All posts by jitu

ব্রাহ্মণপাড়ায় স্কাফ সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার

সাইফুল ইসলাম ফাহাদ:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ বোতল নেশাজাতীয় স্কাফ সিরাপসহ মো. আনোয়ার হোসেন (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার(২৫ অক্টোবর) উপজেলার ৪ নং শশীদল ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় আলেক মেম্বারের বাড়ির সড়কে হাফিজ মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার আচার্য্য সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ১০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধারসহ আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন উপজেলার ৪ নং শশীদল ইউনিয়নের উত্তর তেতাভূমি মসজিদপাড়া এলাকার মোল্লা বাড়ির মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। মাদক ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মুরাদনগরে বিধবা নারীকে পাওয়ার আশায় মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মাহবুব আলম আরিফ:

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাসুদ মিয়া (৪০) নামের এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগিনা মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙ্গারির ব্যবসা করতেন।

অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে মাসুদ মিয়া তাঁর দোকানের পাশের একটি মুদি দোকানে গেলে ভাগিনা শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দোকান থেকে কিছু দূরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করে। এ সময় দুজনের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদ মিয়ার স্ত্রী তিন সন্তান রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তিনি নিজের ভাঙ্গারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় তিন বছর আগে একই উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের শাহেদাগোপ গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দেলোয়ারা বেগমের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে কৌশলে মামার কাছ থেকে ওই নারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন শিপন। পরে তিনিও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগিনার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পরিবারের দাবি, গত ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে সিপন তাঁর মামা মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর শিপনকে মারধর করেন মাসুদ মিয়া। এরপর থেকে শিপন বিভিন্নজনের কাছে ওই নারীকে পাওয়ার জন্য মামাকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলতেন বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শিপনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রামবাসী। তাঁরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো: আনোয়ার হোসেন জানান, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগিনার প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে শনিবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে হত্যা মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৪২ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৪ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ও কসবা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম, এএসসির দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনায় আখাউড়া, চন্ডিদার, মঈনপুর, মাদলা, খাদলা, সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল, খারেরা ও বড়জ্বালা বিওপির টহলদল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গরু, বাসমতি চাল, কাতান শাড়ি, ইঁদুর মারার বিষ, সাবান, লোশন, বিভিন্ন ধরনের তেল, কুঁচিয়া মাছ, মেহেদি, মসলা, পোশাকসামগ্রী, ফুসকা, মিছরি, হরতকির গুঁড়া, স্কিন পাউডার, প্লাস্টিকের চুষনি, বিভিন্ন ওষুধ, চকলেট, আচার, চিপস, আটা, কাশির সিরাপ, মদ ও একটি সিএনজিচালিত যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৪ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া (পুশ-ইন), নারী ও শিশু পাচার, মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী

ডেস্ক রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে থানা-পুলিশ। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে ঘরের ভেতরে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই গাজী সুমন মাহতাব জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে ফারজানার পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের অমতে বা অমতেই প্রায় তিন বছর আগে নাজমুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফারজানা। তবে বিয়ের পর থেকেই তার ওপর চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে নানা বাহানায় আমাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নেয় নাজমুল। কিছুদিন আগে চাকরি পাওয়ার পর তার টাকার লোভ আরও বেড়ে যায়। যৌতুকের দাবিতে বোনকে প্রতিনিয়ত মারধর করা হতো।’

স্বজনরা জানান, নিরুপায় হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন ফারজানা এবং নাজমুলের বিরুদ্ধে নারী নিপিড়ন আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে নাজমুলের পরিবার নির্যাতন না করার লিখিত অঙ্গীকার ও সমঝোতার আশ্বাস দিলে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ফারজানার ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো চাঁদপুর জেলা ইজতেমা

মাসুদ হোসেন:

‎আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী চাঁদপুর জেলা ইজতেমা। শনিবার (২৪ অক্টাবর) দুপুর ১২টায় হেদায়েতি বয়ান শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের আমীর মাওলানা শামসুদ্দিন। এ সময় হাজারো মুসল্লির আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মেঘনাপাড়ের ইজতেমা ময়দান।
‎
‎এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার দোকানঘর এলাকায় মেঘনাপাড়ে শুরু হয়েছিল এই ইজতেমা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রায় ১০ হাজার লোক একসঙ্গে ইজতেমা ময়দানে পবিত্র জুমআর নামাজ আদায় করেন।
‎
‎তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। ইজতেমায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রবীণ আলেমদের বয়ান, জিকির-আজকার এবং বিশেষ তালিম অনুষ্ঠিত হয়। আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।
‎
‎ইজতেমা ব্যবস্থাপনার সার্বিক বিষয়ে তাবলিগ জামাত চাঁদপুর জেলার জিম্মাদার মো. আরিফ উল্লাহ বলেন, নিজামুদ্দিনের মূল ধারার তত্ত্বাবধানে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের বিপুল উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার সফল সমাপ্তি ঘটে।

‎চাঁদপুরের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

মাসুদ হোসেন:

‎চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান (৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
‎
‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
‎
‎মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
‎
‎ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
‎
‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
‎
‎সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
‎
‎সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
‎মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
‎
‎গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।

‎বুড়িচংয়ে পুলিশের অভিযান, গাঁজাসহ আটক ৫

মুহাম্মদ রকিবুল হাসান রনি:

‎কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গাঁজাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রানীর বাংলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
‎
‎পুলিশ জানায়, আটক পাঁচজনের মধ্যে মাদক কারবারি ও মাদকসেবী রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয়, উদ্ধার করা গাঁজার উৎস এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
‎
‎স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‎
‎বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
‎
‎তিনি আরও জানান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

‎ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি:

‎মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদকবিরোধী ঘরোয়া লীগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে রানীগাছ অগ্রণী ফুটবল একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রানীগাছ সূর্যমুখী ফুটবল একাদশ।
‎
‎গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের রানীগাছ মাঠে রানীগাছ ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎ফাইনালে মুখোমুখি হয় রানীগাছ সূর্যমুখী ফুটবল একাদশ ও রানীগাছ অগ্রণী ফুটবল একাদশ। এক ঘণ্টার খেলায় দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে সূর্যমুখী একাদশ।
‎
‎খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমসি সলিউশন বিডির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবুর রহমান।
‎
‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ও মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. সোলাইমান, মিজানুর রহমান আকবর, মামুন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নোয়াব মিয়া, মো. মাহফুজুর রহমান, মো. ইউসুফ সরকার, মো. অলি উল্লাহ, মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. শেখ সাদী, মো. মোস্তফা, ইসহাক ও মো. ইব্রাহিম খলিল।
‎
‎এ সময় রানীগাছ এলাকার ফুটবলপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন। দুই দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
‎
‎খেলা শেষে বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন এবং ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা জরুরি।
‎
‎তাঁরা আরও বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থ মানসিকতার বিকাশ ঘটায়। এ ধরনের মাদকবিরোধী ক্রীড়া আয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎পিতা-পুত্রের এভারেস্ট বেস ক্যাম্প জয়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক:

‎পিতা-পুত্র একসঙ্গে দুর্গম এভারেস্ট বেস ক্যাম্প জয় করেছেন। তাঁরা হলেন কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.) এবং তাঁর পুত্র সাদনান আদিব খান, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
‎
‎গত ১ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ১৮ দিনের এই দুঃসাহসিক ট্রেকিংয়ে তাঁরা প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে নয় ঘণ্টা হেঁটে লুকলা, ফাকডিং, নামচে বাজার, টেংবুচে, ডিংবুচে, লবুচি ও গোরাকশেপসহ দুর্গম পথ অতিক্রম করে গত ৮ অক্টোবর বিকেলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩৪৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।
‎
‎ফেরার পথে তাঁরা দুর্গম চোলা পাস (৫৪২০ মিটার) অতিক্রম এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত মনোরম গোকিও লেক (৪৯৮০ মিটার) পাড়ি দেন ও পরিদর্শন করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া, তুষারাবৃত পথ ও উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই অভিযান সম্পন্ন করেন তাঁরা।
‎
‎কর্নেল (অব.) ডা. নাজমুল হুদা খান বর্তমানে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস হিসেবে কর্মরত। পিতা-পুত্রের এই যৌথ অভিযান দুঃসাহসিকতা, অধ্যবসায় ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ১৮ অক্টোবর তাঁরা দেশে ফেরেন।

কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৭৫, আইনগত ব্যবস্থা ১৪২ জনের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযানে ২৭৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৩৩ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এতে অংশ নেয়।

কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।