিশ্বসেরা জার্মানির। চারবার তারা তৃতীয় হয়েছে।

ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কো এবার নকআউটে উঠেছে একই গ্রুপ থেকে। গ্রুপ পর্ব দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল গোলশূন্য। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই ভিন্ন ছবি। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে তখনই স্কোরলাইন ১–১। দুটি গোলেরই উৎস ফ্রিকিক। দুটি গোলে মিল আছে আরও। ফ্রিকিক থেকে বল জালে গেছে দুজনের মাথা হয়ে। দুই গোলদাতাই ডিফেন্ডার এবং দুজনেরই জার্সি নম্বর ২০। সপ্তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ফ্রিকিকে ইভান পেরিসিচের হেডে বল বাতাসে রেখে ইওস্কো গাভারলিওল জালে পাঠান। নবম মিনিটে মরক্কোর ফ্রিকিক ক্রোয়েশিয়ার এক খেলোয়াড় হেডে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল আসে গোলমুখে। সেই বল হেডে জালে পাঠাতে ভুল করেননি এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক আশরাফ দারি।

সমতার পর ক্রোয়েশিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেছিল মরক্কো। রক্ষণ থেকে উঠে এসে হাকিমি প্রতিপক্ষের গোলমুখে বিপজ্জনকভাবে বল ফেলেছিলেন দুবার। গোল না পেলেও আক্রমণ চালিয়ে যায় মরক্কো। কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪২ মিনিটে গোল করে বসে ক্রোয়েশিয়া। বাঁ দিক থেকে ফরোয়ার্ড মিসলাভ ওরসিচে মরক্কোর গোলকিপার ইয়াছিন বুনুর মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান পোস্টে লাগিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেও আর পারেনি মরক্কো। ফলে জয় দিয়েই নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শেষ করেছে ক্রোয়েশিয়া, যার মধ্যে তিনবারই তারা খেলেছে শেষ চারে।

মরক্কোরও এটি ছিল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা ছিল এত দিন দলটির সেরা সাফল্য। বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠা দারুণ সাফল্য মরক্কোর জন্য। তবে আশরাফ হাকিমিদের রূপকথার দৌড় সেমিফাইনালে থামিয়ে দেয় ফ্রান্স। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে মরক্কোর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা হয়নি তাতে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেছিলেন, তাঁরা সেমিফাইনালে হেরে হতাশ। তবে চতুর্থ স্থানের চেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকাটা কৃতিত্বের। কিন্তু তৃতীয় নয়; চতুর্থ হয়েই স্বপ্নের যাত্রা শেষ করেছে মরক্কো।

ক্রোয়েশিয়ার সেরা ফুটবলার লুকা মদরিচ ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘এই দলে আটজন ফুটবলার আছে, যারা জানে বিশ্বকাপে পদক জয়ের মূল্য কতটা। গতবার বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। কাতারে তৃতীয় হতে মাঠে আমরা সেরাটা ঢেলে দেব।’ কথা রেখেছেন ৩৭ বছর বয়সী মদরিচ। গতকালই সম্ভবত বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলা এই প্লে–মেকার শেষটা রাঙালেন জয় দিয়েই।

তিতাসে পেয়ারা পারাকে কেন্দ্র করে ঘুষির আঘাতে একজন নিহত

 

তিতাস প্রতিনিধি:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার  মজিদপুরে পেয়ারা পারাকে কেন্দ্র করে মোঃ নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তার বাড়ি মজিদপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আঃ লতিফ।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৫ টায় একই গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সিয়াম ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার নজরুলকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন নজরুলের স্ত্রী রাশিদা।

পরে নজরুল ইসলামকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বিষয়ে তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। লাশের গায়ে কোন ক্ষত নেই, তবে যেহেতু একটা অভিযোগ এসেছে। তাই লাশ ময়নাতদন্ত করার পর বুঝা যাবে ঠিক কি কারণে মারা গেছে। থানায় এখনো কোন মামলা হয় নি।

বিজয় দিবসে দাউদকান্দিতে ব্যারিষ্টার নাঈমের উদ্যোগে আলোচনা সভা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বিজয় দিবসের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার দাউদকান্দির বিভিন্ন ইউনিয়নে পথসভা করেছেন  কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ব্যারিষ্টার নাঈম হাসান। এছাড়া উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

(১৬ ডিসেম্বর) শুক্রবার  সারাদিন ব্যাপি বিজয় দিবসের বিভিন্ন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যারিষ্টার নাঈম হাসান উপস্থিত ছিলেন ।

তার আগমনকে কেন্দ্র করে পৌরসভা ও দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী আলোচনা সভা স্থলে সমবেত হন।

আলোচনার পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত ১৪ বছরের উন্নয়ন মূলত সাফল্য বিশেষ করে খাদ্য, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পররাষ্ট্র ও বিদ্যুৎ খাতের বিপুল উন্নয়নের তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেন। বিশেষ করে পদ্মাসেতু নির্মাণ,মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং এলিভেটর হাইওয়ে এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য।

আলোচনা সভায় ব্যারিষ্টার নাঈম হাসান তাঁর বক্তব্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও লাখ শহীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং এলাকাবাসীদেরকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরো বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা আমাদের সোনার বাংলাদেশ,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেই সোনার বাংলা স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

ব্যারিষ্টার নাঈম তরুণ সমাজকে অনুরোধ করে বলেন, আমাদের কর্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী ও সৈনিক হয়ে তার লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করা। ইতিমধ্যে আমাদের দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অবশেষে তিনি বলেন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করতে হবে।

 

নোয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের নোয়াখালী- ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের নোয়াখালী পৌরসভা গেইট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম (৭০)। তিনি একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের সফি উল্যার ছেলে।

নিহতের নাতনী ফাইজা জানায়, এক আত্মীয়ের কুলখানি খেয়ে আবুল কাশেম শনিবার দুপুরে নোয়াখালী টু ফেনী আঞ্চলিক সড়কের নোয়াখালী পৌরসভা গেইট হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন বেপরোয়া গতির চট্রগ্রাম গামী বাসের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বেগমগঞ্জ থানা থেকে বিষয়টি অবহিত করা হয় আমাকে। এরপর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।  আবুল কাশেমের লাশ নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রাখা আছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইনকিলাবের নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান আনোয়ারুল হক আনোয়ারের ইন্তেকাল 

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
দৈনিক ইনকিলাবের নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ারুল হক আনোয়ার (৬৩) শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪ টায় নোয়াখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহি, আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

শনিবার সকাল ৯টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবে প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টা তাঁর নিজগ্রাম নোয়াখালী পৌরসভার বদরীপুর আবদুল লতিফ কন্ট্রাক্টর মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে বৃহত্তর নোয়াখালীর সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের মৃত্যুতে নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান শোক প্রকাশ করেছেন।

কুকুরের আক্রমণে ১৭৫ ভেড়ার মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বন্য কুকুরের আক্রমণে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীনের ১৭৫টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। এতে আনুমানিক ত্রিশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববতী ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবুল্ল্যার চরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে কুকুরের ভয়ে ছাগল-ভেড়াসহ গবাদি পশু মাঠে ছাড়তে সাহস পাচ্ছেন না খামারিরা।

ভুক্তভোগী খামারের মালিক নজরুল ইসলাম শাহীন চৌধুরী বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববতী সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবুল্ল্যার চরে আমার নামে আমি একটি ভেড়ার খামার গড়ে তুলেছি। খামারে মোট ২৭৫টি ভেড়া ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খামারের রাখাল সেলিম পাশের বাজারে নাস্তা করতে যায়। এ সুযোগে ৬টি বন্য কুকুর ভেড়ার খামারে হানা দেয়। ওই সময় ৬টি কুকুরের কামড়ে মোট ১৭৫টি ভেড়া মারা যায়। মারা যাওয়া ভেড়ার মধ্যে ১৫০টি ভেড়া গর্ভবতী ছিল। ভুক্তভোগী খামারের মালিক শাহীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী খামারের মালিক এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা নগরীতে সুদ ব্যবসায়ীদের ছোবলে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা নগরীসহ সদর উপজেলার সর্বত্রই বেড়েই চলছে রকমারি সুদের ব্যবসা। ভিন্ন মেয়াদি মহাজনী সুদের ফাঁদে জিম্মি হয়ে পড়েছেন অসহায় হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অসাধু সুদ ব্যবসায়ীরা বনে যাচ্ছে পাহাড় সমান কালো টাকার মালিক। আর অভাব অনটের সংসারে অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের প্রয়োজনে সুদ গ্রহীতারা হারাচ্ছে ভিটেমাটি -সহায় সম্পত্তি সহ অনেক কিছু।

এ বিষয়ে ধর্মপুর এলাকার কাদের, দক্ষিণ চর্থার রবিউল, সাদেক মিয়া, আব্দুর রবসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি পত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ প্রেরণ করেন।

ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়- মানুষকে নিঃস্ব করার অন্যতম সুদের ব্যবসা কুমিল্লা দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড়, থিরাপুকুর পাড়, গোবিন্দপুর, ধর্মপুরসহ সদর উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে সুদের ব্যবসা। অসাধু সুদ ব্যাবসায়ীরা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অত্র এলাকায় সুদের ব্যবসা মহামারী আকার ধারণ করেছে। সুদ ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সমাজের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষগুলো। কোন কোন ব্যাক্তি কৃষি লোন এমনকি অত্র এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার এর কতিপয় ব্যাবসায়ী সরকারি ব্যাংক কিংবা এনজিও সংস্থা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা শিল্প লোন উত্তোলন করে সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে চড়া সুদে হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে ঋন প্রদান করেছেন। কিন্তু এদের ঋন দানের কোন সরকারি অনুমতি নেই। কোন এনজিওর সাথে ও তাদের সংশ্লিষ্টতা খুজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু দিনের পর দিন কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সুদের ব্যবসা। এসব ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার গুলো।বিপদ-আপদে অনেকটাই বাধ্য হয়ে সুদের উপর টাকা নিয়ে থাকেন মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদ ও আসল টাকা পরিশোধ করতে না পারলেই সুদ ব্যবসায়ীদের হাতে লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হয়। হারাতে হয় সহায় সম্পত্তির অনেক কিছুই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়- কুমিল্লা ধর্মপুর পশ্চিম চৌমুহনীর ভাড়াটিয়া রনি, গোবিন্দপুরের ভাড়াটিয়া বীনা, তার ছেলে রানা, ওরফে ইয়াবা ব্যবসায়ী রানা। কুমিল্লা দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড় এলাকার শাহীন ওরফে সুদের সম্রাজ্ঞী শাহীন। যে কিনা লাখে ১৫ হাজার টাকা সুদ নেয়। থিরা পুকুর পাড় এলাকার কবরস্থানের গলির নুরু মিয়ার কন্যা টুনি। দ্বীন ইসলাম ওরফে হিজড়া, সে কিনা লাখে ২৫ হাজার টাকা মাসিক সুদ নেয়। তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড় নিউভিশন হসপিটাল সংলগ্ন ভাড়াটিয়া শেলী ও তার ছেলে জনি ওরফে ইয়াবা ব্যবসায়ী জনি, শেলীর মেয়ে জোসনা ও বোন দেহ ব্যবসায়ী রিনা। নিরীহ লোকদের টার্গেট করে তাদের সর্বত্র হাতিয়ে নিচ্ছে। এদেরকে সাপোর্টকরে যাচ্ছে এলাকার অসাধু কতিপয় ব্যক্তি যারা এর বিনিময়ে কমিশন পায়। টাকার বিনিমেয় ১০০/৩০০ টাকা খালি ষ্ট্যাম্প, ব্যাংকের খালি চেক স্বাক্ষর, বাড়ির মূল দলিলসহ ইত্যাদি নিয়ে নেয়। প্রতিমাসে সুদের কমিশন না দিতে পারলে ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায়। আসল টাকা তুলে নিতে বললে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাল দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেবি বলেও হেনস্থা করে। এমনকি কুমিল্লা ডিবি পুলিশেও এই সুদের টাকা নিয়ে বিচার হয়েছিল।

এসব সুদ ব্যবসায়ীদের চক্রবৃদ্ধি সুদের রোষানলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ অসহায় মানুষ। আর্থিক প্রয়োজনে বেকায়দায় পড়ে এসব সুদ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের লোকজনসহ অনেকে। কেউ ব্যবসা করতে,বিদেশগমনে, সিএনজি, অটোরিক্সা, রিক্সা ক্রয়ে বা বিভিন্ন অসুবিধায় সুদ ব্যবসায়ীদের নিকট চড়া সুদে টাকা নিয়ে ১০০/৩০০ টাকার সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর বা টিপ দিয়ে টাকা নিতে হয় । আর ওই সব সাদা ষ্ট্যাম্পে সাক্ষী নেওয়া হয় সুদ ব্যবসায়ীদের পছন্দমত ব্যক্তিদের এবং ইচ্ছামত তারা ষ্ট্যাম্প পূরণ করে রাখেন কিংবা প্রয়োজন মত লেখার জন্য ফাঁকা রাখেন। আর বেকায়দায় পড়া ব্যক্তিদের অনেকে সুদ ব্যবসায়ীদের চাপে বন্ধক রাখতে জমির দলিলপত্র, স্বর্ণালংকার, চাকরিজীবীদের মাসিক বেতনের চেকও বন্ধক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে।মাসিক, সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক ভিত্তিতে নগদ ঋণ দিয়ে দেড় থেকে দুই গুন মুনাফা লাভ করে। একদিকে যেমন সুদ ব্যবসায়ীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছেন অন্যদিকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দিন দিন গরিব ও ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান,সুদের ব্যবসা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। এই ব্যবসায় পুরুষের পাশাপাশি মহিলা সুদ ব্যবসায়ী ও আছে। সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে সুদের টাকা আদায় করেন। এই ব্যবসার মাধ্যমে অনেকেই বিত্তহীন থেকে হয়েছেন বিত্তবান, টিনের ঘর থেকে দু’তলা বাড়ি পর্যন্ত বানিয়েছেন। অথচ সুদ ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকান্ডে প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ।
যার ফলে ঋনের নামে এসব শোষণ বেড়েই চলছে। সমাজের এই ক্ষতিকর সমাজ-বিরোধী অবৈধ সুদ ব্যবসা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন এ ব্যাপারে জরুরী পদক্ষেপ নিবেন এই দাবী মহানগর সচেতন মহলের ।

কুমিল্লায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য  বিজয় র‌্যালি  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার এই র‌্যালিটি  নগরীর  কান্দিরপাড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সদর সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা  হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, বিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খানসহ আরো অনেকে।

এছাড়া সকালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে  জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্যারেড-কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম ও পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, বিপিএম (বার) ।

বিজয় দিবসে কুমিল্লা বিজিবির উদ্যোগে শীর্তাতদের মাঝে ৫ শত শীতবস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর উদ্যোগে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবায় মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং দুঃস্থ ও অসহায় জনসাধারণের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে ৫ শত কম্বল বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চৌদ্দগ্রাম, সাতঘরিয়া, গীতাবাড়ী ও নোয়াপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী দুঃস্থ ও অসহায়তা জনসাধারণের মাঝে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

এছাড়া চৌদ্দগ্রাম বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ডায়াবেটিক হাসপাতালে স্থানীয় গরীব ও দুঃস্থ জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ডাঃ মোঃ ফিরোজ কবির মন্ডল এর নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। উক্ত ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক সীমান্তবর্তী ১৯৬ জন মহিলা, ১১৫ জন পুরুষ এবং ৪৫ জন শিশুসহ সর্বমোট ৩৫৬ জনকে চিকিৎসা সেবা এবং বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি কুমিল্লা এবং কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মুহাম্মদ ইসহাক, পিএসসি চৌদ্দগ্রাম বিওপির আওতাধীন দুঃস্থ ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত