All posts by jitu

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোরে আহলে হাদিস মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দু’জনেই বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন।

নিহতরা হলেন ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়নগর এলাকার মীর হোসেনের স্ত্রী জাহেদা আক্তার (৩৫) এবং তাদের মেয়ে মিশু আক্তার (১৭)। জানা গেছে, তারা আজ ১১দিন ধরে কুমিল্লার রামপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটন এবং ঋণের চাপের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মা-মেয়ে। কুমিল্লার জিহান ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তারা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঋণের বোঝা আর আর্থিক সংকটের চাপে তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করতে পারেন।

বিষয়টি সম্পর্কে রামপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল হক বলেন, “মা ও মেয়ে দুজনই জিহান ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তারা খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন। কীভাবে এই ঘটনা ঘটলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”

বুড়িচং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করি। ঘটনাস্থলের প্রেক্ষাপটে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে মৃত্যুটি আত্মহত্যা কিনা, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে।”

মা ও মেয়ের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

স্ত্রী হত্যা মামলায় চাঁদপুরে আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. জহির কারাগারে

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ

নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম মিজিকে স্ত্রী শাহীন সুলতানা ফেন্সি হত্যার মামলায় আবারো কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত (১)-এর বিচারক আমিরুল ইসলামের আদালতে মামলার চার্জের শুনানি ছিলো। অ্যাড. জহির চার্জের দিন পর্যন্তই জামিনে ছিলেন। চার্জ শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে জহিরুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি ষোলঘর পাকা মসজিদের দক্ষিণ পাশে নিজ বাসায় হত্যার শিকার হন। ওই ঘটনায় ফেন্সির ভাই মো. ফোরকান উদ্দিন খাঁন বাদী হয়ে ৫ জুন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অ্যাড. জহিরুল ইসলামসহ ৪জনকে এজাহারভুক্ত আসামী এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।

মামলার প্রধান আসামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র পুলিশ পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন ৬ জুন গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। ওই মামলায় তারা কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন। ওই সময় বিচারক অ্যাডভোকেট জহিরকে চার্জ গঠন শুনানি পর্যন্ত জামিন দেন। সোমবার চার্জ গঠন করে শুনানির দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এদিকে এই মামলাটির তদন্ত শেষে তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র পুলিশ পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, আসামী জহিরুল ইসলাম চার্জ গঠন শুনানি পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। আজকে (সোমবার) শুনানি হয়েছে। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

মাদক সেবনে কড়া হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও হলে পাওয়া গেলো মাদক!

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩০৭ নং কক্ষ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে প্রভোস্টের অভিযানে ওই রুমের একটি টেবিলের ড্রয়ার থেকে মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার হয়। এর আগে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে প্রভোস্টের অভিযান চলাকালীন ওই রুমে অবস্থানরত তিনজনকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়৷

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, কাজী নজরুল ইসলাম হলে ৩০৭ নং কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী রবিউল আওয়াল রবিন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সবুজ । তারা উভয়ই ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী। অপর একজন হলেন মাদক গ্রহনের অভিযোগে বহিষ্কৃত ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ (আনাছ)।

প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, হলে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে হল প্রভোস্ট অভিযান চালানোর সময় তিনজনকে সন্দেহ হলে প্রভোস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় ঐ রুমের বাহিরে নিচে গাঁজা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাদের ডোপটেস্টের জন্য পাঠানো হলে তাদের রুমে আরো মাদকদ্রব্য থাকতে পারে এমন সন্দেহে ঐ কক্ষে পুনরায় তল্লাশি চালান হল প্রভোস্ট। এসময় ঐ কক্ষের একটি টেবিলের ড্রয়ার থেকে মাদকদ্রব্য (গাঁজা) ও ব্যবহৃত বুলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রবিন বলেন, আমরা মাদকের সাথে যুক্ত নই। আমাদের আগামী ছয় তারিখ সেমিস্টার থাকায় বন্ধুকে নিয়ে পড়াশোনা ও আড্ডা দিচ্ছিলাম।

রুমে মাদক পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যখন ডোপটেস্ট করাতে পাঠানো হয় তখন অন্য কেউ তা রেখে যেতে পারে।”

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রভোস্ট বলেছেন ভিন্ন কথা। হল প্রভোস্টের মতে, তিনি সন্দেহের বশে তার রুমে নিজে প্রবেশ করেন এবং তল্লাশি করে গাঁজা পান।

হল প্রভোস্ট মোঃ হারুন বলেন, প্রথমবার তাদের কাছে সরাসরি মাদক পাই নি। তবে তাদের আচরণে বিভিন্ন অসংলগ্নতা দেখা যায়। ফলে পরবর্তীতে তাদের কক্ষে সার্চ করলে গাঁজা পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে হল প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা তাদের রুমটি তালা মেরে দিয়েছি। আগামীকাল আমরা হল প্রশাসন থেকে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির কাছে পাঠাবো। তারা তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত জানাবে।

নিখোঁজের তিন দিনেও সন্ধান মিলেনি গৃহবধু শারমিনের

স্টাফ রিপোর্টার:

তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নিখোঁজ গৃহবধু শারমিন আক্তারের (১৯) সন্ধান মিলেনি। মায়ের সন্ধানে ২ সন্তান কাঁদছেন অঝোরে। অপরদিকে প্রবাসী স্বামী মোঃ ফাহাদ মোল্লা স্ত্রী এবং সন্তানদের চিন্তায় পাগলপ্রায়।

এদিকে নিখোঁজ গৃহবধুর সন্ধ্যান না পেয়ে পিতা মজিবুল হক গত ২৭শে জুলাই চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই অভিজিৎ সোমবার (২৮শে জুলাই) রাতে জানান, গৃহবধুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, গৃহবধু মোসা: শারমিন আক্তার মোবাইল ঠিক করার কথা বলে শনিবার সকালে স্বামীর বাড়ী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফেলনা মোল্লা বাড়ী থেকে বের হয়। এসময় তার সাথে কেউ ছিলনা। দিন পেড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শারমিন স্বামীর বাড়িতে না আসায় সকলে খোঁজাখুজি শুরু করেন। শারমিনের পিতার বাড়ী উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আটগ্রামসহ বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনদের বাড়ীতে খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি চৌদ্দগ্রাম বাজারেও খোঁজা হয়। পরদিন রবিবার শারমিনের পিতা মুজিবুল হক বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

প্রবাস থেকে স্বামী ফাহাদ মোল্লা জানান, তাহার স্ত্রী শারমিন গত শনিবারসকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মোবাইল ঠিক করতে আসে। তার স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা জনিত কিছুটা সমস্যা আছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পড়নে কালো রঙের বোরকা ছিল। শারমিনের শারীরিক গঠন হালকা।যদি কেউ তার স্ত্রী শারমিনের সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন তিনি। যোগাযোগ নাম্বার- ০১৮৮৮ ১৯২৮৫৩।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হিলাল উদ্দিন জানান, গৃহবধু নিখোঁজের ঘটনায় সাধারন ডায়েরী করেছে পরিবার। পরিবারসূত্রে জানতে পেরেছি নিখোঁজ গৃহবধুর কিছুটা মানসিক সমস্যা আছে। আমরা তার সন্ধান বের করার চেষ্টা করছি।

বাহার ও তার মেয়ে সূচনার সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ফ্রিজ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার, তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনার ১৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা ফ্রিজ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা, জাল-জালিয়াত, কমিশন গ্রহণ, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করার অভিযোগে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনার ১৭টি ব্যাংকের ৫৩টি অ্যাকাউন্টের ১৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা ফ্রিজ করেছে সিআইডি।

এতে আরো জানানো হয়, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাহাউদ্দিন বাহার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এসংক্রান্তে মানি লন্ডারিং আইনে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই ও কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ সোমবার মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই কথা বলেন তিনি।

এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সন্ত্রাস দমনে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস দমন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এই আলোচনা মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধির সাথে শুল্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জ্যাকবসন বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরে মার্কিন সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস জাতীয় ঐকমত্য গঠনে কাজ করা কমিশনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, কমিশন খুব ভালো কাজ করছে। অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বে সদস্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

বন্যার্তদের ঘরে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় নিরীহ পরিবারের উপর হামলা, ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বন্যায় আক্রান্ত একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় ঘরের মালিকের উপর হামলা ও আসবাবপত্র ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে এক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের সৈকত পাড়ায়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ছাতিয়ানী গ্রামের চিহ্নিত মাদকসেবী সাাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (২৮শে জুলাই) দুপুরে অভিযোগের তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এস আই বটন কান্তি চেং। তিনি জানিয়েছেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। উভয়পক্ষকে মিমাংসার স্বার্থে থানায় আসতে বলেছি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী নীচু ঘরবাড়ি গুলোতে পানি উঠে। ছাতিয়ানী গ্রামের সৈকত পাড়ার আবদুল মান্নানের ঘরে পানি উঠায় তারা ২০শে জুলাই থেকে পাশ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খালি ঘরে থাকার জন্য সিলেট থেকে আবদুল মান্নানের ছোট ছেলে রুহুল আমীনকে ডেকে আনা হয়। গত ২৬ শে জুলাই রাতে রুহুল আমীন একা নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় পাশ্ববর্তী বাড়ির মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও সোহাগের নেতৃত্বে একদল মাদকসেবি রুহুল আমীনকে দরজা খুলতে ডাকাডাকি করতে থাকে। দরজা না খোলায় ধারালো অস্ত্রে ঘরদোর কুপিয়ে দরজা ভেঙ্গে রুহুল আমীনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর তারা ঘরের ভেতর অবস্থান করে। মারধরে রুহুল আমীনের চিৎকার চেচামেচি শুনে পরিবারের অন্যরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা পথে আটকিয়ে মারধর করে। রুহুলের আমীনের বোন শারমিন আক্তারকে শ্লীলতাহানি ও তার কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আবদুল মান্নানের স্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীরা আমার ঘরে ঢুকে মাদক সেবন করে। বাঁধা দেয়ায় পাশ্ববর্তী লাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট গ্রাম থেকে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমার ছেলেকে মারধর করে ফেলে রেখে যায়।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হামলা ভাংচুরের ঘটনা সত্য নয়। মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় তাদের সাথে আমাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হিলাল উদ্দিন বলেন, ‘কেউ অন্যায়ভাবে কারো বাড়ি দখল বা মাদক সেবন করলে তাদের ব্যাপারে কোন ছাড় নয়। প্রকৃত দোষীদেরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দাউদকান্দিতে কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম: রট সিমেন্ট কম দেয়ায় খসে পড়ছে ঢালাই

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিরবাগগোয়ালী এলাকায় খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণাধীন সেতুটির ছাদ ঢালাইয়ের পর দুইপাশে রেলিং ধরে ঝাক্কি দিলেই খুলে পড়ে যাচ্ছে, এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসী সেতুটি বেশিদিন টিকবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতু ও কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৯(নয়) মিটার দৈর্ঘ্যেরে ওই সেতুটির বাজেট তেত্রিশ লাখ টাকার কিছু বেশি। কাজটিতে ঠিকাদার বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিলেও কতৃপক্ষ অনিয়ম বন্ধে কোনো ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি স্থানীয়দেও অভিযোগ।

শংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসীদের দেওয়া তথ্য মতে, দাউদকান্দি উপজেলার বিটেস্বর ইউনিয়নের বীরবাগ গোয়ালী গ্রামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় কুমিল্লার মেসার্স সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং । কিন্তু কাজের শুরু থেকেই নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে আনুষঙ্গিক কাজ করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। কিন্তু কতৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেন।

স্থানীয় বারেক তালুকদার, আলাউদ্দিন তালুকদার ও আব্দুল হামিদ বলেন, পাথরের ঢালাই দেয়ার কথা, কিন্তু সেখানে ইটের কংকরও মিক্স করে দিয়েছে, কিছু বলি নাই। এখন উপরে রেলিংয়ে চারটি টানা রট রিংসহ দেয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার রিং ছাড়া দু’টি রট দিয়ে ঢালাই করেছে। রট কম দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে সিমেন্ট কম দেয়ায় ঢালাই খসে পড়ায়। পরে আমরা দেখি পুরো ঢালাই ঢলা দিলেই খসে পড়ছে। সিমেন্ট ছাড়াই ঢালাই করায় এভাবে খসে পড়ছে, না জানি নিচের ঢালাইয়ে কি করেছে?

বিটেস্বর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, রট ও সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালাই করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জানার সাথে সাথেই আমি সংশিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হানিফ মিয়া বলেন, নিচের কাজ ঠিকমতোই করা হয়েছে। কালভার্টের স্লাবের উপর হুইল গার্ড রেলিং) শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিসকে না জানিয়ে ঠিকাদার ঢালাই করেছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিন্মমানের ঢালাই হয়েছে বলে জানতে পারি। এরপরই আমরা ঠিকাদারকে মৌখিভাবে বিষয়টি জানাই। রট সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালাই করা অংশটি এখন ভাঙ্গা হচ্ছে।

মেসার্স সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক ঠিকাদার সোহেল এ মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, কালভার্টেও নিচের অংশ ঢালাই করার সময় আমাদের লোকজন উপস্থিত থেকে করা হয়েছে। আর রেলিংয়ের ঢালাইটি শুক্রবার বন্ধের দিনে আমাদের অফিসকে না জানিয়ে করেছে ঠিকাদার। আবার রেলিংয়ে রট সিমেন্টও কম দিয়েছে, তাই ভেঙ্গে পুনরায় করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রট সিমেন্ট কম দিয়ে ঢালই করা অংশটি ঠিকাদারকে দিয়ে ভাঙা হচ্ছে। পরবর্তীতে সিডিউল মতো বাকি কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল ছাড়া হবে না।

জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষ্যে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে সেনাসদরের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন, কুমিল্লা এরিয়ার ব্যবস্থাপনায় প্রায় দেড় হাজার অসহায় গরীব ও অসুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

 

সোমবার (২৮ জুলাই) কুমিল্লা নগরীর শাকতলা এলাকার দ্যা ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্সে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

কুমিল্লা সেনানিবাস হতে আগত মেডিসিন, সার্জারী, গাইনি, শিশু রোগ, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার ও প্যারামেডিক্স এর সমন্বয়ে বিশেষায়িত মেডিকেল দলের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

পুরুষ, স্ত্রী ও শিশুসহ আনুমানিক প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় জনসাধারণকে বিনামূলো চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও একটি ফিল্ড অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হয়, যেখানে প্রয়োজনীয় সংখক মাইনর অপারেশন করা হয়।

এই মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন কর্নেল সর্দার শাহ নবী জাফরান, লে. কর্নেল আতিক, মেজর খালিদ, মেজর ওয়াসিম, মেজর তাসনুভা, মেজর দিলরুবা, ক্যাপ্টেন নওশীন, ক্যাপ্টেন আফিয়া, ক্যাপ্টেন রেবেকা, ক্যাপ্টেন তৌফিক ও ক্যাপ্টেন ইসরাত।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই মহতী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করায় স্থানীয় জনসাধারণ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির বিষয়ে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট:

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হতে পারে। ওইদিন বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হবে এবং যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে তাদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।

রোববার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশের নিয়ম। সে হিসেবে ৯ আগস্টের মধ্যে ফল প্রকাশের সময়সীমা শেষ হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

১০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ১১ জুলাই থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন শুরু হয়, যা চলে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আবেদন ফি ছিল ১৫০ টাকা।