All posts by jitu

পরিবারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ছেলে!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আপন মা-বোনের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় মধ্যরাতে শামছুল আলম বাবু (২৬) নামের এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মাদকাসক্তি পূর্নবানস কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের কবরুয়া গ্রামে। আপন ছেলেকে মা-বোনের নির্দেশে তুলে নেয়ার ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন জানান, ছেলেটিকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে আজ রাতের মধ্যে নিয়ে আসার বিষয়ে তার মা-বোনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কবরুয়া গ্রামের কুয়েক প্রবাসী মোখলেস মিয়ার বড় ছেলে শামছুল আলম বাবু। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রী বাবু এলাকায় ভালো এবং কর্মঠ ছেলে হিসেবে পরিচিত। মাদকের সাথে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা তার নেই। দীর্ঘদিন ধরে মা-বোনের অনৈতিক কাজের বাঁধা দিয়ে আসছিল বাবু। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৭ই জুলাই) মধ্যরাতে বাবুকে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত পরিচয়ধারী ৭-৮জন যুবক। তুলে নেয়ার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়লে পুরো এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ সময় তারা বাবুকে মারধর করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে গ্রামবাসী বাবুর বাড়িতে গিয়ে তার মা ও বোনকে জিজ্ঞাসা করলেও তারা কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল করলে চৌদ্দগ্রাম থানার এস.আই শামছুল আরেফিন ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জামাল মেম্বার বলেন, “বাবু এলাকায় একজন ভদ্র ও নিরীহ যুবক হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কোনো অ-সামাজিক অপরাধের কোন অভিযোগ কিংবা রেকর্ড নেই। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত তার সন্ধান ও দোষীদের বিচার চাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন সুমন বলেন, “একজন তরুণকে এভাবে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত বাবুকে উদ্ধার করে ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্রকারী ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আরিফিন জানান, ৯৯৯ এ কল পেয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিদের্শে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যাই। মা-বোন জানিয়েছে তাদের ছেলেকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছে তারা। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রামবাসী জানায় ছেলেটি নিরপরাধ এবং মাদকমুক্ত। এসময় বাবুর মা ও বোনকে রাতের মধ্যে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে এনে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে আসার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজ ছেলেকে মধ্যরাতে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছে আপন মা ও বোন। আমরা ঘটনাটি জেনে দ্রুত পুলিশ পাঠাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। ছেলেটিকে দ্রুত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে থেকে থানায় আনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনে কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা!

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসা বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাসফির আত্মহত্যার জন্য সিনিয়র শিক্ষক আনিসকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিচার দাবি করছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তদন্ত করে প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক আনিসকে বহিষ্কার করার দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

সেই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার চিওড়া কাজী বাড়ির মেয়ে তাশফী গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) ৩০ টি ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোররাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

মৃত্যুর পূর্বে সহপাঠীদের সাথে মুঠোফোনে শিক্ষক আনিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গেছেন তাসফি।

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ মাশরাফি মান্নান মজুমদার (মাহি)
ফেসবুকে লেখেন- সকল পুরাতন এবং রানিং ব্যাচ এর শিক্ষার্থীদের আহব্বান জানাই ।
আমরা বর্তমান নিয়ে বলতে পারি এই প্রতিষ্ঠান এর গভর্নিং বডি ঠিক নেই । দুর্নীতি তো অবশ্যই চলছে সেটা লিখিত গেরেন্টেড ।
এই তদন্ত করতে যেই যদি কোনোরকম বাধা সামনে আসে , প্রয়োজন এ গভর্নিং বডিকে মাঠে নামানো হবে ।
Loud & Clear।

তাফসীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক জুড়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। শিক্ষক আনিসের বিচার দাবি করে উত্তাল সাবেক শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন,আনিস স্যার আমাদের গণিত ক্লাসে পেতো।তিনি সব সময় অনেক বকাঝকা করতো।অনেক বাজে বাজে উল্টা পাল্টা কথাবার্তা বলতো।পারসোনাল মেটারে অনেক নাক গলাতো এবং তাসফী নামে যে মেয়াটা মারা গিয়েছে সে এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো। ঘাতক এই আনিস স্যার উনার কাছে যে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়তো তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাসফীকে যেন পরিক্ষার্থী হলে কেউ সহযোগিতা না করে। সে যেন কান্না করে হল থেকে বাহির হয় এই পরামর্শ ও দিয়েছেন ঘাতক এই আনিস স্যার।

রোকসানা কবির নামের এক শিক্ষার্থী জানান- কাজী তাসফি ফারিহা, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত কিছু মাস যাবত স্কুলের গণিত বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনিসুর রহমান আনিস কর্তৃক গুরুতর মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। এই শিক্ষক তার প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করতেন, অহেতুক অপমান করতেন এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন। শুধু ফারিহা নয়, অনেক ছাত্র-ছাত্রী তার কাছে নানাভাবে মানসিক চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে আছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলতে পারে না। অভিভাবকদের সঙ্গেও তিনি অশোভন ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে থাকেন, যার একাধিক সাক্ষী রয়েছে।

এই নির্মম ও অমানবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে ০৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফারিহা তার নিজ বাসভবনে ৩০টি প্রেসারের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে। রাত ২টার দিকে তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। আমি খবর নিচ্ছি ‌।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। শিক্ষকদের বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্য, বিশৃঙ্খল পরিবেশ, অধ্যক্ষ বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সব মিলিয়ে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ এখন নিম্নমুখী।

নামিদামি ব্র্যান্ডের বস্তায় স্থানীয় চাল, কুমিল্লায় দুই রাইস মিলকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

চালের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পারুয়া এলাকায় একাধিক অটো রাইস মিলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে মিলগেট মূল্য ও উৎপাদনের তারিখবিহীন চাল বিক্রি, অবৈধভাবে চাল মজুদ এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের ব্যাগে স্থানীয় চাল ভরে বাজারজাত করার অভিযোগে দুইটি মিলকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— “জাপান-বাংলা অটো রাইস মিল” (২০ হাজার টাকা জরিমানা) এবং “মেসার্স আব্দুল মান্নান এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ” (৪০ হাজার টাকা জরিমানা)। জরিমানা করা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বুড়িচং উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক সুভাষ চন্দ্র দেব নাথ, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় দুই যুবকের উপর হামলা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল লুট!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় কামরুল হাসান ও আবদুল হালিমের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সাইদুল আলম ছুট্টুর বিরুদ্ধে। এসময় কামরুল হাসানের জাপানি সুজুকি কোম্পানি কোম্পানির ১৫৫ সিসির মোটরসাইকেল এবং আব্দুল হালিমের ব্যক্তিগত এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে গেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন একই ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কামরুল হাসান। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত সোমবার সন্ধ্যার পর নানকরা রাস্তার মাথায় মাদক ব্যবসায়ী নানকরা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ছ্ট্টু আমজাদের বাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে নানকরা রাস্তার মাথায় দোকানে রওনা দেন। ইয়াবার চালান নিয়ে দোকানের দিকে যাচ্ছেন ছ্ট্টু এমন তথ্য জানিয়ে চৌদ্দগ্রাম আর্মি ক্যাম্পে ফোন করেন কামরুল হাসানসহ স্থানীয় কয়েকজন মাদকবিরোধী যুবক।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী ছুট্টু ১৫-২০জন সহযোগীসহ ধারালো দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে স্থানীয় যুবকদের উপর হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকার ব্যবসায়ী ও পশ্চিম দুর্গাপুর গ্রামের কামরুল হাসান এবং একই গ্রামের আব্দুল হালিম। হামলাকারীরা মাদক ব্যবসায়ীরা কামরুল হাসানের মোটর সাইকেল এবং আব্দুল হালিমের মোবাইলটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে জানান, হামলার ঘটনায় দুই যুবক আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ছুট্টু ও মিজান নামে দুইজনকে অভিযুক্ত করে চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কামরুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী। তদন্ত স্বাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হবে।

উদ্বোধনের ৯ দিনের মাথায় চাঁদপুরের সেই কাচ্চি ডাইনিং কে জরিমানা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এর সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক চাঁদপুর শহরের জোড় পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক লঙ্ঘনজনিত অপরাধে চাঁদপুর শহরের জোড় পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মীর শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় অবস্থিত কাচ্চি ডাইনিং এ উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ ছাড়া বাদামের শরবত পাওয়ার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।

চাঁদপুর আনসার ভিডিপি সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তায় ও জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো: নজরুল ইসলাম এর সার্বিক সহযোগিতায় অভিযানকালে উক্ত এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়। এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় এই ধরনের অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন। জানা যায়, গত ৩০ জুন ৩০% ছাড় দিয়ে ব্যাপক পরিসরে কাচ্চি ডাইনিং এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের নয় দিনের মাথায় এ জরিমানা গুণতে হলো প্রতিষ্ঠানটিকে। এছাড়াও শহরের পুরান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মূল্য তালিকা না থাকায় শামীমা রাইচ মিল কে ৫ হাজার টাকাসহ দুই প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

এ অভিযান পরিচালনাকালে আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য হতে বিরত থাকার জন্য লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে সকল ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো, ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা, নকল ও ভেজাল পণ্য/ঔষধ বিক্রয় থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ মজুদদারী করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কুবি শিবিরের নতুন নেতৃত্বে মাজহার-আবির

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি মনোনীত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসাইন আবির।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক সদস্য সমাবেশে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। পরে সদস্যদের পরামর্শক্রমে সেক্রেটারি মনোনীত করা হয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক ডা: ওসামাহ রাইয়ানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মু. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাখার সদ্য বিদায়ী সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীসহ সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ।

নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত কুবি, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নাজনীন আক্তার , কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়:

ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৯ টা ছুঁই ছুঁই। গতরাতে অ্যাসাইনমেন্ট শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। হুট করে এলার্মের ক্রিং ক্রিং শব্দে ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ক্লাস শুরু হতে আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি। ডাটা অন করতেই মুটোফোনে নোটিফিকেশন বেজে উঠলো। ক্লাসের সিআর মেসেঞ্জার গ্রুপে জানান দিচ্ছে, ‘সবাই তাড়াতাড়ি ক্লাসে আয়, স্যার এসে পড়েছেন’! কোনমতে ফ্রেশ হয়ে ছুটতে ছুটতে চললাম ক্যাম্পাসের দিকে। ক্যাম্পাস গেইটে যেতেই দেখি প্রচুর নতুন মুখ। যাদেরকে আগে কখনো দেখি নাই। তাদের হাঁটাচলা অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তারা এই ক্যাম্পাসে নতুন। অতঃপর মনে পড়ল আজকে তো প্রথম বর্ষ শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ! তাদেরকে দেখে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে গেল! অতঃপর আবার ছুটে চললাম বিভাগের দিকে কেননা ক্লাস শুরু প্রায় হয়ে গিয়েছে। ক্লাসরুমের সামনে পৌঁছাতেই আবারো দেখলাম কিছু অচেনা মুখ সালাম দিয়ে উঠলো। বুঝলাম তারা আমার বিভাগের নবীর শিক্ষার্থী। তাদেরকে বরণ করে নেওয়ার জন্যই ক্যাম্পাস সেজে উঠেছে নতুন আঙ্গিকে। বিভাগ গুলো সেজে উঠেছে নানা রঙের ফুল, বেলুন, ব্যানারে।

নবীন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি নিয়ে লিখছি আমি নাজনীন আক্তার। নতুন মুখ, নতুন গল্প আর নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারও জেগে উঠেছে লাল মাটির ৫০ একরের ক্যাম্পাস। করিডোর, ক্লাসরুম , ক্যাম্পাস সবখানে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।

বাংলা বিভাগের একজন নবীন শিক্ষার্থী রিফাত হাসান নিজের প্রথম দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আসনসংখ্যা কম হলেও প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন ছিল। আমি শেষ পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছি, এটা অনেক বড় পাওয়া। এখন শুধু নিজের সেরা দিয়ে পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে চাই।”

মার্কেটিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদিন হ্নদয় বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা আমাদের জীবনে একটা যুদ্ধের মতো। এই যুদ্ধ সফল হয়ে আজকে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ, সিনিয়রদের আন্তরিকতা সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করছে। আশা করছি নিজের জীবনকে সুন্দর করতে ক্যাম্পাস থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবো।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সানজিদা হক বলেন,
“কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারাটা আমার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। ক্লাস শুরুর আগেই নবীন বরণ অনুষ্ঠান দেখে খুব ভালো লাগছে। সবাই এতো আন্তরিক, মনে হচ্ছে আমি একটা নতুন পরিবারের অংশ হয়ে গেছি।”

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আমার স্বপ্ন কিন্তু ভাগ্য ভিন্ন পথে নিয়ে এলো। হতাশা কাটিয়ে নতুন করে লক্ষ্য স্থির করি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে, আর আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করার আশায় এসেছি। প্রাকটিক্যাল ও রিসার্চভিত্তিক পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রত্নতত্ত্বে এডমিশন। চেষ্টা করবো যেন প্রত্ন পরিবারের সহযোগিতায় জীবনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারি এবং আমার লাল মাটির প্রিয় বিদ্যাপীঠকে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিতে পারি।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মো. মতিউর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে নতুন ব্যাচ আসার সাথে সাথে শিক্ষকদের নতুন দায়িত্ব নিতে হয়। নতুনদের জন্য কোর্স নেয়া, তাদের জন্য গঠিত কমিটিতে দায়িত্ব পালন করা, তাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়। এতে কাজের পরিধি কিছুটা বাড়ে তবে সেটা চাপ অনুভূত হওয়ার মতো না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে সচেতন হলে পরবর্তী দিনগুলোতে পথচলা সহজ হয়ে যায়। এজন্য নিয়মিত পড়ালেখা করা, সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, নিজের নৈতিকতাকে ধরে রাখা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরী।”

হজে গিয়ে ৪৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলতি বছর হজে গিয়ে ৪৪ জন বাংলাদেশি সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন হাজী।

আজ মঙ্গলবার সকালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হজ পোর্টালের পবিত্র হজ প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা যায়। আর দুদিন পরেই শেষ হচ্ছে ফ্লাইট।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৪৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী বা হাজি মারা গেছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন ও নারী ১১ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় ২৬ জন, মদিনায় ১৪ জন, জেদ্দায় তিনজন ও আরাফায় একজন মারা গেছেন।

হজ শেষে ২০০টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৭৬৮ জন হাজি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ৮৬ এবং ৬৫ হাজার ৯৯৩ জন হাজি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার।

গত ৫ জুন সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ১০ জুন।

সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯৮টি ফ্লাইটে ৩৪ হাজার ৮ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭৪টি ফ্লাইটে ২৬ হাজার ৬৮৩ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২৮টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৩৮৮ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ৫ হাজার ৬৮৯ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরেছেন। ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ১০ জুলাই।

এবার বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭ হাজার ১৫৭ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্য সহ)। তিনটি এয়ারলাইন্সের মোট ২২৪টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরব যান। তাদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০৮টি ফ্লাইটে ৪২ হাজার ৪০৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৮৩টি ফ্লাইটে ৩১ হাজার ৬৭৬ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৩৩টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৭৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট ২৯ এপ্রিল শুরু হয়। ফ্লাইট শেষ হয় ৩১ মে।

সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালে বর্তমানে ১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ভর্তি আছেন। ৩২৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বাংলাদেশ হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

শুল্ক কমা-বাড়া নির্ভর করবে বাংলাদেশের ওপর: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প এ তথ্য জানায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের বাড়তি শুল্ক, অ-শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার জন্য তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকা এসব বাণিজ্য বাধা দূর করে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয় তাহলে শুল্ক কমানো যেতে পারে। আবার বিপরীত হলে শুল্ক বাড়তেও পারে।

ট্রাম্প এ ব্যাপারে চিঠিতে বলেন, সামনে দীর্ঘ সময় আমরা বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আপনার সাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আপনি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার পূর্বে বন্ধ থাকা ট্রেডিং মার্কেটগুলো খুলতে চান এবং আপনার দেশের শুল্ক এবং অ-শুল্ক নীতি এবং বাণিজ্য বাধা দূর করতে চান তাহলে আমরা সম্ভবত এই চিঠির একটি সমন্বয় বিবেচনা করব। আপনার দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে এই শুল্ক বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আপনি কখনোই হতাশ হবেন না। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।

এর আগে গত এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন তিনি। যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছিল।

তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এসব শুল্ক ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। যা আগামী ৯ জুলাই শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন করে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প।

সোমবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের কাছে এ ধরনের চিঠি পাঠান ট্রাম্প।

দেশীয় মাছ প্রান্তিক পর্যায় থেকে বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ

রকিবুল ইসলাম (ম্যাক):

দেশীয় মাছ প্রান্তিক পর্যায় থেকে সরাসরি বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, চাষের মাছ সংরক্ষণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নদী-খাল-বিল-পুকুর থেকে মাছ ধরে সরাসরি রপ্তানি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার দিকে। এতে প্রান্তিক মৎস্যজীবীরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং বিদেশি বাজারে দেশীয় মাছের চাহিদা বাড়বে।

রোববার (৭ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আড়াইওড়া দুর্গাপুর স্বনির্ভর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আয়োজনে প্রায় লাখখানেক দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এসময় চট্টগ্রাম বিভাগীয়, কুমিল্লা জেলা ও আদর্শ সদর উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘চব্বিশের বন্যায় কুমিল্লার মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রণোদনা, মাছের পোনা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’

অনুষ্ঠানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম, বিশিষ্ট মৎস্যচাষী শাহ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, প্রান্তিক পর্যায় থেকে রপ্তানির সুবিধা পেলে তাদের আয় অনেকগুণ বাড়বে। ধর্মসাগরে নিয়মিতভাবে পোনা অবমুক্ত হলে স্থানীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।