All posts by jitu

প্রবাসীর বউয়ের সাথে আ’লীগ নেতার পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে লাইভে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ নেতার সাথে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে লাইভে রেখে রুমন (৩৫) নামের এক ওমান প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৬শে জুলাই) দুপুর বাংলাদেশ সময় ১২ ঘটিকায় ওমানের সালালাহ এলাকায়। ওমান থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নিহত রুমনের ভায়রা ওবায়দুল হক। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ইশানচন্দ্রনগর গ্রামে ওই প্রবাসীর বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ বছর আগে পারিবারিক পছন্দে খালাতো বোনের সাথে রুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাস পর রুমন ওমান চলে যায়। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রুমন খালাতো বোন পান্নার ইচ্ছানুযায়ী শ্বশুর ভাড়িতে অবস্থান করতে থাকে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও কলহের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রুমন স্ত্রীর সাথে লাইভ ভিডিও কলে একটি ভিডিও নিয়ে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রুমন স্ত্রীকে লাইভে রেখেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

রুমনের স্ত্রী পান্না আক্তার জানায়, ‘আমাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করছে দেখে লাইভ কল কেটে একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করা আমার মামাতো বোনের জামাই ওবায়দুল হককে বিষয়টি জানাই। সে গিয়ে দেখে স্বামী ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। তখন আমি জানতে পারি স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।’
তবে যে ভিডিও নিয়ে ঝগড়ায় আত্মহত্যা সেই ভিডিওর কথা অস্বীকার করেন পান্না।

রুমনের মা জানান, ‘আমি শখ করে বোনের মেয়েকে পছন্দ  করে বিয়ে করাই। বিয়ের পর থেকে তারা আলাদা থাকে। আমার খোঁজখবর রাখতোনা। লোক মারফত জানতে পারি আমার পুত্রবধূ পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে। যদি এই কারণে আমার ছেলে আত্মহত্যা করে থাকে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নিহতের ভাই আবদুল মমিন জানায়, ‘বিয়ের পর ভাই শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে। ভাই প্রবাসে থাকার সুবাধে ভাবী পান্না বেগম স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল কাদেরের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তখন দলীয় দাফটের কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করতে পারিনি।’

ইশানচব্দ্র গ্রামের চা দোকানদার লিটন মিয়া জানান, ‘আওয়ামী দলীয় প্রভাবের কারণে আমার ছোট ভাই রুমনের স্ত্রী পান্নাকে সংশোধনে চেষ্টা করলে পরকীয়া প্রেমিক আওয়ামী নেতা কাদের হুমকি ধামকি দিত।’

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির বলেন, আমি তার বাবার সাথে একটি জমি ক্রয় করার পর  ঘর করে দিয়েছি এই জন্য আমার সাথে সম্পর্ক, ঐ জমি ক্রয় করার সুবাদে সত্রুতা কারণে আমি আওয়ামীলীগ করার জন্য আমার কে এই অভিযোগ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যদি করি থাকি আমার বিচার আল্লাহ তায়ালা করুন। অপরদিকে প্রবাস থেকে নিহতের ভায়রা ওবায়দুল হক জানান, ‘ফুফাতো শ্যালিকা পান্নার ফোন পেয়ে ওমানের সালালাহ এলাকায় গিয়ে দেখি একটি টিনশেড ঘরে রুমনের লাশ ঝুলছে। তাৎক্ষনিক খবরটি দেশে জানাই।’

দাউদকান্দিতে আলোচিত ২৩ মামলার আসামী মামুন সম্রাট হত্যার দুইদিন পর মামলা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ২৩ মামলার আসামী মামুন সম্রাটকে(৩৮) কুপিয়ে হত্যার দুই দিন পর মামলা হয়েছে।

আজ রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নিহত মামুনের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে নাম উল্লেখ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত মামুন তিতাসের শোলাকান্দি গ্রামের মোশারফ হোসেন ওরফে মকবুল মেম্বারের ছেলে। তিনি গৌরীপুর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দাউদকান্দির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে দুবৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত মামুনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় হত্যা, ধর্ষণ, মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মামুনের প্রকৃত নাম আবদুল্লাহ আল-মামুন হলেও এলাকার মানুষ তাঁকে ‘মামুন সম্রাট’ হিসেবেই চিনতেন। তিতাস ছাড়াও দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ কিশোর গ্যাং চালাতেন তিনি। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৩ মে রাতে মাদকসহ যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রায় এক মাস কারাগারে থেকে জামিনে মুক্ত হন। কোনো রাজনৈতিক দলের পদে না থাকলেও এলাকায় তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এসব কারণে তাঁর ওপর হামলা হতে পারে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থলের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। তবে দুর্বৃত্তদের মুখে মাস্ক এবং সিসিটিভির ফুটেজ থেকে দূরে থাকায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হত্যাকারীদের সনাক্তকরন এবং গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাঁধ ভেঙে উপকূলের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাঁধ ভেঙে উপকূলের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাঁধ ভেঙে উপকূলের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষের জনজীবন। উপজেলার প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুদিন বন্ধ থাকার পর হাতিয়ায় সঙ্গে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নিঝুম দ্বীপসহ নিম্নাঞ্চল থেকে জোয়ারের পানি নামতে শুরু করেছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাঁধ ভেঙে উপকূলের মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত

রোববার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে দ্বীপটির সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ শুরু হয়। উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে সীট্রাক নলচিরা ঘাটে পৌঁছেছে। দুপুরের দিকে নলচিরা ঘাট থেকে যাত্রীবাহী এক ট্রলার চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছে।

স্থানীয়রা জানায়, টানা বৃষ্টি ও অসাভাবিক জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের ও কাঁচা বাড়ি-ঘরের। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষ। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি রয়েছেন বেড়িবাঁধের বাইরের বেশ কিছু পরিবার। জোয়ারে সুখচর ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যায়। এসব এলাকায় জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও মাছের ঘের। সুখচর ছাড়াও নলচিরা, চরইস্বর। এছাড়া নিঝুম দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চর এই চরাঞ্চলগুলোতেও ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অমাবস্যা ও নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারে তুপানিয়া, আল-আমিন গ্রাম ও নলচিরা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরদিকে গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে জেলা শহর মাইজদীসহ সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেন ও খালে ময়লা আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি নামতে না পারায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, জোয়ারের পানিতে এখানকার বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কিছু বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় হাতিয়ার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

দেশের বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষা করছে: খসরু

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করছে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে সফল করতে হলে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার আসতে হবে। দেশের বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষা করছে।

আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভাজন হচ্ছে। তবে আন্দোলন হাইজ্যাক করার সুযোগ নেই। যাদের নির্বাচন ভীতি রয়েছে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনকে ভয় পায়, তাদের রাজনীতির দরকার নেই। তারা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করুক। এনজিও হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনি রাজনীতিও করবেন, আবার নির্বাচনেও যাবেন না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবেন, এটা তো হতে পারে না। জুলাই আন্দোলন নতুন কিছু না। বাংলাদেশের মানুষের ডিএনএতে আছে। হাসিনার যাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি ছিল না। ৫ আগস্ট তার পতন না হলে আমরা বাড়ি ফিরে যেতাম না। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকত।’

তিনি আরও বলেন, দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করছে না, হচ্ছে না বিদেশি বিনিয়োগও। বিপ্লবের পর যেসব দেশ নির্বাচন বিমুখ হয়েছে সেসব দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দায়বদ্ধ প্রশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল মালিকানা ফিরে পাওয়া, সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া। আমরা আন্দোলনের জায়গাটাতে কোনো বিভাজন চাই না। বিএনপির নেতকর্মী আহত-নিহত বেশি হলেও বিএনপি আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করেনি। আন্দোলনকে সফল করতে হলে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার আসতে হবে। আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষা করছে। গণতন্ত্রের একমাত্র ভালো দিক হচ্ছে, সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জবাবদিহির ভয়ে থাকেন।’

মাইলস্টোনে নিহত দেবিদ্বারের মাহতাবের সমাধিতে বিমান বাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাহতাবের বাড়িতে এসে স্বজনদের সাথে দেখা করেছেন বিমান বাহিনীর প্রতিনিধি দল।

রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে মাহতাবের গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের উখারী গ্রামে আসেন তারা৷ বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধি দল নিহত মো. মাহতাব রহমান ভুইয়ার সমাধীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. আতিক হাসান পিএসসি, মাহতাবের বাবা মো. মিনহাজুর রহমান ভুইয়া।

 

উইং কমান্ডার আতিক হাসান বলেন, বিমান বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে প্রয়াত মাহাতাবের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। আমরা শোকাহত। সারাদেশবাসী দোয়া করছি যেন এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারি। যারা আহত আছেন তারাও যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পরে আমরা দোয়া করছি।

মাইলস্টোন ট্রাজেডির তদন্তের বিষয়ে উইং কমান্ডার আতিক হাসান জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে তা আইএসপিআর এর মাধ্যমে জানানো হবে।

মাহতাবের বাবা মো. মিনহাজুর রহমান ভুইয়া বলেন, সারদেশের মানুষ আমার সন্তানের জন্য দোয়া করেছে আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি চাই আমার ছেলে যেন শহীদের মর্যাদা পায় – এই দোয়া করি।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল ছুটির আগ মুহুর্তে স্কুলের ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হতাহত হন। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির মাহতাব রহমান ভূঁইয়া গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ তলার আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ১১ নম্বর বেডে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে মাহতাবের মৃত্যু হয়। ওইদিন রাতেই দেবিদ্বার উখারি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

যে কারণে পদত্যাগ করলেন মুরাদনগর উপজেলার বৈষম্যবিরোধী নেত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র খাদিজা আক্তার কেয়া।

শনিবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন।

খাদিজা আক্তার কেয়া মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের বাসিন্দা মৃত কবির হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে তিনি কোম্পানিগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের পর একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছিলাম মুরাদনগর থেকে। সেই অভ্যুত্থানে আমাদের হাজারো ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন। আমি তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি না। তাই আমি নিজেই এসব কিছু থেকে সরে দাঁড়ালাম। আজ (শনিবার) থেকে এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।’

তিনি লেখেন, ‘যার জন্য করলাম চুরি, সেই বলে চোর! এটা আমার ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য হবে না, কে বলল? আপনারা সবাই জানেন, আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল কর্মী ছিলাম। কিন্তু আজকের পর থেকে এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

কেয়া আরও লেখেন, ‘দেশের স্বার্থে আমি সবসময় লড়াই করে যাব। আমাকে সবসময় দেশের পক্ষে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।’

তার ভাষ্যমতে, ‘সম্প্রতি কুমিল্লা টাউনহল মাঠে এনসিপির পদযাত্রায় পতিত আওয়ামী লীগের লোকজন সামনের সারিতে ছিল। যারা আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বাধা দিয়েছিল। এ বিষয়গুলো আমাদের শহীদের সঙ্গে বেইমানি করা হচ্ছে। এগুলো দেখে এ প্ল্যাটফর্মে আমি থাকতে চাচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার ফেসবুকে সব স্পষ্ট করে জানিয়েছি। আজ রবিবার লিখিত পদত্যাগপত্র দেব।’

পোস্টে সব স্পষ্ট করা হয়েছে জানিয়ে খাদিজা আক্তার কেয়া বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। তবে দেশের স্বার্থে ও সংস্কারের পক্ষে আমি সবসময় সংগ্রামে থাকব।’

তবে কেয়ার এ পদত্যাগের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্য নেতৃবৃন্দ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।

১৭৫ দিনে কোরআনে হাফেজ শাহরাস্তির শিশু তানভীর

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামের এক পান দোকানদারের আট বছরের ছেলে মাত্র ৫ মাস ২৫ দিনে পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শিশুটির নাম ছায়েদুজ্জামান তানভীর। তার বাবা মোহাম্মদ নূরুন্নবী পেশায় একজন পান বিক্রেতা, কিন্তু আজ তার গর্বিত পরিচয়— একজন হাফেজে কোরআনের জনক!

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে শাহরাস্তি দারুল কুরআন মাদ্রাসায় আয়োজিত ছবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তানভীরকে হাফেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে আরও ৩৩ জন ছাত্রকে ছবক প্রদান করা হয়, যারা প্রত্যেকে নিজ নিজ সাফল্যের গল্প নিয়ে অভিভাবকসহ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফি। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই বয়সে যারা কোরআন হিফজ করছে, তারা জাতির জন্য আশার আলো। এদের চোখে তাকালে ভবিষ্যতের উজ্জ্বল বাংলাদেশ দেখা যায়।” বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মন্টু, ও সাংবাদিক শাহ আলম ভূঁইয়া। তারা প্রত্যেকে তানভীরের কৃতিত্বে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বুলবুলি জানান, “তানভীর ছিল খুব শান্ত ও মনোযোগী। প্রতিদিনের হিফজ ছিল নিখুঁত। আমরা অনেক ছেলেকে হাফেজ করেছি, কিন্তু এভাবে মাত্র পাঁচ মাসে হাফেজ হওয়া বিরল।”

তিনি আরও জানান, এর আগেও উক্ত মাদ্রাসা থেকে মাত্র ৪ মাসে একজন ছাত্র হাফেজ হওয়ার নজির রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই ছবক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিটি ছাত্রের চোখে ছিলো গর্ব, আর অভিভাবকদের চোখে ছিলো আনন্দাশ্রু।তানভীরের এই সাফল্য যেন বার্তা দেয়—পরিবার যতই সাধারণ হোক না কেন, স্বপ্ন যদি হয় পবিত্র, তাহলে সফলতা সম্ভব। এই ছোট্ট হাফেজ আজ শুধু তার পরিবারের নয়, শাহরাস্তির গর্ব।

ভরাসার হাই স্কুলের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে রেজিষ্ট্রেশন ফরম বিতরণ

বুড়িচং প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বুড়িচংয়ের ভরাসার হাই স্কুলের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে রেজিষ্ট্রেশন ফরম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।

শুক্রবার ( ২৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টায় ভরাসার হাই স্কুল অডিটোরিয়ামে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।

এটি উদ্বোধন করেন আহবায়ক কমিটি র আহবায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আবুল বাশার।

কোরান তেলওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব শামসুল হুদা এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ১৯৭১ সালের এসএসসি ব্যাচ বিশিষ্ট পরিবেশবিদ আবদুল মান্নান,’৭৬ ইন্জি :আবদুল মতিন ‘৭৭ ব্যাচ আবদুল খালেক,’৭৮ বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী আক্তারুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক সালেহ আহমেদ, মোহাম্মদ আলী মাস্টার’ ৮২, সাংবাদিক মো. মোসলেহ উদ্দিন ‘৮৩,জহিরুল ইসলাম, আবদুল হান্নান (বাবুল), সহকারী অধ্যাপক মাসুদ পারভেজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ মতিন এমবিএ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ ভূইয়া, ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম,বার্জার পেইন্ট এর প্রোডাক্ট ডাইরেক্টর ফারুক আহমেদ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর শরিফুল ইসলাম,মিনারা বেগম, সাবিনা আক্তার, শিরিন আক্তার,রুহুল আমিন, আবুল কাশেম, আবদুল মতিন, ডা :আহসান হাবীব, সিরাজুল ইসলাম খোকন,আবুল কাশেম, ইন্জি: মাকসুদুর রহমান রুবেল, আবু ইউসুফ বেগ, দিপু, নয়ন হোসেন, মানবাধিকার কর্মী মনির হোসেন প্রমূখ।

চার-পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা: মোস্তফা জামাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেছেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১৪ টি রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রসঙ্গে মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন তিনি আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করবেন। এর চেয়ে আনন্দের বার্তা আর কিছু হতে পারে না।’

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, নৈরাজ্যের সমাধান করবে নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

এর আগে দুই দফায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর আজ বিকালে আরও ১৪টি দল–জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনীতিবিদরা হলেন– জাতীয় গণফ্রন্ট নেতা আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস, ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, নেজামে ইসলাম পার্টি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদ নেতা ড. মুশতাক হোসেন, ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট নেতা ববি হাজ্জাজ, জাকের পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মার্কসবাদী- বাসদ সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মন্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার আদর্শ সদরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লালপাড়া এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‌‌‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সকালে পালপাড়া এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেকে) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ।

নিহতের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা মোল্লা জানায়, সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামগামী ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার আনুমানিক বয়স ৫৫। স্থানীয় লোকজনের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে লালপাড়া এলাকায় ঘুরাফেরা করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।