All posts by jitu

আইফোনের জন্যই কুবি শিক্ষকের ছেলেকে হত্যা: পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ছেলের নিখোঁজের খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট দেন অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি ছেলেকে দ্রুত খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

শনিবার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান সদর আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়ে তারা অনেকটা নিশ্চিত। ঘটনায় আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কুমিল্লায় প্রায় ২৪ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় ২৩ হাজার ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানাধীন জালুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. নয়ন (২৬) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার গোলাবাড়ী গ্রামের আব্দুর রব ভূঁইয়ার ছেলে ।

এসআরবি-১১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল জালুয়াপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে ২৩ হাজার ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসআরবি-১১ জানতে পারে, গ্রেপ্তার নয়ন দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন।

এসআরবি-১১ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

চৌদ্দগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মশাল মিছিল, আটক ৫

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড রায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মশাল মিছিল করেছে উপজেলা যুবলীগের একদল নেতাকর্মী। তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ নেতাকে আটক করেছে। শনিবার আটকের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ ৭ জনের মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করেন।

এরই প্রতিবাদে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের সংগঠক আরশ মজুমদারের নির্দেশে শুক্রবার রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট বাজার সংলগ্ন মুন্সিরহাট-বাঙ্গড্ডা সড়কের বাসন্ডা ব্রিজ এলাকায় মাস্ক, হেলমেট পরিহিত যুবলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করে। রাতেই থানা পুলিশের পৃথক টিম অভিযান চালিয়ে ৫ নেতাকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলো; উজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম মেম্বার, ঘোলপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ নবী, ওয়ার্ড আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা ও পৌরসভা যুবলীগের নেতা মোঃ জনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন শনিবার বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছে আশ-পাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে কেউ ‘মিছিল হয়েছে’ এমন তথ্য দিতে পারেনি। তবে মিছিলের যে ভিডিও বা ছবি ভাইরাল হয়েছে সেটি আগের। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্বরোডে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অপরাধে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রকাশ রনি (৩২), নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান (৪১), চৌয়ারা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মনির হোসেন ফরাজী এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মোস্তফা (৪২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় একদল লোক হঠাৎ যুবলীগের ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্তে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযান শেষে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি জানায়, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় সম্পৃক্ত থাকায় ওই চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিখোঁজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের ম’রদে’হ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের নিখোঁজ একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। রাতে এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার।

১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ছেলেকে খুঁজে পেতে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন তার মা নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি জানান, মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়ার পর থেকে অপ্রতিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ১৩ বছরের ছেলে নিখোঁজ

ডেস্ক রিপোর্ট :

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার পর থেকে ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিমের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।

নিখোঁজ অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিখোঁজের সময় সে পাঞ্জাবি ছিল বলে জানিয়েছেন মা নাহিদা।

শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. নাহিদা জানান, বিকেল ৩টা থেকে তিনি ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অপ্রতিম তার মায়ের আইফোন নিয়ে বাইরে যায়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। ফোনটি তার সঙ্গে আছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন তিনি। ফোন নম্বর ট্র্যাক করেও অপ্রতিমের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান তিনি।

এ ঘটনা থানায় জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা অপ্রতিমের সন্ধানে কাজ করছেন বলে জানান তার মা। রাতভর অভিযান চালানোর পাশাপাশি অপ্রতিমের বন্ধুদের বাড়িতেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

সকালের আরেকটি ফেসবুক পোস্টে ড. নাহিদা জানান, অপ্রতিমের সন্ধানে অভিযান এখনও চলছে। তিনি এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন না করে ছেলেটির জন্য দোয়া এবং কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত জানাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে ড. নাহিদা বেগম জানান, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’

কেউ অপ্রতিমের সন্ধান পেলে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ০১৭১৯-৬২৫৬৯০ অথবা মা ড. নাহিদা বেগমের ০১৯৭৪-৮৮৮৬৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

চান্দিনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ৩ নেতাকর্মী আটক

চান্দিনা প্রতিনিধি:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, দাউদকান্দি ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী তীরচর-লাজৈর এলাকায় মিছিল করা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো- কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার হাটাশ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সারোয়ার (১৬), একই থানার দৌলবাড়ি গ্রামের মৃত শিশু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭) ও দেবিদ্বার উপজেলা ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সারোয়ার হোসেন রাকিব (৩০)।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়- দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন এর নেতৃত্বে শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে মুরাদনগরের লাজৈর থেকে একটি মিছিল বের হয়। ” শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে” এমন স্লোগান করে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলটি চান্দিনার তীরচরের দিকে আসার সময় ধাওয়া করে পুলিশ। এ সময় তিনজনকে আটক করলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ লেখা একটি ব্যানার ও বাংলাদেশের কয়েকটি পতাকা পাওয়া যায়।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান- আমরা মহাসড়কের টহলরত অবস্থায় তাদেরকে আটক করি। তবে যে স্থানটি থেকে তাদের আটক করা হয়েছে থানার সীমানার দিক থেকে ওই স্থানটি মুরাদনগর থানা এলাকার পড়েছে। সে হিসেবে তাদেরকে মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে আমরা হস্তান্তর করবো।

চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৪৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৪৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে এসব মদ জব্দ করা হয়।

চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) তাপস চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান খান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেজবাহ উদ্দিনসহ ফাঁড়ির সঙ্গীয় ফোর্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর অরণ্যপুর এলাকার নুর আলী মিয়ার বাড়ির রাজু নামের এক নারীর ঘর থেকে ৪৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে চকবাজার ফাড়ি পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামী দ্রুত পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, মাদক ও অবৈধ পণ্যের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের সরবরাহ, সংরক্ষণ ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি:

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আল বারাকা হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচার(সিজার) এর পর এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল ঘেরাও, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

একই সঙ্গে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতের কক্ষে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে সাড়ে ১২ লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে চিকিৎসাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদে বসে এ ধরনের বৈঠক করা যায় কি না, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এ বিষয়ে সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আইনগত ভাবে আমার পরিষদের গ্রাম্য আদালত পক্ষে এ ধরণের বৈঠক করতে পারি না। তবে সামাজিক ও মানবিক দিক চিন্তা করে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।

নিহত প্রসূতির নাম মোসা. পপি আক্তার (২১)। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের টাকই অহিদ সরকার বাড়ির মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা উঠলে পপি আক্তারকে উপজেলা সদরের আল বারাকা হাসপাতালে (সাবেক ভিশন হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার(সিজার) এর মাধ্যমে তাঁর সন্তান প্রসব করানো হয়। ৭ সেপ্টেম্বর পপি ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, বাড়িতে ফেরার পর থেকেই পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কাটার পর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে পুনরায় আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সেলাই কেটে দিয়ে গুরুতর কোনো সমস্যা নেই বলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে দাবি পরিবারের।

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৩টায় তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় অস্ত্রোপচার করেন এবং পরবর্তী সময়ে আইসিইউতে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় তাঁকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে পপি আক্তারের মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

এদিকে, পপির শারীরিক অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আল বারাকা হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে নিহতের মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী আবারও আল বারাকা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়।

পরিবারের দাবি, আল বারাকা হাসপাতালে করা অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই পপি আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

প্রসূতির মৃত্যুর পর স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে বিষয়টি রফাদফার চেষ্টা এবং সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফার অভিযোগও সামনে এসেছে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর জানান, বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মনিরুল ইসলামকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা আল বারাকা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা আবার হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।