All posts by jitu

৮ বছরের শিশু কুরআন মুখস্থ করল মাত্র ৬ মাসে

ডেস্ক রিপোর্টঃ

৮ বছরের শিশু আবেদা সুলতানা মাত্র ৬ মাসে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছে।

সে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর গুল্যাখালী এলাকার হাফেজ মো. আবদুল আজিজের বড় মেয়ে এবং আহমুদা খাতুন মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী।

জানা যায়, সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে নুরানি শাখায় আবেদা সুলতানাকে ভর্তি করান বাবা মো. আবদুল আজিজ। তার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে হাফেজা বানাবেন। এর পর আড়াই বছর নুরানি পড়ে আবেদা। তিন মাস নাজরানা বিভাগে পড়ার পর কুরআন সবক নেয় আবেদা সুলতানা। এর পর মাত্র ছয় মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ (মুখস্থ) করে সে।

আবেদার বাবা বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসা থেকে আমার মেয়ে আবেদা ছয় মাসে হাফেজা হয়েছে। এ ছাড়া আরজু নামে আরেক মেয়ে শিক্ষার্থী মাত্র সাত মাসে হেফজ শেষ করেছে এবং এক বছরে অনেক মেয়ে হাফেজা হয়েছে। আবেদাকে আমরা যেভাবে বলেছি সে সেভাবে শুনেছে। তার মেহনতের মাধ্যমে পবিত্র আল্লাহর কালাম মুখস্থ করা সম্ভব হয়েছে। সবাই যখন ঘুমাত আবেদা তখন পড়ত। আবেদার কখনো সবক বন্ধ ছিল না। অসুস্থ থাকলেও সে সবক পড়ত। কখনো পড়া থেকে বিরত থাকত না।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম হোসেন বলেন, এ ঘটনা শুনে আমি অভিভূত হয়েছি। আমাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত দ্বীপ উপজেলা ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে নেই। তারা অন্যান্য এলাকার থেকেও অনেক এগিয়ে আছে। মেয়ে শিশু মাত্র ছয় মাসে হাফেজা হয়েছে, এটা আমার কাছে মিরাকল মনে হয়েছে।

মাসে একবার পিৎজা-১৫ দিন অন্তর শপিংয়ের শর্তে বিয়ের অভিনব চুক্তিপত্র

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতীয় এক বরকনের বিয়েতে ‘অভিনব’ এক চুক্তি সইয়ের ভিডিও সবার নজর কেড়েছে। আজব সব শর্তের এই চুক্তিপত্র ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বউকে মাসে একবার পিৎজা খাওয়ানো এবং ১৫ দিন পর পর শপিংয়ে নিয়ে যাওয়াসহ এমন আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে মোট আটটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে চুক্তিপত্রে। খবর বিবিসির।

বর ও কনের বন্ধুবান্ধবরাই বিয়ে উপলক্ষ্যে তৈরি করে দিয়েছে মজার এই চুক্তিপত্র। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে।

কনে ২৪ বছর বয়সি শান্তি প্রসাদ ‘পিৎজা পাগল’। আর বর, তারই সহপাঠী ২৫ বছর বয়সি মিন্টু রায়। ৫ বছর আগে কমার্সে ভর্তির পর ক্লাসে দুজনের দেখা, তার পর আলাপ-পরিচয়।

২০১৮ সাল থেকে দুজন ডেট করতে শুরু করে। আর পিৎজা পাগল শান্তি প্রায়ই পিৎজা খাওয়ার জন্য বায়না ধরত। মিন্টু নিজে পিৎজা খেতে পছন্দ করলেও প্রতিদিন পিৎজা খাওয়া তার জন্য একঘেঁয়ে হয়ে উঠেছিল। বন্ধুমহলে সে শান্তির এই পাগলামির কথা বলেও বেড়াতে লাগল।

কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে বিষয়টি কৌতুকর হয়ে উঠল। এক বন্ধুর ভাষ্য- শান্তি পিৎজাই আগে ভালোবাসে, তার পর ভালোবাসে মিন্টুকে। আমার মনে হয় সে (শান্তি) সবসময় পিৎজার কথাই চিন্তা করে এমনকি ঘুমের মধ্যেও।

শান্তির এ পিৎজা পাগলামি দেখেই বন্ধুরা স্থির করে দুজনের বিয়েতে মজার কিছু একটা করার, যেটি তাদের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখবে।

সে ভাবনা থেকেই গত মাসে বিয়ের এক সপ্তাহ আগে চুক্তিপত্রটি তৈরি করা হয় এবং এতে তালিকার সবার ওপরে রাখা হয় পিৎজা, বিবিসিকে এমনটিই জানিয়েছেন বরকনের বন্ধু রাঘব ঠাকুর।

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজা এবং ফেন্সিডিলসহ আটক দুই

নেকবর হোসেন :

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে গাঁজা এবং ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শনিবার বিকালে জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার কলাবাগান বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৭ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল টিও জব্দ করা হয়।

পৃথক অন্য আরেকটি অভিযানে রবিবার ভোরে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়াবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী হলো চৌদ্দগ্রাম থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আবদুল গফুর এর ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (৩৮), একই থানার জম্মুড়া (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের আব্দুল বারিক এর ছেলে মোঃ মীর হোসেন(৩৫)। এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।কুমিল্লায় পৃথক দুইটি অভিযানে গাঁজা এবং ফেন্সিডিলসহ আটক দুই

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন- প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজা এবং ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে প্রবাসীকে পাগল সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু নামে এক প্রবাসীকে মানসিক রোগী সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী সৌদিআরব প্রবাসী ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু পৌরসভাধিন শ্রীপুর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৭ বছর আগে ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু মুন্সীরহাট ইউনিয়নের পেঁছাইমুড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে নার্গিস আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন ছুট্টু। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সৌদিআরব ও কুয়েতে ছিলেন। এ সময়ে সংসার খরচ ও ব্যাংকে জমা রাখার জন্য স্ত্রীর কাছে পর্যাপ্ত পরিমান রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা পেয়ে ছুট্টুর স্ত্রী নার্গিস আক্তার বেপরোয়া জীবন-যাপন শুরু করে।

লোক মাধ্যমে শোনা যায়, বিয়ের আগেও এমন বেপরোয়া চলাফেরায় অভ্যস্ত ছিলো সে। গত ১১ মাস আগে ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু প্রবাস থেকে আসার পর স্ত্রী নার্গিস আক্তার তার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। নার্গিস আক্তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বলে তার স্বামী ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টুকে বাড়িতে বিল্ডিং ঘর নির্মাণের জন্য নামিয়ে দেয়। একপর্যায়ে লোকজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন ছুট্টু। বর্তমানে ঘরের কাজ মোটামুটি শেষের দিকে। এদিকে সাংসারিক টানাপোড়নের একপর্যায়ে নার্গিস তার স্বামীকে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীদের নিকট প্রচার করতে থাকে। কখনো কখনো জোরপূর্বক ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দেয় এবং পাগল বলে ঘর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া নার্গিস তার স্বামীকে সন্তানদের সাথেও দেখা করতে দেয় না। গত শনিবার (২ জুলাই) দুপুরে ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টু বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়। এরপর গত ৪ জুলাই (সোমবার) ছালেহ আহাম্মদ ছুট্টুকে চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠের গরু বাজার থেকে স্ত্রী নার্গিস আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লোক জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে ইনজেকশন পুশ করে নাঙ্গলকোট বাজারস্থ জামান’স ক্লিনিকে ডা. এ এইচ এম মনজুরুল হকের তত্ত্বাবধানে মানসিক রোগী হিসেবে ভর্তি করায়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ছুট্টুকে দেখার জন্য গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) তার আত্মীয়-স্বজনরা ওই হাসপাতালে গেলে দায়িত্বে থাকা বশির উদ্দিন বলেন, স্ত্রী নার্গিস আক্তার আসলেই ছালেহ্ আহাম্মদ ছুট্টুকে দেখানো হবে। কিছুক্ষণ পর নার্গিস আক্তার ছোট ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে ছুট্টুকে স্বজনদের সাথে দেখা করতে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

উপস্থিত স্বজন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনে ছুট্টু নিজেকে শারীরিকভাবে সুস্থ দাবি করে বলেন, ‘তার স্ত্রী, খায়ের, মুন্না, আব্দুর রহমান, রুহুল আমিন সহ অজ্ঞাতনামা আরো লোকজন তাকে জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, স্ত্রীর নিকট প্রবাস থেকে পাঠানো টাকার হিসেব চাওয়ায় আমাকে জোরপূর্বক এখানে ভর্তি করানো হয়েছে’।

এ বিষয়ে স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফ হাসান বলেন, ‘ছালেহ আহাম্মদ ছুট্টুর পারিবারিক কলহ নিয়ে অনেকবার শালিস হয়েছে। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে উভয়ে ভালোভাবে চলবে বলে স্বীকারোক্তি দেয়, কিন্তু পরে তার উল্টে করে তারা’।

নাঙ্গলকোট বাজারস্থ জামান’স ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা বশির উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে তাকে সুস্থ্য মনে হয়েছে। কিন্তু স্ত্রী কর্তৃক ভর্তি করানোয় তাকে আমরা কয়েকদিন অবজারবেশনে রেখে চিকিৎসা করেছি। এখন সে আগের থেকেও ভালো আছে’।

তিতাসে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন আটক

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে আটক করেছে তিতাস থানা পুলিশ। ঘটনাটি শনিবার বেলা আনুমানিক পৌনে এগারোটার দিকে গৌরীপুর-হোমনা আঞ্চলিক সড়কের থানার রাস্তার মাথায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা আনুমানি পৌনে এগারোটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ দিয়ে মাদক নিয়ে যাচ্ছে খবর শুনে এস আই গিয়াস উদ্দিন, এস আই আব্দুল করিম, এস আই পোষণ সাহা, এস আই জিন্নাহ আলী, এ এস আই বোরহান উদ্দিন ও এ এস আই জামান বাতাকান্দির দিক থেকে আসা পিকআপটি গৌরীপুর যাওয়ার সময় থানা রাস্তার মাথায় থামিয়ে তল্লাশী চালিয়ে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ১জনকে আটক করে এবং মাদক বহনকারী পিকআপটি জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার হাসান পুর সরকার বাড়ীর মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে হাসানুজ্জামান (৪৯)।

তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, এবিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে রবিবার আসামিকে কুমিল্লা কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, তিতাসে মাদক, অস্ত্র, জুয়া চুরি, ডাকাতি,ছিনতাইসহ নানাহ অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

দেবিদ্বারে শান্ত হত্যা: ঘাতক সাজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মেহেদী হাসান শান্ত হত্যার প্রধান আসামি আজমুল ফুয়াদ সাজিবকে গ্রেফতার করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফতেহাবাদ ইউনিয়নবাসি।

রবিবার (১৭ জুলাই) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার নুরপুর স্কুলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিহত শান্ত’র মাসহ এলাকার বিভিন্ন স্তরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ও ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দামের পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, পবিত্র ঈদ উল আযহার (৯ জুলাই) আগের দিনে দুপুরে সন্ত্রাসী সাজিব সবার সামনে শান্তসহ ৫ জনকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় শান্ত নিহত হয়। পরে মূল ঘাতককে স্বাক্ষী বানিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দামকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এতে মূল ঘাতক সাজিবকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয। পরে আহতরা আদালতে সাজিবকে মূল আসামি করে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এখনো মূল ঘাতক সাজিব ধরাছোয়ার বাইরে। সে যে কোন সময় আমেরিকা চলে যেতে পারে। আমরা শান্ত’র হত্যার সঠিক বিচার চাই। টাকার কাছে প্রশাসনও কি জিম্মি? খুনি হয় স্বাক্ষী আর স্বাক্ষী  হয় আসামি। আমরা সঠিক বিচার চাই।

স্থানীয় সূত্র জানায় ওই দিন রাতে দেবিদ্বারের এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিহত শান্ত’র পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের রফাদফার মাধ্যমে ঘাতক সাজিবকে মামলায় দেখানো হয় ৫ নম্বর স্বাক্ষী হিসেবে। অপরদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত স্বাক্ষী ক্যান্সার আক্রান্ত সাদ্দাম হোসেনকে ২ নম্বর আসামি বানিয়ে মামলা করা হয়।

নিহত মেহেদী হাসান শান্ত ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের সরকার বাড়ির জাকির হোসেনের ছেলে।
আহতরা হলেন নুরপুর গ্রামের মো: আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাসেল মিয়া ও ছিকাব আলম। তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, ঘাতক সাজিব ও নিহত শান্ত একই বাড়ির ছিল। ঘটনার সময় সাজিবকে থামানোর চেষ্টা করলে সাজিবের ছুরিকাঘাতে শান্ত নিহত হয়। অঢেল সম্পদ ও টাকার মালিক হওয়ায় সাজিবের পক্ষে স্থানীয় একাধিক গ্রুপ অবস্থান নেয়। হত্যাকান্ডের পর সন্ধ্যায় শান্ত’র পিতা ও মামাকে এক চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত গোপনে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে ( অনেকের মতে কোটি টাকার উপরে) হুমকি দিয়ে রফাদফা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ঘাতককে স্বাক্ষী বানানোর। আর ইউপি নির্বাচনের পূর্ব দ্বন্দ্বের ফলে সাদ্দাম হোসেনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। পরে থানায় গিয়ে মামলা করা হয় ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো: আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাসেল মিয়া ও ছিকাব আলম জানান, সাজিবের হাতে ছুরি ছিল। সে একাই আমাদের সবাইকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করেছে। শান্ত তার ছুরিকাঘাতেই মারা গেছে। ২ নং আসামি সাদ্দাম এ ঘটনায় জড়িত নয়। সবাই দেখছে সাজিব ছুরিকাঘাত করছে। মামলার এক নম্বর আসামি আলামিনের সাথে সাজিবের কথা কাটাকাটি হলে সাজিব সবাইকে ছুরিকাঘাত করে । এখানে আলামিনকেও অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের বড় দুই ভাই জহিরুল ইসলাম ও জাহিদ হাসান জানান, আমার ছোট ভাই সাদ্দাম হোসেন ২ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ১১ বার কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে আবার কেমোথেরাপি দেয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। সে ঘটনার সময় দাড়িয়ে ঘটনাটা দেখছে এবং হত্যার ঘটনার স্বাক্ষী দিতে চেয়েছিল। পুলিশ তাকে স্বাক্ষী হিসেবে ডেকে নিয়ে ২ নম্বর আসামি করে ঈদের দিন জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। এটাই কি বিচার ? সে তো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করতে চেয়েছিল। অথচ তাকেই আসামি করা হল।

জাহিদ হাসান আরো বলেন, বিগত কয়েক মাস আগে আমি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। এর ফলে বিপক্ষ প্রার্থীরা অসন্তোষ হয়েছিল। গতকালের হত্যাকান্ডে তারা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মূল ঘাতককে আসামি না করে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত ভাইকে আসামি করলো। এখানে কোটি টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

কুমিল্লায় যাত্রীদের পকেট কাটছে বাস মালিকরা ‘‘টিকিটে লেখা ১৮০, নিচ্ছেন ২৩০ টাকা’’

নেকবর হোসেন :

সরকারি অফিস আদালতসহ সকল প্রতিষ্ঠান খুলছে। কর্মব্যস্ত মানুষ ফিরছেন তাই যাত্রীর চাপ বেড়েছে কুমিল্লা টু-ঢাকা রুটের সকল বাস সার্ভিসেই। যাত্রীর এই চাপের সুযোগ নিচ্ছেন বাস মালিকরা। ১৮০ টাকার ভাড়া ২৩০ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই টাকা কায়দা করে সাংকেতিক সংখ্যা ব্যবহার করে আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রীদের টিকিট দেখে ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুইটি আসনের টিকিটের জন্য যদি কেউ ৫০০ টাকার নোট দেন তাহলে টিকিটে লেখা থাকে ৪০। দুইটি টিকিটের দাম ২৩০ করে ৪৬০ টাকা। ৪০ দিয়ে বুঝানো হয় সেটা গাড়িতে দেয়া হবে।

আরেকটি টিকিটে দেখা যায়, ০ কম দিয়ে হাতের লেখায় শুধু ২৩ লেখা। অর্থ্যাৎ ২৩০ টাকা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করা হয় শুধু প্রশাসনের দৃষ্টি এড়াতে।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা ঘুরে দেখা দেখে, কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাস তিশা প্লাসের কাউন্টারের লম্বা লাইন। লাইনে প্রায় ৩০ জনের বেশি যাত্রী দাঁডানো। যদিও টিকিট নেওয়াতে কোন অন্য উপায় মালিকরা নিচ্ছেন না কিন্তু টিকিটের দাম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। টিকিটে লেখা ভাড়া ১৮০ টাকা। কিন্তু তিশা প্লাস কর্তৃপক্ষ নিচ্ছেন ২৩০ টাকা। যা স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। এছাড়াও শাসনগাছা, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়াসহ প্রায় সকল বাস স্টান্ডেই যাত্রীর চাপ থাকলেই বেশি ভাড়া নেয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কুমিল্লা থেকে ঢাকা ছাড়া অন্য কোন রুটের কাউন্টারে তেমন যাত্রী দেখা যায়নি।

চাঁদপুর থেকে বাসের টিকিট না পেয়ে ঢাকা যেতে বোগদাদ সার্ভিসের বাসে করে কুমিল্লার বিশ্বরোড আসেন মতিঝিল এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, চাঁদপুর থেকে এসে আধাঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়েছি। টিকিটের গায়ে লেখা ভাড়া ১৮০ টাকা। কিন্তু তারা ভাড়া নিচ্ছেন ২৩০ টাকা করে। এটাতো নিয়ম হতে পারেনা।

পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে লালমাইয়ের আবদুল জলিল ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছেন। তার কাছ থেকে ৯২০ টাকা রাখা হলে তিনি এত বেশি ভাড়া রাখার কারণ জিজ্ঞেস করেন। এসময় কাউন্টারে থাকা ম্যানেজার বলেছেন, ঈদের ভাড়া বেশি হয়, যাইলে যাবেন না যাইলে নাই।

ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ঈদের আগেও গেলাম ১৮০ টাকা দিয়ে। এখন মানুষ নিরুপায় ২৩০ বললেও যেতে হবেই। কারণ প্রায় সবাই কর্মজীবী।

অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিশা প্লাস কাউন্টার কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড শাখার ডিরেক্টর বিমল চন্দ দে বলেন, আমরা যখন ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাই তখন আমাদের গাড়ি খালি থাকে। তাই যদি আমরা আগের ভাড়াতেই নেই আমাদের লোকসান গুনতে হবে। যেকারণে আমরা ভাড়া ২৩০ টাকা নিচ্ছি। তাছাড়া এটা আমরা নিয়ম মেনেই নিচ্ছি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, আমরা নজর রাখছি। এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ শতাংশ প্রদান করা হবে।

মা-মেয়েকে বিবস্ত্র করে মারধর

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঝালকাঠির নলছিটিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা এবং মেয়েকে বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুঃসম্পর্কের আত্মীয় বাবুল খানের বিরুদ্ধে।

গত ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যান নির্যাতিতা ৩৫ বছর বয়সী মা এবং ২১ বছর বয়সী মেয়ে। লজ্জার কারণে বিষয়টি তারা গোপন রেখেছিলেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন শুক্রবার বিকেলে নির্যাতিতা মেয়ের স্বামী রিপন হাওলাদার স্ত্রী ও শাশুড়ির ওপর নির্যাতনকারীদের বিচার চেয়ে নলছিটি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নির্যাতিতা নারী বলেন, ঘটনার দিন বাবুল খান তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমার ঘরে এসে প্রথমে আমার মেয়েকে মারধর করে গায়ের জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে। তখন বাবুলের সঙ্গে তার ছেলে আল-আমিন খান, মেয়ে নিশি বেগম, শারমিন, স্ত্রী আয়েশা বেগমসহ আরও কয়েকজন ছিল। আমি মেয়েকে বাঁচাতে এলে তারা আমাকেও মারধর করতে থাকে এবং শরীরের কাপড় খুলে মেয়ের সামনে আমাকেও বিবস্ত্র করে ফেলে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, বিবস্ত্র অবস্থায় তিনি দৌঁড়ে গিয়ে গায়ে একটি চাদর পেঁচিয়ে পাশের ঘরে থাকা মেয়ে জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। কিন্তু বাবুল সেখানে গিয়ে মেয়ে জামাইকেও ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, আমরা নির্যাতন সইতে না পেরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে বাবুলরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে আমাদের থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে বলে। আমরা থানায় অভিযোগপত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে রাতে বাড়ি আসি।

এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্যরা ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ-মীমাংসার আয়োজন করলে ভুক্তভোগীরা সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করলেও অভিযুক্ত কেউ যাননি।

মা এবং মেয়েকে মারধরের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত বাবুল খান বলেন, উভয় পক্ষের হাতাহাতির সময় তাদের গায়ের কাপড় খুলে গেছে। আমি টেনে খুলিনি।

এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি আতাউর রহমান শনিবার দুপুরে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যৌতুকের জন্য অত্যাচার: অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের বিরবিরি গ্রামের ৬নং ওয়াড়ে স্বামীর অত্যাচারে গৃহবধুর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজলীর পরিবার বলছে,যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় তারা আমাদের মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

জানা গেছে,দুই বছর আগে জাহাজমারা ইউনিয়নের পুর্ব বিরবিরি গ্রামের ৬নং ওয়াড়ের সোহরাবের ছেলে মো.মামুনের (২২) সঙ্গে উত্তর বিরবিরি গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে বিজলী আক্তারের(২০) বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে মামুন তার স্ত্রী বিজলি আক্তারকে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। বিজলী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়, তার পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায়। তার উপর অত্যাচার বেড়ে যায়। পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘরে কেউ না থাকায় শনিবার বেলা ১২ টার সময় রান্নাঘরে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেছিয়ে বিজলি আক্তার আত্নহত্যা করছে বলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিরাজ উদ্দিন জানান। তবে বিজলীর পরিবার বলছে যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় তারা আমাদের মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,প্রাথমিকভাবে মেয়েটি আত্নহত্যা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে । এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।