All posts by jitu

ভাসমান বাড়ি মুন অব টাঙ্গুয়া

স্টাফ  রিপোর্টার:

টাঙ্গুয়ার হাওরে নবনির্মিত একটি হাউস বোট মুন অব টাঙ্গুয়া।রুপসী বাংলা টুরিজম এর অনেক গুলো বোটের মধ্যে এটি অন্যতম, এটি কে বোট না বলে ভাসমান বাড়ি বলা যায়। কারণ এটি তৈরিতে তারা এমন কিছু প্লান ব্যাবহার করেছে যাহার মাধ্যমে এই বোট কে ভাসমান বাড়ি বললে কোনো ভুল হবে না ।তারা পুরো বোট টি তে আধুনিকতার সাথে ইকো ফ্লেভার রেখেছে। অতিথিদের অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পুরো বোট টি কাঠের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।তাই এটি একটি ভাসমান বাড়ি ।

রুপসী বাংলা টুরিজম ও মুন অব টাঙ্গুয়ার অন্যতম পরিচালক মোঃ মাঈন উদ্দিন ফারুক বলেন কেনো এটি ভাসমান বাড়ী, “বলেছি এইবার শুনুন এই বোটটিটে আমরা সর্বমোট ৭টা রুম করেছি। রুম গুলোর প্রত্যেকটার ভেতর থাকছে আপনার নিজের বাসার রুমের মত আসবাবপত্র । সব গুলো রুমের সাথে আধুনিক অ্যাটাচড ওয়াশরুম রয়েছে। সব গুলো হাই কমোড । থাকছে সুবিশাল একটি রান্না ঘর। গ্রুপ ভিত্তিক আড্ডা অথবা গল্প করার জন্য থাকছে একটি বিশাল লবি। বোটের সামনে সুন্দর সাজানো দোলনা এবং ফটোগ্রাফি করার জন্য যতেষ্ট ফাঁকা জায়গা রয়েছে। একটি বাড়িতে যেমন একটি সুন্দর ছাদ থাকে ঠিক তেমনি আমাদের ও একটি বিশাল ছাদ রয়েছে। ছাদ থাকলে বাগান করা আমাদের শখ আর এই শখ টাও আমরা আমাদের ছাদে পূরণ করেছি। আমাদের মোট ৭টা রুম। এই ৬ রুমের জন্য আমরা ৭টা চেয়ার, টেবিল দিয়ে সুন্দর করে গুছানো একটি রুফ টপ রেস্টুরেন্ট ও বানিয়েছি। ও হ্যা অবসর সময় কাটানোর জন্য আমাদের রয়েছে বিভিন্ন স্পোর্টস এর ব্যাবস্থ।বিনোদনের জন্য আমাদের বোটে পাবেন সাউন্ড সিস্টেম। আর অবসর সময় কাটানোর জন্য বোটে রয়েছে কেরাম , লুডু , ফুটবল , দাবা ,কার্ড খেলার ব্যাবস্থা । বোটের পর্যটকদের সেফটির জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট এবং বয়া । সাথে ফার্স্ট এইড বক্স এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যাবস্থা। পুরো বোটে অতিথিদের সার্ভিস দেওয়ার জন্য ৮জন স্টাফ সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

এই বোটটিটে আমরা সর্বমোট ৭টা রুম করেছি। রুম গুলোর প্রত্যেকটার ভেতর থাকছে আপনার নিজের বাসার রুমের মত আসবাবপত্র । সব গুলো রুমের সাথে আধুনিক অ্যাটাচড ওয়াশরুম রয়েছে। সব গুলো হাই কমোড । থাকছে সুবিশাল একটি রান্না ঘর। রুফটপ ডাইনিং।এইবার আসুন আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে বলি
আমরা সুনামগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ সার্ভিস দিয়ে থাকি। সকালে বাস থেকে নেমে ই আপনারা আমাদের ভাসমান বাড়ি মুন অব টাঙ্গুয়া তে চেক ইন করবেন। হালকা ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা হবে আমাদের সাথে। পুরো রিলাক্স এ ২ দিন এবং ১রাত আমরা আপনাদের কে নিয়ে পুরো সুনামগঞ্জ ঘুরে বেড়াবো। সুনামগঞ্জের সব সুন্দর সুন্দর স্পট যত্ন সহকারে আপনাদের কে ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য আপনাদের সাথে আমাদের তরফ থেকে দক্ষ গাইড থাকবে । সাথে মজাদার সব খাবার পরিবেশনের জন্য থাকবে দক্ষ বাবুর্চি। এই ছাড়া রুম সার্ভিস এবং নিরাপত্তার জন্য বোটে পর্যাপ্ত স্টাফ থাকবে। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে আমরা আনোয়ারপুর অথবা তাহেরপুর থেকে জার্নি শুরু এবং শেষ করব।কারন পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে লোকাল ব্রিজ পার হওয়া যায় না।আর এমনটা হলে শহর থেকে আনোয়ারপুর অথবা তাহিরপুর যাওয়ার আসার সম্পূর্ণ খরচ আমরা বহন করব।

চেক ইন টাইম: সকাল ৭:০০ টা (প্রথম দিন)চেক আউট টাইম: রাত ৯:০০ টা (দ্বিতীয় দিন)
পানি স্বল্পতা কিংবা প্রশাসনিক কারণবশত বোট দিয়ে দ্বিতীয় দিন টুরিস্ট স্পটে যেতে না পারলে স্পট গুলো বাইক/অটো দিয়ে অতিথিদের ঘুরানো হবে। যাদুকাটা , শিমুল বাগান এবং বারীক্কা টিলা বাইক/অটো দিয়ে ঘুরবেন। বাইক/অটো ভাড়া বোট কর্তপক্ষ বহন করবে।সুনামগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ প্যাকেজ প্রাইজ (২দিন ও ১রাত) (ফুল বোট রিজার্ভ)রিজার্ভ ১৪-১৮ জন হলে জনপ্রতি ১০,০০০/-
রিজার্ভ ১৯- ২৪ জন হলে জনপ্রতি ৯,০০০/-
রিজার্ভ ২৫ + হলে জনপ্রতি ৭৫০০/-আপনি চাইলে সরকারি ছুটির দিন কিংবা যেকোনো দিন মিনিমাম দুইজন হলেও বুকিং করতে পারবেন।জনপ্রতি ১০,০০০/-জনপ্রতি ৭,৫০০/- (১ রুমে ৪ জন)
জনপ্রতি ৯,০০০/- ( ১ রুমে ৩ জন)।আর হ্যা এইটা আমাদের ফিক্সড রেট। বুকিংয়ের জন্য অবশ্যই ৫০% অ্যাডভান্স করতে হবে। বুকিং কনফার্ম করে কনফার্মেশন এসএমএস এবং মানি রিসিট বুঝে নিবেন ।বুকিং মানি আমাদেরকে ব্যাংক ,বিকাশ , রকেট অথবা সরাসরি অফিসে এসে ও দিতে পারেন ।

চাইল্ড পলিসি :জিরো থেকে ৩ বছর বাচ্চার জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি

৩ থেকে ৭ বছর প্রতি বাচ্চা ৪৫০০ টাকা ( বাবা মার সাথে রুম শেয়ার করবে। ৭+ বছর বয়স থেকে অ্যাডাল্ট হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ মূল্য পরিশোধ করতে হবে ।এই প্যাকেজে আমাদের থেকে যা যা পাবেন : সম্প্র্ণূ কাঠের তৈরি বিশাল আকৃতির প্রিমিয়াম হাউজবোট
বোটের ভিতর সোজা হয়ে হেঁটে বেড়ানো মত প্রশস্ত জায়গা
প্রিমিয়াম ওপেন লাউঞ্জ
রুফটপ প্রিমিয়াম ডাইনিং
ছাদ বাগান
জুস বার
বার্বিকিউ জোন
জেনারেটর আইপিএস দিয়ে দিনে ১৮ঘণ্টা+ বিদ্যুৎ সরবরাহ।
৭টি প্রশস্ত রুম (প্রতিটি রুমের সাথে অ্যাটাচড বাথ , ডোর-লক সুবিধা, প্রতি কেবিনে রয়েছে প্রশস্ত বেড , লাইট, ফ্যান, ড্রেসিং টেবিল, লকার এবং চার্জিং পয়েন্ট।
১টি কমন ওয়াশরুম।
সুপ্রশস্ত গ্লাস উইন্ডো
পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া
দক্ষ বাবুর্চির সহায়তায় ট্রেডিশনাল ফ্রেশ খাবার
অভিজ্ঞ লোকাল ট্যুর গাইড
সার্বক্ষণিক চা/ কফি/ স্ন্যাক্স/পানি / কোল্ড ড্রিংকস/জুস
সার্বক্ষণিক রুম সার্ভিস।
লাকমা ছড়া, শিমুল বাগান , বারিক্কা টিলা ঘুরার অটো / বাইক ভাড়া।প্রতিটা রুমে পাবেন :টিস্যু বক্স
জায়নামাজ
সাবান
শ্যাম্পু
বড় মিরর /আয়না
ব্রাশ
পেস্ট
এই ছাড়া প্রতি রুমে লাইট ২টা , ফ্যান ১টা , পার্সোনাল চার্জিং পয়েন্ট তো আছে ই। ” ২দিন ও ১রাতের প্যাকেজে ঘুরতে পারবেন যেসব স্পটেঃ
টাঙ্গুয়ার হাওর
ওয়াচ টাওয়ার
নীলাদ্রি লেক
লাকমা ছড়া
বারিক্কা টিলা
শিমুল বাগান
যাদুকাটা নদী
প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকছে খাবার সহ সবধরনের খরচ (ব্যাক্তিগত খরচ ব্যাতিত)

আমাদের খাবার মেনু:
আমাদের বোট যেমন ইউনিক ঠিক তেমনি আমাদের ফুড মেনু ও ইউনিক। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারবো আমরা যে ধরনের খাবার আমাদের গেস্ট দের কে সরবরাহ করি সেটা অন্য কোনো বোট করে না। এইখানে ই মূলত অন্যদের সাথে আমাদের পার্থক্য। আমাদের পেজের রিভিউ দেখলে বুঝতে পারবেন।(সর্বমোট ৬টা মূল খাবারের সাথে ৪টা নাস্তা মিলিয়ে মোট ২ দিনে ১০+ বার খাবার পরিবেশন করা হবে। এর সাথে সব সময় চা/কফি+কলা+ পানি তো আছে ই )১ম দিনঃ
সকালঃহালকা নাস্তা : ফ্রুটস জুস+ ঠান্ডা পানি + চা + বিস্কিট/কেক+ কলা
মূল নাস্তা : চিকেন ভুনা খিচুড়ি + আচার + কোল্ড ড্রিংকস+ বেগুন ভাজি + সালাদ+ পানি
স্নাক্সঃ ফ্রুটস + চা/কফি
দুপুরঃ ভাত + শুটকি ভর্তা + হাওরের মাছ ক্যারি অথবা ফ্রাই + মুরগি ভুনা + মিক্সড ভেজিটেবল + ডাল + সালাদ+ চা/কফি স্নাক্সঃ ফ্রুটস+ভাজা পোড়া /মুড়ি মাখানো + চা/কফি
রাতঃসাদা ভাত + হাসের মাংস ভুনা + ভেজিটেবল +ডাল+ সালাদ + কোল্ড ড্রিংক্স + + চা/কফি ২য় দিনঃ সকালঃহাঁস ভুনা + ভুনা খিচুড়ি+ আচার + সালাদ + ড্রিংকস ষ
স্নাক্সঃ দেশি ফ্রুটস + চা/কফি
দুপুরঃ ভাত + ভর্তা + হাওরের মাছ + মুরগি ভুনা + মিক্সড ভেজিটেবল + ডাল + সালাদ+চা/কফি
সন্ধার স্নাক্সঃ কেক + কলা+ চা/কফি রাতের খাবার :চিকেন গ্রিল ।

বুকিং কৃত প্রত্যেকটা সদস্য কে চেক ইন এর সময় ঘরফ শো করতে হবে। তাই সবাই অবশ্যই ঘরফ র ফটোকপি নিয়ে আসবেন। যাদের হরফ নেই তারা যেকোনো আইডি (স্টুডেন্ট আইডি, জন্মনিবন্ধন কার্ড, অফিস আইডি , পাসপোর্ট ইত্যাদি) একটা কপি সাথে নিয়ে আসবেন। এবার আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি
প্রথমেই আপনি একটি ভ্রমণ পিপাসু মন নিয়ে এই অঞ্চলে বেড়াতে আসবেন। ভ্রমণকালীন যে কোন সমস্যা আমাদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। কোনোভাবে ই একা একা কিছু করতে যাবেন না। ভ্রমণ সুন্দর মত পরিচালনা করার জন্য সবাই আমাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
শালিনতার মধ্যে থেকে হাওর তথা এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হবে।

স্থানীয়দের সাথে কোন রকম বিরূপ আচরণ করা যাবে না। সব সময় তাদের সাথে হেসেখেলে কথা বলবেন এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলবেন। নতুন কারো সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ট্রিপ হোস্টের/আমাদের সহায়তা নিতে নিবেন ।কোনভাবেই কোন প্রকার মাদক সেবন কিংবা বহন করা যাবে না। কারো সাথে পাওয়া গেলে তাকে বা তাদেরকে তৎক্ষণাৎ ট্রিপ থেকে বহিষ্কার করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি যায়গা ই আমাদের নিজেদের, তাই তার সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এরজন্য অবশ্যই যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।আমাদের বোটে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রয়েছে। সেগুলো ইউজ করবেন । এই অঞ্চলের ক্ষতি না হয়, এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকবেন। দুর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না তাই যে কোন প্রকার দুর্ঘটনা সকলে মিলে মোকাবেলা করতে হবে তিনি আরো বলেন এই বোট টি সম্পূর্ণ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বানানো হয়েছে। সেফটি আর সুযোগ সুবিধের অভাবে এত দিন মানুষ হাওরে ঘুরতে আসতে পারতো না মূলত তাদের জন্য এই বোট বানানো। এখানে কোন প্রকার অশ্লীলতার কোন রকম সুযোগ নেই। কোন রকম অসৎ উদ্দেশ্যে যদি কেও আমাদের সাথে ভ্রমণে আসেন, সেটি বুঝে যেতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগে না। এমনটা হলে সেই মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নিবো। এইসব বিষয়ে আমরা কারো সাথে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করবো না।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় : আবহাওয়া / প্রকৃতিগত দুর্যোগ কিংবা প্রশাসক জটিলতা অথবা কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বোট কর্তপক্ষ ট্রিপ ক্যান্সেল করতে পারবে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে তা উভয় পক্ষ মেনে নিতে বাধ্য থাকিবে ।

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজেবোট বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করুন: ০১৯৭৫-০৮৬২৯৫ (ফারুক)

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৪৭ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার চোরাচালানী ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

সোমবার (৭ জুলাই)ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি’র আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহল দল এই অভিযান চালায়। সীমান্ত শূন্য রেখা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে, চাঁনপুর নামক এলাকা থেকে একটি সিএনজিসহ মোট ৪৫৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় শাড়ি আটক করা হয়।

এই পণ্যের বাজারমূল্য আনুমানিক সাতচল্লিশ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা। আটককৃত শাড়িগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে সীমান্তে টহল ও অভিযান চালিয়ে আসছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তারা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংকটে রিয়েল এস্টেট, টিকে থাকার লড়াইয়ে জেসিএক্স

স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত দীর্ঘদিন ধরেই সংকটের মুখে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সংকটের মাত্রা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতি, ডলারের ঘাটতি, বৈদেশিক লেনদেন জটিলতা, নির্মাণসামগ্রীর দামবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ফলে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের নির্ভরশীল এই খাতের বিক্রি প্রায় অচল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রিমিয়াম হাউজিং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই সংকটের ভেতরেও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড, যারা জাপানের রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি ক্রিড গ্রুপ -এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এম মুহিত হাসান বলেন, এই বছরটি আমাদের জন্য ‘বেঁচে থাকার বছর’ ব্যবসার মূল লক্ষ্য এখন শুধুই টিকে থাকা।

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস মূলত ৪ হাজার থেকে ৯ হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ করে অভিজাত শ্রেণির জন্য। এই সেগমেন্টে আগে চাহিদা থাকলেও গত এক বছরে বিক্রি প্রায় শূন্যের কোটায়। অনেক পুরোনো ক্লায়েন্ট পর্যন্ত কিস্তি দিচ্ছেন না সময়মতো। নতুন বুকিং নেই বললেই চলে।

মুহিত হাসান বলেন, আমাদের যেসব প্রকল্প চলমান, সেগুলোর কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে শুধু ব্র্যান্ড ইমেজ ধরে রাখার জন্য। কিন্তু এই সময় নতুন বিক্রি না হওয়ায় রেভিনিউ আসছে না, ফলে আর্থিক চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

বর্তমানে দেশের আবাসন বাজারে অপেক্ষাকৃত ছোট ইউনিটের চাহিদা বেশি—বিশেষ করে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট। কিন্তু জেসিএক্স-এর মতো বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে এই রুটে যেতে পারছে না।

আমাদের ব্যবসায়িক কাঠামো এবং প্রোডাক্ট লাইফসাইকেল একদিনে বদলানো সম্ভব নয়। ছোট ইউনিটে যেতে হলে নতুন প্ল্যানিং, নতুন ডিজাইন, নতুন অনুমোদন লাগে। এতে ১ থেকে ২ বছর সময় লেগে যাবে, বলেন মুহিত।

তবে বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জলসিঁড়ি ও বসুন্ধরা এলাকায় ৫ থেকে ৬ কাঠার ছোট ছোট প্লটে কাজ শুরু করেছে। যদিও এসব প্রকল্পের অনুমোদন পেতে ৬ থেকে ১২ মাস সময় লাগে, এবং অনুমোদন ছাড়া বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ।

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস এখন পর্যন্ত ১২টি প্রকল্প সফলভাবে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ইনভেন্টরিতে রয়েছে প্রায় ৬০টি প্রকল্প—এর মধ্যে ২৮টি নির্মাণাধীন, ২২টি আসন্ন এবং ১০টি ভবিষ্যতের পরিকল্পনায়।

জেসিএক্স নিজেকে একটি এলইইডি সার্টিফাইড ডেভেলপার হিসেবে পরিচয় দেয়, যারা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই নির্মাণে বিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি প্রকল্পে থাকে আলাদা স্থপতি, তাই কোনো দুটি প্রোজেক্ট দেখতে একইরকম হয় না।

ক্রিড গ্রুপ জাপানের অন্যতম রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, যারা ১০টি দেশে কাজ করছে—তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জেসিএক্স-এর সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। জাপানি কোম্পানির প্রকৌশলীরা প্রতিমাসেই প্রকল্প পরিদর্শনে এসে নির্মাণ মান যাচাই করে থাকেন।
কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রিড গ্রুপ এখন চাইছে সাশ্রয়ী আবাসনের দিকে যাওয়া। জেসিএক্স-ও ধীরে ধীরে সেই রুটে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা ৭০০ থেকে ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ডিজাইন করছে, যা দেশের মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।

মুহিত হাসান বলেন, ঢাকায় যেসব মানুষ মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের যদি সমপরিমাণ কিস্তিতে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দেওয়া যায়, তবে সেটিই হবে সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন।
তবে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জমির দামে অসামঞ্জস্যতা। অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকাতেও প্লটের দাম অনেক বেশি। মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকায় ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত বড় প্লট খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
রিয়েল এস্টেট খাতে একের পর এক চ্যালেঞ্জ এসে পড়ছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১১ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। ক্রেতারা ঋণ পাচ্ছেন না, আবার অনেক পুরনো ক্রেতা কিস্তি দিতে পারছেন না। ফলে কোম্পানিগুলোও ব্যাংকের কাছে নিজেদের দায় সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না, নতুন করে ঋণ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এর মধ্যে কর ও রেজিস্ট্রেশন ইস্যু আরও বড় সমস্যা তৈরি করেছে। নতুন বাজেটে জমির রেজিস্ট্রেশন মূল্য বাড়ানো হলেও কর কমানো হয়েছে। এতে কিছু ক্রেতা আগেই রেজিস্ট্রেশন সেরে নিতে চাইছেন, আবার অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাক্স ফাইলে ‘হোয়াইট মানি’ না থাকলে কেউ ফ্ল্যাটের আসল দামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। রেজিস্ট্রেশন না হলে আমরাও ইউনিট হস্তান্তর করতে পারি না। ফলে ব্যবসার পুরো চেইনটাই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেন জেসিএক্স পরিচালক।

বিলাসবহুল আবাসন খাত থেকে সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণে মনোযোগী হওয়া এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এই রূপান্তর বাস্তবায়নে সময়, নীতি সহায়তা ও ব্যাংকিং লেনদেনে সহজীকরণ প্রয়োজন।

দেশের রিয়েল এস্টেট খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু ট্যাক্স ছাড় বা জমির দামে ছাড় নয়, বরং প্রয়োজন নীতিগত সমর্থন ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা।

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় সরালেন ইউএনও

শরীফুল ইসলাম, চান্দিনা:

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ যেন ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থার পর মহাসড়কের চান্দিনা অংশ থেকে ময়লা সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল হক।

রবিবার (৬ জুলাই) দিনব্যাপী মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা গেইটসহ তিনটি পয়েন্ট থেকে ৭টন ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেয়া হয়। এসময় মহাসড়কের পাশের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রী ও গাড়ি চালকরা।

বাস চালক আলী আহাম্মদ জানান- মহাসড়কের চান্দিনার কাঠেরপুল থেকে ঢাকামুখী পালকি সিনেমা হল পর্যন্ত আবার পালকি সিনেমা হল থেকে কুমিল্লামুখী চান্দিনার কাঠেরপুল পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে নাক চেপে পাড় হতে হতো। গবাদি পশু ও কুকুরের মরদেহ পড়ে থাকে সব সময়। মহাসড়কের পাশ থেকে এসব সরিয়ে নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মুক্তি দিয়েছে প্রশাসন।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেশের অন্যতম মহাসড়ক। ওই সড়কে যাতায়াত করছেন অনেক দেশি-বিদেশী ভিআইপি যাত্রীরাও। মহাসড়কের পাশে নোংরা আবর্জনার স্তুপ পড়ে থাকাটা মোটেও শোভনীয় না। বায়ূ ও পরিবেশ দূষণ রোধে এবং মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মহাসড়কের এই পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কক্সটুডে এর বার্ষিক এ‍্যসোসিয়েট পিকনিক ২০২৫ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

৫ তারকা হোটেল কক্সটুডের বার্ষিক পিকনিক ২০২৫, ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে।পিকনিকে কক্সটুডের স্টাফদের সাথে অংশগ্রহণ করেন কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ।

নানা বর্নাঢ্য ও জমকালো আয়োজনে দিনব্যাপী সমুদ্রের বুকে জাহাজে অনুষ্ঠিত হয় এই পিকনিক।বাংলাদেশের প্রথম চেইন হোটেল ডি’ মোর (কুয়াকাটা, বান্দরবন, সাজেক ভ্যালি, শ্রীমঙ্গল, চট্টগ্রাম এবং হোটেল দ্য কক্স টুডের এই পিকনিকে হোটেলের কর্মকর্তা কমচারীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ উৎসাহ দেখা যায়,তাঁরা সকল পরিচালদের কাছে পেয়ে খুশি হন ও আবেগ আপ্লূত হন। দিন ব্যাপি তাঁরা অনেক আনন্দ করেন এবং পরবর্তী বছরের জন্য নিজেদের কে কাজের জন্য তৈরির ঘোষণা দেন।পরিচালক বৃন্দ নানা উৎসাহ দেন।

সার্বিক দিক নিদের্শনা দেন পরিচালক মাকেটিং এন্ড সেলস পযটন বিশেষজ্ঞ মহিউদ্দিন খান খোকন। তিনি বলেন ” আজ বাংলাদেশে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে আস্থার নাম কক্সটুডে ও ডি’মোর। দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ তারকা ও তিন তারকা মানের সেবা দিয়ে আসছে এ হোটেলগুলো। তাই, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গল, সাজেক, বান্দরবান ও কুয়াকাটা,চট্টগ্রাম ঘুরতে গেলে ভ্রমণপিপাসুরা বেছে নেন কক্সটুডে ও ডি’মোরকে।

কক্সটুডে ও ডি’মোরের পরিচালক মহিউদ্দিন খান খোকন (সেলস অ্যান্ড মাকেটিং) বলেছেন, “আমরাই বাংলাদেশে প্রথম পর্যটন নগরীগুলোতে তিন তারকা ও পাঁচ তারকা মানের চেইন হোটেল শুরু করেছি। ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে চাইলে যেতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাজেক ও বান্দরবানে। সেখানে আছে তিন তারকা মানের হোটেল ডি’মোর। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে পাবেন সাধ্যের মধ্যে সব সুবিধা। ডি’মোর মূলত কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ফাইভ স্টার হোটেল কক্সটুডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। সদ্য যাত্রা শুরু করা এসব তিন তারকা হোটেলে চলছে বিশেষ ছাড়। চাইলে দিতে পারবেন অগ্রিম রুম বুকিং।”

তিনি বলেন, “কক্সটুডে শুধু কক্সবাজারে নয়, বাংলাদেশের মধ্যেই অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফাইভ স্টার হোটেল। আমাদের ডি’মোর বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করেছে সেবার মাধ্যমে।”“কক্সবাজারের কক্সটুডেতে যেমন আমরা গেস্টদের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে কোনো আপস করি না, ডি’মোর চেইনগুলোতেও ঠিক তেমনই সুবিধা থাকে,” বলেন মহিউদ্দিন খান খোকন।

তিনি ষ্টাফ দের আরও বলেন, “আপনাদের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় আজ আমরা এত দুর এগিয়ে এসেছি,আরো ভালো করতে হবে,তিনি তার দরাজ ও ভরাট কন্ঠে কবিতাও আবৃত্তি করেন।আনন্দঘন পরিবেশে পিকনিক শেষ হয়।

মুরাদনগরে ৩জনকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেফতার আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৮ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর আসামি বাচ্চু মিয়া আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তার বক্তব্য রেকর্ডের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার (৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় র‍্যাবের হাতে আটক ৬ জন আসামিকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে পুলিশ। শুনানি শেষে ৫ নম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিদ্দিক আজাদ তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগের দিন, শনিবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর হাতে আটক দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আমলি আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক তাদেরকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার কড়ইবাড়ি এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে রোখসানা বেগম রুবি, তার মেয়ে জোনাকি আক্তার ও ছেলে রাসেল মিয়াকে নিজ বাড়ির সামনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রোকসানা বেগমের মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কুমিল্লার আদালত পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান, এই মামলায় এখন পর্যন্ত র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাচ্চু মিয়া নামের একজন আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখনও সবচেয়ে বেশি: মান্না

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজনৈতিক দলগুলো যাই বলুক, যত কিছুই করুক, ভোটের মাঠে মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখনো সবচেয়ে বেশি। তাই মব কালচারের মাধ্যমে সেই জনপ্রিয়তা নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাবে ২০১৮ সালে বিএনপি নেতা ফারুকের ওপর হামলায় জড়িতদের আটকের দাবিতে করা আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানায়।

এখন দেশ গড়ার সময়, ভাঙার নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছিল বিএনপি।’

তবুও প্রতিশোধের স্পৃহা না রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান মান্না।

নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী

স্টাফ রিপোর্টার:

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আবদুল হালিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এ দলের রুকনরা সমাজের দর্পন স্বরূপ। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের রুকনরা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করবে। এক কথায়-নির্বাচনী কার্যক্রম সফলে রুকনদের জোরপ্রস্তুতি থাকতে হবে।

তিনি রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তেরটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জামায়াতের রুকনদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন পরিচালনায় রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের পৌর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী আবদুর রহিম, পৌর নায়েবে আমীর কাজী মোঃ ইয়াছিন, সেক্রেটারী মোশারফ হোসেন ওপেল, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ মঞ্জুর আহমেদ সাকি, শাহাব উদ্দিন রনিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের রুকনবৃন্দ।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে  ১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক 

স্টাফ রিপোর্টার: 
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জীবন্তপুর (মিস্ত্রী পুকুরপাড়) এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে  ১০ কেজি গাঁজাসহ নাজমুল হাসান (৩৮) নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে  আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি -২ সদস্যরা । এ সময়   মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
৬ জুলাই সকালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক হওয়া নাজমুল হাসান (৩৮) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দিশাবন্দ পশ্চিমপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।
 আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত ইজিবাইক ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার মাহমুদুল হাসান অভিযানে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় দাউদকান্দিতে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানকে বহিষ্কার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে কৃষকদল নেতার মাথা ফাটানোসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় বিএনপি নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত মিজানুর রহমান প্রধানকে ৩ জুলাই অনুমোদিত গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির পাঁচ সদস্যের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। শনিবার (৫জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম।

দলীয় সূত্র জানায় , দাউদকান্দি উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন তালুকদারের উপর গত ৩ জুলাই সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মিজানুর রহমান প্রধানের নামে ইন্ধন, মদদ ও নির্দেশনার অভিযোগ উঠে । এরই প্রেক্ষিতে তাকে শুক্রবার ২৪ঘন্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় উপজেলা বিএনপি। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়া, স্থানীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হওয়া এবং দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় মিজানুর রহমান প্রধানকে গোয়ালমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় দাউদকান্দি উপজেলার আওতাধীন গোয়ালমারীসহ ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় দাউদকান্দি উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন তালুকদারের উপর কিছু সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই হামলার পেছনে মিজানুর রহমান প্রধানের সরাসরি ইন্ধন ও নির্দেশ ছিল বলে সরাসরি অভিযোগ উঠে।

এছাড়া ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমানের নামে। গোয়ালমারী গ্রামের চারটি পরিবারের বাসিন্দাদের ঘরছাড়া ও গোয়ালমারী বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে।

দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মিজানুর রহমান প্রধানের লোকজন উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক আহমেদ হোসেন তালুকদারের উপর হামলা চালানোসহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে । এ জন্য শোকজ করেছিলাম। তিনি জবাব দিলেও সেটা গ্রহণযোগ্য না। তাই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এই বহিষ্কারই প্রমান করে, কোন চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসের স্থান বিএনপিতে হবে না। বিএনপি কখনও কোন অন্যায়কারী বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দিবে না।