All posts by jitu

মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা জিয়া ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার মুলহোতা: সাবেক সাংসদ মাহমুদুর রহমান বেলায়েত

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর নোয়াখালীর মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ও সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান বেলায়েত বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারণাই ছিলনা, তিনি আমাকে বললেন বঙ্গবন্ধুকে তো বাঁচাতে পারলেন না। এটা পরিস্কার ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার মুলহোতা দুইজন। একজন খন্দকার মোস্তাক, আরেকজন হলো যে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সেই জিয়াউর রহমান। তারা অনেক বারই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিকালে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভায় নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় বক্তারা। তাাঁরা বলেন, এখানকার সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী দলের পদ-পদবীতে বলিয়ান হয়ে দলীয় প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অপরাজনীতির চর্চা করেছেন। দলের ভিতরে স্থান দিয়ে বিএনপি-জামায়াত এবং হাইব্রিডদের অর্থশালী করেছেন। অবমূল্যায়ন করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের। জেলায় টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা দুর্ণীতিতে নিজের বলয় গড়ে তুলেছেন। শুধু তাই নয়, দলীয় সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তাদের সম্মান হানি করছেন। তার এইসব অপকর্মের কারণে দলীয় ফোরামে সর্বসম্মতিতে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে রেজুলেশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে।

জনসভায় উপস্থিত জেলা, উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতা এবং কর্মী-সমর্থকরা একরামুল করিম চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য গণদাবি তোলেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর।

জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুর সঞ্চালনায় জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, সহিদ উল্যাহ খান সোহেলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হয় জেলা শহর মাইজদীতে। জনসভায় অর্ধলক্ষাধিক আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অংশ নেয়।

চাঁদপুরে বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুরের কচুয়ায় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে বখাটেরা।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার প্রসন্নকাপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আশরাফুল হোসেন (১৭) পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের মালচোয়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় প্রসন্নকাপ স্কুলে লেখাপড়া করে।

আহতের মা ফজিলত বেগম জানান, তার মেয়ে স্থানীয় প্রসন্নকাপ স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রসন্নকাপ এলাকার শোভন, আরিফ, নাহিদ, সুজন ও নাজমুল তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল তার ছেলে আশরাফুল।

তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে প্রসন্নকাপ স্কুল থেকে আশরাফুল হোসেন একাই বাড়ি ফিরছিল। এ সময় তার গতিরোধ করে বখাটে শোভন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আশরাফুলকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে সে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আশরাফুলকে মারধরের বিষয়ে শোভনের মা ফাতেমা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। অভিভাবকদের কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশে মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, দেশে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে, আর সেই দুর্নীতির টাকা কানাডার বেগমপাড়ায় পাচার হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। আইন মন্ত্রণালয়, ডিসি, এসপির নির্দেশে চলে বিচার বিভাগ।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

এর আগে দুপুর ১২টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরী রাশেদ ও জহির উদ্দিন জহিরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য হাতে যে সময়টুকু আছে, তা আমরা কাজে লাগাতে চাই। করোনা মহামারির কারণে সবকিছু অনেকটাই স্তিমিত ছিল। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় এখন আমরা দলীয় কর্মকাণ্ডকে জোরদার করার কাজে মনোযোগ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি ৩০০ আসনেই প্রার্থী ঠিক করে রাখার কথা ভাবছি। বাকিটা সময়ই বলবে। এখন দলকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চাই। এজন্য একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী দল। অতীতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আগামী নির্বাচনেও অংশ নিতে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে।

জিএম কাদের বলেন, অতীতের মতো আগামীতেও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেব কিনা- এমন সিদ্বান্ত এখনো হয়নি। দেশের বর্তমান অবস্থা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং রাজনীতির মেরুকরণ কী হয়, তা দেখেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এ বিষয়ে এখন আগাম বলা যাবে না কিছুই।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটের রাজনীতিতে দলের অবস্থান আরও শক্ত এবং সুদৃঢ় করতে বেশ আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন জিএম কাদের।

পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পার্টির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, নির্বাচনের জন্য হাতে আছে দুই বছরেরও কম সময়। এর মধ্যেই দলকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সভাতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগরে দায়িত্বপাপ্ত মহাসচিব অ্যডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নাজমা আক্তার এমপি, এমরান হোসেন মিয়া, জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক মো আল মামুন, যুগ্ম মহাসচিব বেলাল উদ্দিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।

কুমিল্লায় বাল্যবিয়ের প্রতিবাদ করে নিজের বিয়ে ভাঙলো স্কুল ছাত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা সদর উপজেলায় এক স্কুল ছাত্রী বাল্যবিয়ের প্রতিবাদ করে নিজের বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। ওই ছাত্রী উপজেলার আলেকজান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে তৃতীয়। তার বড় দুই বোনের বিয়েও কম বয়সেই হয়েছে। অভাবের সংসার চালাতে কষ্ট হয় বলে তৃতীয় মেয়েরও বিয়ে ঠিক করেন বাবা। তবে কিশোরী এই বিয়েতে অমত জানালেও পরিবারের সদস্যরা তার আপত্তি মেনে নেয়নি। আগামী বুধবার (৩০ মার্চ) তার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়।

উপায় না পেয়ে সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে স্কুলে গিয়ে অধ্যক্ষ আবদুল মান্নানকে বিষয়টি জানায় কিশোরী। সঙ্গে সঙ্গে অধ্যক্ষ বাল্যবিয়ের বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য খায়েরুল ইসলামকে জানান। একপর্যায়ে শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি এক হয়ে কিশোরীর বাবাকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝিয়ে বললে তিনি মেয়ের বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হন। এসময় অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান ওই কিশোরীর পড়াশোনার খরচ বহন করার ঘোষণা দেন এবং ইউপি সদস্য খায়েরুল ইসলামও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান বলেন, বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানার পর মেয়ের বাবাকে এর কুফল সম্পর্কে বলেছি। একই সঙ্গে মেয়েটির লেখাপড়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সব খরচ বহন করার আশ্বাসও দিই। অবশেষে তিনি বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হন।

ইউপি সদস্য খায়েরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কিশোরীর বাড়িতে যাই। সে খানে গিয়ে জানতে পারি অভাব-অনটনের কারণে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে পরিবার। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল-ডালের ব্যবস্থা করা হবে এবং অধ্যক্ষ মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ চালাবেন এ আশ্বাসে মেয়ের বাবা আবদুল হক বিয়ে ভাঙতে রাজি হন।

মেয়ের বাবা আবদুল হক বলেন, আমি উপার্জন করতে পারলে সংসার চলে আর না পরলে চলে না। যার কারণে আগের দুই মেয়েকেও কম বয়সে বিয়ে দিয়েছি। তাই এবার তৃতীয় মেয়েকেও বিয়ে দিতে দিন-তারিখ ঠিক করেছি। তবে মেম্বার ও অধ্যক্ষের কথায় বিয়েটা বন্ধ করেছি।

মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে রিকশা চাপায় প্রাণ গেল শিশুর

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার চাপায় সামিউল ইসলাম নাদিম (৬) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে মইজদী হাউজিং সেন্ট্রাল সড়ক এলাকার লেবুর দোকান সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু চাটখিলের খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই গ্রামের প্রবাসী নজরুল ইসলামের ছেলে। সে জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং ইকরা মডেল মাদ্রাসার নার্সারি শ্রেণির ছাত্র ছিল।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রহমত উল্যাহ ভূঞা জানান, নাদিম মাদ্রাসা ছুটির পর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে লেবুর দোকান এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরুড়ায় স্ত্রীকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার রহস্য উদঘাটন, র‌্যাবের হাতে আটক স্বামী

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় ডেউয়াতলী এলাকায় হত্যার পর স্ত্রীকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী মোঃ রেজাউল করিমকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২।

গত ১১ মার্চ কুমিল্লার বরুড়ায় ডেউয়াতলী এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ইয়াসমিন আক্তার (২২) নামে একজন গৃহবধূ মারা যায়। যার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের ভাই মোঃ রাকিব হোসেন ১২ মার্চ বাদী হয়ে কুমিল্লার বরুড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে কুমিল্লাসহ সারাদেশে ব্যপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়।বেশ কিছু গণমাধ্যম দূর্ঘটনার বিষয় নিয়ে নানাবিদ প্রশ্ন উৎথাপন করলে এবং একই সাথে ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মম ও হৃদয় বিদারক হওয়ায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর গোয়েন্দা দল উক্ত ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য কাজ শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিকভাবে ভিকটিমের স্বামী রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে রেজাউলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্য অসামঞ্জস্য মনে হলে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা, ভাই এবং আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় ২০১৭ সালের শুরুতে রেজাউল করিম ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার এর বাড়ির (চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানার ডিংগাভাঙ্গা) পাশে ‘‘পেইজ” নামক একটি বেসরকারি সংস্থায়চাকুরী করত। উক্ত বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার সুবাদে রেজাউল করিমের সাথে ভিকটিমের মা বেবী আক্তারের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে আসামী রেজাউল করিম ঋণের কিস্তির টাকা নিতে ভিকটিমের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। আসা যাওয়ার একপর্যায়ে ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তারের সাথে রেজাউল করিমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। উক্ত প্রেমের সম্পর্কটি এলাকায় জানাজানি হলে ভিকটিমের পূর্বের স্বামী আনোয়ার হোসেনের সাথে ভিকটিমের তালাক হয়ে যায়। তাই খুব অল্প পরিসরে তাৎক্ষনিকভাবে কোন প্রকার কাবিন ও ইসলামিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রেজাউল করিম ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তারকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নেয়ার কথা বলে ভিকটিমের মাকে আশ্বস্ত করে তড়িঘড়ি করে মালদ্বীপ চলে যায়। রেজাউল মালদ্বীপ গিয়ে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলেও ভিকটিমের চাপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না এবং ভিকটিম বিভিন্নভাবে রেজাউলকে দেশে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করে।

পরবর্তীতে গত ০৭ জানুয়ারি রেজাউল মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরে আসে এবং অনেকটা বাধ্য হয়ে পরিবারের অমতে গত ১০ জানুয়ারি ভিকটিম ইয়াসমিনের সাথে রেজাউল করিম অনেকটা বাধ্য হয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর রেজাউল করিম ভিকটিমকে তার বাড়ি ডেউয়াতলী গ্রামে নিয়ে আসে।যেহেতু রেজাউল পরিবারের অমতে বিয়ে করেছে সেহেতু রেজাউল এর পরিবার ভিকটিমকে মন থেকে মেনেনেয়নি অপরদিকে রেজাউলও ভিকটিমের সাথে দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক জীবনে অনাগ্রহী ছিল। তাই ভিকটিমের পরিবার অর্থনৈতিভাবে অসচ্ছল যেনেও রেজাউল ভিকটিমকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং এতে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। একদিকে রেজাউলের পরিবার অপর দিকে যৌতুকের চাপের কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চরমে উঠে।

সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সামাজের ব্যক্তিবর্গ সালিশে বসে বিষয়টি সমাধান করেন এবং তাদেরকে একত্রে থাকতে বলেন। সালিশে রেজাউল বিষয়টি মেনে নিয়ে একত্রে থাকতে শুরু করে কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয়ভাবে এসব তথ্য প্রাপ্তির পর র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার গোয়েন্দা দল আরও গভীরভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে এবং ভিকটিমের স্বামীর সন্ধানে একাধিক টিম নিয়োগ করে।পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারীর সূত্র ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ২৮ মার্চ ৯ টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লার ইপিজেড এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রেজাউল করিমকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তাকে এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।

গ্রেফতারকৃত রেজাউল করিম জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, গত ১০ মার্চ বিকেলে রেজাউলের সাথে ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তারের বিভিন্ন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলে রেজাউল ভিকটিমকে চড়থাপ্পড় দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রেজাউল ভিকটিমকে চড়থাপ্পড় মারলে রেজাউলের নখের আঁচড়ে ভিকটিমের গালের নিচে আঁচর পড়ে। পরবর্তীতে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় পুনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হলে রেজাউলের বাবা মা তাদেরকে চুপ থাকতে বলে। আনুমানিক রাত ১০টায় রেজাউলের বাবা মা ঘুমিয়ে গেলে পুনরায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রেজাউল ক্ষীপ্ত হয়ে ভিকটিম ইয়াসমিন বেগমের গলায় দুই হাত দিয়ে চেপে ধরলে ভিকটিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রেজাউল তার স্ত্রী ভিকটিম ইয়াসমিন আক্তার এর চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরানো চেষ্টা করে এবং ভিকটিমের শ্বাস ঠিক আছে বলে অনুধাবন করে। তার কিছুক্ষণ পরে রেজাউল ভিকটিমের গায়ে হাত দিয়ে দেখে ভিকটিমের শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। পরবর্তীতে সে বুজতে পারে তার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। এমতাবস্থায় সে সারারাত চিন্তা করতে থাকে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার ও লোকমুখে জানাজানি হলে সে কি জবাব দিবে। চিন্তা ভাবনার এক পর্যায়ে ১১ মার্চ আনুমানিক ভোর ৫ টায় সে তার স্ত্রী ভিকটিম মৃত ইয়াসমিন আক্তারের সারা শরীরে তার ঘরে থাকা কেরোসিন তৈল ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিদিনের ন্যায় ফজরের নামাজ পড়তে চলে যায় এবং নামাজ শেষে স্থানীয় লোক জনের আগুন লাগার বিষয়ে কোন আওয়াজ না পাওয়ায় সে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারতের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ইতিমধ্যে রেজাউল কবরস্থানে থাকা অবস্থায় স্থানীয় লোক জনের মাধ্যমে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে পারে এবং অতি দ্রুত তার বাড়িতে গমন করে। স্থানীয়দের আগুন নিভানোর সময় রেজাউল ও তাদের সাথে আগুন নিভানোর ভান করতে থাকে এবং বলতে থাকে ঘরের ভিতর তার স্ত্রী ও তার বিদেশ যাওয়ার সকল কাগজপত্রসহ টাকা পয়সা রয়েছে। বিষয়টি বলতে বলতে রেজাউল জ্ঞান হারানোর ভান ধরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় এবং তার স্ত্রীর জানাজা শেষে হাসপাতাল হতে সে আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে।

এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জাপানের অর্ডার অফ দি রাইজিং সান এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করলেন মতিউর রহমান

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

উত্তরা গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যানও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান জাপান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত “দি অর্ডার অফ দ্য রাইজিংসান, গোল্ড রেইস উইথ রোসেট” ২০২১ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।
তিনিই প্রথম বাংলাদেশী ব্যবসায়ী হিসেবে জাপান সরকারের কাছ থেকে এই সম্মাননা পান। এটি জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই এ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মান্যবর জনাবইতোনা ওকি এক অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার তুলে দেন। “অর্ডার অফ দ্য রাইজিংসান” এ্যাওয়ার্ড টি১৮৭৫ সালে জাপান সম্রাট মেইজি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

মতিউর রহমান জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ডইন্ডাস্ট্রিজ (জেবিসিসিআই) প্রতিষ্ঠায় এবং বালাদেশে জাপানীজ কোম্পানির বিনিয়োগ প্রচারে অবদান রাখেন ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জেবিসিসিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি জাপানীজ কোম্পানীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত এবং দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ত্ব গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫৪ টিজা পানি কোম্পানি কাজ করছে এবং গত ১০ বছরে এই সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতোজাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘকালীন অবদানের জন্য মতিউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমি মতিউর রহমানকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই। জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কে রহমানের অর্জন এবং অবদান অসাধারণ। আমি বিশেষভাবে আনন্দিত যে আমরা জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষীকিতে সম্মাননা প্রদান করতে পারছি।

উল্লেখ্য যে, মতিউর রহমান ২০০২ ও ২০০৩ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) দুইবার নির্বাচিত সভাপতি, তিন মেয়াদে পরিচালক এবং এক মেয়াদে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআই) সিনিয়রসহ-সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিমামা) সভাপতিসহ বিভিন্ন এ্যাসোসিয়েশনের সাথে জড়িত।

 

 

চৌদ্দগ্রাম থেকে ১০১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা থেকে ১০১ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ২৮ মার্চ সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চট্টগ্রাম-টু-ঢাকা মহাসড়ক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন কক্সবাজার সদর থানার নুনিয়াচড়া গ্রামের মোঃ খলিল আহম্মেদ এর ছেলে মোঃ আনিসুর রহমান(১৯)।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।