All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামের কাজী মো: নাহিদ জাতীয় পার্টির (জাফর) নতুন মহাসচিব

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মোঃ নাহিদ। নাহিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ এর ভাতিজা। এছাড়া দলটির কো: চেয়ারম্যান নির্বাচিত নিযুক্ত হয়েছেন আহসান হাবীব লিংকন ও নওয়াব আলি আব্বাস খান।

শনিবার (২২শে আগষ্ট) সকালে ঢাকার খিলগাঁওস্থ দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় পাটির ( কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মাওলানা রুহুল আমিন,কামরুল হুদা, আলহাজ্ব সেলিম মাস্টার, ব্যারিস্টার জুবায়ের হায়দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী ওমর ফারুক, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব এ এস এম শামীম, কাজী মোহাম্মদ নজরুল, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক নিজামুদ্দিন সরকার, এটিএম মাইনুল হক, জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ ও সদস্য সচিব মেহেদী হাসান।কাজী মোঃ নাহিদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমেদের আদর্শ ও রাজনৈতিক ধারা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছেন। অত্যন্ত সদালাপি ও মিষ্টিভাষী কাজী নাহিদ ইতোমধ্যেই চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের মাঝে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান

বিশেষ প্রতিনিধি:

সরকারের ছয় মাসের পথচলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য—সবকিছুর সঙ্গেই ভারত সম্পর্কিত। ফলে আবেগ বা রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বাস্তবতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এ সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন সেই কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো রাষ্ট্রই এককভাবে টিকে থাকতে বা এগিয়ে যেতে পারে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক ভিত্তি—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি। অর্থাৎ কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম বিবেচ্য হতে হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ। যে সম্পর্ক দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, বাংলাদেশকে সেই সম্পর্কই এগিয়ে নিতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তব সত্য হলো—প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, তেমনি বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথও প্রশস্ত করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তাই অন্য অনেক দেশের তুলনায় আলাদা। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের কারণে ভারতকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক কখনো উষ্ণ হয়েছে, কখনো আবার নানা কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর একই বছরের ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন জিয়াউর রহমান। তাঁর ভারত সফর নিয়ে নিজ সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত ছিল। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই সফরের ধারাবাহিকতায় গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের পানিস্বার্থের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। জাপান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি—সবকিছুর পেছনেই ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ। ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তিনি বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছিলেন। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল তাঁর কূটনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বেগম খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতেও একই ধরনের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরই তিনি ভারত সফর করেন। ২০০৬ সালেও তিনি ভারত সফর করেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল ২০১২ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর ভারত সফর। সাত দিনের ওই সফরে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন এবং দেশটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মান পান।

সে সময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদের একটি অংশ এবং দলের ভেতরের অনেকে ভারত সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক চাপের পরিবর্তে নিজের বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে সফরটি করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, বিএনপি ভারতবিরোধিতার রাজনীতি করে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তিনি তখনও উপলব্ধি করেছিলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সেই বাস্তববাদী কূটনৈতিক ধারার উত্তরসূরি হিসেবে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে একই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাঁর সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন জায়গাতেই, যেখানে আবেগ, রাজনৈতিক চাপ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

দুঃখজনকভাবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নানা অসংগতি তৈরি হয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের স্বার্থের চেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছিল। ‘বিশ্ব আমাদের কাছে আসবে’—এমন প্রত্যাশার কথা বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর অনেক ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিতে বাংলাদেশের কোনো দৃশ্যমান লাভ হয়নি। বরং বাণিজ্য, ভিসা, সীমান্ত, যোগাযোগ এবং মানুষের পারস্পরিক যাতায়াতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভারতবিরোধী বক্তব্যও দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ভারতের সঙ্গে ‘অসম চুক্তি’ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে বড় ধরনের কোনো চুক্তি বাতিল হয়নি। একইভাবে আদানি বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তব রূপ পায়নি।

চীন সফরের সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছিল। একটি রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের বক্তব্য প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হলে তার কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ ধরনের বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে ভারত বাংলাদেশের পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ভিসা কার্যক্রমও দীর্ঘ সময় কার্যত সীমিত ছিল। চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াতকারী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি বাড়ে। সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দেশের সম্পর্কের এই অবনতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা সাধারণ মানুষের কোনো স্থায়ী সুবিধা তৈরি হয়নি।

এমনকি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া দেশের ক্রীড়া ভাবমূর্তির জন্যও ইতিবাচক ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের একটি প্রতিবেশী সম্পর্কের অবনতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশে এসে শোক ও সমবেদনা জানান। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরালার উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

এরপরও বিভিন্ন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সময়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি সুযোগ—দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে আস্থা তৈরি করার।

ভারতের পক্ষ থেকে দিনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া এবং ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত বহন করে। জ্বালানি সংকটের সময় ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট তৈরি হলে ভারত থেকে আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এসব ছোট ঘটনা হলেও এগুলো দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশের পোশাক ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন শিল্পে তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, রং, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশসহ নানা ধরনের কাঁচামাল ও উপকরণের প্রয়োজন হয়। ভারতের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে এসব পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে আনা সম্ভব। সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প হিসেবে চীন বা দূরবর্তী কোনো বাজার থেকে পণ্য আনতে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, সময় বেশি লাগবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি মজুত রাখতে হবে।

এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় পড়বে। বাংলাদেশের শিল্পের একটি বড় সুবিধা হলো ভৌগোলিক অবস্থান। সড়ক, রেল, নৌপথ এবং সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে ভারতীয় বাজারের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজারেও প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ট্রানজিট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের অবনতি হলে এসব সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পানিবণ্টন, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, ট্রানজিট, নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত। ভারত বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশও ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্পর্কটি একতরফা নির্ভরতার নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, চোরাচালান, মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য ও সহযোগিতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা দুর্বল হলে উভয় দেশই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অবশ্যই এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের সব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একমত হতে হবে। সীমান্তে হত্যা, পানির ন্যায্য হিস্যা, বাণিজ্য বৈষম্য, পণ্যবাজারে বিধিনিষেধ কিংবা যেকোনো অসম চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস না করেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। বরং কূটনীতির প্রকৃত সাফল্য এখানেই—বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশের সামনে তাই ভারতকে বেছে নেওয়া অথবা অন্য কোনো শক্তিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, কীভাবে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির প্রকৃত অর্থও সেটিই।

এই বাস্তবতার বিপরীতে দেশের ভেতর থেকে যদি কেউ সরকারকে অতিরিক্ত ভারতবিরোধী অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। একটি দেশের সঙ্গে একটি বা একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু একটি ইস্যুর কারণে সব ধরনের আলোচনা ও সহযোগিতার দরজা বন্ধ করে দেওয়া কোনো বিচক্ষণ কূটনীতি হতে পারে না।

ভারতবিরোধী মনোভাবকে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার হাতিয়ার বানানোর ঝুঁকিও কম নয়। অতিরিক্ত সংঘাতমূলক অবস্থান রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াতে পারে, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি পক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।

বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। তাই দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বাস্তববাদ, ভারসাম্য এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। ভারতবিরোধিতা দিয়ে নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ আদায় করার সক্ষমতা দিয়েই সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বিচার করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির ধারাকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে এগিয়ে নিতে পারেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সম্ভব। আলোচনার টেবিলেই পানির হিস্যা, সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দাবি তুলে ধরতে হবে।

কূটনীতিতে মান-অভিমান কিংবা জেদের কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। রাষ্ট্রের স্বার্থই সেখানে শেষ কথা। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তারেক রহমানের ভারত সফর করা উচিত কি না—এই প্রশ্নের উত্তরও রাজনৈতিক আবেগ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের আলোকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি চায়, যেখানে কোনো দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নেই, আবার অকারণ বৈরিতাও নেই। যেখানে বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু আত্মসম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে; সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন এখানেই।

দেশের জনগণের প্রত্যাশা—তিনি কোনো পক্ষের চাপ বা আবেগের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই বাংলাদেশের স্বার্থ সবচেয়ে শক্তভাবে তুলে ধরতে হবে। আর সেই সিদ্ধান্তই হবে প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কূটনীতির প্রতিফলন।

কুমিল্লায় বিভিন্ন মামলায় ৬৫ জনকে গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত ৩৯টি বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার ১৪৫ পিস ইয়াবা ও ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ সর্বমোট ৬৫ জনকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

শুক্রবার কুমিল্লা জেলার সকল থানার উদ্যোগে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এ ব্যাপক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তুলতে নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা ও কসবা সীমান্তে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও কুমিল্লার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

শনিবার (২২ আগস্ট) সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, এএসসির দিকনির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মঈনপুর, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল বিওপির টহলদল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়।

অভিযানে ভারতীয় অবৈধ রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, অলিভ অয়েল, ফুসকা, বাসমতি চাল, বাজি, গরু, স্যুটের কাপড়, থ্রি-পিস, মদ, বিয়ার, গাঁজা ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০০ টাকা।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন জানায়, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, পুশ-ইন, নারী ও শিশু পাচার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দাউদকান্দিতে মোটরসাইকেলের ভেতর থেকে দশ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার(২১আগষ্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজার পশ্চিম পাশে স্কেল সংলগ্ন এলাকা ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেল আটক করা হয়। আটককৃত রুবেল ভূঁইয়া(৩৫) নরসিংদী জেলার মাধবদি উপজেলার খিজিরকান্দি গ্রামের মোঃ সেলিম মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে সাইট করা হয়। পরে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা কালো কস্টিপে মোড়ানো পাঁচটি প্যাকেটে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এফজেটএস মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আর মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের ভৌয়াই স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ভৌয়াই মাঠে আয়োজিত খেলায় ট্রাইব্রেকারে বাঙ্গালমুড়ি ফুটবল একাদশ ৩-২ গোলে বসুয়ারা ফুটবল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মহানগর শিবিরের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মনির হোছাইন মজুমদার।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার হুমায়ুন কবির, সৌদিআরব খোরশেদ আলম মজুমদার, সর্দার আবুল খায়ের মজুমদার, ব্যবসায়ী হাজী ছিদ্দিকুর রহমান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জহির, জাহের, কামাল, মেহেদী, মহিন, নাইম, রাকিব, এনামূল, ফারুক, শরীফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ। খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গ্রামের বিপুল সংখ্যক খেলাপ্রেমী উৎসুক যুব ও কিশোর।

অতিথিবৃন্দ বলেন, মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলার বিকল্প নেই। তাই, খেলার প্রতি যুবকদের আগ্রহ বাড়াতে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। যুবকরা খেলায় মনোযোগী হলে সমাজে অপরাধ কমে যাবে।

চৌদ্দগ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন।

এরআগে পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় পাঠাগারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম খাঁনের সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠাতা ইমরান মাহফুজের পরিচালনায় অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ মাওলা, কুবি’র ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মোঃ মোশারফ হোসেন, কবি মোঃ আহসান উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ এমদাদ উল্যাহ, সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন, সাংবাদিক আবু বকর সুজন, কোমাল্লা এবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক একেএম শামছুল হক, তরুণ ইসলামী বক্তা মাওলানা মোবারক বিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক আহমেদ মাওলা বলেন, আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে বইপাঠ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি করে পাঠাগার। সমাজ কি অবস্থায় আছে পাঠাগারের প্রতি রাষ্ট্র সমাজের আন্তরিকতা দেখলেই বুঝা যায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়া উঠা বিলকিছ আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। প্রশাসকদের পাশাপাশি সমাজপতিদেরও উচিৎ এগুলোর প্রতি নজর দেওয়া।

পাঠাগার পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সমাজ থেকে মাদক মুক্ত করতে হলে খেলাধুলা, সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া উপায় নেই। আমি প্রায় ভাবি কীভাবে তরুণদের বইয়ের সঙ্গে রাখা যায়, শুদ্ধ জীবনে ফেরানো যায়।

এই ক্ষেত্রে লাইব্রেরি কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক শক্তি। অভিভাবকদের উচিত নিজেদের সন্তানদের নিয়ে পাঠাগারে আসা। আমরা চেষ্টা করব বিলকিছ আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে।

হোমনায় কলেজের বারান্দায় বসে মাদক সেবনের দায়ে তিনজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার হোমনায় হোমনা ভিক্টর স্কুল এন্ড কলেজের বারান্দায় গাঁজা সেবনের দায়ে তিনজনকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার রাতে তাঁদের আটক করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, হোমনা সদরের পশ্চিম পাড়ার মৃত আমজাদ সরকারের ছেলে মো. সজীব সরকার (২৪), জাকির হোসেনের ছেলে মো. জুবায়েদ হোসেন (২৬) এবং মশিউর রহমান রতনের ছেলে নিয়াজ রহমান সিয়াম (২২)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও হোমনার এসিল্যান্ড আহমেদ মোফাচ্ছের জানায়, বুধবার রাতে হোমনা ভিক্টর স্কুল এন্ড কলেজের বারান্দায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় তাঁদের আটক করা হয়। পরে প্রত্যেককে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের আজ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আহমেদ মোফাচ্ছের।

লাকসামে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ

লাকসাম প্রতিনিধ:

কুমিল্লার লাকসামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিটি লাকসামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কর্মসূচিতে লাকসাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফারুক হোসেন, সালমান হোসেন ও সাংবাদিক রুবেল এবং পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেক রহমান, শহিদুর রহমান সেফাজ, আরিফুর রহমান রপা ও জাবেদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এক ছাদের নিচে আরবের স্বাদ: বিয়ন্ড বুফেতে বিশেষ ফুড ফেস্টিভ্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর গুলশানে এক ছাদের নিচেই মিলছে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী ও প্রিমিয়াম স্বাদের বৈচিত্র্যময় খাবার। ভোজনরসিকদের জন্য জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ বিয়ন্ড বুফে আয়োজন করেছে বিশেষ ‘অ্যারাবিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’। অ্যারাবিয়ান খাবারের খাঁটি স্বাদ, রাজকীয় পরিবেশ এবং আকর্ষণীয় অফারের সমন্বয়ে এরই মধ্যে উৎসবটি তৈরি করেছে ভিন্নধর্মী খাবারের অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ অ্যারাবিয়ান আদলে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে অতিথিদের জন্য থাকছে ১০০টিরও বেশি প্রিমিয়াম পদ। লাঞ্চ ও ডিনারে বিশাল এই বুফে আয়োজনে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ অতিথি উপভোগ করতে পারবেন মধ্যপ্রাচ্যের নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ।

শুরুতেই অ্যারাবিয়ান আতিথেয়তার ছোঁয়া

বিয়ন্ড বুফের এই বিশেষ আয়োজনে খাবারের পাশাপাশি অতিথিদের স্বাগত জানানো হচ্ছে বিশেষ ‘সাউদি শ্যাম্পেন’ ও ‘গাওয়া অ্যারাবিক’ দিয়ে। ফলে রেস্তোরাঁয় প্রবেশের পর থেকেই অতিথিরা পেয়ে যাচ্ছেন অ্যারাবিয়ান আবহ ও আতিথেয়তার ভিন্নধর্মী অনুভূতি।

মূল বুফে মেনুতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সব পদ। থাকছে সুগন্ধি ও মসলাদার কাবসা, ঐতিহ্যবাহী মান্দি, বিভিন্ন স্বাদের অ্যারাবিয়ান কাবাব, ক্রিমি হামুস ও মুতাব্বালসহ আরও নানা পদ। খাবারের বৈচিত্র্য যেমন থাকছে, তেমনি প্রতিটি পদেই ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে অ্যারাবিয়ান খাবারের নিজস্ব স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য।

আর ভোজন শেষে মিষ্টিমুখে থাকছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই জনপ্রিয় ডেজার্ট- বাকলাভা ও কুনাফা। ফলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অতিথিরা উপভোগ করতে পারবেন পূর্ণাঙ্গ অ্যারাবিয়ান কুলিনারি এক্সপেরিয়েন্স।

লাঞ্চ ও ডিনারে প্রিমিয়াম বুফে

অ্যারাবিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যালের বুফে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে লাঞ্চে ১,৪৫০ টাকা এবং ডিনারে ১,৭৫০ টাকা। লাঞ্চ চলবে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ডিনার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ভিন্নধর্মী খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে বিয়ন্ড বুফের এই আয়োজন হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।

থাকছে আকর্ষণীয় সব অফার

অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করতে ফেস্টিভ্যাল চলাকালীন বিশেষ অফারও দিচ্ছে বিয়ন্ড বুফে। যমুনা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের কার্ডধারীরা উপভোগ করতে পারবেন আকর্ষণীয় ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ (BOGO) সুবিধা।

এ ছাড়া জিপি স্টার গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট। ফলে প্রিমিয়াম অ্যারাবিয়ান খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ সুবিধাও উপভোগের সুযোগ থাকছে অতিথিদের জন্য।

বিয়ন্ড বুফের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান খন্দকার জানান, খাবারের অথেন্টিসিটি ও সিগনেচার স্বাদ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অতিথিদের জন্য প্রতিবারই নতুন ও স্মরণীয় খাবারের অভিজ্ঞতা তৈরি করাই বিয়ন্ড বুফের লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে অ্যারাবিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল শুধু খাবারের আয়োজন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের স্বাদ, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তাকে কাছ থেকে উপভোগ করার একটি বিশেষ সুযোগ। আর এই অভিজ্ঞতার ঠিকানা যখন গুলশানের বিয়ন্ড বুফে, তখন ভোজনরসিকদের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে স্বাদের এক অনন্য গন্তব্য।