All posts by jitu

কুবি শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনব্যাপী ইয়্যুর ক্যাম্পাসের কার্যক্রম নিয়ে ক্যাম্পেইন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

ইয়্যুর ক্যাম্পাসের সেবা নিয়ে ইয়্যুর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পাচজন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আরও সহজ, স্মার্ট করার লক্ষ্যে একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে ৯ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত, মোট পনেরোদিনব্যাপী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তিনটি অনুষদ, পাঁচটি হলে ইয়্যুর ক্যাম্পাস পিআর টিম শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সেবার মাধ্যমে উপকৃত করার লক্ষ্যে একাধিক কার্যক্রম চালায়।ক্যাম্পাসে বুথ স্থাপন ,বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচারপত্র বিলি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখ, প্রত্যেকটি অনুষদে, হলগুলোতে পোস্টার লাগানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ডোর টু ডোর প্রচরণা এবং তিনটি অনুষদের বেশ কয়েকটা ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ তাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রচারপত্র, পোস্টার এবং লিফলেটে ইয়্যুর ক্যাম্পাসের কার্যক্রম, কুবিতে কী কী সেবা চালু আছে, সেবাগুলো সহজে কীভাবে পেতে পারে, কীভাবে সহজে ব্যবহার করতে পারবে এবং আপকামিং সেবা কী কী আসবে সে সম্পর্কে এবং তাদের সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবন কীভাবে সহজ ও স্মার্ট হচ্ছে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এছাড়াও কোন সমস্যা হলে কীভাবে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে, এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে পিআর টিম।

এ বিষয়ে ইয়্যুর ক্যাম্পাসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিলজার রহমান ম্যাচেল বলেন, “এ উদ্যোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি দিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। আমাদের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে নেওয়া; যেন তারা দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ স্মার্ট করতে পারে।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের আরেকটি সেবা আসছে ইয়্যুর লকার যেটাতে শিক্ষার্থীরা আরও উপকৃত করবে।’’

উক্ত ক্যাম্পেইনের পরিচালকদের একজন মরিয়াম আক্তার শিল্পী বলেন, “ ‘আমরা একটি কোর্সের অধীনে ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করছি। আমাদের এসাইনমেন্ট ছিলো একটি ক্যাম্পেইন করা এবং যেহেতু সম্প্রতি ইয়্যুর ক্যাম্পাসের সেবা প্রদান করেছে কিন্তু এই বিষয়ে অনেকেই অবগত নন। তাই আমরা এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে অবগত এবং তাদের জীবনকে আরও আধুনিক করার জন্য আমরা এই প্রচারণা করেছি।”

উল্লেখ্য, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের ‘পাবলিক রিলেশনস’ কোর্সের অধীনের ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করেছে।

কুমিল্লাসহ ১৫ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ডেস্ক রিপোর্ট:

সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ের আভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানা যায়।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের সই করা সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের ওপর দিয়ে ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় ১৫ জেলার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

চৌদ্দগ্রামে বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষীরা, নিমজ্জিত আমনের বীজতলা

স্টাফ রিপোর্টার:

“ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়” প্রবাদ বাক্যের মতো পরিস্থিতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামবাসীর। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি না ভুলতেই চলতি বর্ষায় গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত বছরেরর মতো আতঙ্কিত সবাই। নীচু এলাকা গুলোতে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত আমন বীজতলা ও সবজি খেত। আতঙ্কিত মৎস ও পোল্ট্রি খামারিরা। পানি উঠেছে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী নীচু বসতভিটা গুলোতে। উপজেলার পৌরসভা ও দক্ষিণের আলকরা, জগন্নাথ, চিওড়া ও গুনবতী ইউনিয়নের অনেক গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার বালুজুরি খালের গত বছরের বন্যায় ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় আশপাশের এলাকা দিয়ে। যার ফলে নিমজ্জিত হয় অনেক আমন বীজতলা। পানি প্রবাহিত হচ্ছে গ্রামীন সড়ক গুলোর উপর দিয়ে। পোরসভার গোমারবাড়ি গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, যেভাবে ভারতের দিক থেকে আসা পানি প্রবাহিত হচ্ছে তাতে ভয়ে আছি গত বছরের মতো হঠাৎ ঘরে পানি উঠে যায় কি না।

একই চিত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে উপজেলার সব’কটি ইউনিয়নের। এরমধ্যে ফেনীর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে পানি বেড়েছে। জগন্নাথদিঘী, চিওড়া, গুনবতী ও আলকরা ইউনিয়নের অনেক গ্রামীন সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। মৎস চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষের মাছ রক্ষার্থে জলাশয়ের চারপাশে নেটের বেড়া দেয়ায়। তবে ইতোমধ্যে নীচু এলাকার কিছু জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের বন্যায় উপজেলার অনেক কৃষক আমন রোপন করতে পারেনি। এই মৌসুমে আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৮,১৯০ হেক্টর। ইতোমধ্যে ২৫০০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেককে পাঁচ কেজি করে বীজ ধান, বিশ কেজি সার প্রদান করা হয়। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে নিমজ্জিত হয়েছে উপজেলার অনেক কৃষকের আমন বীজতলা। উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘আমার তিনটি আলাদা আমন বীজতলা এখন পানিতে নিমজ্জিত। ২/৩ দিনের মধ্যে পানি নেমে না গেলে তা নষ্ট হয়ে যাবে।’

উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে সরব রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন। সরানো হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন খাল বিলে মানবসৃষ্ট পানির প্রতিবন্ধকতা। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, ‘বন্যার আশঙ্কায় পানি প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে গত মাসেই তিনটি খাল খনন ও পরিস্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি।’

ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণে গোমতী নদীর পানি বাড়ছে, তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে টানা বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি, যার কারণে সেখানে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় সরেজমিনে টিক্কার চর, চানপুর ব্রিজ ও সংরাইশ এলাকায় দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে কিছু চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এছাড়া, গোমতীর পাড়ে গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পানি ঢুকে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে উঠে আসছেন। কেউ কেউ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জগন্নাথপুরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সকালে উঠে দেখি পানি বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা আতঙ্কে আছি। গত বছর বন্যায় ঘর ভেসে গিয়েছিল, এবারও যদি তাই হয়, তাহলে আবার রাস্তায় থাকতে হবে।”

টিক্কার চর এলাকার রিয়াজ মিয়া জানান, “গতকাল বিকেলেও এত পানি ছিল না। আজ সকালে উঠে দেখি পানি অনেক বেড়েছে। এভাবে বাড়লে বিকেলের মধ্যে পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গোমতীর পানি এখনো বিপদসীমার প্রায় ২.৮ মিটার নিচে রয়েছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন, “ভারতের উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গোমতীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ মিটার বেড়েছে। উজানের পানি আসতে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।”

বুড়িচং উপজেলার ইউএনও তানভির আহমেদ জানান, “পানি এখনো বিপদসীমার ৯ ফুট নিচে আছে। আতঙ্কের কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং গোমতীর চরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।”

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, “মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে এবং এমন অবস্থা আরও ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চলতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।”

সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের প্রতি হুমকি জুলাই চেতনার পরিপন্থী- জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে ও ডিইউজের বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সোমবার (৭ জুলাই/২৫) এক বিবৃতিতে মিডিয়ার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ, হুমকি প্রদানের ঘটনায় নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জুলাই আন্দোলনের এক নেতা কর্তৃক মিডিয়াকে হুমকি প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বিবৃতিতে বলেন, মিডিয়াকে হুমকি প্রদানের ঘটনা এবং মিডিয়াকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার প্রবণতা জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী।

জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান যেসব কারণে সংঘটিত হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। মিডিয়াকে হুমকি দেওয়া সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্তরায় ও হস্তক্ষেপের শামিল।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মিডিয়ার ভূমিকায় কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের জন্য প্রেস কাউন্সিল রয়েছে। প্রচলিত আইনের বিধি অনুযায়ী আদালতেও যাওয়া যায়। কিন্তু এই হুমকি দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠা, চর্চা ও বিকাশের প্রতিবন্ধক বলে আমরা মনে করি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সাধাণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এক বিবৃতিতে মিডিয়ার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ, হুমকি প্রদানের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার শাসনামলে রুদ্ধবাক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য। সেই চেতনা থেকে সরে এসে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতাদের কেউ কেউ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও হুমকি দিয়ে চলেছেন। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে না দিয়ে উল্টো এ ধরনের হুমকি প্রদর্শন নিতান্ত অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। রবিবার রাজশাহীতে এনসিপির অন্যতম একজন শীর্ষ নেতা যে হুমকি দিয়েছেন, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধক।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ওই এনসিপি নেতার বক্তব্যে আমরা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকদের হুমকি কিংবা মব জাস্টিসের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত করেনি।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুমকিদাতা এনসিপির ওই নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ৬০ জনের বেশি সাংবাদিক খুন হয়েছেন। শুধু জুলাই বিপ্লবের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬ জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের আন্দোলনের সমর্থনে সাংবাদিকরা নিয়মিত রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যেসব কারণে সংঘটিত হয়েছিল, তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। আজ এনসিপি নেতা সাংবাদিকদের যে হুমকি দিয়েছেন তা জুলাই বিপ্লবের চেতনাবিরোধী। জুলাই বিপ্লবের একজন ছাত্রনেতার কাছে এটা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল না।

বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা আরো বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আমরা অতীতেও এ ধরনের অযাচিত ও অন্যায় হস্তক্ষেপ মেনে নেইনি, এখনও মেনে নেবো না।

মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে কারও কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সেগুলোর প্রতিবিধানের জন্য আইন, আদালত ও প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট মহলকে এ ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।

মুরাদনগর ধর্ষণকাণ্ড: অবশেষে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মুরাদনগরের পাঁচকিত্তার বাহেরচর গ্রামের আলোচিত ধর্ষণকান্ডের ভুক্তভোগী নারীর অবশেষে ডাক্তারি পরীক্ষা (ফরেনসিক) সম্পন্ন হয়েছে। অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে ও বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার ২৫ বছর বয়সী ওই নারীকে পুলিশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ভুক্তভোগী নারীর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এর আগে ঘটনার পরদিন ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে নিয়ে পুলিশ ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রথমদিকে রাজি থাকলেও পরে বিদেশে অবস্থানরত তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার পর পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে ঘটনার ১২ দিনের মাথায় ধর্ষণের শিকার ওই নারী ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে স্বেচ্ছায় রাজি হলে সেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

বুধবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর গত ২৭ জুন দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ভুক্তভোগী নারী তার মত বদলান। তিনি কর্তব্যরত চিকিসককে জানিয়ে দেন, পরীক্ষাতে তার সম্মতি নেই। যে কারণে ওই সময় পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে পারেননি চিকিৎসক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, আইনানুযায়ী ভুক্তভোগী নারী ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে না চাইলে তাঁকে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এ জন্য ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা নিয়েও তিনি এখন তাঁর পিত্রালয়ে থাকছেন না। নিজের হেফাজতে অন্যত্র থাকলেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ডাক্তারি পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝে স্বেচ্ছায় রাজি হলে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা না হলে ধর্ষণ হয়েছে প্রমাণ করা কঠিন হতো। এখন এই পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় এটি মামলার তদন্তের জন্য ইতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণের সময় ভুক্তভোগী নারীর পরনে থাকা পোশাকসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন রাতে মুরাদনগরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর নির্যাতন, নিপীড়ন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলী গ্রেফতার হলেও তিনি এখনো পুলিশ হেফাজত থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এস এম সাইফুল হাছিব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ফজর আলীর হাতে ও পায়ের চারটি স্থানে হাড় ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা-ছেঁড়া রয়েছে। ক্ষত শুকানোর পর অস্ত্রোপচার করতে হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, ফজর আলীর অবস্থা এখনো তেমন উন্নতির দিকে যায়নি। তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে নিপীড়ন ও বিবস্ত্রের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরান পর্নোগ্রাফি মামলায় আটক হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। আজ বুধবার শাহপরানের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার চারজনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ডে, শাহ পরানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণের শিকার নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ছড়ানোর ‘মূলহোতা’ শাহ পরানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত শাহপরান ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীর আপন ছোট ভাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন ও বিবস্ত্রের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ‘মূলহোতা’ শাহ পরানের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে গত ৬ জুলাই কুমিল্লা আদালতে আবেদন করা হয়।

বুধবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে কুমিল্লার আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৩ জনকে হত্যা: ৮ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে দুই সন্তানসহ নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আটজনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিরা হলেন, কড়ইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৫৫), রবিউল আওয়াল (৫৫), আতিকুর রহমান (৪২), মো. বায়েজ মাস্টার (৪৩), দুলাল (৪৫), আকাশ (২৪), মো. সবির আহমেদ (৪৮) ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসআই নয়ন কুমার বলেন, দেশ ব্যাপী আলোচিত কুমিল্লার মুরাদনগরের দুই সন্তানসহ নারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ আসামীর রিমান্ড চাওয়া হয় গত ৭ জুলাই বিকেলে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ওই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লার আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামীর ৩দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি বলেন, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে বাকি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল, উদ্দেশ্য কী সকল পরিকল্পনা বেরিয়ে আসবে।

এর আগে বাঙ্গরা থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলাটি গুরুত্ব বিবেচনায় গত ৭ জুলাই বিকেলে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন বাঙ্গরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই সকালে উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে ‘মব’ সৃষ্টি করে মা, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কড়ইবাড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯)।

এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৭)।

হত্যার ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন নিহত রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় স্থানীয় আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহকে। এরই মধ্যে এ মামলায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ১০টি ভাঙন, কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফেনীতে ভারি বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত দশটি স্থান ভেঙে গেছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাত থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম ধনীকুন্ডা, নোয়াপুর, শালধর এলাকায় তিনটি, ফুলগাজী উপজেলার দেড়পাড়ায় দুইটি, নাপিত কোনায় একটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সিলোনিয়া নদীর মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম গদানগর, জঙ্গলঘোনা, উত্তর মনিপুর দাসপাড়া ও মেলাঘর কবরস্থানের পাশে চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ।

এদিকে রাতে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ফুলগাজী পরশুরাম উপজেলা পরিদর্শন করেছেন। এইসব এলাকার ৪৩ টি স্কুল মাদ্রাসাতে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা বন্ধ না করায় শিক্ষককে মারধর করলেন মাদ্রাসা সুপার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বৃষ্টির কারণে চলমান অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ না করায় সহ-সুপারকে লাঞ্ছিত করেছে সুপার আকবর হোসেন। মঙ্গলবার উপজেলার শিলরী হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। আহত সহ উপার মাওলানা হাফেজ আহমেদ কনকাপৈত ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির এক ও অভিন্ন প্রশ্নের আলোকে মাদ্রাসাগুলোতে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা-২০২৫ চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে নয়টায় মাদ্রাসার সুপার আকবর হোসেন সহকারী সুপার মাওলানা হাফেজ আহমেদকে টেলিফোনে পরীক্ষা বন্ধ রাখার জন্য বলে। এ সময় সহকারী সুপার হাফেজ আহমেদ ২০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৮ জন উপস্থিত হয়েছে মর্মে জানান।এর উত্তরে মাদ্রাসা সুপার আকবর হোসেন সকাল সাড়ে দশটায় পরীক্ষা আরম্ভ করার জন্য সহ সুপারকে নির্দেশ দেন।

বিষয়টি সহ সুপার হাফেজ আহমেদ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হোসেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভূঁইয়াকে অবহিত করলে তিনি পরীক্ষা চলমান রাখার নির্দেশ দেন। বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটের সময় সুপার আকবর হোসেন মাদ্রাসায় গিয়ে সহকারী সুপার হাফেজ আহমেদের সাথে তর্ক বিতর্কে জড়িত হয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে সহকারী সুপারকে গালমন্দ সহ কিল ঘুষি দিয়ে জখম করেন । এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে মাদ্রাসা সুপার আকবর হোসেন সহ সুপার মাওলানা হাফেজ আহমদকে হুমকি দিয়ে মাদ্রাসায় না যাওয়ার জন্য বলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ জুলাই একই আচরণ করেন মাদ্রাসা সুপার আকবর হোসেন।

এদিকে সহ সুপার মাওলানা হাফেজ আহমেদ নিয়োগের পর মাদ্রাসার কালেকশনকৃত টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কারণে সুপার আকবর হোসেন বিভিন্ন সময় তাকে হেনস্থা করেন। মাদ্রাসা সুপারের এরপূর্বের সহকারী সুপারকে মারধর করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।