All posts by jitu

শতভাগ নয়, মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই ২৫০ আসন পাবে বিএনপি: রুমিন ফারহানা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এবার নিশিরাতের ভোট হতে দেওয়া হবে না। শতভাগ নয়, মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই কমপক্ষে ২৫০ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বন্দর এলাকার বিওসি ঘাটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী দুঃশাসনের পর ক্ষমতা হারিয়ে ২৫ বছর পর জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে, অতীতের পুনরাবৃত্তি করবে না ওয়াদা করে ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সব ভুলে যায়, পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হয়। তাই দেশের মানুষ তাদেরকে ঘৃণা করতে শুরু করে। পরে ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নব্য বাকশাল কায়েম করে। পরবর্তীতে দুটি নির্বাচনের একটিতে বিনা ভোটে এবং অপরটিতে নিশিরাতের ভোটে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে। এবার ইভিএম দিয়ে জালিয়াতি করতে চায়। ইভিএমের নামে রঙ্গ করতে দেওয়া হবে না, ভোট হবে ব্যালটে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে এত কথা বলেছেন, এখন ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন? জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে জনজীবন যেভাবে দুর্বিসহ করে তুলেছেন, এতে আপনাদের আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞা।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের সীমাহীন জুলুমে দেশের মানুষ আজ নিষ্পেষিত। এরই মাঝে জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ভোট হলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক সাঈদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এন তরুন দে প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ জয়।

সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দাউদকান্দিতে আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল, বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড

 

দাউদকান্দি প্রতিনিধিঃ

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দাউদকান্দিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছেন আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একর্মসূচি পালন করে দলটির নেতা কর্মীরা।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও গাড়ীর বহর নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর(অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনের নেতৃত্বে উপজেলা সদরসহ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, বিশ্বরোড, শহিদনগর, বারপাড়া, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড, জিংলাতুলি, রায়পুর ও ইলিয়টগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আহসান হাবিব চৌধুরী লিল মিয়া, পৌর মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন, ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম নয়ন, শ্রমিকলীগ সভাপতি রকিব উদ্দিন রকিব, প্রজন্ম লীগ সভাপতি রানা সোহেলসহ নেতাকর্মীর বিশাল একটিবহর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরেন।

এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাউদকান্দিতে জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারেনি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, আমাদের দলের ৪/৫জন নেতা কর্মী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর(অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। তারা জনমনে আতংক সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেষ্টা করছে। কেউ যেন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, এজন্য দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে।

বিএনপির ডাকা আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ আওয়ামী লীগ লাভবান হয়েছে বলে দাবী করে তিনি বলেন, এতদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা নিষ্ক্রিয় ছিল, বিএনপির ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছে। বিএনপির জ্বালাও পোড়াও রুখতে সব নেতাকর্মী সরব হয়েছে।

দাউদকান্দিতে নিজ বাসা থেকে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের মরদেহ উদ্ধার

 

দাউদকান্দি প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় মঞ্জুরুল আলম (৪০) নামে এক ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯আগষ্ট) সকাল সাড়ে নয়টায় গৌরীপুর এলাকার আঙ্গাউড়া গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঞ্জুরুল আলম বগুড়া সদর উপজেলার শেওগাড়ি গ্রামের মনোয়ার হোসেনর ছেলে। তিনি এভারেস্ট ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

মঞ্জুরুলের স্ত্রী মনিসা আক্তার যুথি বলেন, রাতে ঘুমানোর আগে টাকার বিষয় নিয়ে কার সাথে যেন কথা বলেছে জানিনা। সকালে উঠে দেখি পাশের রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। সে এতো চাপা স্বভাবের ছিল যে কোন কিছুই আমার সাথে বা পরিবারের কারো সাথেই শেয়ার করতো না।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, মঞ্জুরুল আলম একটি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাজ করতেন। স্বামী-স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলেসহ আঙ্গাউড়া গ্রামের মৃত হক মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাততালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুষ্টিয়ায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোক সভায় হাতে তালি এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার গোস্মামী দুর্গাপুরের শংকর দিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, শোকের মাসে পর্যায়ক্রমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সব ইউনিয়নে শোকসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে সদর উপজেলার গোস্মামী দুর্গাপুরে শোকসভার দিন নির্ধারণ ছিল। ঠিক সময় মতোই শুরু হয় শোক সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

শোক সভার শুরু হওয়ার আগেই সভাস্থলের প্রায় সমস্ত বসার চেয়ার দখল করে নেন গোস্মামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান দবির উদ্দীনের সমর্থকেরা। সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর গোস্মামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লাল্টু রহমানের নেতৃত্বে একটি শোক র‍্যালি নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করে। এ সময় লাল্টুর সঙ্গে আসা লোকজনের সঙ্গে দেশীয় হাতকুড়ালসহ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র ছিল। সভাস্থলে এসে লাল্টু সভামঞ্চে ওঠার সময় তাঁর সমর্থকেরা হাতে তালি দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান দবির উদ্দীনের সমর্থকেরা তালি ও স্লোগান দিতে নিষেধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একে অপরের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ এবং প্রধান অতিথির সামনেই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আমন্ত্রিত আওয়ামী লীগ নেতারা বারবার থামানোর চেষ্টা করলেও নেতা-কর্মীরা একে অন্যের ওপর হামলা করতে থাকে। ভাঙচুর করা হয় বসার চেয়ার। সংঘর্ষ চলাকালে শোকসভায় আসা লোকজন ভয়ে পালিয়ে যান। প্রায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জনের বেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ঝেন্টুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো।

এ ছাড়াও সংঘর্ষে ডাবলু রহমান, মহসিন এবং আখিসহ দবির উদ্দীন গ্রুপের ৮ জন এবং মন্টু, খলিল, জামাল, আলতাব, খালেক, দেলোয়ার, শাহিনসহ লাল্টু গ্রুপের ১২ জন আহত হন। এর মধ্যে লাল্টু গ্রুপের খালেকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

ডাবলু রহমান নামে দবীর উদ্দীনের এক সমর্থক বলেন, ‘শোক সভা চলাকালীন সময় লাল্টু রহমান লোকজন নিয়ে সভাস্থলে আসেন। এ সময় তাঁরা হাতে তালি দিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। শোক সভায় হাতে তালি দেওয়া নিষেধ, তাই তাঁদের হাতে তালি দিতে নিষেধ করায় তাঁরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

মন্টু নামের লাল্টু রহমানের এক সমর্থক অভিযোগ করে বলেন, ‘ওরা আগে থেকেই মারামারি করার পরিকল্পনা করে রেখেছিল। বিকেলে আমরা শোক সভার কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথে দবিরের লোকজন হামলা চালায়।’

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বলেন, ‘বিকেলে অতিথিরা আসার পর শোক সভা শুরু হয়। আমি দুই হাজার মানুষের জন্য খাবার রান্না করি। বর্তমান চেয়ারম্যান লাল্টুর রহমান শতাধিক লোকজন নিয়ে মিছিল নিয়ে আসেন। তাঁদের অনেকের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল। আমরা আগে থেকে বুঝতে পারিনি। তাঁরা এসেই আমার সমর্থক ও সাধারণ নেতা-কর্মীর ওপর হামলা করে। কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।’

হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা লাল্টু রহমান। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমার লোকজনের ওপর দবিরের লোকজন হামলা চালিয়েছে। এতে ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন। আমার তিন ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। নেতাদের সামনেই হামলা করেছে। আমরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি মাত্র।’

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন নুর জায়েদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়নি। দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্ত্রীকে হ’ত্যার পর স্বামীর আত্মহ’ত্যার চেষ্টা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

শেরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী পারভীন বেগমকে (৩২) গলা কেটে হত্যার পর স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম (৩৮) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের বয়ড়া পরানপুর গ্রাম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার ও ঘাতক শফিকুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে সদর উপজেলার বয়ড়া পরানপুর গ্রামের সোহরাব আলীর মেয়ে পারভীন বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের হাওড়া আমতলা গ্রামের জনৈক মন মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে মেয়ে সুমি (১০) ও ছেলে পারভেজ (৭) জন্মগ্রহণ করে। গত কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী পারভীন বেগম দুই মাস আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বয়ড়া পরানপুরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

পরে পৌরসভার নাগপাড়া মহল্লার আল বারাকা প্রাইভেট হাসপাতালে আয়া পদে চাকরি নেন। রোববার রাতে শফিকুল ইসলাম শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং রাতের খাবার শেষে তারা স্বামী-স্ত্রী শুয়ে পড়েন। সোমবার ভোররাতে কোনো এক সময় ঘুমন্ত পারভীন বেগমকে স্বামী শফিকুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে নিজে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সকালে তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে শাশুড়ি জামেলা বেগম ঘর উঁকি দিয়ে পারভীনের মরদেহ মেঝেতে ও মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া অবস্থায় শফিকুলকে দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং সদর থানায় খবর দেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল ঘটনাস্থল পরিদর্শ শেষে পারভীন বেগমের মরদেহে মর্গে এবং শফিকুলকে চিকিৎসার জন্য পুলিশ হেফাজতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

সদর থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে হত্যার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে ২২ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আগামী কয়েক মাস এভাবেই মাঠ গরম রাখবে দলটি। এরপর মোক্ষম সময়ে সরকার পতনের এক দফা নিয়ে রাজপথ দখলের চিন্তাভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত আন্দোলনের আগেই সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করা হবে। যারা বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে তাদেরও মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েরর একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। হামলা-মামলা কিংবা গ্রেফতার কোনো কিছুতেই রাজপথ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাধা আসলে আপাতত পালটা হামলা এড়িয়ে কৌশলে কর্মসূচি পালনে কেন্দ্র থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কখন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে তা সময়মতো হাইকমান্ড থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো বাধা রাজপথে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা।

এদিকে ৩০ আগস্ট তৃণমূলে চলমান কর্মসূচি পর্যালোচনা করবে দলটির হাইকমান্ড। বাধার কারণে যেসব স্থানে কর্মর্সূচি পালন করা সম্ভব হয়নি তা পুনরায় করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি আরও কমর্সূচি দেওয়া যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে থাকবে বিএনপি। আলোচনা সভা, র‌্যালিসহ পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।

তৃণমূলে দুদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লেও কেন্দ্রে সেই ছোঁয়া এখনো লাগেনি। দুদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে চলছে বাগযুদ্ধ, রাজপথ দখল পালটা দখলের হুঁশিয়ারি। সেপ্টেম্বরে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে রাজনীতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা গোড়া থেকে আন্দোলন শুরু করতে চাই। বিএনপির গোড়া বা আন্দোলনের সূতিকাগার হচ্ছে তৃণমূল। সেখান থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলন করলে হামলা হবে, মামলা হবে এমনকি গ্রেফতার হবে। এখন নেতাকর্মীদের এসব সামলে নেওয়ার সময় এসেছে। যতই হামলা হোক আমরা আন্দোলন থেকে সরব না। জনগণকে সম্পৃক্ত করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় সরকার। কিন্তু আমরা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেব না। কর্মসূচি পালনে আমরা আমাদের কৌশলে এগোতে চাই। সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার-নির্যাতন করেই ক্ষমতায় টিকে আছে। একদিকে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে অন্যদিকে তাদের অনেককে কারাগার থেকে মুক্তি দিচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে আগামীতে তারা সফল হবে না।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তৃণমূল থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে তা কেন্দ্রের দিকে আসবে। দেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় এবার আমরা পিছু হটব না।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো উত্তেজনা ছিল না। নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগের পরও রাজপথের কর্মসূচিতে যায়নি মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনের পর দলটি সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর দিকে নজর দেয়। তৃণমূল থেকে দলকে গোছানোর কাজ শুরু করে। কয়েক বছরে দলকে অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত থাকে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে দলটি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, তাদের এমন দাবি ক্ষমতাসীনরা সহজেই মেনে নেবে না। তাই দাবি আদায়ে রাজপথই তাদের একমাত্র ঠিকানা। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির একার পক্ষে আন্দোলন করে সফলতা পাওয়া কঠিন। প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনসম্পৃক্ততা। সেদিকেই নজর দিয়েছেন তারা। সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ অনেকটা এগিয়েছে। রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ আন্দোলনে এবার সাধারণ জনগণকে পাশে চায় দলটি। সে লক্ষ্যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে ২২ আগস্ট থেকে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ৩০০ সংসদীয় আসনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তদেরও। কর্মসূচিতে যারা অংশ না নেবেন আগামী নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন পাওয়া কঠিন হবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে উজ্জীবিত তৃণমূলও। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অনেকটাই বাড়ছে। যুক্ত হচ্ছেন সাধারণ জনগণও।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, শুরুতে অনেকটা বাধাহীনভাবেই এসব কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ক্ষমতাসীনদের হামলা, ভাঙচুর। বিএনপির কর্মসূচি বন্ধের কৌশল হিসাবে অনেক স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা হচ্ছে ১৪৪ ধারাও। শুধু হামলা-মামলা নয়, শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারও। ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দলের অনেকে। তাদের মতে, প্রথম থেকে এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ঘটলেও গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি। সাধারণ মানুষও তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু হামলা-মামলা ও গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে তা প্রচার ও প্রকাশ হওয়ায় এখন রাজনীতিতে আলোচনায় বিএনপি। ফলে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব সৃষ্টি হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তৃণমূলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে এটা বুঝতে পেরে ক্ষমতাসীনরা সহিংস হামলার পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু হামলা করে এবার নেতাকর্মীদের দমাতে পারবে না। যে কোনো পরিস্থিতিতে আমরা রাজপথে থাকব।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর জেলার আহ্বায়ক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, তৃণমূলে বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল দেখে সরকারের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তারা বেছে নিয়েছে হামলা ও মামলার পথ। শুধু নেতাকর্মীদের নয়, বাড়িঘরে হামলা শুরু করেছে। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করতে চাই। সহিংসতা নয়, আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করা। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ সরকারের পতন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পেছনে যাওয়ার উপায় নেই। দেওয়াল এতটাই লম্বা তা টপকানোও সম্ভব নয়। তাই এখন সামনের দিকে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তৃণমূলে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা বন্ধ হবে না। বরং সামনে এ আন্দোলনের গতি আরও বাড়বে।
সূত্র-যুগান্তর

দাবি মেনে নিতে ১৪ দিনের সময় বেঁধে দিলেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ধর্মঘট স্থগিত করে দাবি মেনে নিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।

সোববার (২৯ আগস্ট) পাম্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউশন, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ ঘোষণা দেয়।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদের আশ্বাসে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করা হলো। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ফের ধর্মঘট পালন করা হবে।

এর আগে, গত ২৪ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হক জানান, দাবি পূরণ না হলে ৩১ আগস্ট ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত (পাঁচ ঘণ্টা) সারা দেশে পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

দাবিগুলো হলো-

১. জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেল বিক্রির কমিশন তেলের মূল্যের ওপর শতকরা হার বা পার্সেন্টেজ ভিত্তিতে করতে হবে।

২. তেলের পরিমাপে কারচুপি রোধে নিয়মিত মনিটরিং বা অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিপিসি বা বিপণন কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়া ভোক্তা অধিদপ্তর, বিএসটিআইয়ের অভিযান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কারচুপি রোধে নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য অনতিবিলম্বে তেল কোম্পানি, বিএসটিআই এবং অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং সেলের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

৩. বিপিসি, বিপণন কোম্পানি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য কোনো দফতর বা প্রতিষ্ঠান পাম্পের কাগজপত্র চেক করার নামে পাম্প মালিকদের হয়রানি করতে পারবে না। পাম্প পরিদর্শনকালে সঠিক ও ভুল উভয় তথ্য লিপিবদ্ধ এবং প্রচার করতে হবে। তার কপি মালিককে সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৪. সওজ (সড়ক ও জনপথ) অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করতে হবে। বিপিসি, বিপণন কোম্পানি এবং বিএসটিআই ও অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিবারেশন (যার সঙ্গে ভোক্তার কোনো স্বার্থ জড়িত নেই) সার্টিফিকেট নবায়ন প্রথা বাতিল করতে হবে।

৫. জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাস্তায় ট্যাংক লরির কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে ট্যাংকলরি চালককে পুলিশের হয়রানি করা যাবে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ট্যাংক লরির কাগজপত্র ডিপোগেটে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব ডিপোতে পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে হবে। ট্যাংক লরি চালকদের জন্য বিআরটিএ কর্তৃক আলাদা কাউন্টার করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। শোধনাগার সুবিধা সমন্বিত বিভিন্ন গ্যাসফিল্ডের শোধনাগার আগের মতো চালু করতে হবে।