All posts by jitu

রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে জুলাই সনদ যথাসময়ে স্বাক্ষরিত হবে: কুমিল্লায় ধর্ম উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ডঃ আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে জুলাই সনদ যথাসময়ে স্বাক্ষরিত হবে, এ নিয়ে কোন আশঙ্কা নেই।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নব শালবন বৌদ্ধ বিহারেআয়োজিত ২৪ তম দানো ত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠানে শালবন বৌদ্ধ বিহারে ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন সেন্টার ও ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন সুশাসনের জন্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি,এ লক্ষ্যে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, এই মাতৃভূমি আবহাওয়ামান কাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সোহার্দ্য লালন করে আসছে এটাই তার বাস্তব প্রমাণ।

ড.আ.ফ.ম.খালিদ হোসেন বলেন- সরকার ঘোষিত তারিখে ফেয়ার ফ্রী ইনভারসিয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার কাজও সরকার করে যাচ্ছে। এ নির্বাচন এর মাধ্যমে ম্যান্ডেট প্রাপ্ত দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যাবো। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বহাল থাকবে।নির্বাচন না হলে নানা ধরনের অস্তিরতা দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডঃ মোঃ হায়দার আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মোঃ সাইফুল মালিক,সাবেক বার্ড পরিচালক বাবু বিজয় কুমার বড়ুয়া,সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বাবু সুরসেন সিংহ,সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া,উদযাপন পরিষদ সভাপতি স্বপন সিংহসহ অনেকে।

কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবিতে উত্তাল পূবালী চত্তর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল কুমিল্লা নগরী। রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন লাখো মানুষ। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার হুঁশিয়ারি দেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে সমাবেশে জড়ো হন কুমিল্লার সর্বস্তরের জনতা। এ সময় তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করা না হলে দেশের লাইফ লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কুমিল্লা অংশে ব্লক করে দেয়া হবে।

সমাবেশে জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে দলে দলে ভিড় করতে থাকেন কুমিল্লা প্রেমী নারী পুরুষ। এসময় কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে নানান স্লোগান দিতে শোনা গেছে।

বৃহত্তর কুমিল্লা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টিপু চৌধুরী। এসময় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রাচীন সমতট অঞ্চলের রাজধানী ছিল কুমিল্লা। হাজারো ইতিহাস, ঐতিহ্যে ভরা কুমিল্লা যখনই বিভাগের ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে যায় তখনই নানান মহল থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। নোয়াখালীসহ বৃহত্তর কুমিল্লার ৬টি জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ৪২টি আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লায় অবস্থিত। একটা যুক্তিও নেই যেকুমিল্লা বিভাগ হয় না।

তারা আরও বলেন, কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লা বিভাগ কুমিল্লা নামেই দিতে হবে।কুমিল্লা বিভাগের সঙ্গে যেসব জেলা থাকতে চায় না তাদেরকে বাদ রেখেও কুমিল্লা বিভাগ সম্ভব। কুমিল্লা বিভাগ যতদিন না বাস্তবায়ন হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে বক্তারা সরকারকে ১ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেন। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা না করলে দেশের লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা বিশ্বরোড অংশ ব্লক করে দেওয়া হবে।

‎ধান্যদৌল আলোর পথ যুব সংঘের ১৮ তম বার্ষিক তাফসীরুল কোরআন মাহফিল আগামীকাল

‎মো. বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল আলোর পথ যুব সংঘের উদ্যোগে ১৮ তম বার্ষিক তাফসীরুল কোরআন মাহফিল আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকাল ৩টা থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত ধান্যদৌল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ধান্যদৌল আলোর পথ যুব সংঘের উদ্যোগে এই বার্ষিক তাফসীরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন কালামুড়িয়া জামে মসজিদ এর খতিব মাওলানা আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন। ধান্যদৌল আলোর পথ যুব সংঘের সভাপতি অধ্যাপক কাজী সাইফুল হাসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. এডভোকেট মোবারক হোসাইন। তাফসীর পেশ করবেন শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী হাফিজাহুল্লা, আল্লামা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মাওলানা মিজানুর রহমান আতিকী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা হেফজুর রহমান নাঈম। মাহফিল পরিচালনা করবেন পূর্নমতি মনছুর আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা বিল্লাল হোসেন। উক্ত তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে প্রত্যেক মুসলমানকে দলে দলে যোগদান করার জন্য আহবান জানিয়েছেন ধান্যদৌল আলোর পথ যুব সংঘ।

ব্রাহ্মণপাড়া পূর্বপাড়া ফুটসাল ফুটবল প্রিমিয়ারলীগের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

‎মোঃ বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া পূর্বপাড়া ফুটসাল ফুটবল প্রিমিয়ারলীগের ফাইনাল খেলা অত্যান্ত ঝাঁকঝমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় ব্রাহ্মণপাড়া পূর্বপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোঃ জমির হোসেন রেজভী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমফোর্ট হসপিটালের ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সাত্তার।

প্রধান মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ সোলেমান। খেলায় রেফারির দায়িত্বে ছিলেন শেখ রাসেল ও সহকারি রেফারি ছিলেন মোঃ ইয়াছিন ও মোঃ হাছান। খেলা শাপলা একাদশ এবং আইকনিক একাদশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ট্রাইবেকারে আইকনিক একাদশ ২-০ গোলে শাপলা একাদশকে হারিয়ে বিজয়ী হয়।

পরে বিজয়ীদের মাঝে প্রাইজমানি তুলে দেন অতিথিবৃন্দরা। খেলায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোঃ আব্দুল লতিফসহ আয়োজকবৃন্দরা।

মেঘনায় আ.লীগ নেতা তাজুল ইসলাম গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, তাজুল ইসলাম তাজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়নে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে উত্তেজনাও দেখা দেয়।

এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম তাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিতাসে শাশুড়িকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাসে সুফিয়া বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে তাঁর জামাতা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জামাল সিকদার (৪৮)। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুফিয়া বেগমের ভাই দিলু সিকদারের ছেলে জামাল সিকদারের (৪৮) সঙ্গে সুফিয়ার মেয়ে রহিমা বেগমের (৪২) বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে সকালে জামাল তাঁর মেয়ে মারিয়াকে (১৭) মারধর করে আহত করে হাসপাতালে পাঠান। এ নিয়ে শাশুড়ি সুফিয়া বেগম তাঁকে বকাঝকা করেন। পরে বাড়ির গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিলে জামাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ ঘটনার জেরে সুফিয়াকে একা পেয়ে জামাল মারধর করে পাশের ডোবায় চুবিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যান।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত জামাল সিকদারকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহত নারীর পরিবার এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সড়ক সংস্কার কাজ শুরু না হলে ধান চাষের হুঁশিয়ারি, এর আগেই সড়কে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ হাসনাত আবদুল্লাহর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দেবিদ্বার-চান্দিনা আঞ্চলিক সংযোগ সড়কে মাছ ছেড়ে অভিনবভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে তিনি গণসংযোগে গিয়ে উপজেলার কাচিসার এলাকায় এ প্রতিবাদ করেন।

দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কটি শুধু দুটি উপজেলার সংযোগ নয়, এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ লিংক সড়ক। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার এই সড়ক সংস্কার না হওয়ায় এর বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী এই সড়কে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়, ঘটছে দুর্ঘটনাও।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “এই রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারে না। কয়েক দিন আগে এই রাস্তায় দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রাস্তাটি এমন অবস্থায় আছে যে, ধান চাষ না করে মাছ চাষ করলেও বেশি লাভ হবে। আমি আজ মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ জানালাম আপনারাও মাছ ছাড়ুন, অন্তত মানুষ কিছু মাছ খেতে পারবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) হাসনাত আবদুল্লাহ ও কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফার মধ্যে ফোনালাপের একটি দুই মিনিট দুই সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সে সময় হাসনাত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার নিউমার্কেট অংশে অক্টোবরের ২০ তারিখের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু না হলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে ধান চাষ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র নিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহন ও লাইটারিং পরিষেবার দরপত্র নিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক ।

জানা গেছে, এসএইইটি-সিনোট্রান্স জেভি নামক একটি যৌথ কোম্পানির দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিতর্কিত সাউথ এশিয়া এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের (এসএইইটি) নাম সবার উপরে রাখা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অনেকেই বলছেন এটা শেখ হাসিনা আমলের পলাতক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর পাতানো ফাঁদ। এটা বাংলাদেশ প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট এর বিরোধীও বটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাউথ এশিয়া এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানিটি বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) চায়না অংশের মূল কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

এই কোম্পানিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক হয়েও সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুকে সন্তুষ্ট করে প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে বিনা টেন্ডারে ১০ বছরের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের সুযোগ করে নেয়। এই কাজে সহযোগিতা করেন সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের এমডি খুরশেদ আলম।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিসিপিসিএল’র বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াংজি একইসঙ্গে বিতর্কিত সাউথ এশিয়া এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানিরও কার্যনির্বাহী এবং মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে যুক্ত আছেন। যা বাংলাদেশের প্রচলিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮ এর ৫৫ ও শিডিউল ৯ অনুযায়ী স্পষ্ট স্বার্থবিরোধী বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের আওতাভূক্ত। সিএমসি এই অবৈধ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উচ্চ মূল্যে কয়লা ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করায় বাড়ছে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ। এর চাপ গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে জন্য আমদানি করা কয়লা গভীর সমুদ্র থেকে লাইটারিং করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর টেন্ডারেও চলছে সিএমসি’র প্রতারণা। আগের টেন্ডারে সাউথ এশিয়া এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানি নিজস্ব ও বিশেষায়িত জাহাজের দলিলাদি উপস্থাপন করলেও তারা চীন থেকে সেই জাহাজ পায়রায় আনেনি। বিপরীতে নিম্নমানের ছোট জাহাজ স্থানীয়ভাবে সংগহ করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়েছে। এতে বেড়েছে সিস্টেম লস ও দুর্ঘটনা। এবারও একই কাজ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। নিজেদের জাহাজ না থাকারও পরও নিজেরা সিএমসির একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হয়ে অন্য একটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশ নিয়ে কয়লা সরবরাহের সুযোগ নিতে যাচ্ছে। ,
অভিযোগ রয়েছে, বিপিসিপিএল’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোর্শেদ আলম এবং তৎকালীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর মেয়াদকালে এসএইইটি ও সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানিগুলোকে একাধিকবার টেন্ডারবিহীনভাবে সরাসরি চুক্তি প্রদান করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী ও জনসম্পদ ক্ষতিসাধনমূলক হতে পারে।

এসব অনিয়মের ফলে পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোতে কয়লা সরবরাহ ও লাইটারিং সার্ভিসে অনিয়ম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সিএমসির মালিকানাধীন কোম্পানিটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকারী কোম্পানি বিসিপিসিএল’র অর্ধেক অংশের শেয়ার হোল্ডার, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা কিনতে ঋণ দেয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চীনা অংশীদার সিএমসি। আর সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এসএইইটি-সিনোট্রান্স জেভির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের দরপত্রে সবচেয়ে কম দরদাতা হিসেবে তালিকায় সবার আগে স্থান পাওয়ায় বিষয়টি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের টেন্ডারে মোট ৬ থেকে ৭টি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩টি কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন অ্যান্ড বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (জেভি)। এই প্রতিষ্ঠানটি টেন্ডারে বিড মূল্য ধরেছিল ৫৮৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ২য় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেড (বিএমটিএল) বিড মূল্য ধরেছিল ৫৭৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসএইইটি-সিনোট্রান্স জেভি বিড মূল্য দিয়েছিল ৫৩৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিসিপিসিএল’র মালিক হিসেবে সিএমসির বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এসএইইটি-সিনোট্রান্স জেভি -এর পায়রায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তালিকায় নাম আসার বিষয়টি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে।

বিসিপিসিএল-এ সিএমসির ৫০ শতাংশ শেয়ার থাকার পরও তাদেরই প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতার হওয়ার প্রশ্নের বিষয়ে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, এই বিষয়টি আমাদের বোর্ড দেখছেন। মূলত কম রেট আমাদের মূখ্য। এ বিষয়ে বোর্ড যা সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই চূড়ান্ত হবে।
কয়লা সরবরাহের আর্থিক প্রস্তাবের জন্য জমা দেওয়া চিঠিতে বিএমটিএল’র পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের উল্লেখিত মূল্যে ২০ শতাংশ ভ্যাট ও কর যুক্ত করা হয়েছে। যদি বিসিপিসিএল এই ভ্যাট ও কর ছাড় দেয় তাহলে তাদের মোট মূল্য ২০ শতাংশ কমে যাবে। বিএমটিএল কর্তৃপক্ষ আর্থিক প্রস্তাবের বিড মূল্য ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ ট্যাক্সসহ ধরে ৫৭৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দিয়েছিল। আর এটি বাদ দেওয়া হলে বিএমটিএল’র বিড মূল্যই হবে সর্বনিম্ন বিড মূল্য।
এ বিষয়ে মো. নাজমুল হক বলেন, টেন্ডার ডকুমেন্টের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। টেন্ডার ডকুমেন্টে যদি ভ্যাট-ট্যাক্সের বিষয়টি যদি উল্লেখ থাকে তাহলে সেভাবেই বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) হচ্ছে বাংলাদেশ ও চায়না দুই দেশের একটি যৌথ কোম্পানি। বিসিপিসিএল ১৩২৯ মেগাওয়াটের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে। আর এই কোম্পানিটির সমানভাবে মালিকানা আছে বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি)।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী সময়ে উচ্চ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি ও কর্মকর্তার প্রভাবের কারণে সিএমসি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই বা সীমিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ পেয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি অর্থব্যয়ে অস্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সময়ে কিছু প্রকল্পে নির্দিষ্ট পক্ষের প্রতি সুবিধা প্রদানের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। যার প্রভাব পড়ে পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে।

এই পরিস্থিতিতে, প্রোকিউরমেন্ট ব্যবস্থার উপর জনআস্থা দুর্বল হয়েছে এবং নীতিগত প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকরা বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের যৌথ উদ্যোগ প্রকল্পে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে স্বার্থবিরোধ ও প্রভাবের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, নিয়মিত অডিট, স্বাধীন তদন্ত এবং সিপিটিইউ ও বিপিপিএ কর্তৃক কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ পুনরায় দেখা দিতে পারে। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করেছেন- বিসিপিসিএল’র বর্তমান ও পূর্ববর্তী সব টেন্ডার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হোক, এসএইইটি ও সিএমসি’র অংশগ্রহণ সংক্রান্ত নথিপত্র স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হোক, মন্ত্রণালয় ও কোম্পানি পর্যায়ে প্রভাব খাটানো বা স্বার্থবিরোধের সম্ভাবনা থাকলে তা আইন অনুযায়ী যাচাই করা হোক।

বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয়, বিদ্যুৎ খাতের সুশাসন এবং প্রোকিউরমেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

অনলাইনে ইলিশ বিক্রি প্রতারণা এড়াতে চাঁদপুরে ৭ ব্যবসায়ী পেল সরকারি নিবন্ধন

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

সারা দেশ থেকে মোট ৪৪টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত ৭ ব্যবসায়ীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রাথমিকভাবে ৭ জনকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া প্রতিবছর চালু থাকবে। নিবন্ধনের জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে ১ থেকে ২ বছরের জন্য নবায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে তখনও কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি তার কার্যক্রম বন্ধ রাখেন, তাহলে তার নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত চাঁদপুরের ইলিশের ঐতিহ্য রক্ষা করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য, যাতে কেউ চাঁদপুরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করতে না পারে। জেলা প্রশাসক জানান, নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের তালিকা জেলা প্রশাসকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এতে অন্যরাও নিবন্ধনের প্রতি আগ্রহী হবেন এবং যারা বাইরে থেকে প্রতারণা করছেন তারা বিরত হবেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন নিয়মিত প্রচার চালাবে।

নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ডিসি বলেন, কেবলমাত্র চাঁদপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই এই নিবন্ধন পেয়েছেন। অন্য জেলার কেউ চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রি করতে পারবে না। কেউ যেন হাতিয়ার ইলিশ চাঁদপুরের নামে বিক্রি না করেন, কারণ হাতিয়ার ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে কম। যাতে কোনো ক্রেতা প্রতারিত না হন এবং চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৪৪টি আবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জনকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। চাঁদপুর জেলার যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। সঠিকভাবে যাচাই করে উপযুক্তদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন পাওয়া ফেসবুক পেজগুলো হলো- ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর, মাছ পল্লী, একিন সপ, তাজা ইলিশ.কম, ইলিশ রানী, রুপালী বাজার, সজিব ইলিশের বাজার চাঁদপুর।

মনোহরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

শাহাদাত হোসেন, মনোহরগঞ্জ:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ লাকসাম আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তানভীর হোসেন (১৮) নামে এক যুবককে মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের চাচা ইদ্রিস মিয়া জানান, আজ সকাল ১১ টার দিকে তানভীর মোটরসাইকেল করে লাকসাম যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর ঈদগাহ’র কাছে গেলে একটি শিশু রাস্তার এক পাশ থেকে অপরপাশে দৌড় দেয়। শিশুর আকস্মিক দৌড়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী ঈদগাহের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় সিটকে পড়ে তানভীর।

এসময় অপরদিক থেকে দ্রুত গতির একটি সিএনজি অটোরিকশা এসে তানভীরকে চাপা দিয়ে চলে যায়। গুরতর আহতবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে দ্রুত কুমিল্লা নিয়ে যেতে বলেন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  আজ মাগরিবের পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত তানভীর উপজেলার আমতলী গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের ২য় ছেলে।