All posts by jitu

শুধু শিশু ধর্ষণের বিচারে হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আদালত চাইলে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই দ্রুত বিচার করতে পারবেন।

সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন আইনের সংশোধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় শিশু ধর্ষণ মামলার আলাদা বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তিনি বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতিক্রমে যে ধর্ষণ সংঘটিত হয়, তা একটি আলাদা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সম্মতি ছাড়া ধর্ষণের ঘটনাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং তদন্তের সময়সীমা কমানো হয়েছে।

এছাড়া ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে কিছু সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। মামলার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে শুধু পুরুষ কর্তৃক নয়, যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ধর্ষণের সংজ্ঞাকে আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বলাৎকারকে ধর্ষণের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু প্রকৃত পেনিট্রেশন নয়, যেকোনো বস্তু দ্বারা আঘাত কিংবা পায়ুপথে বা যেকোনোভাবে ধর্ষণ করা হলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন রিপোর্ট ছাড়াই আদালত যদি মনে করে মেডিকেল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার করা সম্ভব, তাহলে আদালত চাইলে ডিএনএ সার্টিফিকেট ছাড়াই দ্রুত বিচার করতে পারবেন। এছাড়া ভিকটিমদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের গুরুতর জখম করা হলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

দেবিদ্বারে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের

দেবিদ্বারে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলায় ঘটে যাওয়া ৪ আগস্ট রুবেল হত্যা মামালার এজাহারভুক্ত আসামী বিল্লালকে সাধারণ জনগণ ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিল্লাল নিজেকে সাংবাদিক দাবী করলেও সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত দীর্ঘদিন সে রাজামেহার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক । তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন । সকালে তাকে স্থানীয় এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে হাতেনাতে ধরে থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশ অভিযুক্ত প্রমানসাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লায় অবৈধভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণ

কুমিল্লায় অবৈধভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণ: ইমারত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকায় ইমারত বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মো: আবদুল আলীম নামে এক ব্যক্তি উপজেলা কর্তৃপক্ষ থেকে ৬ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি পেলেও তিনি কোনো প্রকার প্ল্যান ও ডিজাইন অনুমোদন ছাড়াই ৮ তলা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজের সময় ভারী মালামাল পরিবহনের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা এলাকাবাসীর চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়াও, সরকারি কৃষি নার্সারীর দেওয়াল এবং বাসষ্ট্যান্ডের পানির ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে আশেপাশের রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণের সময় নির্মাণ সামগ্রী ওপর থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পানি রাস্তায় পড়ে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সরকারি কৃষি নার্সারি ও এলাকাবাসীর সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগীদের তালিকায় রয়েছেন: মো: কবির হোসেন, পিতা: মৃত জয়নাল আবেদীন সরকার, মো: ধাবির হোসেন, মো: ওয়াহিদুল ইসলাম, পিতা: মৃত আবুল কালাম আজাদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশে পৌঁছেছেন হামজা চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

হামজা দেওয়ান চৌধুরী বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তার বিমান অবতরণ করে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই স্মরণীয় সফরে তার সঙ্গে ছিলেন তার মা, স্ত্রী এবং সন্তানরা।

হামজাকে এক নজর দেখার জন্য সকাল ৯টা থেকেই বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের সামনে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় জমতে শুরু করে। সময় যত বাড়তে থাকে, সমর্থকের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। কেউ ব্যানার নিয়ে হাজির হন, আবার কেউ শুধু তাকে এক নজর দেখার জন্য খালি হাতেই অপেক্ষায় থাকেন। হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন—এই আনন্দে গণমাধ্যমকর্মীরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।

সিলেট বিমানবন্দর থেকে হামজা সরাসরি হবিগঞ্জের বাহুবল থানার স্নানঘাট গ্রামে যাবেন। সেখানে তিনি আজ তার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন। তার আগমনে হবিগঞ্জে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আগামীকাল রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে রওনা দেবেন।

এরপর তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন। ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তার অভিষেক হতে পারে। শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের期待 এখন আকাশছোঁয়া।

লাকসামে সাবেক মন্ত্রীর পরিত্যক্ত বাড়িতে

লাকসামে সাবেক মন্ত্রীর পরিত্যক্ত বাড়িতে গৃহবধূকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার লাকসামে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরিত্যক্ত বাড়িতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ দিনভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার সোনাপুর এলাকার এক তরুণী ও তার স্বামী গত ১৩ মার্চ লাকসামে তার নানা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১৪ মার্চ ভোরে তারা লাকসাম বাইপাস মোড় থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজিতে ওঠেন। সিএনজিচালক মো. মাসুদ তাদের স্বামী-স্ত্রী কিনা জানতে চেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কৌশলে লাকসামের গন্ডামারা এলাকায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে এবং পরিকল্পিতভাবে লালমাই উপজেলার মগবাড়ি এলাকায় নিয়ে স্বামীকে ফেলে রেখে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে।

পুলিশ জানায়, পরে ভিকটিমকে লাকসামের বড়তুফা এলাকায় সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মো. মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ভিকটিমকে লাকসাম পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের তালুকদার ভিলায় অভিযুক্ত বিলকিছ আক্তার কল্পনার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তার মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- লাকসাম উপজেলার মনোহরপুর এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫), পৌরসভার শ্রীপুর মধ্যপাড়ার মো. মমিনের ছেলে মো. মাসুদ (২৩), বাতাখালী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মনির হোসেন হৃদয় (২৩), উত্তর বিনই এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আল আমিন (২৩) ও মধ্য লাকসাম এলাকার মৃত মোস্তাফিজ মজুমদারের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার কল্পনা (৪০)।

লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়। পুলিশ রোববার দিনভর অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ওই বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালানোর পর থেকে এখানে কেউ বসবাস করেন না। বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

কুমিল্লা নগরীর ট্রমা সেন্টার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, সমঝোতার চেষ্টা চলছে

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর নজরুল এভিনিউ রোডের ট্রমা সেন্টার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ইমরান হোসেন (২১) নামের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল ভাঙচুর করে। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য তদবির চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায় ।

রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই নিহতের আত্মীয় স্বজনেরা ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে দাবি তুলে হাসপাতালে ভাংচুর করে।

নিহত ইমরান হোসেন (২১) কুমিল্লা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের ২য় মুরাদপুর এলাকার দুবাই প্রবাসী হুমায়ুন মিয়ার ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলো। পরে নগরীর ট্রমা হাসপাতালে ডা. আতাউর রহমানের কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে চিকিৎসক রোগীকে সার্জারি করার পরামর্শ দেন। পরে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল আটটায় সার্জারি করার উদ্দেশ্যে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। চার ঘণ্টার অপারেশনের সময়ের কথা জানালেও অপারেশন সম্পন্ন হয় সাত ঘণ্টায়। পরে, রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে, ঘটনার দিন রবিবার বিকালে রোগীর কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় রোগীর স্বজনরা রোগী মারা গেছে দাবি করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার কথা বলে। বিকাল পার হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে নি। বরং রোগীকে আরো পরীক্ষা নিরিক্ষা ও ঔষধ আনায় রোগীর স্বজনদের দিয়ে।

কুমিল্লা নগরীর ট্রমা সেন্টার হাসপাতালে

নিহত ইমরানের চাচা জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাতিজাকে তারা সামান্য অপারেশনের কথা বলেছিলো। কিন্তু তারা সাত ঘণ্টা ওটিতে রেখেছিলো। পরে রোগীর সমস্যা হয়েছে এ কথা বলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলে। আমরা রাজি হই। কিন্তু লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর প্রায় ৩ দিন হয়ে গেলেও তারা আমাদের রোগীকে দেখতে দেয় নি। পরে নানা অযুহাতে আইসিউতে ঢুকে দেখি যে আমাদের রোগী মৃত। কিন্তু তারপরেও তারা আমাদের কাছ থেকে মৃত রোগীর চিকিৎসা করানোর জন্য পরীক্ষা ফি ও ঔষধ কিনিয়েছে আমাদেরকে দিয়ে। তারা আমাদেরকে ২৫ হাজার টাকার অপারেশনের কথা বলে তারা আমাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেয় ধাপে ধাপে। একজন রোগীর ৩ দিনে লাখ টাকার ঔষধ কিভাবে লাগে ? তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের রোগী মারা গেছে। আমরা এর বিচার চাই।

এদিকে, রোগী মারা যাওয়ার খবর জানাজানি হলে বিক্ষুদ্ধ স্বজনেরা হাসপাতাল ভাংচুর করে। এ ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালের পরিচালক আবদুল হককে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির আহমেদ বলেন, আমি এই বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে আমি এর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে মোট অংকের টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করতে চাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৬০ বিজিবি

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ৬০ বিজিবি সদস্যরা।

১৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৮ টায় সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর টহল দল সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা উপজেলাধীন সীমান্ত পিলার ২০৫৫/এম হতে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৈখলা নামক স্থানে ভারতীয় নাগরিক সঞ্জিত দেব বর্মা (৩০) ও বিমল দেব বর্মাকে (২৩) আটক করা হয়।

আটক হওয়া দুজন ভারতের সিপাহীজলা জেলার মধুপুর থানার কোনাবন গ্রামের বাসিন্দা। তারা পাসপোর্ট বিহীন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদেরকে আটক করা হয়।

তাদেরকে কসবা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জিয়াউর রহমান অভিযানে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চৌদ্দগ্রামে মাদকসহ আটক স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বহিঃস্কার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকসহ আটক হওয়া উপজেলার বাতিসা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের ১নং যুগ্ম আহবায়ক হেদায়েত উল্লাহ সবুজকে বহিঃস্কার করেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল।

সবুজ বাতিসা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের তৈয়ব উল্লাহর ছেলে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রোববার বিকেলে দলীয় প্যাডে লিখিতভাবে তাকে বহিঃস্কার করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান খাঁন।

বহিঃস্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেদায়েত উল্লাহ সবুজকে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিঃস্কার করা হয়েছে। তাকে দলের যে কোন সভা, সমাবেশসহ সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক মোঃ খোরশেদ আলম ও সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন ডেভিড।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপুল এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা হেদায়েত উল্লাহ সবুজকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তার নারী সহযোগীসহ ২ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

৬ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন, গ্রাম্য সালিশে রফাদফা

 

* সালিশে অভিযুক্তর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ৫ হাজার টাকা দেয়া হয় ভুক্তভোগীর পরিবারকে। বাকি ৫ হাজার টাকা বন্টন করে নেন ইউপি সদস্য সহ ৬ জন মাতব্বর।

* নির্যাতনের ঘটনায় থানা পুলিশ করলে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি ভুক্তভোগীর পরিবারকে।

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর প্রতিনিধি:

ছয় বছরের এক কন্যা শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ৪৭ বছর বয়সি বাবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য মাতব্বররা ভুক্তভোগীর বাড়িতেই বসায় সালিশি বৈঠক। সালিশে ওই অভিযুক্তকে করা হয় জুতাপেটা এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানার ৫ হাজার টাকা শিশুটির পরিবারকে জোরপূর্বক হাতে ধরিয়ে দেন মাতব্বররা। সালিশে আরও জানানো হয় মাতব্বরদের সিদ্ধান্ত না মেনে থানা পুলিশ করলে শিশুটির পরিবারকে ছাড়তে হবে নিজ বসতভিটা।
ঘটনাটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের।
আরো জানা যায় সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তর কাছ থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ ৬ জন মাতব্বরের জন্য নেয়া হয় ৫ হাজার টাকা। সেই ৫ হাজার টাকা ছয় জন মাতব্বরদের মধ্যে বন্টনে ঘটে আপত্তি। চারজন মাতব্বর নেন ১ হাজার টাকা করে এবং দুইজনকে দেয়া হয় ৫’শ টাকা করে। টাকার সঠিক বন্টন না পেয়ে মাতব্বররা এখন একে অপরের বিরুদ্ধে তুলছেন অভিযোগ।
অভিযুক্ত বাবুল মিয়া (৫০) মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে।

ভুক্তভোগী শিশুটির নানী জানান, আমার স্বামী বেঁচে নেই। আমার মেয়ে তার স্বামীর সাথে ঢাকায় বসবাস করে। সেই সুবাদে তার ৬ বছরের কন্যা শিশুটি আমার কাছেই থাকে। গত জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ রোজ রবিবার আবদুল বারেকের ছেলে বাবুল মিয়া আমার নাতনির হাতে ১০ টাকা দিয়ে বলে চলো তোমাকে মজা কিনে দিবো। সে সরল বিশ্বাসে বাবুলের সাথে যায়। বাবুল একপর্যায়ে তাকে একটি ঘরের চিপায় নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। তাৎক্ষণিক আমার নাতনি বাড়িতে এসে কান্না করতে করতে ঘটনাটি জানায়। এই ঘটনার পর চার দিন খুব অসুস্থ ছিল সে। বিষয়টি গ্রামের মাতবরদের কাছে জানালে তারা আমাকে পরামর্শ দেয় গ্রাম্য সালিশ ডাকার জন্য। আর যদি মাতব্বরদের কথা অমান্য করে থানা পুলিশ করি তাহলে আমার খুব ক্ষতি হতে পারে। এই ভয়ে ঘটনার ১৫ দিন পর আমি গ্রাম্য সালিশ ডাকি। সালিশে মাতব্বররা অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য কোন সাক্ষী প্রমাণ হাজির হতে দেয়নি। বিচারের রায় দেয়া হয় অভিযুক্ত বাবুলকে ৬ টি জুতার বাড়ি এবং ৫ হাজার টাকা জরিমান। বর্তমানে আমি শিশু সন্তানটি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। প্রতিনিয়ত বাবুলের পরিবার থেকে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে যদি মুখ খুলি তাহলে আমাকে গ্রাম ছাড়া করবে।

ওই সালিশে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীনকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে কাজ করেছে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার পরিবার। সেই সুবাদে তাকে বাঁচানোর জন্য গ্রাম্য সালিশ ডেকে নামমাত্র জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়। সালিশের পরে আবার অভিযুক্তর কাছ থেকে ইউপি সদস্য শাহীন সহ ৬ জন মাতব্বরের জন্য নেয়া হয় ৫ হাজার টাকা। সেই ৫ হাজার টাকা থেকে ইউপি সদস্য শাহিন, জাফর আলীর ছেলে বাবুল, সৈয়দ আলীর ছেলে বাবুল, শাহজালাল নেন ১ হাজার টাকা করে ৪ হাজার টাকা। আর বাকি ১ হাজার টাকা দেয়া হয় কবির ও সাগর কে। যতদূর শুনেছি ওই মহিলাকে সালিশের পরে বলা হয়েছে যদি থানা পুলিশ করে তাহলে গ্রাম থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। এই ঘটনাটির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া উচিত।

ইউপি সদস্য শাহিন বলেন, বিচারে আমি উপস্থিত ছিলাম আর বিচারের জুড়ি বোর্ডের রায়ে সম্মতি প্রদান করেছি মাত্র। বিচার পরিচালনা করেছে গ্রামের মুরুব্বীরা আর সালিশি জুরি বোর্ড পরিচালনা করেছেন ছন্দু মিয়া, রেনু মিয়া, সাগর, রাজু ও কবির। পরে বিচারের রায় অনুযায়ী অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে তার বড় ভাই তাহের মিয়া জুতাপেটা করে এবং জরিমানার ৫ হাজার টাকা শিশুটির নানীর হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ: রোজাদারদের পাশে আমরা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র রমজান মাসের বরকতময় সময়ে অসহায় ও পথচারী রোজাদারদের পাশে দাঁড়াতে স্বপ্নজোড়া সামাজিক সংগঠন, ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ (YCSBD) এবং ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি বাংলাদেশ (FOHB) যৌথভাবে আয়োজন করে “রোজাদারের পাশে আমরা” শীর্ষক বিশেষ ইফতার কার্যক্রম।

কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রায় ১৫০ এর অধিক রোজাদারের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষদের ইফতার করানোর মাধ্যমে রমজানের সত্যিকারের শিক্ষা—সহমর্মিতা ও মানবতার সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তিনটি সংগঠন।

 

কর্তৃপক্ষরা জানান, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য গুলো হলো-

পথচারী ও অসহায় রোজাদারদের জন্য ইফতার সরবরাহ । সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া । সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করতে উৎসাহিত করা

স্বপ্নজোড়া সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহরিয়া ইসলাম সাইফ বলেন,
“রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি মানবতার শিক্ষা দেয়। আমরা চাই, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াক।”

ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ (YCSBD)-এর মোঃ তাহসিনুল ইসলাম বলেন,
“যৌথ প্রচেষ্টায় এমন আয়োজন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতেও আমরা একসঙ্গে মানবতার সেবায় কাজ করে যেতে চাই।”

ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি বাংলাদেশ (FOHB)-এর ইরশাদ শাহরিয়া বলেন,
“এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি যে, সমাজের জন্য কাজ করা মানেই ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করা। ইনশাআল্লাহ, আমরা মানবতার সেবায় আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবো।”