All posts by jitu

কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ বাড়ি নিতে ১২টি অ্যাম্বুলেন্স দিচ্ছে জামায়াত

হাবিবুর রহমান মুন্না।। 

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেলসহ অন্যান্যরা।

পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা হতাহতদের খোঁজখবর নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আহতদের উন্নত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণে হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (NDF)-এর একটি টিম সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছে বলে জানানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, নিহতদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্সগুলো কাজ করছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্বও সংগঠনটি গ্রহণ করেছে। আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ পরিবহনের সার্বিক তদারকির জন্য কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেলকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, শনিবার (২১ মার্চ) দিনগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুমিল্লা ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবেঃ রেল প্রতিমন্ত্রী

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২০ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাইওয়ে এলাকার সব রেলগেট অটোমেটিক করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

হাইওয়ে সংলগ্ন সব রেলক্রসিংয়ে অটোমেটিক গেট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যেসব স্থানে রেলক্রসিং রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে আধুনিক ‘অটোমেটিক গেট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী বৈঠকে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রেলক্রসিংগুলো আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে ট্রেন পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।

তিনি আরও বলেন, আজকের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মূলত গেটম্যানের অনুপস্থিতির কারণে। যদি অটোমেটিক গেট থাকত, তাহলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইওয়ে এলাকার সব রেলগেটকে অটোমেটিক ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত

হাবিবুর রহমান মুন্না।।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

রোববার (২২ মার্চ) ভোরে উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন লেভেল ক্রসিং অতিক্রমের সময় নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ জন যাত্রী নিহত হন।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে।

নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লাহর ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩),সুধারাম থানার মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩),চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মোমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮),লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মো. সিরাজুল দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯),ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পিন্টুর মেয়ে লাইজু আক্তার (২৬),এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪),কুমিল্লা সদর উপজেলার মো. মোকতার বিশ্বাসের ছেলে মো. জোয়াদ বিশ্বাস (২০),মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার ওহাব শেখের ছেলে ফসিয়ার রহমান (২৬),চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬),যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬২)ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুইজন শিশু বলে ধারণা করা হলেও পরে চূড়ান্ত হিসাবে তিন শিশুসহ ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সুবক্ত গীন জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট লেভেল ক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের মেইল ট্রেনের সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।

কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, গঠিত ৩টি তদন্ত কমিটি

হাবিবুর রহমান মুন্না।। 

কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টুর স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩)। দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে—কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা, কেউবা স্বামী-সন্তান।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। রোববার দুপুরে স্বজনরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মরদেহ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করেন। হিমঘর এলাকা জুড়ে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।

জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় ট্রেনটির সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনটি সেটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন—তাজুল ইসলাম (৬৭), জুহাদ বিশ্বাস (২৪), সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), বাবুল চৌধুরী (৫৫), ফচিয়ার রহমান (২৬), সোহেল রানা (২৫), নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং সাঈদা (৯)।

নিহত জুহাদ বিশ্বাসের স্ত্রী রুমি আক্তার হিমঘরের সামনে শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,

“ঈদের আগে মেয়েকে দেখতে আসতে পারেনি। ঈদের দিন রাতে মেয়েকে দেখতে যাচ্ছিলো। সে আর ফিরলো না। এখন আমার আর আমার মেয়ের কেউ রইলো না।”

অন্যদিকে, নিহত সাঈদার খালা সাহিদা সুলতানা বলেন,“সাঈদা মারা গেছে। তার বাবা-মাও গুরুতর আহত। তারা বাঁচবে কি না জানি না।”

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান জানান, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসন একটি—মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, গেটম্যানদের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে উড়ে গেল রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ

অনলাইন ডেস্ক।।

রায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি বসতবাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ উড়ে গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আদমজী ইপিজেড স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, স্থানীয় পেয়ারা বেগমের বাড়িতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের। এতে ওই বাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ উড়ে গিয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড ভিসিল ডিফেন্সের আদমজী স্টেশনের ইনচার্জ মিরন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন আলামত দেখে ধারণা করছি, গ্যাসের পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে বাড়িটিতে ভাড়াটিয়া ও আশপাশে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

 

ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকাসহ ১৯ জেলার ওপর দিয়ে সকালের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

শনিবার (২১ মার্চ) রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লায় ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শংকর চন্দ্র সরকার

স্টাফ রিপোর্টার।।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১০ নং গল্লাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শংকর চন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে গরীব ও অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ১০ নং গল্লাই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কংগাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দিনব্যাপী এ ঈদ সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

পরে ১০ নং গল্লাই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মাঝে পর্যায়ক্রমে এসব ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

ঈদ উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল তেল, চিনি, সেমাই, মুড়ি, খেজুর, বাদাম, ও গুঁড়ো দুধের প্যাকেট, যা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঈদ সামগ্রী বিতরণ শেষ শংকর চন্দ্র সরকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ইউনিয়নের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। যতদিন সামর্থ্য থাকবে ততদিন এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। এছাড়াও সর্বস্তরের জনগণের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এদিকে ঈদের আগে এমন সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শংকর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার এ উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ৩নং ওয়ার্ড বিউটি মেম্বার, ৬ নং ওয়ার্ডের শাহিদা মেম্বার,৭ নং ওয়ার্ডের আয়েশা মেম্বার, ৩ নং ওয়ার্ডের প্রধান অলিউল্লাহসহ অনেকে।

জুলাই সনদ নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না: জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার।।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতির দুয়ারে সমাগত। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে দেশবাসী ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক সরকারের পতনের পর জনগণ আশা করছে, দেশে আর কোনও ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা ও মতপ্রকাশের সুযোগ পাবে এবং সমাজে বৈষম্য ও ভেদাভেদ দূর হবে। নাগরিকদের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত এ সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, এ বিষয়ে কোনও টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।

যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিয়াম সাধনা মানুষের মধ্যে তাকওয়া ও নৈতিকতা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব নির্বিশেষে মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য জাগ্রত করে।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদের দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে দয়া, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে এবং সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বিবৃতির শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করে সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

সৌদি আরব পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষণা করেছে যে, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন উদযাপিত হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠক করে নতুন চাঁদ না দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে ৩০ দিন রোজা রাখার পর পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে।

এর আগে তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতরের আলাদা আলাদা তারিখ নিশ্চিত করে। দেশ দুটি ইসলামি মাসের শুরু নির্ধারণের জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে সরাসরি চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্à¦