All posts by jitu

হঠাৎ করেই অবসর ঘোষণা বেন স্টোকসের

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

হুট করেই ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করে দিলেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেটা হতে যাচ্ছে এ সংস্করণে তার শেষ ম্যাচ। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার নিজেই টুইট করে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার।

২০১৯ বিশ্বকাপের নায়ক স্টোকস সোশ্যাল সাইটে লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার ডারহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জার্সিতে শেষ ওয়ানডে খেলব। তারপর এই ফরম্যাট থেকে আমি অবসর নেব। খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে ইংল্যান্ডের সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমি মনে রাখব। তাদের সঙ্গে একটা দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইলাম। সিদ্ধান্তটা নেওয়া কঠিন হলেও, সতীর্থদের এটা জানিয়ে দিতে চাই যে, এই ফরম্যাটে হয়তো এর পর থেকে ১০০ শতাংশ দিতে পারতাম না। ইংল্যান্ডের জার্সিতে কারো খারাপ খেলার অধিকার নেই। ‘

২০১১ সালের ২৫ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল স্টোকসের। এখনও পর্যন্ত ১০৪টি ম্যাচ খেলে ২৯১৯ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১০২*। আছে ৩টি সেঞ্চুরি এবং ২১টি হাফসেঞ্চুরি। মঙ্গলবার ১০৫তম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামবেন। সেটাই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খুব একটা ভালো ছন্দে ছিলেন না। তিন ম্যাচে মোট ৪৮ রান করেছেন। কোনো উইকেট পাননি।

সম্প্রতি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘দ্য হানড্রেড’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্টোকসকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তিনি তিন ফরম্যাটের ধকল নিতে পারছিলেন না। আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাওয়া যাবে না গত বিশ্বকাপের নায়ককে। সম্প্রতি জো রুটের থেকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন স্টোকস। নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে অধিনায়ক হিসাবে তার যাত্রা শুরু হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, ওয়ার্কলোড কমিয়ে টেস্টে মনযোগী হতেই স্টোকসের এমন সিদ্ধান্ত।

কবিতা: তৃপ্তি

রেজাউল করিম(সাকিব):

ঝিঝি ডাকে
পাখিরা ঘুমায় নীড়ে
রাতের মায়া চাঁদের আলোতে
হুতুম পেঁচা ডাকে
জোনাক মিটিমিটি আলোয় উড়ে
গাছেরা ঘুমিয়ে থাকে
নৈঃশব্দ্য নিরব বাতাসে।

রাতের আকাশে তারারা
কতইনা মুগ্ধ করে
রাতের মিটিমিটি আলো হয়ে
পৃথিবীর সকল রঙ সাদা কালোয়
এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।

রাতের জোছনায়
প্রকৃতির এক মুগ্ধ রূপে
এক কবি খুজে পায়
এই সুন্দর রূপের স্রষ্টাকে
চুপি সারে পুকুর পাড়ের ঘাটে বসে
রাতে মুগ্ধ রূপে গভীর রাতে
মুগ্ধ রূপে পুকুর পাড়ে অযু করে
মহান স্রষ্টা আল্লাহকে স্মরণ করে
প্রতিটি সেজদায় সে সকল তৃপ্তি খুজে পায়
তাকে এবং সকল সুন্দরের স্রষ্টাকে সেজদা করে
সকল রঙ যখন নিভে যায় অন্ধকারে
চাঁদের আলোর মতো তার আত্মা আলো খুজে পায়
সকল প্রসংশা যখন আল্লাহ সে যখন বুঝতে পারে
তখন তাকে মুগ্ধ করে হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, বেলি ঘ্রাণে ।

চৌদ্দগ্রামে অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া সেই জুয়েল গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার ওপর হামলার পর অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া সেই মনিরুজ্জামান জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে তাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা।

জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের তিনটি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ওই তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

এ সময় জুয়েলের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মনিরুজ্জামান জুয়েল উপজেলার নালঘর গ্রামে প্রয়াত আলী আকবর মজুমদারের ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে জুয়েলের বিরুদ্ধে। শাহজালাল মজুমদারের দাবি, মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। হামলার ঘটনার পর জুয়েলের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শাহজালাল মজুমদার।

সোমবার বিকেলে ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, তিনটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা মনিরুজ্জামান জুয়েলকে রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এদিকে ছবি ভাইরাল হওয়ার পর জুয়েলের সেই আগ্নেয়াস্ত্র ৮৬ রাউন্ড গুলিসহ গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম থানায় জমা দেন তার স্ত্রী ফারজানা হক। এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া অস্ত্রটির লাইসেন্স আছে। দেখতে অনেকটা সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মতো হলেও এটি একটি টু পয়েন্ট টু বোরের রাইফেল, যার মডেল হচ্ছে জিএসজি-৫। এটি জার্মানির তৈরি। আমরা তার লাইসেন্স চেক করে অস্ত্রটির সঙ্গে মিলিয়েছি। এটার বৈধ লাইসেন্স আছে। ’

চৌদ্দগ্রামে অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহকালে ১১৭ সিলিন্ডারসহ আটক ১

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কাভার্ড ভ্যানের ভিতর গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করে অবৈধভাবে সিএনজির গ্যাস সরবরাহের সময় মোঃ জিয়াউর রহমান (২৫) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ জুলাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়ার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এসময় ১১৭ বোতল গ্যাস সিলিন্ডারসহ একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।

আটককৃত যুবক কক্সবাজারের মহেষখালী উপজেলার মির্জি পাড়া গ্রামের হাসান আলীর ছেলে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আটককৃত যুবক সিএনজি ফিলিং স্টেশনের আড়ালে সরাসরি গাড়িতে জ্বালানী সরবরাহ করার পাশাপাশি বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাভার্ড ভ্যানের ভিতর সিলিন্ডার স্থাপন করে মিটার ব্যতীত মূল গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস মজুদ করে তা অবৈধভাবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং যেসব এলাকায় গ্যাস সংযোগ নেই সেসব এলাকার বিভিন্ন কারখানায় চড়ামূল্যে বিক্রি করে। এছাড়াও সিএনজি গ্যাস সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন স্থাপন করে প্রচলিত বাজার মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করে আসছিল। সিএনজি স্টেশনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত টাকার পরিবর্তে চোরাই পথে চড়া দামে বিক্রি করে। এভাবে অবৈধভাবে গ্যাস চোরাই পথে সরবরাহ ও বিক্রির সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এবং এর পাশাপাশি মিটার ব্যতীত এই গ্যাস বিক্রির ফলে সরকার বিপুল আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

সদর দক্ষিণ থেকে গাঁজাসহ র‌্যাবের হাতে যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৮ কেজি গাঁজাসহ বিল্লাল (২৬) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

আটককৃত যুবক কুমিল্লার মাঝিকাঁচা (মাষ্টার বাড়ি) গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নোয়াখালীতে কিশোরীকে ধর্ষণ, ৭০ হাজার টাকায় দফারফা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর হাতিয়াতে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগে ঘটনার ৮দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৭০ হাজার টাকায় দফারফা করে ধর্ষককে ছেড়ে দিয়েছে স্থানীয় তিন সালিশদার। এ সুযোগে ধর্ষক পলাতক রয়েছে।

গত সোমবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জহির উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর গ্রামের শাহাজান মিয়ার ছেলে। সে হাতিয়া উপজেলার চানন্দী বাজারের একজন ফার্মেসী দোকানদার এবং পল্লী চিকিসক।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, তারা একটি নদী ভাঙ্গা পরিবার। উপজেলার নলচিরা গ্রামে সামান্য জায়গার ওপর তার ঘর তুলে বসবাস করে আসছে। চরমুজামে তাদের একটি দাগের জমি আছে। ওই জমিতে ধান চাষ করতে ১ মেয়ে- ২ ছেলেকে বাড়িতে রেখে তিনি চরে যান। সোমবার সকালে তার বড় ছেলে চট্রগ্রাম চলে যায়। এরপর ধর্ষক জহির তাকে ফোন দিয়ে জানতে চাই তিনি কোন দিন চরে যাবেন। তিনি তাকে জানালে সে কিশোরীর মাকে জানায় সে চরে যাবে তার জমিতে ধান চাষ করতে। এরপর সে আর চরে যায় নি। সোমবার দিবাগত রাতে জহির আগে থেকেই তাদের বসত ঘরের সংলগ্ন বাগানে উৎপেতে থাকে। ওই সময় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিয়ে তার মেয়ে ঘর থেকে বের হলে সে মুখ চেপে ধরে ঘরের পাশে থাকা আরেকটি চা-বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে শরীরে ইনশেকজন মেরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে চলে যায়।

কিশোরীর মা অভিযোগ করে আরো জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে আমি স্থানীয় সালিশদার তাজু, ইসমাইলকে জানাই। এরপর তাজু আমাকে জানায়,যা হওয়ার হয়ে গেছে তিনি বিষয়টি ভেঙ্গে দেবেন। তাজু বলেন অভিযুক্ত ছেলেকে ডেকে এনে পায়ে পেলে মাফ নিয়ে দেব। এর থেকে বেশি কিছু তিনি করতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমরা ছেলেকে মারধর করতে গেলে বলবে আমরা নিজের হাতে ক্ষমতা নিয়েছি। জরিমানা করতে গেলে আমাদের নামে অভিযোগ আসবে। আর ছেলেকে বিয়ে পড়িয়ে কি আমরা মামলা খাব? এরপর স্থানীয় এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে আরেক বিচারক মালেক ফরাজীকে এনে আমাদেরকে ছাড়া শুক্রবার (৮ জুলাই) উপজেলার চানন্দী বাজারে ইসমাইল নেতার অফিসে রাত ৪টার দিকে সালিশদার তাজুসহ ৭০হাজার টাকায় ঘটনা দফারফা করে। এরপর তারা অভিযুক্ত ছেলেকে পালিয়ে যেতে বলে। এর আগে, তারা ছেলে-মেয়ের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বললে ধর্ষক অভিযোগ স্বীকার করলে তার থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।

পরে এ ঘটনায় গত বুধবার (১৪ জুলাই) ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালিশদার মালেক ফরাজী ও তাজুকে আসামি করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে শুধু অভিযুক্ত জহিরকে আসামি রেখে বাকী দুইজনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার তিন সালিশদারের মুঠোফোনে করা হলেও ফোনে তাদের পাওয়া যায় নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন,স্থানীয় কয়েকজন সালিশদার টাকার বিনিময়ে প্রথমে বিষয়টি মিটমাট করেছে বলেও তিনি শুনেছেন এবং অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ সত্য হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ওসি আরো জানায়,ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।

মুরাদনগরে মাসোয়ারা দিয়ে চলছে দুই শতাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন, হুমকির মুখে কৃষি জমি

 

* প্রতিটি প্রজেক্ট ভরাটে ইউনিয়ন তহসিলদার কে দিতে হয় ১৫-২০ হাজার টাকা।
* নামধারী সাংবাদিকদের প্রতি সপ্তাহে দিতে হয় ৫-১০ হাজার টাকা।
* স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রতি প্রজেক্ট ভরাটে দিতে হয় ২০-৩০ হাজার টাকা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কিছুতেই থামছেনা কৃষি জমি থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন। এতে বিলীন হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার তিন ফসলি জমি। উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করছে স্থানীয় কিছু চক্র। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধ শতাধিক জমির মালিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর বার বার অভিযোগ করেও নিরুপায় হয়ে তারা এখন ড্রেজার ব্যবসায়ী চক্রের কাছে জিম্মি।

অন্যদিকে অপর একটি চক্র ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ার নামে করছে লক্ষ-লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি। মাসোয়ারা দিলে সচল থাকে ড্রেজার মেশিন। না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যেমে ওইসব ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। আবার যখন মাসোয়ারা দিতে রাজি হয় মালিক পক্ষ ঠিক তখনই থেকে সচল করতে পারে তাদের ড্রেজার।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঝে মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যেমে অভিযান চালালেও রহস্যজনক কারনে ওই ড্রেজার ব্যবসায়ী চক্রগুলো বিরুদ্ধে কোন প্রকার মামলা না করায় চক্রটি দিন দিন বেপরুয়া হয়ে উঠছে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযানে বের হলে ঘটনাস্থলে পৌছাঁর আগেই খবর চলে যায় ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছে। যার ফলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে পাওয়া যায়না। তবে ব্যবসায়ীদের না পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার অভিযান শেষে অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করে নিয়ে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আবারো সেখানে বসানো হয় অবৈধ ড্রেজার মেশিন। ফলে স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই শব্দ অভিযান কি তাহলে শুধুই লোক দেখানো?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৩১২টি গ্রামের মধ্যে প্রায় দু’শতাধিক গ্রামের কোন না কোন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন চলে। মাইলের পর মাইল পাইপ সংযোগ দিয়ে ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে কোথাও ফসলি জমি আবার কোথাওবা পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। বর্তমানে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে ৫০/৬০ ফুট গভীর থেকে মাটি ও বালি উত্তোলনের ফলে আশ-পাশের তিন ফসলের জমিগুলো পরিনত হচ্ছে কূপে।

উপজেলার ছালিয়াকান্দি, বোরারচর, কৃষ্ণপুর, কামাল্লা গ্রামের মোবারক হোসেন, আলফু মিয়া, ইদন ব্যাপারীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, ড্রেজার বসিয়ে গভীর ভাবে মাটি কাটার কারনে আমাদের তিন ফসলী জমি ড্রেজিং গর্তে বিলীন হয়ে যাচ্চে। কেউ যদি ইচ্ছা করে জমি দিতে না চায়, তাহলে সেখান থেকে জোর পূর্বক মাটি কাটা শুরু করে শেষ পর্যন্ত ড্রেজার মালিকদের নিকট কমমূল্যে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সাধারণ কৃষক। ড্রেজার সিন্ডিকেটরা জমির মালিকদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভংগায়। ফলে তাদের ভয়ে কেউ কোন অভিযোগ করে না। আর যদিও কেউ অভিযোগ করে প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই কিভাবে যেন তারা টের পায়। পরে মেশিনপত্র বন্ধ করে চলে যায়। পরক্ষণে প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে তারা আবারো মাটি কাটার উৎসবে মেতে ওঠে। হুনছি সবাই নাকি ভূমি অফিসের লোকজনেরে টাকা দিয়া ড্রেজার চালায়। গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট তাদের দু:খের কথা বলতে গিয়ে অনেক কৃষক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

ড্রেজার ব্যবসায়ী হারুন মুন্সী বলেন, সবাই মনে করে আমরা ড্রেজার চালাইয়া কতটাকা জানি কামাইতাছি। আসলে এক সময় ঠিকই কামাইতে পারতার। প্রতি প্রজেক্টে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা লাভ হইতো। তখন কাউরে অতো টাকা দিতে হইতো না। এখন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপ লাগানোর সাথে সাথে চলে আসে নায়েব সাব (ইউনিয়ন তহসিলদার) তারে দিতে হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। মেশিন চালু করতে না করতে গলায় কার্ড জুলাই হাতে লাঠির কতো একটা মাইক লইয়া হাজির হয়ে পরিচয় দেয় আমি সাংবাদিক টাকা না দিলে শ্রমিকদের মারধর পর্যন্ত করে। তাদের কে প্রতি সপ্তাহে দিতে হয় ৫-১০ হাজার টাকা। আবার অনেকে প্রইভেটকার করে এসে বলে আমি কি ছোট সাংবাদিক হে তোর কি মনে হয়? তাদের কে দিতে হয় বেশি টাকা। এর পর আসে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের কেউ দিতে হয় টাকা। আবার মাঝে মধ্যে এসিল্যান্ড স্যার আইসা লইয়া জায়গা মেশিন সেটিও নতুন করে কিনে বসাতে হয়। সব মিলিয়ে এখন তেমন একটা লাভ করতে পারি না।

সচেতন মহলের লোকজন বলছে, এইসব অবৈধ ড্রেজারের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় যারা রক্ষক তারাই ভক্ষক এর ভূমিকায়। এখানে বড় একটি প্রশ্ন থেকেই যায় প্রশাসন এতো এতো অভিযান পরিচালনা করছেন অথচ মূলহুতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ফলে তারা দিন দিন অপরাধ করতে ভয় পাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমান ২৪ হাজার ২৯৩ হেক্টর। এর মধ্যে বেশীর ভাগই দুই থেকে তিন ফসলী জমি। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত অনাবাদী রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন আহম্মেদ সোহাগ বলেন, আমি উদ্ধিগ্ন ও আতংকিত। কেননা তিন ফসলি জমির টপসয়েল্ট (উর্ভর মাটির উপরের অংশ) ব্যাপক হারে কেটে নিচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে চাষাবাদের জন্য একখন্ড জমি থাকবে না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কড়া ভাবে নিষেধাজ্ঞা আছে জমির মাটি কেটে নিয়ে অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা বলেন, ভূমি অফিসের কোন কর্মকর্তা ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এ বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি আসার পরে এখন পর্যন্ত যেখান থেকেই ড্রেজারের অভিযোগ এসেছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করেছি। এটি বন্ধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে তাহলেই হয়তো সম্ভব। আর অবৈধ ড্রেজার বন্ধে আমাদের অভিযান সবসময় অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাশ বলেন, এসব অবৈধ ড্রেজার নির্মূল করতে হলে প্রথমে আমাদের সকলকে আন্তরিক হতে হবে। প্রত্যেকটি জায়গা থেকে সকলকে সহযোগীতা করতে হবে। তাহলে এটি বন্ধ করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত যেখান থেকেই ড্রেজারের অভিযোগ এসেছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর অবৈধ ড্রেজার বন্ধে আমাদের অভিযান সবসময় অব্যাহত আছে।

সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে হাতাহাতি: প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল

স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় সংসদ ভবনের এলইডি হলে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ঘুষি মেরেছেন এমপি, আবার কেউ কেউ বলছেন হাতাহাতি হয়েছে। আবার হলের বাইরের একটি সিসিটিভি ফুটেজও ভাইরাল হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়,  “কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিনকে বেশ কয়েকবার ধাক্কা দিয়েছেন, উচ্চস্বরে কিছু বলছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ”। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে উপজেলা চেয়ারম্যানের শুয়ে থাকার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল সংসদের এলইডি ভবনে? সেখানে বৈঠকে উপস্থিত ছিল এমন কয়েকজনের সাথে কথা হয়েছে, তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলইডি হলে সভার শেষ পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সাথে এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ অশ্লীল ভাষায় এমপি রাজীকে গালমন্দ করেন এবং তেড়ে যান। তখন দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে এমপি রাজী ফখরুল উপজেলা চেয়ারম্যানকে চড় দেন। এরপর বৈঠক শেষ না করেই জেলার সেক্রেটারি রৌশন আলী মাষ্টার ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জেলার (উত্তরের) সভাপতি ম. রুহুল আমিন কক্ষের বাইরে গিয়ে আজাদকে বুঝিয়ে মিটিংয়ে আনতে গেলে আজাদ সভাপতি রুহুল আমিনকে গালমন্দ করে ও বেশ কয়েকবার ধাক্কা দেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টার বলেন, আমরা সুন্দর একটা মিটিং করছিলাম। মিটিং শেষ পর্যায়ে চলে আসছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কাউন্সিলর লিষ্ট তৈরি করতে বললে এমপি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তার মাথায় কিল ঘুষি মারেন। আমরা মিটিং শেষ না করেই চলে এসেছি।

এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ২১ জুলাই দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনের আগে চার ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করার তাগিদ দিয়েছিলেন কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ। সেই তাগিদের প্রেক্ষিতে আমরা কমিটি দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে বসি। এ সময় উপজেলা নেতৃবৃন্দ ইউনিয়নে নতুন কমিটির তালিকা করেন। তখন আমি আগামী সম্মেলনের কাউন্সিল লিস্ট তৈরি করতে বলার সাথে সাথে এমপি আমাকে কিল-ঘুষি মারেন। মূলত: ইউনিয়ন কমিটিতে নতুন নেতৃত্বে এমপির পছন্দের লোক ছিল না বলে আমার উপর তিনি আঘাত করেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন জানান, দ্বেবিদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির বৈঠক ছিল। আলোচনার শেষ পর্যায়ে একটা ইউনিয়ন নিয়ে তর্ক হওয়ার পরে এমপি ও উপজেলার চেয়ারম্যানের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। আমাদের সেক্রেটারী রৌশন আলী মাস্টারের একটা ঘোষণা দেন। এটা একজনের পক্ষে গেছে, একজনের বিপক্ষে গেছে। এটা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির পূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ গালমন্দ করেন এমপি রাজীকে। এমনকি মারধর করতেও তেড়ে যান। তখন দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ আমাকে কয়েকবার ধাক্কা দিয়েছে এবং অশ্লীল গালমন্দ করেছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের এলইডি হলে বিকেলে বৈঠক চলছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও তার লোকজন শুরু থেকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি মেনে নিতে পারে নি। এমনকি আমরা শুনেছি তারা সম্মেলন (২১ জুলাই নির্ধারিত ছিল) পেছাতে চেয়েছিল। মিটিংয়ে তারা যত প্রস্তাব দিচ্ছিল এমপি রাজী সাহেব তা মেনে নিচ্ছিলেন । কারণ এমপি সাহেব চাইছিলেন সুষ্ঠু ও কোন প্রকার ভেজাল ছাড়াই উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন করতে। মিটিংয়ের শেষ পর্যায়ে চেয়ারম্যান আজাদ সাহেবরা একটা প্রস্তাব করে, যা পরে করার কথা ছিল। তখন এমপি সাহেব বলেন, এটা পরের বিষয়, এখন হবে না। তখন উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ দাঁড়িয়ে যান। তখন এমপি সাহেবের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এমপি রাজীকে গালমন্দ শুরু করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ। এমপিকে মারার জন্য এগিয়ে আসলে আজাদকে চড় মারেন এমপি রাজী। এ সময় আজাদও এমপি সাহেবের উপর চড়াও হন। আমরা তাৎক্ষনিক দুইজনকে সরিয়ে নেই। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জেলার (উত্তরের) সভাপতি ম. রুহুল আমিন কক্ষের বাইরে গিয়ে আজাদকে বুঝিয়ে মিটিংয়ে আনতে যান। তখন আজাদ সভাপতি রুহুল আমিনকে গালমন্দ করে ও বেশ কয়েকবার ধাক্কা দেন। এর আগে সম্প্রতি এক ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলনের দিনে এমপি রাজীর গাড়ি আটকিয়ে আজাদ তার দলবল নিয়ে এমপিকে অনেক গালমন্দ করেছে। এমপির গাড়িকে লাথি দিয়েছিল। তখন এমপি রাজী ভদ্রতার খাতিরে, দলের স্বার্থে চুপ করেছিলেন। তার লোকজন কোন সংঘর্ষে জড়ায়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মাষ্টার জানান, জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি বৈঠকে এলাহাবাদের কমিটি à¦