All posts by jitu

৩ বছরের শিশু ধর্ষণ: আসামি ভাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামিদেরকে ভাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই এসআই বোরহান কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানায় কর্মরত আছেন।

শিশুটির বাবা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগষ্ট) সকালে আমি আমার মুরাদনগর সদরের বাসা থেকে ৩ বছরের একমাত্র মেয়েকে উপজেলার পাহারপুর গ্রামে নানুর বাড়িতে নিয়ে রেখে আসি। ওইদিন বিকেলে তাকে নিয়ে আসার কথা থাকলেও জরুরী কাজ থাকায় জেতে পারিনি। পাহারপুর গ্রামের আমার মামাতো ভাই কামাল মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (১৬) ও শাহ জাহানের ছেলে সাদেক মিয়া (১৭) প্রায় আমার বাসায় আসা-যাওয়া করতো সেই সুবাদে তারা আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমার বাসায় আসবে। তখন আমি তাদের দুজনকে আমার মেয়েকে নিয়ে আসার কথা বলি। ওরা আমার বাসায় বিকেল ৪টায় আসার কথা থাকলেও ৬টার দিকে এসে মেয়েকে তারাহুরু করে আমার স্ত্রীর কাছে বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়। সোহাগ ও সাদেক চলে যাওয়ার সাথে সাথে আমার মেয়ে তার গোপনাঙ্গে ধরে কান্না করতে করতে বলে চাচ্চুরা আমাকে দুই হাতে ধরে রেখে অনেক মেরেছে। তখন আমার স্ত্রীর সন্দেহ হলে তার কাপর খুলে দেখে রক্ত। মুরাদনগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা বলেন আমার মেয়ের গোপনাঙ্গে কিছু প্রবেশ করানো হয়েছে। যার ফলে সে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমি মুরাদনগর থানায় গেলে তারা আমাকে সকালে আসেন বিকেলে আসেন বলে নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকে। এতেও কোন কাজ না হওয়ায় স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীর সহযোগীতায় মঙ্গলবার সকালে আমি আমার স্ত্রীসহ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যাই। তখন থানায় কর্মরত এসআই বোরহান আমাকে সহযোগীতা না করে উল্টো হয়রানি করতে থাকে। আসামিদের না ধরে আমার সামনে তাদের ফোন করে মামলার বিষয়টি জানিয়ে দেয়া। অপরদিকে আমাকে বলা হয় বুধবার সকালে আসো আমরা তোমার মামলা রুজু করবো। খবর নিয়ে জানতে পারি এসআই বোরহান আসামীদের ফোন করে জানিয়ে দেয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখন আমি আমার মেয়ের বিচার পাওয়া নিয়ে খুব ভয়ে আছি। কারণ যেখানে একজন পুলিশ হয়ে আসামিদের না ধরে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে, সেখানে সুষ্ঠু বিচার পাবো কিভাবে আসা করি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই বোরহান মুঠোফোনে বলেন, আমি কোন আসামি ভাগিয়ে দেইনি কিংবা ওই শিশুটির পরিবারের কাউকে কোন প্রকার হয়রানিও করিনি। অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ফোন দিয়েছি। এখন যদি আসামি ভেগে যায় আমার কি করার আছে।

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিযুষ চন্দ্র দাস বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুটি ও তার বাবা মায়ের সাথে কথা বলে মঙ্গলবার বিকেলে মামলা রুজু করার জন্য মুরাদনগর থানাকে বলে দিয়েছি। শিশুটি ছোট হলেও সে নিজেই আমার কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে যেটা আমি কখনোই আসা করিনি। আসামিদের না ধরে ভাগিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ; অবরুদ্ধ প্রায় ২০ পরিবার

 

ইসতিয়াক আহমেদ:

কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাথুরিয়াপাড়া রথ রোড এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করেছে স্থানীয় বাচ্চু মিয়া নামে এক জায়গা ব্যবসায়ী। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পরেছে ওই এলাকায় বসবাসরত অন্তত ২০টি পরিবারের শতাধিক সদস্য।

এ বিষয়ে ভূক্তভুগি মোঃ শওকত আকবর বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি শওকত আকবরসহ অন্তত ৪৫ টি পরিবার পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় ভূমি ক্রয় করেছে। এদের মধ্যে ২০টি পরিবার বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। এই সব পরিবারের প্রায় শতাধিক লোকজন দীর্ঘদিন যাবত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছিলো।

গত ২২ আগস্ট সকাল ১০ টায় বাচ্চু মিয়া বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে। এসময় ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজন রাস্তায় দেয়াল নির্মাণে বাধা প্রদান করলেও বাচ্চু মিয়া ভূক্তভুগি পরিবারের লোকজনের কথা না শুনে জোর পূর্বক ওই রাস্তার দুই প্রান্তে ৫ ফুট উচু দুটি দেয়াল নির্মাণ করেন। ফলে বসাবাসরত পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পরে।

ভূক্তভুগি শওকত আকবর বলেন, প্রায় ৩ বছর যাবত ওই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করে আসছে। ওই রাস্তার তিন ফুট জমি তিনি ক্রয় করেছেন। বাকী ৩ ফুট রাস্তা চলাচলের জন্য সাবেক কাউন্সির সৈয়দ মোঃ সোহেল পাশের লোক থেকে সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে দেয়। বর্তমানে বাচ্চু মিয়া রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ করায় পরিবারগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পরেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া বলেন, তিনি জমির মালিকের কাছ থেকে নগদ টাকায় ওই রাস্তার ভূমি খরিদ করেছেন। অন্যপাশের জমিগুলোও তার ক্রয়কৃত। তিনি নিজের খরিদকৃত ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ করেছেন।

সাবেক ইসি মাহবুব তালুকদার আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (২৪ আগস্ট) মাহবুব তালুকদারের মেয়ে আইরিন সুলতানা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকাল থেকে ভালোই ছিলেন আব্বা। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ১২টার দিকে। দ্রুত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসি। এরপর তো চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

স্ত্রীকে হত্যা করতে ‘খুনি’ ভাড়া করেন ৩ লাখ টাকায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ফেঁসে যাচ্ছেন। প্রমাণ হওয়ার পথে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা। প্রস্তুত করা হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্ত প্রতিবেদন।

তদন্তে প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে খুনের জন্য বাবুল আক্তার ৩ লাখ টাকায় ‘খুনি’ ভাড়া করেন। এতে নেতৃত্ব দেন তার সোর্স মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা। সঙ্গে ছিল এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু ও শাহজাহান মিয়া।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আক্তার। হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন বাবুল।

আদালতের আদেশে পরে মিতু হত্যা মামলা যায় পিবিআইয়ের হাতে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এর পরদিন ১২ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামী বাবুল আক্তারের ‘সম্পৃক্ততার প্রমাণ’ পেয়েছেন তারা। সেদিনই চট্টগ্রামে আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন পিবিআইর পরিদর্শক মামলার তৎকালীন আইও সন্তোষ কুমার চাকমা। এরপর ওইদিনই পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন একটি হত্যা মামলা করেন। সর্বশেষ পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেন।

মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন উল্লেখ করেন, কক্সবাজার জেলায় চাকরি করার সময় বাবুল আক্তারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরে ফিল্ড অফিসার (প্রোটেকশন) পদে কর্মরত ভারতীয় নারী গায়ত্রী অমর সিংয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার প্রতিবাদ করায় মিতুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে পরের বছরের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত ছিলেন বাবুল। তখন তার মোবাইল ফোন চট্টগ্রামের বাসায় রেখে গিয়েছিলেন। ওই ফোনে গায়ত্রীর পাঠানো ২৯টি এসএমএস মিতু দেখে সেগুলো তার একটি খাতায় লিখে রেখেছিলেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে বাবুল চীনে এক প্রশিক্ষণে গেলে স্ত্রী মিতু দুটি বই পান, সেগুলো ওই নারী বাবুলকে দিয়েছিল। বই দুটির দুটি পাতায় ওই নারী ও বাবুলের লেখায় তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়ের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছেছিল। নির্যাতনের বিষয়টি মিতু তাকেও জানিয়েছিল’।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে আরও কয়েকদিন লাগতে পারে’।

এদিকে মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৪ জনকে খুনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পিবিআই। তারা হলেন- মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু, নুরুন্নবী, রাশেদ ও গুইন্যা। নুরুন্নবী ও রাশেদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে মুসা ও কালু পলাতক। ভোলাইয়া জামিনে আছে। কারাগারে আছে- বাবুল আক্তার, ওয়াসিম, শাহজাহান মিয়া ও আনোয়ার হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সাক্ষ্যস্মারক রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা গেছে।

সূত্র: বাংলানিউজ।

লালমাইয়ে ৩০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লালমাই থানার উত্তর পেরুল ইউ.পি এলাকা হতে ৩০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ২৪ আগস্ট রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার রাধানগর গ্রামের মৃত. মজনু মিয়ার ছেলে মোঃ কবির (৩৮) এবং কুমিল্লার বুড়িচং থানার ডাকলাপাড়া গ্রামের মোঃ আলম হোসেনের ছেলে মোঃ রুবেল হেসেন (৩১)।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চৌদ্দগ্রামে মাদক, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) কর্মসূচির আওতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে দেশের অগ্রগতি, অর্জন, সাফল্য ও লক্ষ্য সমূহের সাথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও মাদক, গুজব, সাম্প্রদায়িকতা, অপপ্রচার, অপরাজনীতি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লার সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীন হোসেন।

সমাবেশে বক্তাগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে গুজব, সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, অপপ্রচারকে প্রতিরোধ করতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলন ও বিনা মূল্যে বই বিতরণসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উপযোগী মানুষ হিসেবে সন্তানদের গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। বক্তাগন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এর প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মানুষকে এই অপারাধ গুলির বিরুদ্ধে জোড়ালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম, বাতিসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: আবুল খায়ের প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাতিসা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বিবি । মহিলা সমাবেশের পূর্বে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

কুসিক মেয়র রিফাতের রোগমুক্তির জন্য কান্দিরপাড় মসজিদে দোয়া মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  আরফানুল হক রিফাতের রোগ মুক্তির জন্য  নগরীর কান্দিরপাড় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আছর নামাযের পর এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় কুসিক প্যানেল মেয়র ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলর হাবিবুর আল আমিন সাদীসহ আ’লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবিদ্বারে গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক ও বাল্যবিবাহকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে উপজেলার মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক বাল্য বিবাহ এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে শপথ নিয়েছেন ৭০০ শিক্ষার্থী।

পরে তারা এক হাতে মাদককে লাল কার্ড প্রদর্শন ও অন্যহাতে সবুজ গাছের চারা নিয়ে দেশপ্রেমে জাগ্রত হতে শপথ নেন।

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কাওসার আলম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আবুল খায়ের।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ নানু মিয়া সরকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাংবাদিক সুমন সরকার, সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রাগীব মাহতাব, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, কখনো ধুমপান কিংবা মাদক সেবন না করতে এবং দেশপ্রেমে জাগ্রত হতে শপথ পাঠ করার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল।

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম জানান, সদস্যরা তাদের জমানো টাকায় ৩০ জুলাই থেকে এক লাখ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন। আগামী তিন মাস এ কার্যক্রম সারাদেশে পরিচালনা করা হবে। গত ৬ বছরে সংগঠনটি সাড়ে পাঁচ লাখ গাছের চারা বিতরণ করেছেন। এ বছরও সারাদেশে ১ লাখ গাছের চারা বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা সার্ভিস : সমস্যা ও সম্ভাবনা

লে. কর্ণেল নাজমুল হুদা খান:

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ ও সম্ভাবনা ব্যাপক। ডিজিটাল প্রযুক্তির বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেলিমেডিসিন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রভূত উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও কম খরচে হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। বাংলাদেশের প্রায় ৭৭ ভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। এসব অঞ্চলে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আমাদের দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা, মাথাপিছু স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় এখনো অপ্রতুল। গ্রামাঞ্চলের সিংহভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সেখানকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জনবল ও যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত সরবরাহে প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু রাতারাতি এ অবস্থা বদলে দেয়া সম্ভব নয়। অথচ এতদঞ্চলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবাটি সহজলভ্য করতে ভূমিকা রাখতে পারে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা সার্ভিস।

করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা সেবায় টেলিমেডিসিন:

সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি সংস্পর্শ এড়িয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রদানের মাধ্যমে সংক্রমণ রোধে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ২০২০-২২ সময়কালে প্রায় দেড় লাখ করোনা রোগীর (নিশ্চিত ও সন্দেহজনক) চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় টেলিমেডিসিন চিকিৎসাসেবা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

বিশ্বব্যাপী টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু হয়েছে ১৯৫৯ সালের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল স্কুলে। ১৯৬০ সালে নাসা তাদের নভোচারীদের স্বাস্থ্য সমস্যায় টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু করে। ১৯৯০ সালে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণকালে টেলিমেডিসিন সার্ভিসেও রেনেসাঁ বিপ্লব ঘটে। বাংলাদেশে স্বল্প পরিসরে এ সেবা চালু হয় ১৯৯৯ সাল থেকে। সাভারে অবস্থিত সিআরপি এবং যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভী হাসপাতালের মধ্যে যৌথভাবে এ সেবা স্থাপনে সহায়তা করে সুইডিশ দাতব্য সংস্থা Swifne। ২০০৩ সালে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় বুয়েট টেলিমেডিসিন প্রজেক্ট শুরু করে। গ্রামীণফোন ও টেলিমেডিসিন রেফারেল সেন্টার লি. এর যৌথ উদ্যোগে “Healthline dial 789”-এর কার্যক্রম শুরু করে ২০০৬ সালে।

বর্তমানে বহু-সংখ্যাক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৫ বছরে ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩” প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে এ সেবা প্রদান করেছে।

‘জিয়ন’ নামের একটি সংস্থা অনলাইন টেলিফার্মেসি সেবা চালু করেছে। ‘সেবাঘর’, ‘বাঁচাও হেলথ’, ‘টনিক’ ও ‘পলিস হেলথ সার্ভিসেস’ প্রভৃতি সংস্থা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ফেসবুক-মেসেঞ্জার ও অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে টেলিমেডিসিন সেবা অব্যাহত রাখছে।

বর্তমানে টেলিমেডিসিন সার্ভিস প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে প্রচলিত রয়েছে। যথা স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং প্রসেস, রিমোট মনিটরিং প্রসেস এবং রিয়্যাল টাইম ইন্টার‌্যাক্টিভ প্রসেস। স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং পদ্ধতিতে রোগীর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল চিকিৎসক বিশেষজ্ঞগণের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় এবং বিশেষজ্ঞগণ এসব তথ্য-উপাত্থের বিশ্লেষণপূর্বক অনলাইনে পরামর্শ প্রদান করেন। রিমোট মনিটরিং পদ্ধতিতে একজন চিকিৎসক বা নার্স রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক যাবতীয় তথ্য বিশেষজ্ঞের নিকট প্রেরণপূর্বক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। জটিল রোগসমূহের জন্য এ পদ্ধতি অধিকতর ফলপ্রসূ। রিয়েল টাইম ইন্টার‌্যাক্টিভ পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের মাধ্যমে একজন রোগী সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে তার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং পরামর্শ নিতে পারেন। এ পদ্ধতিটি রোগী ও চিকিৎসকের জন্য অনেকটা সহজতর এবং কম সময় সাপেক্ষ।

টেলিমেডিসিন সার্ভিসটির কার্যপরিধি বেশ ব্যাপক। প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি বিভাগই এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে পারে। যথা টেলিনার্সিংয়ের মাধ্যমে একজন নার্স রোগীকে নার্সিংসেবার বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পরামর্শ প্রদান করতে পারে। টেলিফার্মেসিতে অনলাইনে রোগীদের বিভিন্ন ওষুধ-সংক্রান্ত তথ্য তথা ফার্মেসি-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। টেলিট্রমার মাধ্যমে ট্রমা বিশেষজ্ঞগণ মারাত্মক আহত রোগী, সড়ক দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে আহতদের জখম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। টেলি কার্ডিওলজি হৃদরোগীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও করনীয় সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে থাকে। একইভাবে টেলিপ্যাথলজি বায়োকেমিস্ট্রি, হেমাটোলজি, হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি ইত্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিষয়ে রোগীদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরামর্শ সেবা প্রদান করে থাকে।

টেলিমেডিসিন সেবার বহুবিধ সুবিধা রয়েছে এ পদ্ধতিতে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের সুযোগ রয়েছে। সময়, অর্থ ও অপেক্ষার বিড়ম্বনা হ্রাস করে। সংক্রামক রোগ বিস্তাররোধে অধিক কার্যকর এ ট