All posts by jitu

জাল সনদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন বিএনপি নেতা!

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভুয়া ডিগ্রী পাশের সার্টিফিকেট দিয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রফিকুল ইসলাম চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব।

জানা যায়, গত বছর ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বতীকালীন সরকারের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে এডহক কমিটির নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য ডিগ্রি বা সমমান পাশের সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। সারা দেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রামের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি গঠনও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই ধারাবাহিতায় গত ১৬ মার্চ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে বাতিসা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ রফিকুল ইসলামের নাম চুড়ান্ত অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার পক্ষে বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক।

সূত্রে জানা গেছে, বাতিসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়া মোঃ রফিকুল ইসলাম কর্তৃক সংশ্লিষ্ট অফিসে তাঁর নামে জমা দেয়া ডিগ্রি সনদটি জাল তথা ভুয়া। অভিযোগ উঠার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডরুম সূত্রে সনদটি যাচাই করে জানা যায়, জমাকৃত যে সনদটি প্রদর্শন করা হয়, সেটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা হয়। আর সে সনদে উল্লিখিত মোঃ রফিকুল ইসলাম ঢাকা নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজে ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে ১৯৮৯ সালে ডিগ্রি (বিএ) পাস করে। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে ১৯৯২ সালের শেষের দিকে। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে ডিগ্রির প্রথম ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় ১৯৯৩ সালে।

সনদ জাল কি না জানতে চাইলে সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করেন আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি সেটা আপনি কিভাবে জানলেন? এছাড়া সার্টিফিকেট জাল কি না সাংবাদিকের এ প্রশ্নের আর কোন জবাব না দিয়ে তিনি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম বলেন, সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম আমার কাছে তার ডিগ্রির সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সেগুলো জমা দিয়েছি। তার সনদ জাল কি না সেটা যাচাই করার দায়িত্ব আমার নয়।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য ডিগ্রি বা সমমান পাশের সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই বাচাই করে সভাপতি পদে ৩ সদস্যের একটি প্যানেলের নাম আমার নিকট প্রস্তাব পাঠায়। আর আমি সে প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নিকট জমা দিই। তিনি সেটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বোর্ড চেয়ারম্যানের নিকট সভাপতি হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন। বোর্ড চেয়ারম্যান এই তালিকা থেকে একজনের নাম চুড়ান্ত অনুমোদন দেন।

বাতিসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ রফিকুল ইসলামের ডিগ্রী সার্টিফিকেট প্রথমে সত্যায়িত ব্যতীত জমা দেয়ায় আমি প্রধান শিক্ষিকাকে সত্যায়িত কপি জমা দিতে বলি। পরে তিনি সত্যায়িত কপি জমা দেন। তবে রফিকুল ইসলামের সার্টিফিকেট যে জাল, তা নির্ণয় করা আমার পক্ষে অতটা সহজ নয়। তিনি সার্টিফিকেট নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই সভাপতি পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করা হবে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কেও জানিয়েছি।

রফিকুল ইসলামের ডিগ্রি সার্টিফিকেট সত্যায়নকারী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ সাঈদ আল মনসুর (ইনাম) বলেন, অরিজিনাল সার্টিফিকেট কিংবা অন্য কাগজপত্র নিয়ে কেউ সত্যায়ন করতে আসলে তাতে আমরা সত্যায়ন করে দেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে সার্টিফিকেট আসল নাকি নকল তা যাচাই করার কোন টুলস্ বা পদ্ধতি আমার কাছে নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামাল হোসেন জানান, বাতিসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলামের ডিগ্রী সার্টিফিকেট জাল বলে আমি শুনেছি। তদন্ত করে সেটি প্রমাণিত হলে বিধিমোতাবেক সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমিল্লায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় শ্বশুরকে হত্যা, পুত্রবধূর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

লাকসামে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় শ্বশুর মো. চাঁন মিয়াকে (৭০) ছুরিকাঘাত ও পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যার দায়ে পুত্রবধূ তাসলিমা আক্তারকে (৪১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক ফরিদা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত তাসলিমা আক্তার লাকসাম উপজেলার আশকামতা গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। নিহত চাঁন মিয়া স্থানীয় একটি মসজিদের মোয়াজ্জেমের দায়িত্ব পালন করতেন।

আদালত সূত্র জানায়, নিহত মো. চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন ঢাকায় একটি কারখানায় চাকরি করার সুবাদে তিনি সেখানে থাকতেন। সেই সুযোগে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম জড়িয়ে পড়েন।

বিষয়টি জানতে পেরে পুত্রবধূকে বাধা দেওয়া হলে ২০১৪ সালের ১০ জুলাই রাতে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে এবং ব্লেড দিয়ে শ্বশুরের পুরুষাঙ্গ কেটে হত্যা করেন তাসলিমা।

এ ঘটনায় পরদিন ১১ জুলাই লাকসাম থানায় নিহত চাঁন মিয়ার আপর ছেলে মো. বাবুল মিয়া (৩৫) বাদী হয়ে তাসলিমাসহ অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. এনামুল হক ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন (অভিযোগপত্র নং-১৪৫)। ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ মামলার চার্জগঠন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক ফরিদা ইয়াসমিন তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

কুমিল্লায় অস্ত্র ঠেকিয়ে সাংবাদিকের নিকট চাঁদা দাবির মামলায় আসামির রিমাণ্ড মঞ্জুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় কাজী মীর আহমেদ মীরু নামে এক সাংবাদিকের উপর হামলা ও মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তন্ময় চৌধুরীর এক দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নিশাত জাহান চৌধুরী এ আদেশ দেন।

আসামি সাইফুল নগরীর শাকতলা এলাকার মৃত. আবুল হাসেমের ছেলে।

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তন্ময় চৌধুরী নিজেকে ওয়ার্ল্ড ভিউ ট্যুরস্ এণ্ড ভিসা কনসালটেন্সি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিচয়ে স্টুডেন্ট ও ওয়ার্কপার্মিট ভিসায় বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী ও লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা ও চাঁদাবাজী করে আসছিলেন। তিনি নগরীর শাকতলা এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক কাজী মীর আহমেদ মীরুর ছেলেকে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা পাঠানোর প্রস্তাব করেন। এতে ওই সাংবাদিক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ওই নামে ফেইবুক আইডির মাধ্যমে ও ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করলেও তার কোনো ভিসা সেন্টার কোথাও নেই। এতে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে নানাভাবে হুমকি দেয় এবং নিজের ফেইসবুকে সাংবাদিকের ছবিসম্বলিত একাধিক পোস্ট দিয়ে সাংবাদিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বিভিন্ন মিথ্যাচার করে অপপ্রচার চালায়। এরই মধ্যে গত ৪ জুন সন্ধ্যায় সাইফুল অজ্ঞাতনামা লোকজনসহ নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় সাংবাদিককে পেয়ে তার নিকট ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আক্রমন চালিয়ে এলোপাতারিভাবে কিল-ঘুষি মেরে সাংবাদিককে আহত করে। একপর্যায়ে সাইফুল ওই সাংবাদিকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় সাংবাদিক কাজী মীর আহমেদ মীরু বাদী হয়ে ৫ জুন রাতে সাইফুল ইসলামকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ওইদিন রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

আদালতের পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান জানান, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ৩ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করলে আসামির উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আদালতের বিচারক নিশাত জাহান চৌধুরী আসামির এক দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহেদা বেগম ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন স্বপন।

দেবীদ্বারে হত্যাচেষ্টার মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেবীদ্বারে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আবু বকরকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যুবলীগ নেতা মো. আবুল হাসনাত অপু (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মো. আবুল হাসনাত অপু উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামের মো. আবুল খায়ের আলমের ছেলে এবং সুলতানপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসনাতকে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করা হয়। এর আগে গতকাল বুধবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই অজয় চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গত বছরের ৪ আগস্ট দেবীদ্বার কলেজ রোডে স্কুলছাত্র আবু বকরকে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থী আবু বকরের পিতা মো. আবুল খায়ের বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ ও তার ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদসহ এজহারভুক্ত ৭৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সন্ধিগ্ধ আসামি মো. আবুল হাসনাত অপু। আহত আবু বকর এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে অভিযান চালিয়ে হাসনাতকে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সে গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আবুবকরকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকরা মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি আসামি। অনুসন্ধানে ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে আবুবকরকে হত্যার চেষ্টার তথ্যপ্রমানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুরাদনগরে মাদক সম্রাট সোহেলকে ইয়াবাসহ ধরে পুলিশে দিল গ্রামবাসী

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে সোহেল মিয়া নামের এক মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীকে ইয়াবাসহ ধরে পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার পাইকারী ব্যবসা পরিচালনার ফলে স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে তার নাম হয়ে উঠে মাদক সম্রাট সোহেল।

বুধবার রাতে মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের নাগেরকান্দি তিতাস এলাকায় মাদক সম্রাট সোহেল ও তার সহযোগী কাউসার আহমেদকে স্থানীয় গ্রামবাসী ইয়াবা সহ আটক করে মুরাদনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত মাদক সম্রাট সোহেল মিয়া (৩২) নাগেরকান্দি গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও অপরজন মাদকসম্রাট সোহেলের প্রধান সহযোগী কাউসার আহমেদ (২৭) ডুমুরিয়া গ্রামের জুলু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদক ব্যবসায় ও মাদকসেবন করে এলাকার নারীদের উক্ত্যপ্ত ও নির্যাতন করে আসছিল। তাকে সবাই এখন এলাকায় ইয়াবা সম্রাট সোহেল নামে চেনে। তার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অপর মাদক ব্যবসায়ী কাউছারও তার চাচা সাবেক ইউপি সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় করে আসছিল। তার নামেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাদের প্ররোচনায় পড়ে এলাকার অনেক উঠতি বয়সীর ছেলেরাও মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী তাদের অনেকবার সতর্ক করার পরেও তারা গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা সোহেলের নিজ বসতঘর থেকে ইয়াবা সেবনকালে ৪৮ পিছ ইয়াবাসহ সোহেল ও কাউছারকে আটক করে। পরে তাদেরকে মুরাদনগর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। মাদক নির্মূলে এলাকাবাসী একজোট হয়ে কাজ করছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, সোহেল এবং কাউসারকে স্থানীয় গ্রামবাসী ইয়াবা সহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাদেরকে সেখান থেকে গ্রেফতারপূর্বক মুরাদনগর থানায় মাদক মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতের প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় বিষ প্রয়োগ ও এসিড ঢেলে শিশু হোসাইন হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

 

রকিবুল ইসলাম (ম্যাক):

কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে বিষ প্রয়োগ ও এসিড ঢেলে ১৪ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে বুড়িচং থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলার আসামীদের মামা বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের সোলাইমানের ছেলে আলাউদ্দিন (২২) এবং সাইমুন (১৬)

পুলিশ জানায়, গত দুইমাস আগে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের মইনুল হোসেনের মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এতে সাইমুন নামে এক যুবকের জড়িত থাকার অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে প্রমাণিত হলে তাকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়। সালিশ করেন হোসাইনের বাবা আবু তাহের। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সাইমুন ও তার ভাই আলাউদ্দিন গত ৩১ মে হোসাইনকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বিষপান করায়। অ্যাসিড ছুঁড়ে দেয় তার অন্ডকোষে। ১২ দিন কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার মারা যায় শিশুটি।

এই বিষয়ে কুমিল্লা বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, শিশু হোসাইন হত্যার ঘটনা দুই জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলার আসামীদের মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

লালমাইয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান: অবৈধ অস্ত্রসহ একজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি এয়ারগান এবং ৩টি ছুরিসহ শহীদ মিয়া নামের এক অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে।

আটক হওয়া ব্যক্তি এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় লালমাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইরানের ওপর আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ নিউজ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

ব্লুমবার্গ নিউজ অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ‘আগামী দিনে ইরানে সম্ভাব্য হামলার চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

এতে আরও বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ এটির লক্ষণ যে, ‘ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার জন্য অবকাঠামো তৈরি করছে’।

তবে জনসাধারণের মতে, পরিস্থিতি এখনও বিকশিত হচ্ছে এবং পরিবর্তিত হতে পারে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সপ্তাহান্তে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি বলেন যে, মুষ্টিমেয় ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ নেতারাও আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন।’

এদিকে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তবে এখনো পর্যন্ত তিনি চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। তবে তেহরান শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতায় আসে কিনা, তা দেখার জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এটি পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবলমাত্র সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা দিয়েই এ স্থাপনাটি ধ্বংস করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম বন্দরের ৫০ কোটি টাকা স্টোর রেন্ট ফাঁকি, হোতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫০ কোটি টাকা স্টোর রেন্ট ফাঁকি দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর জাল করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি করা মূল্যবান যন্ত্রপাতি খালাসের হোতা তৌহিদুল ইসলাম শুভকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রাজধানীর সোবহানবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, তৌহিদুল ইসলাম নিজেকে সামরিক বাহিনীর মেজর পরিচয় দিতেন। তার কাছ থেকে সামরিক পোশাকযুক্ত মেজর পদের ভুয়া পরিচয়পত্র, অনেকগুলো মেজর পদের ভিজিটিং কার্ড, ৮টি মোবাইল ফোন, ১০টি সীম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং ১টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সিআইডি জানায়, দেশের স্বনামধন্য বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল কোম্পানী লিমিটেড মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সময় আনা প্রায় ১৩৯টি কন্টেইনারে মূল্যবান যন্ত্রপাতি আমদানি করে। কিন্তু যথা সময়ে খালাস না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কোম্পানির প্রায় ৯২ কোটি টাকা স্টোর রেন্ট বকেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে স্টোররেন্ট মওকুফের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করে কোম্পানি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন থাকাকালীন প্রতারক তৌহিদুল ইসলাম এবং আবু হানিফা ওরফে হানাফি ওরফে আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন স্টোর রেন্ট মওকুফপত্র সরবরাহ করে। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যথা নিয়মে ওইসব যন্ত্রপাতি খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিষয়টি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলে স্টোর রেন্ট মওকুফ পত্রটি জাল বলে জানায়। এর প্রেক্ষিতে মামলা হলে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে তৌহিদুল ইসলাম শুভকে গতকাল ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানায় প্রতারণার ২টি এবং রাজশাহী বোয়ালিয়া থানায় প্রতারণার আরও ২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দ থানায় ১টি মামলার সাজাসহ মোট ৪টি ওয়ারেন্ট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোহাম্মদ আবু হানিফা ওরফে হানাফি, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিন এবং রনি রাজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

চৌদ্দগ্রামে র‍্যাব পরিচয়ে সিএনজি চুরি, মুল হোতা গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র‍্যাব পরিচয়ে সিএনজি অটোরিকশা চিনতাইয়ের পর জিপিএস ট্র‍্যাকিংয়ের মাধ্যমে ছিনতাইকারীসহ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। গত ১৭ই জুন রাত ১১ ঘটিকায় চৌদ্দগ্রাম থেকে সিএনজি অটো রিক্সাটি উদ্ধার করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের সার্কেল এডিশনাল এএসপি খায়রুল জানায়, গত ১৫ই জুন পদুয়ার বাজার থেকে বুচ্চি ভাঙ্গড্ডা সড়কে যাত্রী পরিচহন করা সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রীবেশে উঠেন আল মাহফুজ হৃদয়।

পথিমধ্যে চালকের সাথে আলাপকালে চালক মনির হোসেনকে র‍্যাব ১১ কুমিল্লা শাকতলার গোয়েন্দা অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে সরকারী বাহিনীর ডিউটি করেছেন কি না চালকের জানতে চান এবং তার মোবাইল নাম্বারটি সংগ্রহ করে নেন। ১৬ তারিখ কল করে চালককে ১৭ তারিখ জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন। এবং চালকের সাথে দুই হাজার টাকা ভাড়া চুক্তি হয়।

১৭ তারিখ বিকেলে চালক মনির হোসেন জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে আল মাহফুজকে নিয়ে মিয়াবাজার যাওয়ার পথে শুয়াগাজি বাজার নামক স্থানে পৌঁছালে আল মাহফুজ মোবাইলে অন্যের সাথে কথা বলে অন্য জায়গায় আকস্মিক অভিযানের কথা বলে গাড়ি ঘুরিয়ে রাজেশপুর ইকোপার্কে নিয়ে যায়। এরপর সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালককে দুটি গামছা দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়।

চালক মনির হোসেন বলেন, বৃষ্টির মধ্যে অন্ধকারে গাছের সাথে বেঁধে রাখা অবস্থায় আধা ঘন্টা চেষ্টার পর বাঁধন খুলতে সক্ষম হই। পাশ্ববর্তী এক বাড়িয়ে সাহায্য না পেয়ে দেড় কিলোমিটার দূরে স্থানীয় একটি বাজারে গিয়ে গাড়ির মালিক আমার বড় ভাইকে কল করে ছিনতাইয়ের ঘটনা জানাই। আমার ভাই তৎক্ষণাৎ গাড়ির সেল সেন্টারে কল দিলে তারা গাড়িতে থাকা জিপিএস ট্র‍্যাক করে গাড়ির অবস্থান নির্ণয় করে। সাথে সাথে হাইওয়ে পুলিশের মোবাইল টিমকে জানালে চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের ডলি রিসোর্টের সামনে থেকে গাড়িসহ কথিত র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার অফিসার ছিনতাইকারী আল মাহফুজকে আটক করে তারা।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ওসি সাহাবুদ্দিন জানান, ছিনতাইকারী আল মাহফুজের বিরুদ্ধে রংপুর ও কুমিল্লায় দুটি মামলা রয়েছে। তাকে প্রধান আসামী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।