All posts by jitu

দেবিদ্বারে পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ গৃহবধুর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে যৌতুকের দাবিতে সাদিয়া আক্তার নামের  এক গৃহবধুকে নির্যাতন’ করে পেট্রোল ঢেলে ‘পুড়িয়ে অগ্নিদগ্ধ করার ৮ দিন পর আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামে স্ত্রী সাদিয়ার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠে স্বামীর বিরুদ্ধে।

স্বামী আসাদ সরকার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে ।

অগ্নিদগ্ধ মোসাঃ সাদিয়া আক্তার ঢাকা শেখ হাসিনা হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সাদিয়া একই উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মোঃ অপুল সরকারের মেয়ে।

কাউন্সিলর জাবেদের উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীতে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদের উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার দুঃস্থ ও গরীব অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশি আরফানুল হক রিফাত এই ঈদ সামগ্রী বিতরণের  উদ্বোধন করেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদের উদ্যোগে কাঠেরফুল, রেইসকোর্স  এলাকায় প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরেও গরিব, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে সেমাই, চিনি, দুধ, নুডলস, তৈলসহ প্রায় ৮ রকমের ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রোহিঙ্গার ! হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

 

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের ভেতর রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাশ-কুসুম পরিকল্পনা করছে ভয়ংকর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রথমে সে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দাবি করে আন্দোলন শুরু করবে। পরে সেই আন্দোলন থেকে ‘স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার ডাক দেওয়া হবে।

তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এমনি ভয়ংকর তথ্য এসেছে রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকেই। যাচাইয়ে নেমে এর সত্যতাও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সূত্র বলছে, স্বপ্ন পূরণে নবী হোসেন এখানে অস্ত্রধারী শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করছে। মজুত করছে বিপুল অস্ত্র। মজুত বাড়াতে সম্প্রতি হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিশাল অস্ত্রের চালান আনার প্রক্রিয়া শেষ করেছে সে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীই নবী হোসেনের হাতে অস্ত্রের ওই চালান তুলে দিতে চায়। তার মাধ্যমে বাংলাদেশে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

আর এ কারণে নবীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা। তাকে ধরিয়ে দিতে সম্প্রতি পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মালিক এই নবী হোসেন। মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে এত অর্থের মালিক বনেছে সে। তার রয়েছে বেতনভুক্ত সশস্ত্র বাহিনী। রয়েছে রোহিঙ্গা ভাষায় বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির বলেন, নবী হোসেন দেশের জন্য হুমকি। তাকে ধরতে ৩৪ বিজিবির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আরেক ত্রাস মাস্টার মুন্না। সে নবী হোসেন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। দেশে ৫০ ভাগের বেশি মাদক তাদের হাত ধরে ঢুকছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গেও নবী হোসেনদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

তদন্তে নেমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের অস্ত্রের কালোবাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক ও ভারী অস্ত্র কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাস নবী হোসেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অস্ত্রের চালান আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে অস্ত্র চালানের প্রবেশ ঠেকাতে সংস্থাটি তৎপরতা বাড়িয়েছে।

ওই গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা  বলেন, নবী হোসেন অস্ত্রের চালান বাবদ ইতোমধ্যে এক হাজার কোটি টাকা কালোবাজারি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে দিয়েছে। তবে এখনো অস্ত্র আনতে পারেনি। মানব পাচার ও মাদকের জন্য পরিচিত মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মোই নদী-মায়ে সোট এবং বার্মিজ শহর মায়াওয়াদ্দি হয়ে এ চালানটি আনার চেষ্টা করছে তারা। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা সরকার জড়িত না থাকলে এটি কখনো সম্ভব নয়।

নবী হোসেন অস্ত্র কেনার জন্য এত বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় পেল জানতে চাইলে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দেশে বেশিরভাগ মাদকের চালান ঢুকছে নবী হোসেনের হাত ধরে। ইয়াবার পাশাপাশি ভয়ংকর মাদক আইসের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে। এ ছাড়া আরও নানা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে সে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দিনদুপুরে ডাকাতি, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে ২০১৮ সালে প্রথম আলোচনায় আসে নবী হোসেন। সে রোহিঙ্গাদের কাছে ‘মাস্টার নবী হোসেন’ বলেও পরিচিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নবী হোসেন বাহিনীর হাতে ৫ শতাধিক অস্ত্র ছিল। এখন তা বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। দেশীয় অস্ত্রগুলো পাহাড়ি এলাকায় নিজস্ব কারখানায় বানানো হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও অস্ত্র এসেছে।

রোহিঙ্গাদের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে নবী হোসেনের অধীনে সহস্রাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছে। তাদের ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ করে পর্যায়ক্রমে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এসব সদস্যদের প্রত্যেককে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দেয় নবী হোসেন। এ ছাড়া নিয়মিত মাদক চালানের কমিশনও পায় বাহিনীর সদস্যরা।

জনপ্রিয় রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর আরাকানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার বিরুদ্ধে ক্যাম্পে জনমত গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি তাদের প্রতিরোধ করছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ে। এই সুযোগে ক্যাম্পে শক্তি বৃদ্ধি করে নবী হোসেন বাহিনী। রোহিঙ্গা ভাষায় বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল চালু করে নানা কার্যক্রম প্রচার করে।

এরমধ্যে রয়েছে RRV News, RVR News, RRt News, Mayyu tv। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশাপাশি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ও মিয়ানমার থেকেও এসব চ্যানেল পরিচালনা করা হয়। মিডিয়া টিমের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে মাস্টার মুন্নার দুই ভাই ইদ্রিস ওরফে জুবাইয়ের ও ওমর ফারুক।

নবী হোসেন বা মাস্টার মুন্নার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে এসব চ্যানেলে আরসার তকমা লাগিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আরসা যেমন রোহিঙ্গাদের জন্য হুমকি তেমনি নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্না গ্রুপও রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি।

সূত্রমতে, নবী হোসেন কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী তোতার দ্বীপে অবস্থান করছে। সেখান থেকে যখন-তখন মিয়ানমারে যাওয়া-আসা করতে পারে সে। নাফ নদীর ওই দ্বীপে দেশের কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে মাস্টার মুন্না দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই রয়েছে বলে শোনা যায়। এরপরও সে ও তার সহযোগীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে ৩০ হাজারের বেশি অস্ত্র রয়েছে। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে ও ইউনিয়নের বিভিন্ন জনকে হুমকি দিয়েছে। আমি মনে করি রোহিঙ্গাদের দেখভালে গঠিত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলা ও যথাযথ তৎপরতা না থাকার কারণেই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ঢিলেমি বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪-এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক  বলেন, মাস্টার মুন্না ক্যাম্পে আছে কিনা তার সঠিক তথ্য নেই। তবে নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্না এবং তাদের সহযোগীদের ধরতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যে কোনো সময় হয়তো সফলতা আসবে।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা দেখভাল করার জন্য সেখানে একটা আলাদা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। তাই শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আমরা শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকি।

তিনি বলেন, নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্না যেহেতু বড় মাপের সন্ত্রাসী তাই তাদের ধরার জন্য আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নবী হোসেনের সহযোগী কারা :

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অংজউয়িং নামে মিয়ানমারে একজন পার্লামেন্ট মেম্বার রয়েছেন। তার আসল নাম জকির আহমেদ। তিনি আরাকান রাজ্যের নাকপ্পুরার মৃত নুরুল আলমের ছেলে। বর্তমানে থাকেন ইয়াঙ্গুনে। এমপি অংজউয়িং নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং সন্ত্রাসী মাস্টার মুন্নার আপন চাচা।

অংজউয়িংয়ের পরামর্শে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী নবী হোসেনদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে থাকে। এরই অংশ হিসাবে মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক ইয়াবা ও আইসের কারখানার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নবী হোসেন ও মাস্টার মুন্নার হাতে। বিনিময়ে বাংলাদেশে মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তারা।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন নবী হোসেনের হাতে হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিশাল অস্ত্রের চালান তুলে দিতে চায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ ছাড়াও আমেরিকা প্রবাসী রোহিঙ্গা নেতা হাবিব উল্লাহ ও সৌদি প্রবাসী রোহিঙ্গা নেতা হাফেজ কবিরও নবী হোসেনদের পরিকল্পনায় জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান  বলেন, আমি প্রথম থেকে বলে এসেছি, পররাষ্ট্র নীতি ও কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সংকট কখনো সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই যদি হতো ১৯৭১ সালে যুদ্ধ না করে এ বাংলাদেশ স্বাধীন হতো। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আমরা নাফ নদীতে যুদ্ধ করেছি, তাদের আমি ভালোভাবে চিনি।

তিনি বলেন, নবী হোসেন হয়তো রোহিঙ্গা বেশে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সে মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আজকে হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনার চেষ্টাও মিয়ানমারের ষড়যন্ত্রের অংশ। যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। না হয় রোহিঙ্গা সংকট আরও ভয়াবহ হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন  বলেন, হাজার কোটি টাকার অস্ত্রের চালান আনার চেষ্টার বিষয়টা এখনো আমি জানি না। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বেশ কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর।

আফগানিস্তানের কাবুলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৬৬

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

একের পর এক বোমা বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা আফগানিস্তান জুড়ে। বৃহস্পতিবার দুটি মাইক্রবাসে বোমা বিস্ফোরণের পরেই শুক্রবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের খলিফা সাহিব মসজিদে রমজান মাসের শেষ জুমায় আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৬৬ জনে এবং আহতের হালনাগাদ সংখ্যা ৭৮ জন।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মসজিদটির ইমাম সৈয়দ ফাজল আগাও নিশ্চিত করেছেন বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিহতের তথ্য। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, হামলাটি ছিল আত্মঘাতী। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার উপলক্ষে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জিকির চলছিল রাজধানী কাবুলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত খলিফা সাহিব মসজিদে। এ সময় দুপুর ২ টার দিকে আকস্মিকভাবে মসজিদের ভেতরে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।

সৈয়দ ফাজল আগা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, হামলাটি ছিল আত্মঘাতী এবং হামলাকারী সাধারণ মুসলিমের বেশে জুমার নামাজের সময় থেকেই মসজিদে উপস্থিত ছিল। নামাজ শেষে জিকির অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর সে নিজের দেহে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি আরও জানান, সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেলেও বোমার আঘাতে তার ভাতিজা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

‘(বিস্ফোরণের পর) কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল চারদিক, সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মৃতদেহ। আমি নিজে বেঁচে গেছি, কিন্তু হারিয়েছি আমার সন্তানসম ভাতিজাকে।’ হামলার সময় মসজিদে উপস্থিত এক ব্যক্তির জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তেজে মসজিদের ছাদ ও দেওয়ালের কিছু অংশ উড়ে গেছে। তার নিজের হাত ও পা পুড়ে গেছে বলেও জানার ওই ব্যক্তি। খলিফা সাহিব মসজিদটির নিকটবর্তী একটি ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবির জানান, বিস্ফোরণের পর বেশ মসজিদের ভেতর থেকে বেশ কয়েকজন আহত মানুষকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে দেখেছেন তিনি।

রয়টার্সকে সাবির বলেন, ‘প্রচণ্ড শব্দ হয়েছিল বিস্ফোরণের সময়। আমি আশঙ্কা করছিলাম, আমার কানের পর্দা ফেটে গেছে।’

খলিফা সাহিব মসজিদে হামলার দায় এখনও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি, তবে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগানিস্তান শাখা ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) এই হামলার জন্য দায়ী। গত কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তানের অঞ্চলে কয়েক দফা বোমা হামলা হয়েছে। এসব হামলায় শতাধিক বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও বহু। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব হামলা ঘটেছে আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের মসজিদে।

তবে হামলাকারীদের কবল থেকে দেশটির সংখ্যাগুরু সুন্নি সম্প্রদায়ের লোকজনও যে মুক্ত নন, তার সর্বশেষ উদাহরণ কাবুলের খলিফা সাহিব মসজিদ। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজের একটি সুন্নি মসজিদে বোমা হামলা হয়েছিল, তাতে নিহত হয়েছিলেন ৩৩ জন। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের অন্যতম মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে হামলাকারীকে শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা হবে।

হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও। জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মেট নুডডেন এক বার্তায় বলেন, ‘ঘৃণ্য এই ঘটনার নিন্দা জানানোর জন্য কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়।’

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম নামাজে জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শনিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উপস্থিত আবদুল মুহিতের ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, বেলা ১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মরদেহ গুলশান থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। তার মরদেহ সংসদে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আবদুল মুহিতের মরদেহ সড়ক পথে সিলেট নেওয়া হবে। রোববার সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে- এড. আবুল হাসেম খান এমপি

 

স্টাফ রিপোর্টার:
“সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে। মাদক কারবারিরা দেশ সমাজ ও মানুষের শত্রু, মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”

বুড়িচংয়ে মাদক কারবারিদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন বুড়িচং – ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা ৫) আসনের সাংসদ  বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডঃ আবুল হাসেম খাঁন।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সৈয়দপুর ডুবাইরচরস্থ হোটেল নূর মহল এর কনফারেন্স হলে বুড়িচং প্রেসক্লাব আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য তিনি আরো বলেন, সেদিন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পাই সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম খুন হয়েছে।  খুব মর্মাহত হয়েছি শুনে। একজন তরুণ সাংবাদিককে এভাবে হত্যা সত্যিই গভীর দুঃখজনক। আমার আরেকটি পরিচয় সবসময়ই বলি, আগে আমি বঙ্গবন্ধুর লোক পরে আওয়ামীলীগ। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন না করলে আমরা আজো পরাধীন থাকতাম। জাতির মুক্তির জন্য জীবনটা ব্যায় করেছেন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু কন্যা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। সকলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন, তিনি ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে”।

বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রয়াত সাংবাদিক নাঈম স্মরণে আরো বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক আলী আকবর, সোনার বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আবু সালেক মোহাম্মদ সেলিম রেজা সৌরভ, ঢাকাস্থ বুড়িচং উপজেলা সমিতির সভাপতি এমএ মতিন এমবিএ , কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান , শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, দৈনিক আজকের কুমিল্লার সম্পাদক ও  “চ্যানেল বাংলাদেশ” টিভির চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু এবং মেঘনা টিভির পরিচালক এইচ এম মহিউদ্দিন।

বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হাফিজ এর সভাপতিত্বে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইকবাল হোসন ও সহ-সভাপতি মাহফুজ বাবু৷

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে প্রয়াত সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম এর মায়ের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য অ্যাডঃ আবুল হাসেম খান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহীন মির্জা, সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বুড়িচং প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আহসানুজ্জামান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন সুমন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু ইউসুফ ভূইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমরান হোসেন , তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক হাসান মাষ্টার, সদস্য জাফর সাদেক, কাজী সাইফুল। এছাড়াও গাজী মোহাম্মদ আবদুল জলিল, মোহাম্মদ শফিকুল বাশার, মোহাম্মদ রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া তুহিন, মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন,  বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন, যুবলীগ নেতা ও বুড়িচং-ব্রাহ্মনপাড়া মোবাইল দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন আকাশ, যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান মুরাদ প্রমুখ।

চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণে মাদকসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

পৃথক দুইটি অভিযানে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে ৬৩ বোতল বিদেশী মদ, ০৮ বোতল বিয়ার, ১০ কেজি গাঁজা এবং ০২টি তলোয়ারসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ৩০ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বিজয়পুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ৫৪ বোতল বিদেশী মদ, ০৮ বোতল বিয়ার এবং ০২টি তলোয়ারসহ একজন অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বিজয়পুর গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিনের ছেলে শারুখ খান(২৬)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল সদর দক্ষিণ মডেল থানার শ্রীমন্তপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা এবং ০৯ বোতল বিদেশীমদসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার জুলাই জাম্বুরা গ্রামের মোঃ মাসুক মিয়ার ছেলে মোঃ সাব্বির হেসেন(২৪) এবং একই গ্রামের মোঃ মানিক মিয়ার ছেলে মোঃ রাজিব(২৪)।

চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কুবিগস’র আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামনস্ক শিক্ষার্থীদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) গবেষণা সংসদের মডারেটর ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন বিভাগের ১৯ জন সদস্যকে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে অà¦