All posts by jitu

আমার লোক পরিচয়ে কোন প্রতিষ্ঠানে তদবির- চাঁদাবাজি করলে ছাড় দেয়া হবে না: আবু রায়হান

আমার লোক পরিচয়ে কোন প্রতিষ্ঠানে তদবির- চাঁদাবাজি করলে ছাড় দেয়া হবে না: আবু রায়হান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেছেন, আমার আত্মীয় স্বজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তদবির ও বিভিন্ন স্তরের মানুষদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন কিছু সুবিধে বাদি লোকজন। এমন অনেক অভিযোগ আমি পেয়েছি। তাদের বিষয়ে কোন ছাড় নেই।

রোববার (১৬ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

আবু রায়হান বলেছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ছাত্র জনতা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন। এই রক্ত দেয়ার পিছনে একটাই লক্ষ্য ছিল, সেটা হল- দেশের বিভিন্ন স্তরে চলমান বৈষম্য ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। এখনো দেশের বিভিন্ন স্তরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা অবস্থান করছেন। আমরা এখনো তাদের শনাক্ত ও অপসারণ করার জন্য আন্দোলন করা যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি। আমাদের এই কার্যক্রম চলাকালে কিছু অশুভ শক্তি ও সুবিধাবাদী লোকজন আমাদের নাম ভাঙিয়ে বিশেষ করে আমার লোক, কখনো আমার ভাই, কখনো আমার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে , কখনো সরাসরি কিংবা মুঠোফোনে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে ভুক্তভোগী কিংবা দুর্নীতিবাজ লোকজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এমন কিছু রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে। কখনো আমার ভাই পরিচয় দিচ্ছেন, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে এমন অনৈতিক কাজ করছেন। সুবিধেবাদী গোষ্ঠীর এহেন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড আমাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করছে। ছাত্র জনতার এই বিশাল অবদানকে কলঙ্কিত করার জন্য একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী মাঠে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তৎপর রয়েছে।

তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, পরিবহন, বালুমহাল, বিভিন্ন থানায় আমার নাম ভাঙ্গিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। কখনো কাউকে মামলায় নাম জড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য তদবির করছেন। আজ আমি আপনাদের কাছে আমার অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে সামনে নেতৃত্ব দিয়েছি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। দেশের মানুষ আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। আমরা সফল হয়েছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সমাজের কিংবা প্রশাসনের রন্ধে রন্ধে যেসব দুর্নীতিবাজ অপশক্তি লুকিয়ে আছে তাদের সনাক্ত করতে, সেজন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার মানে এই নয় আমি আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করব। আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার, যতদিন বাঁচবো দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করব। আমার কর্মকাণ্ডে কোন নেতিবাচক বিষয় থাকবে না, থাকবে না কোন আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম। আমার নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার আত্মীয় পরিচয়ে যেকোনো চাঁদাবাজি কিংবা আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা যেন নেয়া হয়। আমি কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা ভোগি নই। তাই কোন অনিয়ম আমি সহ্য করব না। আর্থিক লেনদেনে জড়িত এসব সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ সময় কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাজওয়ার ওহীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করেন আবু রায়হান।

জামায়াত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়- চৌদ্দগ্রামে ডাঃ তাহের

 

স্টাফ রিপোর্টার :

জামায়াত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় মন্তব্য করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেছেন, মুসলমানদের সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য। মুসলমানরা যদি মানুষের কল্যাণ করে, সে সমাজটা ভালো হবে। বাংলাদেশে গত পনের বছরে একজনেই ২৩৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে। ইসলাম টাকা লুটপাট ও অসততা সমর্থন করে না। রাষ্ট্রপ্রধান যদি সৎ হতো, তাহলে এ ২৩৫ বিলিয়ন ডলার জনগণের জন্য খরচ হতো।

এ টাকা জনগণের জন্য খরচ হলে চাল-ডালের ডাম কমে যেত, রাস্তাঘাট উন্নত হতো, ইন্ডাষ্ট্রি হতো, মানুষের কর্মসংস্থান হতো। যাকাত প্রথার মাধ্যমে মাত্র সাত বছরে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এত সমৃদ্ধ হতো, যাকাত খাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না। যেমনিভাবে সৌদিআরবে যাকাত খাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা জাতিসংঘকে বলেছি, একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এখানে সকল মত ও রাজনৈতিক দলের অধিকার থাকতে হবে।

জামায়াত মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া কামিল মাদরাসা মাঠে পৌর জামায়াতের উদ্যোগে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে রমজানের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন। চৌদ্দগ্রাম পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাঃ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ওপেলের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মোঃ এয়াছিন ও ৬নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারীর পিতা মাওলানা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষাবীদ ও রাজনীতিবীদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা সদরে জমি বিরোধের জেরে হামলা

কুমিল্লা সদরে জমি বিরোধের জেরে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় এক পরিবার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর উপজেলার মোস্তফাপুর কাচার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে ।

ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ মোঃ ইব্রাহিম ও মোঃ দেলোয়ার গং দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে জমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ সন্ধ্যায় একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

আক্তার হোসেনের দাবি, তার পিতা আলী আশরাফ বৈধভাবে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে তারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ৯ মার্চ তারা আমার ও আমার মেয়ের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে আমরা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা প্রায় ১৫-২০ জন ছিল এবং তারা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হয়। আক্তার হোসেন ও তার মেয়ে আঁখি আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, হামলার পর তারা থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা মেলেনি। বরং এ এস আই আলমগীর তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এই ঘটনায় হতাশ হয়ে আক্তার হোসেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে আক্তার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা জানান, হামলার পরও প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাইয়ের পরিবারও সন্ত্রাসীদের হুমকির শিকার।

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

পাপন ও তার পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ২৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন, তার স্ত্রী রোকসানা হাসান, মেয়ে সুনেয়া রহমান ও রুশমিলা রহমান, ছেলে রাফসান হাসান এবং জামাতা রাকীন আল-মাহমুদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও, তাদের নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা রয়েছে।

রোববার (১৬ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন।

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় দুদকের পক্ষে উপ-পরিচালক সাইদুজ্জামান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়, নাজমুল হাসান পাপন ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। গোপন ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, নাজমুল হাসান পাপন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে (কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য এলাকায়) এবং দেশের বাইরে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন মর্মে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিসিবির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন এবং তার পরিবারের আরও ৫ সদস্যের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

পদুয়ার বাজার ফ্লাইওভারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ চেকপোস্ট: ৮৪,৫০০ টাকা জরিমানা, ৪ মোটরসাইকেল জব্দ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

আজ রবিবার সকালে সমাজসেবা আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে।

চেকপোস্টটি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলমান ছিল।

চেকপোস্ট পরিচালনার সময় মোটরসাইকেল চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ২০টি মামলা করা হয় এবং মোট ৮৪,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি না থাকার কারণে ৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তবে, এই অভিযানে কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের এই ধরনের যৌথ অভিযান সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

কুমিল্লার লাকসামে যৌথ বাহিনীর

কুমিল্লার লাকসামে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ৫

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার লাকসামে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা, দুটি চাপাতি, একটি ছেনি (ধারালো অস্ত্র), একটি কাঁচি, একটি নোটবুক, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং পাঁচটি গ্যাস লাইট উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে এই আটককাজ সম্পন্ন হয়। আটককৃতরা হলেন— লাকসাম পৌরসভার সাতবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র মো. খোরশেদ আলম, গুনতি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার পুত্র মো. বিল্লাল হোসেন অন্তর, কাদ্রা গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের পুত্র মো. সাফায়ত উল্লাহ, একই গ্রামের মো. আব্দুল আজিজের পুত্র মো. সুজন মিয়া এবং উত্তর সাতবাড়িয়া গ্রামের মো. আব্দুল মজিদের পুত্র হুমায়ুন ফরিদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে যৌথ বাহিনীর ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় লাকসামেও এই অভিযান চালানো হয়। শনিবার গভীর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় লাকসাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাদরা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিলে প্রতিটি এলাকা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত হবে।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো পূর্ববর্তী মামলা না থাকলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মেজর তাহসিন ফয়সাল জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে।

আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

আবরার হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), জেল আপিল ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

রোববার (১৬ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।’ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ওই মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ নথিপত্র ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, যেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

ফৌজদারি কোনো মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে, তা কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন, যেটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করতে পারেন। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স ও এসব আপিলের ওপর একসঙ্গে হাইকোর্টে শুনানি হয়ে থাকে।

ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর কারাগারে থাকা দণ্ডিত ব্যক্তিরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল ও আপিল করেন। পৃথক জেল আপিল গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে ওঠে। সেদিন আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি আপিল করেন কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা। আসামিদের এই ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে একসঙ্গে শুনানি হয়।

গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করে। এরপর পেপারবুক থেকে উপস্থাপনের মাধ্যমে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় শুনানি হয়। সেদিন থেকে মধ্যে এক দিন ছাড়া প্রতি কার্যদিবসে শুনানি হয়। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার, খন্দকার বাহার রুমি, নূর মুহাম্মদ আজমী ও রাসেল আহম্মেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জব্বার জুয়েল, লাবনী আক্তার, তানভীর প্রধান ও সুমাইয়া বিনতে আজিজ শুনানিতে ছিলেন। আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, মাসুদ হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ শিশির মনির প্রমুখ শুনানিতে অংশ নেন।

বিচারিক আদালতের রায়ে কার কী সাজা ছিল

প্রায় চার বছর আগে এ মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মী।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ। তখন ৩ জন পলাতক ছিলেন। তাঁরা হলেন মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেওয়াল ভেঙে পালান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম কাচ্চি প্যালেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইফতার পূর্ব আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ডায়ানামিক ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জসিম উদ্দিন।

চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ, চৌদ্দগ্রাম বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, উপজেলা জাতীয় পার্টির(জাফর) সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগর কলেজের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জিয়া, থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ গুলজার আলম, আল মক্কা ট্রাভেলসের স্বত্তাধিকারী মুফতি খোরশেদ আলম, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী এয়াছিন, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ওপেল, ছাত্র প্রতিনিধি মামুন মজুমদার।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চৌদ্দগ্রাম থানা মসজিদের সাবেক খতিব সাইয়েদ রাশীদুল হাসান জাহাঙ্গীর। সাংবাদিকদের মধ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ এমদাদ উল্যাহ, জহিরুল হাসান, আবু বকর সুজন, মনোয়ার হোসেন, আবদুল মান্নান, কামাল হোসেন, এএফএম রাসেল পাটোয়ারী। এ সময় প্রেস ক্লাবের কার্যকারী কমিটির সদস্য, সাধারন সদস্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩৮ বছর পর এই প্রথম সুন্দর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আগত সকলেই এ সুন্দর আয়োজনের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লায় বিজিবি’র অভিযানে লক্ষ টাকার ভারতীয় বাসমতি চাউল আটক

 

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এর কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর সফল অভিযানে ৩০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় বাসমতি চাউল জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিবির বাজার বিওপির কটকবাজার পোষ্টের একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পালপাড়া নামক স্থানে সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন অবস্থায় ৬,৭৭০ কেজি অবৈধ ভারতীয় বাসমতি চাউল উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত চাউলের বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) দেশের সীমান্ত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্বের সাথে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের অভিযানও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্তে যেকোনো অবৈধ কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশের সামনে বিবাদীকে মা*রধ*র করলো বাদী, অবরুদ্ধ চার পুলিশ সদস্য

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা তিতাস উপজেলায় মামলার এজাহার নামীয় আসামীকে গ্রেফতার করতে বাদীপক্ষকে সাথে নিয়ে পুলিশ আসামীর বাড়িতে যায়। এই সময় পুলিশের সামনেই বাদীপক্ষের লোকজন বিবাদীকে পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ে ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে, পুলিশের সামনে থেকে দৌড়িয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে চার পুলিশ সদস্যকে একটি ঘরে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার রাত ১১ টার সময় কুমিল্লা তিতাস উপজেলার জিয়ার কান্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের দড়িকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা তিতাস উপজেলার জিয়ার কান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের মামলার বাদী পক্ষ জসিম উদ্দিনের ছেলে রাকিব হোসেন ও বিবাদী পক্ষের একই এলাকার মৃত লালা ভূইয়ার ছেলে মাওলান এবং তার ছেলে মাসুদ ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসছিল। ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার বাকবিতন্ডা হয়। এরই জেরে বুধবার (১১ই মার্চ) সন্ধ্যায় কুড়েরপাড় স্ট্যান্ডের সামনে রাকিবকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জখম করে। পরে রাকিব বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ই মার্চ) তিতাস থানায় মাসুদ ভূইয়া ও তার বাবা মাওলান ভূইয়াসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে।

এই মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে শুক্রবার রাতে আসামীদের বাড়িতে যায় পুলিশ। পুলিশের সাথে বাদীপক্ষের ১০/১৫ জন সাথে যায়। এই সময় মামলার ২ নং আসামী মাওলান ভূইয়াকে দেখতে পেয়ে বাদীপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাওলান ভুইয়ার দুই পা জখম করে পুলিশের সামনে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা মাওলানকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশের সামনে এমন ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের একটি ঘরে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতারা গিয়ে স্থানীয়দের কঠিন বিচারের আশ্বাস দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

দড়িকান্দি গ্রামের আলম বাদশা নামে এক ব্যাক্তি বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবসাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যায় বাদীপক্ষ রাকিবের সাথে বিবাদী পক্ষের মারামারি হয়। পরে রাকিব মামলা করলে পুলিশ আসামী ধরতে আসামীর বাসায় যায়। তখন পুলিশের সামনেই বাদীপক্ষের লোকজন বিবাদী মাওলানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পুলিশের সামনে এমন নিন্দনীয় ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের দুই ঘন্টা একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে পরে সেনাবাহিনী বিএনপি নেতা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের সামনে বিবাদীকে কুপিয়ে জখম করা পর স্থানীয়রা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের সাথে কথা বলে এই ঘটনার তদন্ত করে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে জানতে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কল রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, এই ঘটনার সম্পর্কে উনি জানে না, এই বিষয় জানতে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কল দেন।