All posts by jitu

বঙ্গোপসাগরে দেড় ঘণ্টায় চার ভূমিকম্প

ডেস্ক রিপোর্ট:

বঙ্গোপসাগরের আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের অদূরে মঙ্গলবার রাতে চারটি ভূমিকম্প হয়েছে। প্রতিটি ভূকম্পের মাত্রা ছিল চারের ওপর। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি হয়েছে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দূরে। সমুদ্র তলের ১০ কিলোমিটার গভীরের সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫।

এরপর কাছাকাছি এলাকায় ৫, ৪.৯, ও ৪.৬ মাত্রার আরো তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে এসব ভূমিকম্প ঘটে। সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটেছে রাত সোয়া এগারোটার দিকে। আগের দিন নিকোবর আইল্যান্ডে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার ওই অঞ্চলেও সুনামির সতর্কতা নেই।

তবে এসব ভূমিকম্পে কোন সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও জানা যায়নি।

বুধবার রাতে রাশিয়ার পূর্ব উপকূলের কামচাটকা উপদ্বীপে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল আট দশমিক আট। রাশিয়ায় ভূমিকম্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় এটি প্যাসিফিক অঞ্চলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

দুপুরের কুমিল্লাসহ ৭ জেলায় ঝড়ের আভাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের সাত জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা থেকে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুরে বাল্যবিয়ে ঠেকাতে প্রধান শিক্ষককে দরখাস্ত দিলেন শিক্ষার্থী নিজেই

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকাতে প্রধান শিক্ষক বরাবর দরখাস্ত দিলেন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া রুহি আক্তার নামের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। সে উপজেলার কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ও একই গ্রামের গাজী বাড়ির প্রবাসী আব্দুর রশিদের মেয়ে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) উপজেলার কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মার কাছে বিয়ে বন্ধ করতে দরখাস্ত দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।দরখাস্তে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুহি আক্তার উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ১৮ জুন জন্মগ্রহণ করেন রুহি আক্তার। বর্তমানে তিনি কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। ইচ্ছের বিরুদ্ধে পরিবার জোরপূর্বক তাকে বিয়ে দিচ্ছেন। তবে বিবাহে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের দারস্থ হন তিনি।

এ বিষয়ে কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মা বলেন, দরখাস্তটি আমি গ্রহণ করেছি। এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসনকেও অবগত করেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিয়ের বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী রুহি আক্তারের মা সুমি বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, পারিবারিক ভাবে দেখাশোনা হয়েছে, তবে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়নি। এখন মেয়ের বিয়ে দিবো না। আর যদি দেই তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিয়েন।

ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছি। বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তখন আমরা সাথে থেকে ব্যবস্থা নেই।

হোমনায় অকেজো সোলার লাইট, রাতে সড়কে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানের সোলার স্ট্রিট লাইটগুলো ১০ বছর আলো দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে বাতিগুলো। ফলে স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না উপজেলাবাসী। রাতে সড়কে চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি। অনেক জায়গায় খুঁটি থাকলেও লাইট গুলো চুরি হয়ে গেছে।এছাড়াও কোন কোন জায়গার খুটি গুলো ও চুরি করে নিয়ে গেছে। অনেক খুঁটিতে লাইট থাকলেও আলো জ্বলে না। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক প্রকার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে খুটিগুলো।

সড়কের বাতিগুলো নষ্ট হওয়ার কারণে রাতের অন্ধকারেই চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের হাজার হাজার মানুষদের। রাতের আধাঁরে বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব স্ট্রিট লাইটে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল আছে কিন্তু বাতি নেই। আবার কোথাও বাতি থাকলেও প্যানেল গায়েব। অনেক সড়কবাতি ব্যাটারি ও লাইটহীন। ব্যাটারির স্থানে পাখিরা বাসা বেধেছে। কখনো খোঁজখবর রাখেননি বা মেরামতের প্রয়োজনও বোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। তিন বছর পর্যন্ত দেখভালের কথা থাকলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। এ সব সোলার লাইটগুলোর বর্তমানে দেখভালের দায়িত্ব কার এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষের!

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় টিআর-কাবিখা বরাদ্দের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬টি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০টি, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৩৩ টি, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২০০টি। মোট সড়ক বাতি- ৩৫৯ টি স্থাপন করা হয়েছে। যার মূল্য-২, ৩৭, ৫৮, ১০৮ টাকা ধরা হয়। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান রাস্তা মসজিদ মন্দির স্কুল কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের সামনে পথচারীদের সুবিধার্থে এ স্ট্রিট সোলার গুলো স্থাপন করা হয়। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশই নষ্ট ও চুরি হয়ে গিয়েছে। ঠিক কতটি স্ট্রিট লাইট নষ্ট বা চুরি হয়ে গেছে এর সঠিক তথ্য নেই দপ্তরে।

স্থানীয় জনসাধারণ বলেন, সোলার প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ ল্যাম্পপোস্টগুলো অধিকাংশ নষ্ট ও চুরি হয়ে গেছে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো আলোকিত থাকার পরিবর্তে অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এর ফলে নানা রকম দুর্ঘটনার পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়াও রাতে চলাচল করতে ও সমস্যায় পড়তে হয়। তাই অতিদ্রুত ল্যাম্পপোস্টগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরী।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুঠোফোন বলেন, এই প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, তাদের চুক্তির মেয়াদ তিন বছর ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষের পর সৌর বাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় এখন আপাতত কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রামে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন। শুরুতে তিনি জুলাই মাসের কার্যপত্র উত্থাপনের মাধ্যমে সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্যের সূচনা করেন।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ চৌধুরী, চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) গুলজার আহমদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মোঃ মাহফুজুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোঃ গিয়াস উদ্দিন, বিজিবির বালুজুরি বিওপির কমান্ডার মোঃ বজলুর রহমান, ইউপিডিএফ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, ঘোলপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এ কে খোকন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন জামাল, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান, বিসিকের কর্মকর্তা জাফর আহমদ, সিংরাইশ মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ আ. ন. ম. মোখলেছুর রহমান নোমান, কমিটির সদস্য আয়শা রহমান প্রমুখ।

এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লতিফুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোবায়ের আহমদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওঃ এ কে এম শামছুদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, ফয়েজুন্নেছা মহিলা মাদরাসার সুপার মাওঃ আহসান উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের কার্যকরি সদস্য আনিছুর রহমান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, সন্ত্রাস, নাশকতা, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নানাবিধ সমস্যা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। এছাড়াও সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা এবং যথাযথ নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে চলতি এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ! বিজিবি’র হাতে যুবক আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মো: নাদের (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ। কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাধীন বৈদ্দেরখিল এলাকার ভারতীয় সীমান্ত পিলার নং-২১০৯/১৪ হতে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ‘রাঁধানগর’হয়ে তিনজন বাংলাদেশী নাগরিক চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে।

এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের দেখে ফেলে এবং আটকের উদ্দেশ্যে তাড়া করে। বিএসএফ এর তাড়া খেয়ে অজ্ঞাতনামা দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক দৌড়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও মো: নাদের নামে একজন বাংলাদেশী নাগরিক বিএসএফ এর হাতে আটক হন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন চৌদ্দগ্রাম বিওপি’র দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে।

বিএসএফ কমান্ড্যান্ট ও কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর কমান্ডারের মধ্যকার আলোচনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অবলম্বন করত: বিএসএফ এর হাতে আটককৃত যুবককে সীমান্ত পিলার নং-২১০৯/১৪ হতে ৫ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এনে বিজিবি’র নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃত যুবককে চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

আটককৃত ব্যক্তি সহ পলাতক অপর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় অবৈধভাবে (পাসপোর্ট বিহীন) সীমান্ত অতিক্রম করে ভিন দেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ের এক যুবককে আটক করেছে বিজিবি। বিকেলে তাকে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।

কুকসু দাবীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট‚ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে-(কুবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (কুকসু) দাবীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কালার-স্প্রে করে সৌন্দর্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সমালোচনার মুখে পরেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আনুমানিক দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মূল ফটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কালো ও নীল রঙের স্প্রে দিয়ে ‘কুকসু চাই’ লিখেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের শাস্তির দাবী জানান।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সালমান হোসেন বলেন‚ ‘আপনি কুকসু চাইতে পারেন। এটা আপনার অধিকার‚ কিন্তু তাই বলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করার অধিকার তো কেউ আপনাদের দেয় নাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করলে তো হবে না। সৌন্দর্য নষ্ট করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্তা নিতে হবে প্রশাসনকে।’

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মো. হান্নান রহিম বলেন‚ ‘কুকসু সকল শিক্ষার্থীর দাবী। কিন্তু এভাবে গেইট নোংরা করে দাবী আদায় করতে গেলে শিক্ষার্থীদের দ্বারাই সমালোচিত হবে। এটা খুবই লেইম একটা কাজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট ক্যাম্পাসের মূল সৌন্দর্য।’ এ ছাড়াও তিনি “প্রশাসনের জায়গা থেকে জবাবদিহিতা চাইবে, তাদের শো-কজ করবে।”—বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

দেয়াল লিখনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্টের দায় স্বীকার করে নাঈম ভূইয়া বলেন‚ ‘আমরা যখন এটা করেছি আমাদের ধারণা ছিলো না যে এটার কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হবে। এ কাজটা অযৌক্তিক হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার।’

এক হাতে লাল কার্ড, অন্য হাতে গাছের চারা— দেবিদ্বারে ২শত শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমী শপথ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে গাছের চারা কিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছেন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা। সেই সঙ্গে গাছের চারা হাতে নিয়ে মাদক, বাল্যবিয়ে ও অপরাধকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে দেশপ্রেমের শপথ নিয়েছে ২০০ শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার  দুপুরে উপজেলার বরকামতা নলিণী শিক্ষা নিকেতন বিদ্যালয় মাঠে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা কাওসার আলম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জ্যোৎস্না রানী কর, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ ভূঁইয়া, দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সভাপতি ইয়াছিন মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক রাগীব মাহতাব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিন জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ সরকার, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাহেদ ইসলামসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন আয়োজকরা। এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্যরা সবাই শিক্ষার্থী। তারা এক দিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে গাছের চারা কিনে সারা দেশে বিতরণ করছেন। এবছর আমরা ৫০ হাজার চারা বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু গাছ লাগানোর গুরুত্বই বুঝছে না, বরং মাদক, বাল্যবিয়ে ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে তাদের দিয়ে শপথ পাঠ করানো হয়, মাদক নয়, গাছ লাগাই; অপরাধ নয়, দেশ গড়াই।

চাঁদাবাজি ছিনতাই মামলায় লাকসাম পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ একাধিক মামলার আসামি পৌর যুব দলের যুগ্ম আহবায়ক সফিউল্লাহকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ।

এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক মোঃ আবুল কালামকে হুমকি দেন সফিউল্লার ভাই রায়হান। সাংবাদিক মোঃ আবুল কালামকে ফেসবুক লাইভে ‘দেখে নেয়ার’ এ হুমকি দেন রায়হান।

সাংবাদিক মোঃ আবুল কালাম জানান, ‘চাঁদাবাজির মামলায় শনিবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কসাই সফিউল্লাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। মুহুর্তে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে অনেকের ফোন পেয়ে আমি সংবাদ সংগ্রহে যাই । বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় ফেসবুকে তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দেই। মুহুর্তের মাঝে আমার স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই পোষ্টটি শেয়ার করেন। নেটিজেনদের অনেকেই সফিউল্লার গ্রেপ্তারের সংবাদে খুশি হয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ, ধন্যবাদ, সুন্দর, নাইস’সহ নানা কমেন্টস করেন। রাত ১১টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়া সফিউল্লার ছোট ভাই রেফায়েত হোসেন রায়হান তার ফেসবুক লাইভে আমার নাম ধরে এবং পোষ্ট শেয়ারকারীদের নাম ধরে ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দেন।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া সফিউল্লার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগে অন্ততঃ ৭টি মামলা রয়েছে।

লাকসাম হাউজিং এর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫ই আগস্টের পর লাকসামে মোঃ ছফিউল্লাহ ও তার ছোট ভাই রায়হান লাকসাম হাউজিং ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক চাদাবাজিসহ নানা কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পতিত আ’লীগের দোসরদের টাকার বিনিময়ে আশ্রয় দান, হাউজিং এস্টেটের জায়গা দখল করে অফিস নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ওই অফিসকে ‘হাউজিং থানা’ বলে থাকেন। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি এ অফিসে তারা দুই ভাই শালিস দরবার, লোকজনকে আটক করে এনে মারধর ও অর্থ আদায়, মাদক কেনাবেচা করে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় লোকজন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, ‘আমা‌দের সংবা‌দিক‌দের হুম‌কি ধমক দি‌য়ে সত্য প্রকাশ থে‌কে বিরত রাখা যা‌বে না। সাংবা‌দিক‌দের হুম‌কিদাতা‌কে দ্রুত গ্রেপ্তার ক‌রে দৃষ্টান্ত মূলক শা‌স্তির দা‌বি জানাই। না হয় সাংবা‌দিক সংগঠনগু‌লো কর্মসূ‌চি দি‌তে বাধ্যা হ‌বে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সফিউল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ছিল। তাকে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ক্ষমতায় গেলে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার শিশুদের জন্য কিংবা শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য তেমন কিছু করেনি। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ফখরুল বলেন, ‘যারা গুম হয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে দিতে না পারলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছু করার সুযোগ আছে। তাদের জন্য কিছু না করলে সবাই দায়ী থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেই ভালো ভালো জায়গা দখল করেছে, মন্ত্রী হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য দখলে নিয়েছে, কিন্তু যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের দিকে কেউ তাকায়নি।’

নিখোঁজ সদস্যদের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গুম কমিশন প্রতিবেদন দাখিল করলেও নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

সংস্কার যদি মানুষের কল্যাণে না আসে, তাহলে সেই সংস্কার কোনো কাজে আসে না।’