All posts by jitu

নাঙ্গলকোটে ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পড়ে মাদ্রাসা ভবন বিধ্বস্ত

নাঙ্গলকোটে ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পড়ে মাদ্রাসা ভবন বিধ্বস্ত

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌর এলাকার শ্রীকামতা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার একটি ভবন ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবার রাত আনুমানিক ৭ টায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় রাস্তার পাশের একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে মাদ্রাসার একটি টিনসেট ভবনের উপর।

এতে ভবনটির তিনটি শ্রেণি কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নিহা বলেন, রবিবার রাতে ঝড়ের সময় একটি বড় গাছ আমাদের মাদ্রাসার ভবনের ওপর পড়ে যায়। এতে ভবনটি ভেঙে যায় এবং বর্তমানে আমরা ক্লাস করতে পারছি না। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহবুবুল হক জানান, কালবৈশাখী ঘূর্ণিঝড়ে একটি গাছ পড়ে আমাদের মাদ্রাসার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভবনটি পুননির্মাণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান বলেন ক্ষতিগ্রস্ত বিষয় একটা আবেদন পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতির অর্থায়নে স্কুল ছাত্রীরা পেল বিনামূল্যে নতুন ড্রেস

চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতির অর্থায়নে স্কুল ছাত্রীরা পেল বিনামূল্যে নতুন ড্রেস

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর:

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর অর্থায়ন ও স্কুল কতৃর্পক্ষের সহযোগিতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রীদের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোহসিন উদ্দিন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, তোমাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে হবে এবং স্কুল ড্রেস পড়ে আসতে হবে। স্কুল ড্রেস একজন শিক্ষার্থীকে আইডেন্টিফাই করতে পারে। আজকে আমার পক্ষ থেকে ও স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় তোমাদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করছি। প্রতি বছরই আমার পক্ষ থেকে ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দিয়ে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবছরও তোমাদের স্কুল ড্রেস দিয়েছি। এটা নিয়মিত পড়ে স্কুলে আসতে হবে, যত্ন করে রাখতে হবে। স্কুল ড্রেস পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তা নির্ধারন করতে সুবিধা হয়। স্কুল ড্রেস পড়ে বিদ্যালয়ে আসলে সকলে চিনে। অন্য কোন শ্রেনির কোন গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের যদি স্কুল ড্রেস না থাকে, তাদেরও ড্রেস দিবো।

তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষায় সাফল্যজনক ফলাফল অর্জন করেছে। তোমাদের এ সাফল্য ধরে রাখতে হবে। তোমরা প্রতিষ্ঠানের প্রান, তাই তোমাদের ভালো মনের মানুষ হতে হবে। বাবা-মা কে সম্মান করতে হবে, শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ফেসবুক, টিকটক সর্বোপরি মোবাইল ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে৷ তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খুব ইনোগেটিভ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে৷ তারই নেতৃত্বে চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব শিক্ষার মানউন্নয়নে জোর দিয়েছেন। চাঁদপুরের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করছেন।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান এর পরিচালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: নুরুজ্জামান, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সপ্রাবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের ইংরেজী প্রভাষক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মো: লুৎফুর রহমান, বিপুল চন্দ্র নন্দী, সুমন চন্দ্র সরকার, রবিউল আউয়াল খান, অফিস সহকারি মো: মোস্তফা কামাল, জিলানী চিশতী কলেজ অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার সহ আরো অনেকে।

ছেলের প্রথম জন্মদিন কাটছে বাবা হারানো শোকে

ডেস্ক রিপোর্ট:

ছেলের প্রথম জন্মদিন কাটছে বাবা হারানো শোক আর কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক বছরে পা দিয়েছে নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর শিশুপুত্র অব্যয় বৈরাগী। এর ঠিক দু’দিন আগেই বাবাকে হারিয়েছে সে।

কুমিল্লায় সড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধারের একদিন পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির আঙিনায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে, শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনেরা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহ নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

নিহত বুলেট বৈরাগী (৩৫) টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া (বাবুপাড়া) গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা রাজস্ব কার্যালয়ে যোগ দেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন।

চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন। কাছাকাছি পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর হঠাৎ তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা পরে হাইওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল বলে স্বজনেরা জানান।

এদিকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। এই পাঁচজন আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি। গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে ৪ জন বুলেট বৈরাগী হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে উঠেছিলেন। ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে ছিল।

এর আগে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকার ফুটপাত থেকে বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে খুন হয়েছেন।

র‌্যাব-১১ সিপিসির অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, এটি ক্লু-লেস মার্ডার। ঘটনার পর থেকে র‌্যাব তদন্ত চালাচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহতের মোবাইল ফোন শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সচল ছিল। রাত আড়াইটার আগ পর্যন্ত তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। মোবাইল ফোনের ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত চলছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কুমিল্লা পৌরপার্ক সংলগ্ন কাস্টমস অফিসে মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কমিশনার আব্দুল মান্নান সর্দারসহ কর্মকর্তারা। এরপর মরদেহ গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়ির আঙিনায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, একদিকে সন্তানের প্রথম জন্মদিনের আনন্দ, অন্যদিকে বাবার মৃত্যু শোক-দুই বিপরীত অনুভূতির ভারে এখন স্তব্ধ বুলেট বৈরাগীর পরিবার ও পুরো গ্রাম।

যেভাবে হত্যা করা হয় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে

যেভাবে হত্যা করা হয় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, কুমিল্লা:

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

সোমবার ( ২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকার কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, কুমিল্লা সদরের ধর্মপুর এলাকার মৃত. নুর ইসলামের ছেলে মোঃ সোহাগ (৩৪), মৃত. হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), আমড়াতলী ইউনিয়নের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন @ হৃদয় (৩৪), আড়াইওড়া এলাকার মৃত. হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল(২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত. সজল মেয়ের ছেলে মোঃ সুজন (৩২)।

র‍্যাব জানায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হোটেলের পাশে থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুলেট বৈরাগী কাস্টমস এক্সাসাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি চট্টগ্রাম হতে ৪৪ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে রাতে কুমিল্লায় তার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছিলেন। ফেরার পথে কুমিল্লার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সাথে মোবাইলে কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ফোন দিয়ে তার মোবাইলটি বন্ধ পায়। পরবর্তীতে সকালে মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। তখন ভিকটিমের মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৫১। আলোচিত এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গতকাল ২৬ এপ্রিল র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করে ।

এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত ০১ টি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ০১ টি পাওয়ার ব্যাংক ও তার ব্যবহৃত পোষাকাদিসহ ০১ টি কাধ ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও আসামীদের নিকট হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০১টি সিএনজি, ০১ টি চাপাতি, ০১ টি সুইচ গিয়ার, ০১টি স্কু ড্রাইভার ও ০১ টি ফোরজিং হ্যামার, ০১টি প্লায়ার্স, ০২টি মোবাইল ও নগদ ২,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

র্যাব আরো জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। আসামীরা কুমিল্লা শহরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি/অটোতে তুলে ধারালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরণের ধর্তব্য অপরাধ সংগঠন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ২৫ এপ্রিল রাতে আসামীরা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লা জেলার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। রাত ৩ টার সময় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে বাসযোগে কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড পৌঁছে বাস থেকে নামলে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা সিএনজি চালক আসামী জুয়েল ভিকটিমের গন্তব্যস্থল সম্পর্কে জানতে চান। তখন ভিকটিম জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে সিএনজির পিছনে যাত্রীর ছদ্মবেশে বসে থাকা আসামী সোহাগ ও হৃদয় ভিকটিমকে তাদের পাশে বসতে দেন। উক্ত সময় সিএনজি চালকের পাশে যাত্রীর ছদ্মবেশে বসেছিল অপর আসামী জনি। সিএনজিটি জাগুরঝুলি হতে জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পরপরই পিছনে থাকা আসামী সোহাগ ও হৃদয় মিলে ধারালো অস্ত্র (চাপাতি) দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে । এসময় আসামীদের সহিত ভিকটিমের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অপর আসামী জনি চলন্ত সিএনজির সামনের আসন হতে পিছনে এসে তার সাথে থাকা সুইস গিয়ার বের করে ভিকটিমকে ভয় দেখায় ও মারধর করে এবং ভিকটিমের সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। অতঃপর সিএনজিটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে আসামীগণ ভিকটিমকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আসামীদের আঘাত ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার ফলে মাথার পিছনে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ভিকটিম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে আসামীরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করে।

আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তারা উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ও তাদের দেয়া তথ্যমতে ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি ও হত্যকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, সুইচগিয়ার ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র‍্যাব- ১১, সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান।

বিদ্যুৎতের তার ছিড়ে প্রজেক্টের অর্ধকোটি টাকার মাছ মরে গেছে

বিদ্যুৎতের তার ছিড়ে প্রজেক্টের অর্ধকোটি টাকার মাছ মরে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার:

দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শৈবাল মৎস্য প্রকল্পে বিদ্যুৎতের খুটি থেকে তার ছিড়ে পড়ে শর্ট সার্কিটে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকার মাছ মরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উপজেলার রায়পুরে অবস্থিত শৈবাল মৎস্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইনের একটি খুটি থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার ছিড়ে পানিতে পড়ে। এতে ২০-২৫ মন মাছ মরে যায়। মার্চ মাসের ১৯ তারিখে একই ঘটনায় প্রায়২০০ মন মাছ মরে যায়। সবশেষ সোমবার গভীর রাতে তার ছিড়ে পড়লে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০মন মাছ মারা যায়। এসকল মাছের বাজার মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রজেক্টের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। পঁচা মাছে দুগন্ধ ছড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রজেক্টের বিভিন্নস্থানে রুই, কারফু, কাতল, গ্লাসকাপ, মৃগেল, সিলভার ও বিগেট প্রজাতির মাছ মরে ভেসে আছে। কিছু মাছ মরে পঁচে গেছে। কিছু আবার অর্ধমৃত অবস্থায় পরে আছে। আশেপাশে মরা মাছে দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। আর তার উপর দিয়ে চলেগেছে বিদ্যুতের লাইন। রয়েছে পুরাতন খুটি।

শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের ম্যানেজার মহিউদ্দীন আলম বলেন, গভীররাতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়লে পুরো প্রজেক্টের মাছ লাফালাফি শুরু করে। পরে বিদ্যু অফিসকে জানালে লাইন অফ করে। এই ১৫-২০ মিনিট সময়ের মধ্যেই অনেক মাছ মরে গেছে। প্রজেক্টের চারিপাশে মাছ মরে ভেসে উঠছে ।

শৈবাল মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, এই নিয়ে তিনবার বিদ্যুতের খুটি থেকে তার ছিড়ে আমার মাছের প্রজেক্টের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ মরে গেছে। বিদ্যুৎ অফিসকে জানালে তার লাগিয়ে যায়। কিন্তু ২৫/৩০ বছরের পুরাতন তার ও জরাজীর্ণ খুটিগুলো পরিবর্তন করা হয়না। যার কারনে বার বার তার ছিড়ে পড়ে আর প্রজেক্টের মাছ মরে যায়। আমার এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমার এই ক্ষতি পূরণ এখন কে দিবে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর ডিজিএম মো. জিহাদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে লোক পাঠিয়েছি। এবং মেরামত করি। পুরাতন খুটি স্থানে নতুন খুটি বসানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, প্রজেক্টের উপর দিয়ে যাওয়া খুটির উপরে চিল, ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মাছ শিকার করার জন্য বসে। তখন দুটি তারের শর্ট সার্কিট ঘটে এবং একটি তার নীচে পড়ে যায়। তখনই মাছ মরে যায়। আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের টেকনিকেল টিম ঘটনাস্থলে আছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ আসামি গ্রেপ্তার

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

সোমবার ( ২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকার কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, কুমিল্লা সদরের ধর্মপুর এলাকার মৃত. নুর ইসলামের ছেলে মোঃ সোহাগ (৩৪), মৃত. হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), আমড়াতলী ইউনিয়নের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন @ হৃদয় (৩৪), আড়াইওড়া এলাকার মৃত. হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল(২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত. সজল মেয়ের ছেলে মোঃ সুজন (৩২)।

র‍্যাব জানায়, গত ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে আইরিশ হোটেলের পাশে থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুলেট বৈরাগী কাস্টমস এক্সাসাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি চট্টগ্রাম হতে ৪৪ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে রাতে কুমিল্লায় তার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছিলেন। ফেরার পথে কুমিল্লার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সাথে মোবাইলে কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ফোন দিয়ে তার মোবাইলটি বন্ধ পায়। পরবর্তীতে সকালে মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। তখন ভিকটিমের মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৫১। আলোচিত এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গতকাল ২৬ এপ্রিল র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করে ।

এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত ০১ টি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ০১ টি পাওয়ার ব্যাংক ও তার ব্যবহৃত পোষাকাদিসহ ০১ টি কাধ ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও আসামীদের নিকট হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০১টি সিএনজি, ০১ টি চাপাতি, ০১ টি সুইচ গিয়ার, ০১টি স্কু ড্রাইভার ও ০১ টি ফোরজিং হ্যামার, ০১টি প্লায়ার্স, ০২টি মোবাইল ও নগদ ২,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

র্যাব আরো জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। আসামীরা কুমিল্লা শহরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি/অটোতে তুলে ধারালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরণের ধর্তব্য অপরাধ সংগঠন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ২৫ এপ্রিল রাতে আসামীরা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লা জেলার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। রাত ৩ টার সময় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে বাসযোগে কুমিল্লার জাগুরঝুলি বিশ্বরোড পৌঁছে বাস থেকে নামলে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা সিএনজি চালক আসামী জুয়েল ভিকটিমের গন্তব্যস্থল সম্পর্কে জানতে চান। তখন ভিকটিম জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে সিএনজির পিছনে যাত্রীর ছদ্মবেশে বসে থাকা আসামী সোহাগ ও হৃদয় ভিকটিমকে তাদের পাশে বসতে দেন। উক্ত সময় সিএনজি চালকের পাশে যাত্রীর ছদ্মবেশে বসেছিল অপর আসামী জনি। সিএনজিটি জাগুরঝুলি হতে জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পরপরই পিছনে থাকা আসামী সোহাগ ও হৃদয় মিলে ধারালো অস্ত্র (চাপাতি) দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে । এসময় আসামীদের সহিত ভিকটিমের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অপর আসামী জনি চলন্ত সিএনজির সামনের আসন হতে পিছনে এসে তার সাথে থাকা সুইস গিয়ার বের করে ভিকটিমকে ভয় দেখায় ও মারধর করে এবং ভিকটিমের সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। অতঃপর সিএনজিটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে আসামীগণ ভিকটিমকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আসামীদের আঘাত ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার ফলে মাথার পিছনে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ভিকটিম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে আসামীরা গ্রà§