All posts by jitu

বুড়িচং প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বুড়িচং সদরের ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল কলেজ অব টেকনোলোজি কলেজের হলরুমে বুড়িচং প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বাবু।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া হক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক, বিআরডিবি কর্মকর্তা রাসেল সারোয়ার, নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, অধ্যক্ষ আবু তাহের, বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজের সভাপতি কামাল হোসেন, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ভূঁইয়া, দৈনিক আমাদের কুমিল্লা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহাজাদা এমরান, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও আরটিভি স্টাফ রিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, বুড়িচং প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা ও মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু মুসা, ব্রাহ্মণপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ লাভলু, এনটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু, মাই টিভি কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন, ইসলামী ব্যাংক বুড়িচং শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর জেলা সভাপতি অধ্যাপক মোঃ গিয়াস উদ্দিন, দলিল লেখক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ সোহাগ পারভেজ, দপ্তর নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, বুড়িচং বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সিএনজি ও অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি শহীদুল্লাহ্, যুব অধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক সেলিম ভূঁইয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান, বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির ভূঁইয়া, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম হাসান, সাপ্তাহিক আমোদ পত্রিকার প্রতিনিধি শরিফ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ কল্প, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গীতিকবি আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাফি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ শরীফুল ইসলাম সুমন, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ, সদস্য রাকিবুল হাসান রনি, মোঃ আলমগীর হোসেন বাচ্চু, মোঃ ফয়েজ, রবিউল হোসেন, তাজুল ইসলাম, ছাত্র প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম পিয়াস, শাকিলসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শুরুতে কোরআন তেলওয়াত করেন তাজুল ইসলাম ও শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম।

কুমিল্লায় পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিবেদন :

কুমিল্লায় পৈতৃক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১৩মার্চ) সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর ৬ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নে অবস্থিত চক্ষু হাসপাতালের পার্শ্বে একটি নাল জমিতে বোনের অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা মৃত ছিদ্দিক মিয়ার মেয়ে রাশিদা খাতুন।

কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত, আদর্শ সদর উপজেলা, কুমিল্লা মেহেরকুল এলাকাধীন সাবেক ২৩২/১নং মৌজা-খামার কৃষ্ণপুর হালে ২০৪ নং জে,এল ভূক্ত মৌজা-কৃষ্ণপুর আরএস ৫৯ ও ৫৮ নং খতিয়ান, বি এস চুড়ান্ত ৯০ নং খতিয়ান খারিজা ৮৩০ নং খতিয়ানা ভুক্ত জায়গায় আমার পৈতৃক সম্পত্তি ফারায়েজ মোতাবেক বুঝিয়ে দিচ্ছে না আপন ভাই ইদ্রিস মিয়া এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী বোন রাশিদা খাতুন মানববন্ধন করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি কোন ধরনের ঝামেলা চাইনা আমাকে আপোষে জায়গা বুঝিয়ে দিলে আমার ভাইয়ের প্রতি আমার আর কোন প্রকার অভিযোগ থাকবেনা।

মানববন্ধনে রাশিদা বেগম বলেন, আমার জায়গা না বুঝিয়ে দিয়ে আমার ভাই ইদ্রিস মিয়া অত্র জায়গাটি অন্য ব্যক্তিকে পাওয়ার দিয়ে দেয় তার ফলেই আজকের মানববন্ধন।

এ বিষয়ে ইদ্রিস মিয়া সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে পাওয়ার নেওয়া ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি একান্তই তাদের ভাই-বোনের বিষয়। জায়গাটি আমি পাওয়ার নিয়েছি সেক্ষেত্রে আমি অত্র জায়গার সকল কাগজপত্র চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ করেই নিয়েছি। রাশিদা বেগম যেই দাগে জায়গা দাবি করছেন সেই দাগে উনার ভাই ইদ্রিস মিয়ার জায়গা রয়েছে মোট ৪৮ শতক আর সেই দাগে আমরা পাওয়ার নিয়েছি ৩৩ শতক, এখানে আরো ১৫ শতক অবশিষ্ট জায়গা রয়েছে।

ফলে রাশিদা বেগমের টানানো সাইনবোর্ড অনুযায়ী এই জায়গায় ১০ শতক দাবি করছেন আরো অবশিষ্ট জায়গা রয়েছে পনের শতক বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাশিদা খাতুনের ছেলে আহসানুর জামান সাব্বির ১৩ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানায় মৃত ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে ইদ্রিস মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে বাবু,পাথুরিয়াপাড়া এলাকার হাসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কাতারে টৌকিওসেট গ্রুপ অব কোম্পানির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

 

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন, কাতার প্রতিনিধিঃ

কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে টৌকিওসেট গ্রুপ অব কোম্পানির আয়োজনে রিতাজ সালওয়া অভিজাত রিসোর্টে ইফতার ও দোহা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাংবাদিক এম,এ,সালামের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন টোকিওসেট গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি,আই,পি সাইফুল ইসলাম সাগর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদুত মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টৌকিওসেট গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালক শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথি মান্যবর রাষ্ট্রদুত বলেন, নিউমেক্স এবং টোকিসেট গ্রুপ কাতারে এবং ডুবাইতে একটি প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পুর্ণ বাংলাদেশীদের শ্রম এবং অর্থে আজকে এতদূর এগিয়ে আসছে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের কর্নধার যারা আছেন তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আরও আনন্দিত যে এই প্রতিষ্ঠানে প্রচুর বাংলাদেশী কাজ করছেন এবং এই প্রতিষ্টানে অর্জিত সব অর্থ তারা বৈধ পথে দেশে পাঠাচ্ছেন এই জন্য এই প্রতিষ্টানের কর্নধার সাগর সাহেব সি,আই,পিতে ভুষিত হয়েছেন। আমি আশা করবো এই প্রতিষ্ঠান গুলো আরও সাফল্য মন্ডিত হবে এবং কমিউনিটির জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে নিয়ে আসবে।
টোকিওসেট গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি,আই,পি সাইফুল ইসলাম সাগর বলেন, প্রত্যেক বছর আমরা চেষ্টা করি বাংলাদেশে আমাদের শুভাকাংক্ষী এবং আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ইফতার করা। এই বছর যেহেতু আমরা দেশের বাহিরে অবস্থান করছি সেই সুবাদে আমরা কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দুতাবাস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি, শুভাকাংক্ষী, বন্ধুবান্ধব, স্টাফ বৃন্দ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার সবাইকে যেন এক সাথে পাই সে জন্য এই ইফতারের আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ থাকে যে, সিআইপি সাইফুল ইসলাম সাগর এর বড় ভাই সাইদুর রহমান সৈকত তিনিও বৈধ পথে বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিটেন্স পাঠানোর কারনে বাংলাদেশের প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিআইপি সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত হন। সিআইপি সাইদুর রহমান সৈকত এবং সিআইপি সাইফুল ইসলাম সাগর উভয়ই বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ১ নং কালীর বাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত ধনুয়াখলা গ্রামের হাজী শফিকুর রহমানের সন্তান। উভয়ই টোকিওসেট গ্রুপ অফ কোম্পানির চেয়ারম্যান সিআইপি মাহবুব আলম মানিক এর শ্যালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ও টোকিও সেট গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালক সিআইপি মোসাম্মৎ জেসমিন আক্তারের সহোদর।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেলস ম্যানেজার শাহজাহান সাজু। পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন দুতবাসের অনুবাদক মাওলানা আব্দুল খালেদ।
দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন দুতাবাসের অনুবাদক মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সি,আই,পি সাগর উপস্থিত সকলের প্রতি অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এর পরেই সবার জন্য বাহারি স্বাদের ইফতার ও নৈশভোজের এর আয়োজন উন্মুক্ত করা হয়।

সবশেষে সবার সুস্বাস্থ্য ও মন্গল কামনায় অতিথিদের বিদায়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লার সীমান্তে ৩৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা

কুমিল্লার সীমান্তে ৩৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় কিং কোবরা বাজি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১৩ মার্চ সকাল ৭ টায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিবির বাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোষ্টের বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে বিজিবি টহলদল কর্তৃক সীমান্ত শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ০৭ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালপাড়া নামক স্থান হতে মালিক বিহীন অবস্থায় অবৈধ ভারতীয় ১,৪৪,৯৪০ পিস কিং কোবরা বাজি আটক করা হয়। যার সর্বমোট মূল্য-৩৪,৭৬,০০০/- (চৌত্রিশ লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার) টাকা।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস এ জমা করা হবে।

১০ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা ৬নং ওয়ার্ডের যুব

জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা ৬নং ওয়ার্ডের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগ কুমিল্লা ৬নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ মার্চ) কুমিল্লার শুভপুর বড় মসজিদ ঈদগাহ মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬নং ওয়ার্ডের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের চকবাজার অঞ্চল পরিচালক ও টীম সদস্য ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি আব্দুল হাই হাসিবের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহানগর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এছাড়াও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর নায়েবে আমীর মু. মুসলেহ উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারী ও সাবেক কাউন্সিলর মো: মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা বারের সভাপতি এডভোকেট শহিদুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের মহানগর সভাপতি কাজী নজির আহম্মদসহ নগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবাদিক, সামাজিক, ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ইফতার পূর্বে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমাদের জন্য এক দীর্ঘ চ্যালেঞ্জিং যাত্রা ছিল। এই সময়ে আমরা ফ্যাসিজমের করাল গ্রাসে শতাধিক ভাইকে হারিয়েছি, অসংখ্য ভাইয়ের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে, অনেক ভাই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার ভাই গুম হয়েছেন। আমাদের অসংখ্য ভাই স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেননি। জনশক্তিদের দমনপীড়নের কথা আমরা কখনো ভুলতে পারব না। অবশেষে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আল্লাহ আমাদের এ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’

বক্তারা যুব সমাজের উন্নয়ন, ইসলামী আদর্শে জীবন গঠনের প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজ পরিবর্তনে যুবকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ‘সুসংগঠিত যুবসমাজই পারে দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সকল দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করুন।’

ইফতার মাহফিলের শেষে ৬নং ওয়ার্ডের যে সকল ছাত্র-জনতা বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরকে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লবী সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে শুভপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: নেয়ামত উল্লাহ বিন আমিনের পরিচালনায় সকলের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ আয়োজনে স্থানীয় যুবক, ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেন।

দেবিদ্বারের ধামতীতে রাতের আধারে ইউপি চেয়ারম্যানের

দেবিদ্বারের ধামতীতে রাতের আধারে ইউপি চেয়ারম্যানের বসতঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেল সাবেক এমপির লোকজন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারের ধামতী ইউনিয়নে নানা পন্থায় ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠুর ক্রয় করা বসতজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হুমায়ুন কবিরদের বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বে অনেকবার তারা এ বছর জমিটি দখলের চেষ্টা করেছে। কখনো বসতজমির কলাগাছ কেটে নেয়া, বসতঘর কুপিয়ে ঘরের বাসিন্দাদের মারধর-মালামাল লুট, আবার সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে আওয়ামী দোসর বানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে বির্তকিত করে তার ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হুমায়ুন কবির ও মকবুল হোসেনদের বিরুদ্ধে। এবার মঙ্গলবার রাতের আধারে বসত জমির মধ্যে থাকা একটি ঘর পুরোটাই ভেঙ্গে তুলে নিয়ে গেছে হুমায়ুন কবিররা।

ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মিঠুর ছোট ভাই মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, আমার বড় ভাই ধামতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিগত ২০২২ সালের ২২ জুন দুয়ারিয়া এলাকায় ৫২ শতক জায়গা হুমায়ুন কবির ও মকবুল হোসেনের কাছ থেকে কেনার জন্য বায়নাপত্র করে এবং সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৪৩ লক্ষ টাকার চেক তাদের প্রদান করেন। তারা পরে টাকা বুঝে নিয়ে আমাদেরকে জায়গা ভোগ দখল বুঝাইয়া দিলে আমরা গত দুই বছর যাবৎ উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করে সেখানে কলার বাগান করি। আমরা বহুবার তাদেরকে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললেও মকবুল হোসেন প্রবাসে থাকার বাহানা দিয়া ‘অদ্যবধি তারা আমার ভাইয়ের নামে উক্ত সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। চলতি বছরে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা এমপি আবুল কালাম আজাদের অনুসারি ছিলেন। তারা আমাদের বসত জমির উপর থাকা একটি ঘর রাতের আঁধারেই পুরো গায়েব করে দিয়েছে। এর আগে আমাদের বায়না করা ৫২ শতক জমির ৫ পাঁচ শতাধিক কলা গাছ কেটে নিয়ে জমির চারপাশে তার কাটা বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে হুমায়ুন কবির ও তার সন্ত্রাসীরা । তারা এর আগেও ঘরটি ভাঙচুর করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তারা পুরো বসত জমিটি দখল করে নিতে চায়। তারা প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশও মানছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘর ভেঙ্গে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত ধামতী ইউনিয়নের দুয়ারিয়া গ্রামের মো: হুমায়ুন কবির, মহসিন, শরিফুল ইসলাম, আবু সাইদ, কাউসার আহমেদ মানিক, মো: খলিল ও আলামিন আলামিন প্রমূখ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মিঠু আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সমর্থিত আওয়ামী নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েন তিনি। চলতি বছরের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজাদ এমপি হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে নিজ কার্যালয়েও তিনি যেতে পারতেন না এমপি আজাদ সমর্থিত নেতাকর্মীদের হুমকির কারণে। এরপরই চেয়ারম্যান মিঠুর লোকজনকে একাধিকবার মারধর করা হয়। সম্প্রতি তার বসতজমিটিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। মহিউদ্দিন মিঠু দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য চেয়ারম্যান । বর্তমানে মহিউদ্দিন মিঠু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে কল দিলে মুঠোফোন সংযোগে তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, বসত জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এ ঘটনার পর দেবিদ্বার থানা পুলিশ গতকাল এলাকা পরিদর্শন করেন।

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার ভারতীয় বাজি আটক

 

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লার বিবির বাজার সীমান্ত এলাকা থেকে এক কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকার মূল্যের ভারতীয় অবৈধ কিং কোবরা আতশ বাজি আটক করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

১২ মার্চ বুধবার দুপুর ২টায় এ তথ্য জানান কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবির) অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ।

বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার ভোরে ১০ বিজিবির আওতায় সদর উপজেলার বিবির বাজার বিওপির কটকবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। ছয় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়া বাজার (ফুড প্যালেস) নামক স্থান থেকে মালিক বিহীন অবস্থায় ভারতীয় অবৈধ কিং কোবরা আতশ বাজি আটক করা হয়। এর মধ্যে অবৈধ ভারতীয় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০টি কিং কোবরা বাজি আটক করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবির) অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ জানান, কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে এসব মালামাল আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস এ জমা করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান

চৌদ্দগ্রামে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান: মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

চৌদ্দগ্রামের আতবাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।

১৩ মার্চ ভোর ৩:২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইয়াবা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় জনগণের মধ্যে সেনাবাহিনীর এ ধরনের সফল অভিযান প্রশংসিত হয়েছে। তারা মাদকের বিরুদ্ধে এমন কার্যকরী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রমজানে করণীয় বিষয়াবলী

 

আলাউদ্দিন হোসেন আলো:

দীর্ঘ ১১ মাস পেরিয়ে আমাদের মাঝে এসেছে রামাদান। পবিত্র ‘রামাদান’ হলো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মাস, নিজেকে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও সংযমের মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি হিজরী নবম মাস এবং মুসলমানদের জন্য এই মাসে আল্লাহ তায়ালা রোজাকে ফরজ করা হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক ব্যাক্তির উপর রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। আর মুমিনদের আত্বগঠন এবং ঈমানকে মজবুত করার একমাত্র সময়।

রোজা এমন এক ইবাদাত যার প্রতিদান ফেরেস্তারা লিখতে অপারগ। রোজার প্রতিদান নিয়ে ভাবনা সাধ্য কার! মহান রবের বিশালতার সাথে রোজার প্রতিদানও মিশে আছে। রোজা একমাত্র মহান রবের জন্য। মহান আল্লাহ নিজ হাতে তার প্রতিদান দিবেন। এমন বরকতময় রমজান প্রতিবার আমাদের নিকট আসে মাস পেরিয়ে আবার সে এক বছরের জন্য বিদায় নেয়। এভাবে আমাদের জীবনে অনেকগুলো রমজান পেরিয়ে আমরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি। পৃথিবীর সব আমল শেষ হয়ে যায়। শুরু হয় তার ফল লাভ, তার প্রাপ্তি, তার পুরস্কার। রমজানে বরকতময় সময়ে ইবাদতে মশগুল রাখা একান্ত কর্তব্য।

রমজান মাসে ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ মাসে করা নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা: বলেছেন– রমজানে একটি নেক আমলে সত্তর গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহ তায়ালা এই মাসে বান্দার দোয়া ও নেক আমল কবুল করেন। রমজানে মাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো—

রোজা রাখা: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

তারাবিহ নামাজ: এশার নামাজের পর বিশেষ এই নামাজ আদায় করা হয়।

কুরআন তিলাওয়াত: এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল। আর যেহেতু কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে বেশি বেশি কুরআন পড়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দোয়া ও জিকির: আল্লাহর সন্তুষ্টির এবং নৈকট্য লাভের জন্য দোয়া করা ও বিভিন্ন জিকির করা রমজানের অন্যতম ইবাদত। পাশাপাশি তাসবীহ তাহলীলে মগ্ন থাকা।

ইতিকাফ: শেষ দশ দিনে মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা সুন্নত।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধির হলেও এর মাঝে বিশেষ আনন্দ ও উৎসবের আমেজও থাকে। বিশেষ করে —

পরিবার ও সমাজের মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করা বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি গরিব দুঃখী মানুষকে নিয়ে একসাথে ইফতারে অংশগ্রহণ করা৷

রমজানে দানশীলতা বাড়ে, মানুষ গরিবদের সাহায্য করে, যা একপ্রকার আনন্দের উৎস। রমজান মাস হচ্ছে দানের মাস। এই মাসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি দান করতেন।

শেষ কথা
রমজানের ৩০ টি রোজা রাখা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম। এটি ক্যাবল গুনাহ মোচন নয়। জান্নাতে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ। রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে যাবে রমজান৷ কিন্তু আরমা কতটুকু আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারলাম সেটা হচ্ছে মুখ্য বিষয়। তাই সকলের উচিত বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করা এবং এই মাসের পূর্ণ ফজিলত আর্জন করার তাওফিক দান করুক। জান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও খোদাভীতি অর্জনের মাস, যা ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে আনন্দের রূপ নেয়।

লেখক:
আলাউদ্দিন হোসেন আলো
আইন বিভাগ
কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে কুবি শিক্ষক কাজী আনিছ

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরপত্রসহ প্রশ্ন সরবরাহের অভিযোগে বিভাগের শিক্ষক কাজী এম. আনিছুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান কে আহ্বায়ক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মো. সাইফুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন এবং সহকারী প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম।

বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধায় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রেজিস্ট্রার অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা বিশ্বদ্যিালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঐ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতদপরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যবেক্ষণপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সুপারিশসহ রিপোর্ট দাখিল করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কাজী এম. আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়।

এর আগে একটি উড়ো মেইলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ আসে। অভিযোগে বলা হয়, ওই বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাকে একাধিকবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন। মেইলে সেই শিক্ষার্থীর করা অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত নথিপত্রও যুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে তিনি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের বাহিরে থাকবেন। এছাড়াও এই সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে কাজী এম আনিছুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আমার কাছ থেকে কোন স্টেটমেন্ট চাওয়া হলে আমি তা দিব।