সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪ জন।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মোকাম হোসেন (৫৫), মোন্নাফ হোসেন (২০), শমসের আলী (৫২), শাহিন (৩২), আক্তার হোসেন (৬৫), মাটিকোড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৬০), শাহ আলম (৪২) ঋতু খাতুন (১৪) ও জান্নাতি খাতুন (১২)।
সহকারী পুলিশ সুপার (উল্লাপাড়া সার্কেল) মাহফুজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আমার ইউনিয়নের মাটিকোড়া গ্রামে কৃষকরা ধানক্ষেত পরিচর্যা করছিলেন। আকাশে হঠাৎ মেঘ দেখা দিলে ১৩ জন একটি শ্যালো মেশিনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার সময় মারা যান আরও দুজন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সৃজন (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই এমরান (২১) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুরপহেলা এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৃজন বাহার মিয়ার ছেলে।
উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আলমগীর মিয়া জানান, ধাতুরপহেলা এলাকার স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে ইজিবাইক মেরামতের কাজ করছিলেন ওরা দুজন। এ সময় এমরান হঠাৎ বিদ্যুৎস্পর্শ হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে সৃজন আহত হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা সৃজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এমরান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন মানেই হচ্ছে সন্ত্রাস সৃষ্টির উস্কানি ও রাজপথ দখলের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ নির্ভর বিবৃতির নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।
বিএনপি নেতাদের চিরায়ত আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সর্বদা বাধাগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈশ্বিক সংকটে বিএনপি জনগণের পাশে না থেকে দেশ ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের তার বিবৃতিতে বলেন, বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরাবরের মতো জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্দোলনের নামে কাউকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনমনে ভীতি সঞ্চার ও ক্ষতিকর কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন— সন্ত্রাস নির্ভরতা ত্যাগ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বৈশ্বিক সংকট বুঝতে অক্ষম হলেও জনগণ ঠিকই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের মতো করে সাশ্রয়ী ও সংযমী হচ্ছে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আলেপ্পোতে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সানা’ বলছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে সাত নারী, তিন শিশু ও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে উদ্ধার করা এক নারী ও শিশুকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাঁচতলা ভবনটি বুধবার ধসে পড়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির কারণে এটি ধসে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ কমান্ডার মেজর জেনারেল দিব জানান, বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহ পাশের ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে এবং ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজও শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় ২০১১ সালে সংঘাত শুরু হলে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ লোক নিহত এবং যুদ্ধ পূর্ব সময়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলায় হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ৩ দিন পর নূর হোসেন শাকিল (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের লালপুর এলাকার আব্দুল করিম হাজী বাড়ির পুকুর পাড় থেকে পুলিশ মাটি খুঁড়ে এ লাশ উদ্ধার করে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে শাকিলকে হত্যা করে লাশ বসতঘর সংলগ্ন পুকুর পাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
এ ঘটনায় নিহতের মা, ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- নিহতের বাবা বাবুল হোসেন, মা ফাতেমা বেগম, ছোট ভাই এমাম হোসেন।
নিহত শাকিল (২৫) উপজেলার ৯নং মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের লালপুর এলাকার আব্দুল করিম হাজী বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার পারিবারিক কলহের জের ধরে শাকিলকে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হত্যা করে। এরপর বসতঘর সংলগ্ন পুকুর পাড়ে নিহতের লাশ দাফন ছাড়া মাটিচাপা দিয়ে রাখে। বুধবার বিকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। তারপর পুলিশ মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাকিল পরিবারের সদস্যের ওপর প্রায় নানা কারণে অত্যাচার করত। এসব ঘটনার জের ধরে পরিবারে কলহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ওই কলহের জের ধরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
এসপি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কুমিল্লায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রভাষক তাহমিনা মুনার (৩২) মৃত্যুর ৪ দিন পর স্বামী সুমন সালাউদ্দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মুজিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হানিফ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক হানিফ সরকার বলেন, সুমন সালাউদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণের খবর পেয়েছি। তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পরের শুনানিতে রায় দেবেন আদালত।
কোর্ট পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, মুনার স্বামী সুমন সালাউদ্দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রিমান্ডের খবর পাইনি। তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন।
এর আগে বুধবার (৭ সেপ্টম্বের) রাতে মুনার ভগ্নিপতি তারেকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত মুনা কুমিল্লা মডেল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকার মো. ইউনুসের মেয়ে। অভিযুক্ত সুমন সালাউদ্দিন জেলার চান্দিনা উপজেলার হারং ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা।
গত ২৯ আগস্ট রাতে নগরীর রেইসকোর্সের ভাড়া বাসায় গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন মুনা। এ সময় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল ও পরে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২০১৫ সাল থেকে তিনি কুমিল্লা মডেল কলেজে প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ১১ বোনের মধ্যে মুনা ছিলেন ১০ম। তার দুই বছর তিন মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজের ১৬ দিন পরও কুমিল্লার ৭ কলেজ ছাত্রের হদিস মেলেনি। একই দিনে একই সময়ে জোট বেঁধে তারা কোথায় গেল? তারা কি দেশে আছে? এমন প্রশ্ন এখন জেলার সর্বত্র। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, তাদের আত্মগোপন রহস্যজনক। তারা কোনো সংগঠনে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাদের আগের চলাফেরা বিশ্লেষণ ও পরিবারসহ আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে তাদের নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত ২৩ আগস্ট কলেজছাত্র ইমতিয়াজ আহম্মেদ ওরফে রিফাত (১৭), নিহাল আবদুল্লাহ (১৮), আমিনুল ইসলাম ওরফে আল আমিন (১৮), সরতাজ ইসলাম ওরফে নিলয় (১৭), ইমরান বিন রহমান ওরফে শিথিল (১৮), হাসিবুল ইসলাম আস সামী (১৭) ও ফয়েজ আহমেদ (১৭) একসঙ্গে বাড়ি ছাড়ে। শুরুতে এলাকাবাসী এবং পরিবারের ধারণা ছিল তারা হয়তো তাবলিগে গেছে। কিন্তু ১৬ দিনেও খোঁজ না মেলায় পরিবারগুলোর মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
জানা যায়, ইমতিয়াজ আহম্মেদ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি জেলার মুরাদনগরে। তার পরিবার কুমিল্লা নগরীতে বসবাস করে। নিহাল আবদুল্লাহ নগরীর অশোকতলা এলাকার বাসিন্দা এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। আমিনুল ইসলাম ওরফে আল আমিন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বড় আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সরতাজ ইসলাম ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন। ইমরান বিন রহমান ওরফে শিথিল ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র।
স্থানীয়রা জানায়, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া এসব শিক্ষার্থী আগে থেকেই ধর্মকর্মে জড়িয়ে পড়ে। কলেজছাত্র হলেও তারা ইসলামি শরিয়া মোতাবেক চলাফেরায় অভ্যস্ত। নিয়মিত তাবলিগ জামাতসহ ধর্মীয় নানা আলোচনায় অংশ নিত। তারা এলাকার ছেলেদের সঙ্গে মিশত না।
জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে পরিষ্কার যে, এসব তরুণ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাড়ি ছেড়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি বাড়ি ছেড়ে তারা প্রথমে চাঁদপুরে যায়। চাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকার একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করে। পরদিন সকাল সাড়ে ৬টায় তারা ওই হোটেল থেকে চলে যায়।
লক্ষ্মীপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় আলী এরশাদ (১১০) নামের এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কমলনগর থানায় ছেলে নুরনবী ও তার স্ত্রী মায়া বেগমের বিচার চাইতে আসেন ওই বৃদ্ধ।
আলী এরশাদ উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাদিরা গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
আলী এরশাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে৷ কিছু সম্পত্তি তাদের ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। নুরনবী তার ভাগের জমি বিক্রি করে দেয়। কয়েক বছর ধরে তিনি আবারও জমি দাবি করে। জমি না দেওয়ায় ৪-৫ বার নুরনবী মারধর করেন পিতাকে। সম্প্রতি তিনি মারধরের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার বিষয়ে জানতে পেরে নুরনবী তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। বুধবার সন্ধ্যায় নুরনবী ফের জমির জন্য তার সঙ্গে ঝগড়া করেন। একপর্যায়ে নুরনবী ও তার স্ত্রী মায়া তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার (এরশাদ) গায়ে থাকা পাঞ্জাবি ও গেঞ্জিও ছিঁড়ে যায়। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।
বৃদ্ধের নাতি কামাল উদ্দিন বলেন, তারা আমার নানাকে কিলঘুষি মেরে আহত করেছেন। লাঠি ছাড়া আমার নানা দাঁড়াতে পারে না। উপর্যুপরি কয়েকটি কিল-ঘুষি মারতে দেখে আমি ও আমার অন্য এক মামা নানাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসেছে। পুলিশের এক এসআইকে ঘটনাস্থল পাঠিয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ ৮ই সেপ্টেম্বর শাফি হোসেন চিশতী ইউশার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে (ডেঙ্গু শর্ক সিমড্রোম) মৃত্যু বরন করেন।
উল্লেখ্য শাফি হোসেন চিশতী ইউশা সাংবাদিক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষনা উপ-কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন চিশতীর একমাত্র সন্তান ছিলেন।
তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গ্রামের বাড়ী কুমিল্লায় ও ঢাকার রামপুরায় মিলাদ মাহফিল, কোরআন খতম এবং কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকার জন্য সকলকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।
৬ বলে দরকার ১১ রান, উইকেটে শেষ দুই ব্যাটসম্যান নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ হাসনাইন। বাজি ছিল আফগানিস্তানের পক্ষেই। কিন্তু সব সময় বাজি মিললে এটি ক্রিকেট কেন! ইনিংসের শুরুতে দারুণ এক ডেলিভারিতে বাবর আজমকে যিনি ভুলে যাওয়া গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ দিয়েছিলেন, সেই ফজলহক ফারুকী দিলেন পরপর দুই ফুলটস। দুটিই লং অফ দিয়ে বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে ফেললেন নাসিম শাহ! হারতে হারতেও রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির ম্যাচে পাকিস্তান জিতল ১ উইকেটে।
শারজা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এই জয়ে ভারত ও আফগানিস্তানকে বিদায় করে পাকিস্তান উঠে গেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। রোববারের ফাইনালে বাবরদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের দুই দল পেয়ে যাওয়ায় এশিয়া কাপ সুপার ফোরের শেষ দুটি ম্যাচ এখন নিছকই আনুষ্ঠানিকতা।
সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়েছিল আফগানিস্তান। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ জিততেই হতো পাকিস্তানের বিপক্ষে। আফগানদের দিকে তাকিয়ে ছিল ভারতও। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, দুই দলের কাছ হেরে বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল রোহিত শর্মাদের। তবুও কাগজে-কলমে আশা বেঁচেছিল খানিকটা।
সেই আশা বাঁচিয়ে রাখার কাজটি আফগানিস্তান শেষ পর্যন্তই করেছিল। ১২৯ রানের পুঁজি নিয়েও পৌঁছে গিয়েছিল জয়ের খুব কাছে। কিন্তু ফারুকীর ইয়র্কার-চেষ্টায় হয়ে যাওয়া সর্বনাশা ফুল টস আর হাসতে দিল কই?
অথচ এই বাঁহাতি পেসারের হাত ধরেই আফগানদের সম্ভাবনা জাগানোর সূচনা। দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লুতে কাটা বাবর, মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ফিরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ৭৮ ম্যাচের টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে যা তাঁর মাত্র দ্বিতীয় গোল্ডেন ডাক। এরপর চতুর্থ ওভারের শুরুতে নজিবউল্লাহ জাদরানের দারুণ এক থ্রোয়ে রানআউট ফখর জামান। ভরসা হয়ে তখনো টিকে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বাবরকে টপকে আজকেই টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ওঠা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানও অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৬ বলে ২০ রান কের এলবিডব্লু হন রশিদ খানের বলে। ২০২০ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম বাবর-রিজওয়ান দুজনই ২০ রান করার আগে আউট হলেন।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান যখন আউট হন, পাকিস্তানের রান তখন ৪৫। বিপর্যয় রুখতে গিয়ে ইফতিখার আহমেদ-শাদাব খানরা ব্যাটে এমনই লাগাম টানেন যে, টানা ৩৮ বলে পাকিস্তান কোনো বাউন্ডারিই পায়নি। তবে ব্যাটিং অর্ডারে পদোন্নতি পাওয়া শাদাব বেশিক্ষণ চুপ থাকেনি। ইনিংসের ১২তম ওভারে আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীকে ছয় মেরে হাত খোলা শুরু করেন। ওই ওভারে আরও ১টি চারসহ নেন মোট ১৪ রান। পরের ওভারে ছয় হাঁকান মুজিব উর রেহমানকেও।
আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মোহাম্মদ নেওয়াজ যেমন ২০ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে জয়ের দরজা খুলে দিয়ে যান, এই ম্যাচে সেই কাজটি করেন শাদাব। রশিদ খানের শিকার হওয়ার আগে ২৬ বলে ১ চার ৩ ছয়ে করে যান ৩৬ রান।
শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২৫ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। কিন্তু ১৮তম ওভারে ফারুকী ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট আর ১৯তম ওভারে ফরিদ আহমেদ ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিলে উল্টো খাদের কিনারে চলে যায় পাকিস্তান। যেখান থেকে শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় মেরে জয় এনে দেন নাসিম।
এর আগে আফগানিস্তানের ইনিংসেও অবশ্য বোলারদেরই দাপট ছিল বেশি। হজরতউল্লাহ জাজাই আর রহমানউল্লাহ গুরবাজ মিলে শুরুটা করেছিলেন ভালো। ইনিংসের প্রথম ২০ বলেই তুলে ফেলেন ৩৫ রান। ছন্দপতনের শুরু হয় হারিস রউফের করা চতুর্থ ওভারে। ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতিতে করা পঞ্চম বলটিতে উপড়ে যায় গুরবাজের স্টাম্প। পরের ওভারে মোহাম্মদ হাসনাইনের স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হজরতউল্লাহ। ৪৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর আফগানিস্তানের ব্যাটিং আর ওড়ার সুযোগ পায়নি। উল্টো নেওয়াজ, শাদাবদের স্পিনে মিইয়ে যেতে থাকে ব্যাটিংয়ের তেজ। তিন নম্বরে নামা ইব্রাহিম জাদরানের ৩৭ বলে ৩৫ রান ছাড়া অন্য কেউ ২৫-ও পার করতে পারেননি। ওপেনার জাজাইয়ের ১৭ বলে ২১ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, শেষদিকে রশিদের ১৫ বলে ১৮ তৃতীয় সর্বোচ্চ। পাকিস্তানের পক্ষে ২৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন হারিস। একটি করে উইকেট নেন নাসিম, হাসনাইন, শাদাব ও নেওয়াজ। আফগানদের ৬ উইকেটে ১২৯ রানে থামিয়ে দেওয়া বোলাররাই শেষপর্যন্ত ব্যাট হাতেও পাকিস্তানকে জয় এনে দিলেন।