All posts by jitu

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ইংরেজি ও গণিতে ভরাডুবি

স্টাফ রিপোর্টার:

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে গণিত ও ইংরেজিতে ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ কারণে কমেছে পাসের হার, জিপিএ-৫ এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার(১০ জুলাই) দুপুর ২টায় বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম। এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ছিল ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম বলেন, এ বছর আবশ্যিক বিষয় গণিতে ফেল করেছে ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ইংরেজিতে ফেল করেছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ। তাই, গত বছরের তুলনায় ফলাফল কমেছে।

এদিকে ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৯০২, গত বছর জিপিএ-৫ ছিল ১২ হাজার ১০০। গত বছর শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ৯৮, এ বছর শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান মাত্র ২২টি। এ বছর একটি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি। একজনও পাস না করা ওই স্কুল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ইসলামপুর উচ্চবিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ের ৩২ জনের সবাই ফেল করেছে।

পাসের হারের দিক থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গড় পাসের ৮৮ দশমিক ০১, মানবিকে ৪৬ দশমিক ৭৭ এবং বাণিজ্য বিভাগে ৫৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে আছে মেয়েরা। মেয়েদের গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৬ এবং ছেলের ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মেয়েদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৪৯৫ জন এবং ছেলেদের মধ্যে পেয়েছে ৪ হাজার ৪০৭ জন। পাসের হারে মেয়েরা ৬৪ দশমিক ২৬ এবং ছেলেরা ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ পেয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক খোন্দকার ছাদেকুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন ,উপ সচিব (প্রশাসক) মাসুম মিল্লাত মজুমদার, মাধ্যমিকের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমেদ, উপ-পরিচালক (হিসাব) মো. শাহজাহান। উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) কাজী আপন তীবরানীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অধিক পরীক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম বলেন, এ দুটি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের বিকল্প নেই। তাই, দুটি বিষয়ে আমরা শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে অধিক শিক্ষার্থী ফেল করেছে এবং একটিতে সবাই ফেল করেছে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রীর আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে প্রভা নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভরাসার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রভা নিজ বাড়িতে ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফল ঘোষণার পর সে জানতে পারে, সে ২ বিষয়ে ফেল করেছে। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

প্রভা উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের কাতার প্রবাসী মোস্তফা কামালের মেয়ে।

নিহতের দাদা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার পিতা প্রবাসে থাকেন, পরীক্ষায় ফেল করার খবর শুনে সে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের খবর তার বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই জানা যাচ্ছে। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

মামলা বাণিজ্যকারী’র আমন্ত্রণে কুবিতে উপদেষ্টা আসিফ

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার প্রথম প্রতিরোধ – ১১ জুলাই’ শীর্ষক একটি কর্মসূচিতে আসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এমন কর্মসূচি সম্পর্কে জানে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আমন্ত্রণও জানানো হয়নি তাঁকে। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের পেছনে ‘মামলা বাণিজ্যকারী’ হিসেবে পরিচিত এক ছাত্র নেতার সম্পৃক্ততা থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতার প্রথম প্রতিরোধ – ১১ জুলাই’ শীর্ষক একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন উপদেষ্টা আসিফ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি পত্রে এমনটি উল্লেখ করা হলেও কুবি প্রশাসন জানায়, অনুষ্ঠান বিষয়ে তাদের পূর্ব কোনো ধারণা ছিল না এবং তাদের পক্ষ থেকে এমন কর্মসূচি পালনের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে এমন কর্মসূচি আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রয়েছেন বলেও উল্লেখ্য করা হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের আমন্ত্রণ ছাড়া এমন ইস্যুকৃত চিঠি নিয়ে বিব্রত প্রকাশ করেছেন খোঁদ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কেউ কেউ। তারা বলছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ জুলাই নিয়ে কর্মসূচির চিঠি ইস্যু করেছে মন্ত্রণালয়, যেখানে ব্যবস্থাপনায় দেখানো হয়েছে উপাচার্যকে। অথচ ভিসি আছেন ছুটিতে এবং এমন আয়োজন নিয়ে আমরা কেউই জানি না। ফলে ইস্যুকৃত চিঠির বিপরীতে বাধ্য হয়েই প্রশাসন এমন আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি’ উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ১১ জুলাই উদয়াপন নিয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে সাকিব ও তার অনুসারীদের দিয়েই এই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন বলছে, সাব কমিটি এটা বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করছে। এ প্রোগ্রামের বাজেট এখনো পেশ করা হয়নি এবং প্রোগ্রামের কোনো আলোচ্যসূচিও প্রকাশ পায়নি।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল জানান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ইনভাইট করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। উপদেষ্টা নিজ থেকে আজ চিঠি পাঠিয়েছে। আমি সকাল ১১টায় জেনেছি উপদেষ্টা আসবেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা আমাকে প্রস্তাব দেয়, তাঁকে নিয়ে আসবে। এখনো এই কর্মসূচির কোনো বাজেট পেশ হয়নি, সাব-কমিটি কাজ করছে। প্রায় ২ লক্ষ টাকা এতে ব্যয় হতে পারে।

মামলাবাজ হিসেবে অভিযুক্ত সাকিবের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তিনি জানান, যদি লিখিত অভিযোগ আসে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টাদের মধ্যেও তো বিতর্কিত লোকজন আছে।

এদিকে এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন খাতের অর্থ ব্যয় করা হবে এমন প্রশ্নে তারা কিছুই জানে না বলে জানায় অর্থ দপ্তর।

এদিকে সমন্বয়ক ও প্রশাসনের একাংশের দাবি, এই আয়োজনের পেছনে নতুন করে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং মামলার ভয় দেখিয়ে নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে উপদেষ্টা আসিফের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন সিন্ডিকেট তৈরি করার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র একজন সমন্বয়ক পাবেল রানা বলেন, ‘সাকিব হোসাইন এর মামলা বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। প্রমাণ আছে বলেই আমরা সংবাদ সম্মেলনে তাদের ক্যাম্পাসে মুহূর্তে ঘোষণা করেছিলাম। এ অবাঞ্ছিত মামলাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারছি না। ব্যস্ততা থাকায় আমি ১১ তারিখের অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কোন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আমি আগেও বলে আসছি, এখনো বলছি, মামলা বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত কারোর অনুষ্ঠানে আসা উপদেষ্টার উচিত হবে না। আমি মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করলে এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতাম। এখন জুলাইয়ে কুবির অবদানকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বার্থে এ বিষয়ে আর কিছু বলবো না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লার জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া বলেন, ১১ জুলাইয়ে আনসার ক্যাম্পের সামনে (বর্তমান ছাত্র আন্দোলন চত্বর) পুলিশের গুলির সামনে যখন শিক্ষার্থী আন্দোলন করছিলো তখন ‘আমি কিংবা সাকিব ভাই দুজনের কেউই সেদিন পুলিশের গুলির সামনে আন্দোলনে ছিলাম না।’

এছাড়া সাকিবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীকে এবং তার অনুসারীদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অর্থ লেনদেনেরও করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর জেলার আহ্বায়ক সাকিবের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক নেতা এমরান হোসেনের দায়ের করা মামলায় ৯৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। যাদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে মৃত। এছাড়া আরও ১৫০–২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা ওই মামলায়। ওই মামলা দিয়েই এ বাণিজ্য করার অভিযোগ তুলেন সমস্বয়ক এমরান ও অন্যান্যরা। গত ১৭ মে তারা এ অভিযোগ করেন।

ওই সময় সমন্বয়ক এমরান বলেন, কেউ যদি তার ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা টাকার বিনিময়ে আমাকে দিয়ে মামলা করিয়ে থাকে, আমি তা তীব্রভাবে ঘৃণা করি। আমাকে দিয়ে যে মামলাটি করানো হয়েছে, সেটি করেছেন কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক সাকিব হোসেন ভাই। মামলা করা হয়েছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায়। এ মামলা নিয়ে কেউ যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তার দায়ভার আমি নেব না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, যারা মামলার বাদি তারাই বাণিজ্য করতে পারবে। অন্য কেউ তো এর সাথে জড়িত হওয়ার সুযোগ নাই।

এদিকে মামলা বাণিজ্যকারী সমন্বয়ক সাকিবকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সমন্বয়ক এমরানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তাকে পায়নি৷

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, আগামীকালের প্রোগ্রামের ব্যাপারে আমরা এখনো কোনো লিখিত পাইনি।

দাউদকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই ডেঙ্গুর বাহক এডিসের বাসা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারদিকে ময়লা আর জমে থাকা পানিতে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে মশা, সঙ্গে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এ অবস্থায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের সেবায় নিয়োজিত স্বজন এবং দর্শনার্থীরাও ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

গত দুই মাসে দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আর প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ সেই হাসপাতালই হয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র!

এখানে এডিস মশা উৎপাদনের কারখানা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

জেলার অন্য উজেলার চেয়ে দাউদকান্দির ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ডেঙ্গু সারানোর দায়িত্বে থাকা হাসপাতালটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালটি নিজেই যেন এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র।

হাসপাতালের চারদিকেই ময়লা, আবার ময়লার সাথে ব্যবহার করা সিরিঞ্জও রয়েছে, এসব ময়লায় জন্ম নিচ্ছে মশা, সঙ্গে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। হাসপাতালটির আশপাশে সার্বক্ষণিক ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের নির্বিঘ্ন স্থান তৈরি হয়ে থাকছে, রয়েছে জলাবদ্ধতা।

এ অবস্থায় রোগীর সেবায় নিয়োজিত স্বজন, দর্শনার্থীরা এবং আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। শঙ্কার বাইরে নয় হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক-নার্সসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। হাসপাতালটিতে পরিচ্ছন্ন কর্মচারীরা দায়সারা কাজ করেন। আবার কখনও কখনও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে গেলেও আশপাশের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারেণ উল্টো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। এমনটিই জানিয়েছেন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়া একাধিক রোগীর স্বজনেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতাল ও এর আশপাশ এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এ সংক্রান্ত কিছু বলতে গেলে লোকবল সংকটের অজুহাত দেখান হাসপাতালের কর্মচারীরা। অনেক সময় তারা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকে আবার টু-পাইস কামানোর ধান্ধায় নিজের কাজ ফেলে জরুরী বিভাগে ব্যস্ততা দেখান। এ নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও দেখা গেছে।

এদিকে হাসপাতালটি ঘিরে দালাল চক্র বরাবরই সক্রিয়। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে দালালদের তৎপরতা। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগ এবং আউটডোরের সামনে দালালরা ভিড় জমিয়ে অবস্থান করে। হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনকে টার্গেট করে দালাল চক্র। দ্রুত ও ভাল চিকিৎসার লোভ দেখিয়ে এবং সহযোগিতার কথা বলে নানামুখী হয়রানি এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পুরনো।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল নিয়মিতই পরিষ্কার করা হয়। অপরিষ্কার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে পানি জমে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্ন রাখতে সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেনে, এমনিতেই লোকবল সংকট, এরমধ্যে আউসোর্সিংয়ের কাজ করা ছয়জন লোককে এখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছে । তাই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিচ্ছন্নতায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। লোকবল পেলে এসমস্যা থাকবে না।

জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহরিয়ার আহম্মেদ সোহান

স্টাফ রিপোর্টার:

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দিবা শাখার নিয়মিত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সোহান জিপিএ ৫ পেয়েছেন।

সে কুমিল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও সারাবাংলার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মোঃ রাসেল সোহেল ও ফারজানা আক্তারের বড় সন্তান। তার গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার ২১ নং বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের বাবুটিপাড়া। তার বাবা মা সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গোমতীর তীরে ভয়ের ছায়া, যদিও পানি বিপৎসীমার নিচে

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গত বছরের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারা এসব বাসিন্দারা এখন আরেকটি বন্যার মুখোমুখি। ফলে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসে প্রহর কাটছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় গোমতী নদীর পানি ৯ দশমিক ৬৮ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এ নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩ মিটার। বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতী নদীর পানি।

আগের ২৪ ঘণ্টা (মঙ্গলবার-বুধবার) টানা ভারী বর্ষণ হলেও বুধবার (৯ জুলাই) সারারাত থেমে থেমে বৃষ্টি পড়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অঝোর বৃষ্টি হয়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলে। সকাল ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি ছিল না কুমিল্লা অঞ্চলে।

অপরদিকে, বৃষ্টি থামলেও থেমে নেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অঝোরে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। সেখানকার পানি গোমতী নদী বেয়ে নদীর কুমিল্লা অংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত গোমতী নদীর পানি ছিল বিপৎসীমার ৯ দশমিক ৪২ মিটারে। বুধবার সকাল ৮টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ৮ মিটারে। বুধবার দিনব্যাপী নদীর পানি ১ দশমিক ৪২ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নদীটির পানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৬ মিটার। ৪৮ ঘন্টায় গোমতী নদীর পানি বেড়েছে ৫ থেকে ৬ মিটারের মতো।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বুধবার রাতে ভারী বর্ষণটা ছিল না। ভোরে আবার বর্ষণ ছিল। এখন আবার নেই। পানির প্রবাহ কিছুটা কম গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা ঢল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না।

অন্যদিকে, গত বছরের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারা মানুষজন নতুন করে বন্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এসব মানুষের উৎকন্ঠা যেন গেল বছরের চেয়েও বেশি।

আনিস মিয়া নামের নদী পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, একটা বছরও পার হলো না, নতুন করে আবার বন্যার আশংকা। গত বছর বন্যায় ঘর তলিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নতুন ঘর পেয়েছি। এটাও যদি ভেসে যায়, এবার আর কোনো উপায় থাকবে না।

খাদিজা বেগম নামের এক বাসিন্দা বলেন, বন্যা এলে সবারই দুর্গতি। গত বছর আমাদের দুর্গতি সারাদেশের মানুষ দেখেছে। এখন আবার আমরা বন্যার সম্মুখীন। কী বলব ভাষা জানা নেই।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, গোমতীর পানি বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা মাত্র আমরা ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছি। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার এবং সরকারি চাল মজুদ আছে। সব উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসএসসিতে ফেল ৬ লাখ ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির।

তিনি জানায়, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট ৬ লাখ ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন। আর ফেল করেছে ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন ছাত্রী রয়েছে।

চাঁদপুরে সিঁধ কেটে বসত ঘরে ঢুকে হিন্দু নারীকে কুপিয়ে জখম

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ভোর রাতে সিঁধ কেটে বসতঘরে ঢুকে কাজল চক্রবর্তী (৪৬) নামে এক হিন্দু নারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোর রাত ৪টার দিকে ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও ছোট পন্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভাটেরগাঁও ছোট পন্ডিত বাড়ির মৃত কৃষ্ণপদ চক্রবর্তীর স্ত্রী দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ঘটনার দিন রাতে বসত ঘরের সামনের রুমে দুই ছেলে ও অন্য রুমে কাজল চক্রবর্তী প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে কে বা কাহারা সিঁধ কেটে ঘরের ভিতর ঢুকে ঘুমের মধ্যে কাজল চক্রবর্তীর ঘাড়ে ও বাম হাতের কব্জির উপরে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তার চিৎকারে ছেলেরা ছুটে আসতে আসতে অজ্ঞাত ব্যক্তি খাটের নিচ দিয়ে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেপার করেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ভিকটিম কাজল চক্রবর্তীর ছোট ছেলে প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, আমরা দুই ভাই এক রুমে আরও মা অন্যরুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে মায়ের চিৎকারের শব্দ শুনে দ্রুতে ছুটে যাই। গিয়ে কাউকেই দেখতে পাইনি তবে আমার মা ঘাড়ে হাত দিয়ে আছেন। হাত সরিয়ে দেখি প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তখন মাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অন্ধকারে কাউকে চিনতে পারেন নি বলে জানান। পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। তবে ঘরে থাকা কোন কিছুই খোয়া যায়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কারো সাথেই কোন দ্বদ্ধ বা শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা এ ঘটনাটি ঘটিয়াছে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বের করার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় ইউপি মেম্বার সোহেল পাটওয়ারী সোহাগ। তিনি বলেন, আহত কাজল রানীর পরিবারটি খুবই অসহায়। তার উপর কে বা কাহারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে বের করতে হবে। তবে উক্ত ঘটনায় এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। পরে একইদিন দুপুরে উক্ত ঘটনাস্থলে গিয়েছেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ লুৎফর রহমান, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাহার মিয়া, শাহমাহমুদপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি সহ থানা পুলিশ ও বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

ফেনীতে প্লাবিত অঞ্চলগুলো বিদ্যুৎহীন, বানভাসিরা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবনে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো পরিবার। দুর্ঘটনা এড়াতে ওই দুই উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুর্গত জনগণ।

ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট, কিসমত ঘনিয়ামোড়া, উত্তর ও পূর্ব শ্রীপুর, নিলক্ষ্মী, গোসাইপুর, মন্তলা, গাবতলা, কহুমা ও জগতপুর এবং পরশুরামের ধনীকুন্ডা, শালধর ও বেড়াবাড়িয়াসহ বহু এলাকায় মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। ফলে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না—বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

ফুলগাজীর জগতপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে কিছু উপায় বের করা যায়। কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকলে কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। এতে দেশে-বিদেশে থাকা আত্মীয়রা আরও বেশি আতঙ্কে পড়ে।

ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে উপজেলার ৩০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফুলগাজীতে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

অন্যদিকে পরশুরাম উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. সোহেল আকতার জানান, এখানে ৩৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় সংযোগ দেওয়া হবে। তবে বিদ্যুৎ লাইনের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ নেই, নেটওয়ার্ক নেই—এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন যেসব পরিবারে কেউ অসুস্থ, কিংবা যাদের আত্মীয় প্রবাসে। দুর্যোগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা নিঃসহায় হয়ে পড়েছেন একেবারেই।

কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৬৩ দশমিক ৬০, ছেলেদের তুলনায় এবার এগিয়ে মেয়েরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৬টি জেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে। সেই সাথে জিপিএ-৫ এ মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ডের শতকরা পাশের হার ৬৩ দশমিক ৬০। কুমিল্লা বোর্ডে মোট জিপিএ পেয়েছে ৯ হাজার ৯শত২ জন।

ছেলেদের তুলনায় এবার মেয়েরা এগিয়ে। ৪৩ হাজার ৭৮০ জন ছেলে পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪০৭জন ছেলে। এদিকে ৬২ হাজার ৮০১ জন মেয়ে পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৪৯৫জন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: শামছুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গতবারের তুলনায় এইবার পাশের হার বেড়েছে। বেড়েছে জিপিএ-৫। এবার এই বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৬৫হাজার ৮১ জন।