All posts by jitu

কুসিক নির্বাচন: নৌকার মনোনয়ন ঘিরে নানা সমীকরণ

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র মনিরুল হক সাক্কু নির্বাচন করবেন তা নিশ্চিত। সেই সাথে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে আ’লীগের মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে নানা সমীকরণ চলছে। কে পেতে পারে দলীয় মনোনয়ন-এ বিষয়ে বেশ সরগরম কুমিল্লার রাজনীতি। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত-বর্তমানের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে। আওয়ামীলীগ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিবেন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে।

কুমিল্লা আ’লীগের রাজনীতিতে দুটি গ্রুপ বিদ্যমান। এক গ্রুপ হল প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আফজল খানের পরিবারের দুই সন্তান এমপি আনজুম সুলতানা সীমা এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। অপর গ্রুপটি সদর সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের। এই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে রয়েছে প্রায় ১৪ বছর ধরে। বিগত দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আফজল খান ও আনজুম সুলতানা সীমা যথাক্রমে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দলীয় অর্ন্তকোন্দলের ফলে দুইজনের পরাজয় হয়। টানা ২ বার মেয়র নির্বাচিত হন মনিরুল হক সাক্কু। মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর সাথে সদর সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সু-সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আ’লীগের মনোনয়ন যে গ্রুপেরই পাবে, বিজয়ী হওয়ার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকবে। যদি দলীয় অর্ন্তকোন্দল নিরসন না হয় তাহলে তৃতীয়বারের মত পরাজয় বরণ করতে হবে আ’লীগকে। এবার আ’লীগের মনোনয়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যত রাজনীতির নানা সমীকরণের উপর। আজকের কুমিল্লার পাঠকদের জন্য কিছু সমীকরণ তুলে ধরা হল:

আনজুম সুলতানা সীমা:
আনজুম সুলতানা সীমা এখন সংরক্ষিত সাংসদ। পারিবারিক সূত্রমতে, এমপি সীমা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি নয়, তাঁর পরিবারের সমর্থণ ইমরান খানের প্রতি। তারপরও যদি সীমা দলীয় মনোনয়ন পান, তাহলে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। ফলে অনেকটা চাপ নিয়ে সীমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। সীমা মনোনয়ন পেলে আ’লীগের অপর গ্রুপ বিরোধীতা করবে – তৃণমূলের বিভিন্ন সূত্র এটাই দাবি করে। যদি সীমা পরাজিত হয়, তাহলে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হুমকিতে পড়বে। এছাড়া আফজল খান গ্রুপও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরদিকে আরো শক্তিশালী হবে এমপি বাহার গ্রুপ। আর সীমা যদি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে কুমিল্লার রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণ হবে। শক্তিশালী হয়ে উঠবে আফজল খান গ্রুপ। আ’লীগের দুগ্রুপের রাজনীতিতে সেয়ানে সেয়ানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

মাসুদ পারভেজ খান ইমরান:
মাসুদ পারভেজ খান ইমরান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক । ইমরান খান দলীয় মনোনয়ন পেলে আ’লীগের অপর গ্রুপ যেমন বিরোধীতা করবে, তবে তাঁর বোন এমপির সীমার সহযোগিতাও পাবে। তবে ইমরান খান যদি পরাজিত হয়, তারপরও তার পরিবারের রাজনীতি টিকে থাকবে। কারণ সীমা এমপি হিসেবে থাকবে। অন্তত রাজনীতিতে টিকে থাকবে আফজল খানের পরিবার। আর যদি ইমরান খান দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে কুমিল্লার রাজনীতিতে অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে আফজল খান গ্রুপ।

আরফানুল হক রিফাত:
আরফানুল হক রিফাত কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থারও সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এমপি বাহারের অন্যতম স্নেহভাজন সহযোদ্ধা। গতবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। এবারও এমপি বাহার গ্রুপ থেকে একক মনোনয়ন প্রত্যাশি। রিফাত দলীয় মনোনয়ন পেলে আ’লীগের অপর গ্রুপের সমর্থন পাবে না-এটা অনেকেই মনে করেন। তবে তিনি যদি মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে কুমিল্লার রাজনীতিতে এমপি বাহার আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে । অন্যান্য গ্রুপের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে। এমনিতেই কুমিল্লা সদরের বর্তমান রাজনীতিতে এমপি বাহার এক শক্তিশালী নাম।

নুর উর রহমান মাহমুদ তানিম:
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক । কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি। এক সময় এমপি বাহারের খুব আপনজন ছিলেন। এমপি বাহার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের মধ্যে সর্ম্পকের অবনতি হয়ে আলাদা হয়ে যান তানিম। বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে তানিম নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল শোডাউন করেন। আবার আফজল খান গ্রুপের সাথেও তানিমকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। তানিম প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। এবার তানিম যদি দলীয় মনোনয়ন পান তাহলে মহানগর আ’লীগের একটি অংশ তাঁর বিরোধীতা করবে। যদি তানিম বিজয়ী হন তাহলে কুমিল্লার আ’লীগের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির আর্বিভাব ঘটবে। আর তানিম মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হলে রাজনৈতিকভাবে ক্যারিয়ার হুমকিতে পড়বে।

কবিরুল ইসলাম শিকদার:
বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি । কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগেরও পদ বহন করছেন। কবির শিকদারের সাথেও এমপি বাহার গ্রুপের সর্ম্পক ভাল নয়। ভাল সম্পর্ক রয়েছে আফজল খান গ্রুপের সাথে, তবে সর্বশেষ আফজল খান ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিলে কবির শিকদারকে দেখা যায়নি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে কবির শিকদার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল শোডাউন করেন। কবির শিকদার যদি দলীয় মনোনয়ন পান তাহলে মহানগর আ’লীগের একটি অংশ তাঁর বিরোধীতা করবে। যদি কবির শিকদার বিজয়ী হন তাহলে কুমিল্লার আ’লীগের রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণ হবে। বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও কবির সিকদার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন।

আনিছুর রহমান মিঠু:
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আ’লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক । মিঠু প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তিনি প্রথম আফজল খান গ্রুপের রাজনীতি করতেন। পরে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের বিরোধীতা করে এই গ্রুপ থেকে সরে এমপি বাহার গ্রুপের রাজনীতিতে জড়িত হন আনিছুর রহমান মিঠু। কয়েক মাস আগে এমপি বাহার গ্রুপ থেকে আবার সরে গেছেন মিঠু। সম্প্রতি আফজল খান ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হন আনিছুর রহমান মিঠু। স্থানীয় সূত্র বলছে- এমপি সীমার সাথেই রাজনীতি করবেন আনিছুর রহমান মিঠু। মিঠু যদি দলীয় মনোনয়ন পান তাহলে মহানগর আ’লীগের এমপি বাহার গ্রুপ তাঁর বিরোধীতা করবে- এটা অনেকেই মনে করছেন। মিঠু যদি মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে তিনি কোন গ্রুপে থাকবেন নাকি নিজেই নতুন শক্তিতে আর্বিভূত হন তা সময়েই বলে দিবে।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ:
কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান । যদিও তিনি কখনো মুখে বলেননি নির্বাচনের কথা। তবে তাঁর অনুসারি অনেকেই বলেছিলেন- এমপি বাহারের সমর্থন থাকলে জিএস সহিদ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে এমপি বাহারের গ্রুপ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে রিফাতের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ফলে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার সুযোগ তেমন নেই জিএস সহিদের। তবে তিনি বিগত ৩ বছর ধরে মহানগরের ২৭ ওয়ার্ডজুড়ে কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারিতে জিএস সহিদের ইতিবাচক কর্মকান্ড সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি যদি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন, তাহলে এমপি বাহারের গ্রুপের শক্তি অনেকগুণ বেড়ে যাবে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পরে পরপর দুইবার আ’লীগ দলীয় প্রার্থী এড.আফজল খান ও আনজুম সুলতানা সীমা বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর কাছে পরাজিত হয়। আ’লীগের দুইবারের পরাজয়ের পেছনে দলীয় অর্ন্তকোন্দলই বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে নেতৃমূল নেতারা মনে করেন। এবারো কি বিএনপি নগর পিতার আসন ধরে রাখবে নাকি প্রথম বারের মত আ’লীগ নগর পিতার আসনে বসবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো এক মাস।

কুমিল্লা নগরীর সুজানগরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডের  সুজানগরে আ’লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ৫ জন আহত হয়েছে। পাভেল নামের একজন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সুজানগর এলাকায় কাউন্সিলর বাবুল মুহুরীর লোকজনের সাথে ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী আমীরের লোকজনের সংঘর্ষ হয়।

জানা যায়, কাউন্সিলর বাবুল মুহুরী একটি খেলার উদ্বোধন করে যাওয়ার পথে অপর দিক থেকে আসা হাজী আমীরের লোকজনের  সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এরপরেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

উল্লেখ্য যে, কাউন্সিলর বাবুল মুহুরী সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আনজুম সুলতানা সীমা গ্রুপ ও হাজী আমীর সদর সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সমর্থিত গ্রুপের রাজনীতিতে সক্রিয়।

কুমিল্লার পালপাড়া ব্রিজ এলাকায় ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শুভ (২০) নামে এক এক যুবক নিহত হয়েছে ।

নিহত শুভ আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওরা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, নিহত শুভ বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির অদুরে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ পালপাড়া ব্রীজ এলাকায় ঘুরতে যায়। সন্ধার পরপর কয়েকজন যুবক তার উপর হামলা চালায়। এসময় তার বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।

নোয়াখালীতে দিঘীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে কর কমিশনারের মৃত্যু

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর চাটখিলে দিঘিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক উপ-কর কমিশনারের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের নাম ওমর ফারুক মাসুম ( ৩৫ ) সে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কাশেম আলী মিছাব বাড়ির মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে এবং ঢাকার উপ-কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

বুধবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকা দিঘিতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওমর ফারুক মাসুম তিনি ৩১ তম বিসিএস এ যোগদানের পর ঢাকার উপ-কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার দুপুরের দিকে ওমর ফারুক মাসুম ৬ জন বন্ধু এবং সহকর্মিসহ মল্লিকা দিঘিতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কেটে দিঘীর মাঝখানে যান। ৬ জন বন্ধু এবং সহকর্মী ফিরে আসতে পারলেও, তিনি দিঘির মাঝখান থেকে সাঁতরিয়ে দিঘির ঘাটে ফিরে আসতে পারেননি। খবর পেয়ে, খিলপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ইকবাল হোসেন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে, স্থানীয়দের সহায়তায় মাসুমের সন্ধানে দিঘিতে তল্লাশি অভিযান চালায়। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নিহত উপ-কর কমিশনারের মরদেহ উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েক ঘন্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দিঘি থেকে উপ-কর কমিশনারের মরদেহ উদ্ধার করে।

তিতাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাতে এঘটনার পর হকিস্টিক, লোহার পাইপসহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। বিবদমান দ্বন্দ্বের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

মানিককান্দি গ্রামের বর্তমান মেম্বার হাজি আব্দুর রব মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল হামলার পর থেকে আমরা ৪/৫টি পরিবার এলাকা ছাড়া। দুলারামপুর বাজারে ঈদেরদিন সন্ধ্যায় সাবেক চেয়ারম্যান আবু মোল্লার লোকজনের সাথে বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল মিয়ার লোকজনের কথা কাটাকাটি ও হাতাতির ঘটনা হয়েছে বলে শুনেছি। এরপর রাতে চেয়ারম্যানের লোক সাইফুল মেম্বারের লোকজন এসে আমাদের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট করে। আমাদের গ্রামের সেকান্দর মাষ্টার ও হাসন মিয়ার ঘরসহ আমাদের বাড়ী ঘর ভাংচুরসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ইউপি নির্বাচনের রেশ ধরেই বিভিন্ন সময় আমার লোকজনকে হুমকি ধমকি চলছে। গতকাল আমার অফিসের সামনে শুধু শুধু একটা ছেলেকে গালাগালি কওে পওে হাতাহাতি হয়। এরপরই রাতে আমার লোকজনের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট চালায় সাইফুল মেম্বারের লোকজন। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

সাবেক মেম্বার সাইফুল মিয়া অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, হামলা লুটপাটের ঘটনা সাজানো, মামলায় জয়ী হওয়ার জন্য এগুলো নিজেরাই করেছে। আর আমার বাড়ীর সিসি ক্যামেরা টিভি ও ঘরের জানালাও ভাংচুর করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে প্রায়ই স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনায় হামলা পাল্টা হামলা, ভাঙচুর লুটপাটসহ হত্যার ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিক যুক্ত হয়েছে ঈদের দিন মঙ্গলবারের ঘটনাটি। রমজান মাসের সংযম থেকেও আমাদের কোনো শিক্ষা হয়নি। বছরের এ দিনটিতে আনন্দ উৎসবের স্থলে সংঘাতে লিপ্ত। সংকটময় এ পরিস্থিতির সত্যিই কোনো অবসান করতে চাইলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছা ব্যতীত বিকল্প পথ নেই।
ভিটিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছে যে সাইফুল মেম্বারের লোকজনদের দেখছে। সাইফুল মেম্বার আমার নির্বাচন করছে বলেই শুধু সে আমার লোকনা, ইউনিয়নের সবাই আমার লোক। বিষয়টি নিয়ে এমপি মহোদয়ের( স্থানীয় সাংসদ সেলিমা আহম্মাদ মেরী) সাথে কথা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আর কোন পরিবার এলাকা ছাড়া রয়েছে কিনা বিষয়টি খবর নিচ্ছি।

তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা । ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হকিস্টিক, লোহার পাইপসহ দেশীয় লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে রাত থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাইনি। এঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।

৩৩ মাস পর কোম্পানীগঞ্জে আসছে ওবায়দুল কাদের, দু’গ্রুপে উত্তেজনা চরমে

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
৩৩ মাস পর নিজ নির্বচানী এলাকায় আসছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাঁর আগমণকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অসুস্থতা ও করোনা সংক্রমণের কারণে গত ৩৩ মাস তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট উপজেলা) আসতে পারেনি। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপন করতে বাড়িতে আসেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের বড় রাজাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাঁরই ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা।

অপরদিকে দুপুর ৩টার দিকে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে উপজেলা ডাক বাংলোয় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে সেতুমন্ত্রীর। এছাড়াও কবিরহাট উপজেলার ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের সাথেও তিনি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের বিবদমান দুটি গ্রুপই মন্ত্রীকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এ উপলক্ষে নেই আগের মত সাজসাজ রব। গত দেড় বছরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গেছে। তবে তাঁর এ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক সচেতন মহল। তবে দেখার বিষয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিবর্ণ রাজনীতিতে এবার কি হবে?

কাদের মির্জা ঘোষিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল বলেন,কয়েক বছর পর নেতার কোম্পানীগঞ্জে আগমণকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মিদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে।

সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ফখরুল ইসলাম রাহাত বলেন, কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমানে নানা রকম প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা ভালোমতো অনুভূত হচ্ছে। মন্ত্রীর আগমণে নেতাকর্মিদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আশা করছে কোম্পানীগঞ্জের যে রাজনৈতিক সমস্যা, তা সমাধান হবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম বলেন, সেতুমন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে বাড়ির সামনে গার্ড অব অনার মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। পুলিশ মঞ্চস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক বছর নানা ঘটনায় সমালোচনায় পড়তে হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকে। আলোচনার সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে সংগঠনের ভেতর থেকেই। বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে বার বার খারাপ সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। সংগঠন পড়েছে নাজুক অবস্থায়। স্থানীয় রাজনীতিতে তার বিরোধী অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। তাঁর মূলত খুঁটি হচ্ছে কাদের মির্জার আপন তিন ভাগনে। বাদল ও ভাগনেদের বিরুদ্ধেও কাদের মির্জা মোটা দাগে নানা অভিযোগ তুলেন। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের এ দ্বন্দ্ব সংঘাতে কাদের মির্জার প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তারই আপন তিন ভাগনে। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, ফখরুল ইসলাম রাহাত ও সিরাজিস সালেকিন রিমন। তিন ভাগনে কাদের মির্জার ৪৮ বছরের রাজনীতির ক্যারিয়ারকে টেক্কা দিয়ে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেয় তার প্রতিপক্ষ গ্রুপকে। এক পর্যায়ে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ শিবিরের আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায় তারা।

উল্লেখ্য,বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এর আগে নির্বাচনী ব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং নোয়াখালী অঞ্চলের আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-অসংগতি নিয়ে বক্তব্য দেয় প্রায় এক বছর।

নির্বাচনের আগে প্রচারণায় আবদুল কাদের মির্জার যে বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তিনি তাতে বলেছিলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিন-চারটি আসন বাদে তাদের অন্য এমপিরা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও তিনি অনেক খোলামেলা বক্তব্য দেন দীর্ঘ সময়। কাদের মির্জার বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।

আব্দুল কাদের মির্জার সমর্থক এবং তার বিরোধী গ্রুপ মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বাধীন অংশের মধ্যে সংঘর্ষের পর দু’পক্ষই ঘটনার জন্য একে অপরকে ধুষেন।

মূলত কাদের মির্জার পারিবারিক ভুল বুঝাবুঝি সূত্র ধরে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেই এই বিরোধের ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতে এ অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছড়িয়ে যায়। সেই বিরোধের জের ধরে গত কয়েকমাসে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে একজন সাংবাদিকসহ দুই জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় এক হাজার নেতাকর্মি। পাল্টাপাল্টি ৭২টি মামলা হয়। এতে আসামি হয় উভয় পক্ষের প্রায় সাত হাজার তৃণমূলের নেতাকর্মি। এখনো বাড়ি ছাড়া রয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মি। ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে অনেকে বাড়ি আসতে পারেনি। তৃণমূলের কর্মিরা আশা করছে এ কোন্দল নিরসন হলে তারা আগের মতো চলাফেরা করতে পারেব।

দাউদকান্দিতে চিকিৎসক সংকটে তৃণমূল পর্যায়ে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা

 

দাউদকান্দি প্রতিনিধি :
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তৃণমূল পর্যায়ে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থা বেহাল। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে থাকতে চান না অনেকেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে তো দেখাই মেলে না চিকিৎসকদের। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো পদায়ন থাকলেও চিকিৎসক নেই কোন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বহিঃবিভাগে নেই কোন চিকিৎসক। স্যাকমো দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। সব মিলিয়ে চিকিৎসা সেবার হযবরল অবস্থা এখানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলো পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে তদারকি করা হয়। মূলত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থেকে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার থাকলেও একবছর যাবৎ এদের কাউকে কর্মস্থলে দেখেনি বলে এলাকার লোকজন জানান। পদায়ন দাউদকান্দি হলেও প্রেষনে ঢাকা এবং কুমিল্লায় চলে গেছেন মেডিকেল অফিসাররা । এর মধ্যে স্বপাড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ বিথী আজিজ ও ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ ফাহমিদা ইস্কান্দার তুরিন একবছর যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অসিার, জুনিঃ কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিঃ কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া), জুনিঃ কনসালটেন্ট(শিশু), দোনারচর ২০ বেড হাসপাতলের জুনিঃ কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিঃ কনসালটেন্ট (সার্জারী) শুন্য থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না এলাকার সাধারণ রোগীরা। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ সংকটও রয়েছে।

সরেজমিনে গেলে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, আমাদের ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে বেশির ভাগ সময়ই চিকিৎসক থাকেন না। আর প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে, তাই বাধ্য হয়েই গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে পদায়নকৃত মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইমাম মেহেদি হাসান খান একবছর যাবৎ প্রেষনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে সংযুক্ত আছেন। তিনি বলেন, আমাদের ইচ্ছা গ্রামের মানুষদের সঠিক চিকিৎসা সেবা দেয়া, কিন্তু সরকারী চাকরী করি তাই সরকার যখন যেখানে পাঠাবে সেখানেই যেতে হবে। এর বেশি কিছু বলবো না।
সুন্দলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের সহকারী সার্জন কুমিল্লা সদর উপজেলা বাসিন্দা ডাঃ অভিষেক দেবনাথ তিন মাস আগে এখানে যোগদান করার পরপরই প্রেষনে সংযুক্তি নিয়ে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চলে যান।

দোনারচর ২০ বেড হাসপাতালে দেখা যায়, এক বছর আগে ডাঃ ফাবলিনা নওশিন নামে একজন মেডিকেল অফিসার এখানে পদায়ন হলেও এলাকার কোন লোজন তাকে দেখেননি বলে জানান। কথা হয় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সিনথিয়া তাসনিম এর সাথে। তিনি বলেন, অল্প কয়েকদিন আমি এখানে যোগদান করেছি। এর মধ্যে এখানে সমস্যার শেষ নেই। মানুষের অতি প্রয়োজনীয় পানি বিদ্যুৎ না থাকায় এখানে কেউ থাকতে চায় না। আমি প্রতিদিন বাসা থেকে চার্জার ফ্যান নিয়ে আসি। শুনেছি মেডিকেল অফিসার ফাবলীনা নওশীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে ডিউটি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ওএসডি হওয়া দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শাহীনুর আলম সুমন থাকাকালিন সময়ে ১৫টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জনগন প্রেষনে জেলা সদর ও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতলে চলে যান। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে গ্রাম চিকিৎসকদের সাথে শাহীনুর আলম সুমন মাসোহারা চুক্তি করেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানাযায়। দাউদকান্দি সদর, গৌরীপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, শহিদনগর, সুন্দুলপুর এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসকদের সংগঠন করান তিনি। সংগঠনের সভাপতি গৌরীপুরের মহসিন এবং সাধারণ সম্পাদক দাউদকান্দি সদরের সুমন সাহার মাধ্যমে মাসোহারা কালেকশন করা হতো। গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছ থেকে শাহীনুল আলম সুমনের মাসোহারা গ্রহনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাকে ওএসডি করেন। গ্রাম্য চিকিৎসক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোন কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
ওএসডি হওয়া শাহীনুর আলমের স্থলে নতুন দায়িত্ব নেন ২৫তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার না থাকার বিষয়টি নজরে এসেছে, এবিষয়ে শীগ্রই উর্ধŸতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবো। আর গ্রাম চিকিৎসকদের সাথে পূর্বের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি শুনেছি, এটি মোটেই কাম্য নয়। গ্রাম্য চিকিৎসকরা কোন ভাবেই গ্রাজুয়েট চিকিৎকদের সমতুল্য বা প্রতিযোগী হতে পারে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন হয়। কিন্ত কোন কোন ক্ষেত্রে গ্রাম্য চিকিৎসকদের দৌরাত্ম এমন জায়গায় পৌছে যে কোন একটা পর্যায়ে ওরা প্রফেশনাল হিসেবে ধরেনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম খান বলেন, পূর্বে কি হয়েছে সেটা ডিপার্টমেন্ট দেখবে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়ার ব্যাপারে ই