All posts by jitu

রাত ১টার মধ্যে কুমিল্লাসহ ৯ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাত ১টা মধ্যে কুমিল্লাসহ দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পাবনা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, দেশজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ৩ দিনে ৬ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সোমবার (২২ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী এবং রংপুর, সিলেট ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ দিনও দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী এবং পরবর্তী ৩ দিন মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

দাউদকান্দিতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ী এবং নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আঃ বারীর দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মিনহাজুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ২১ জুন রাত্রে গৌরীপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর বাজারের সামিয়া প্লাজার (হোমনামুখী সড়ক) সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে সোহেল (২২) নামে এক যুবককে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

গ্রেফতার সোহেল কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তোয়ারপাড় এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে দাউদকান্দির গৌরীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পেন্নাই এলাকার কানা রফিকের বাড়িতে বসবাস করতেন।

অন্যদিকে, এসআই (নিঃ) ইমাম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ দাউদকান্দি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২ জুন নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত মো. মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেন। তিনি দাউদকান্দি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অটোচালক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ইসমাইল হোসেন নামে এক অটোরিকশা চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইসমাইল নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার চন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম আশু মিয়ার ছেলে। সোমবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কালিকাপুর রাস্তার উপরে ১১ বয়সী বেদে সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করে অটোরিকশা চালক। ইসমাইল হোসেন দক্ষিণ কালিকাপুর পঁচা মিয়ার বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিল।

এ ঘটনায় চাচি পপি আক্তার বাদি হয়ে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর রোববার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শ^শুড় বাড়ি এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আসামী ইসমাইল হোসেনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চান্দিনায় মাদ্রাসার ছাত্রকে ধর্ষণ, ধর্ষকসহ গ্রেফতার ৬ জন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনায় একটি হাফিজিয়া এতিমখানার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রকে (১১) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মো: নাজমুল হক বাপ্পি (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও অস্ত্র আইনের মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি চান্দিনার বরকরই হাজী আব্দুল বারী হাফিজিয়া এতিমখানার নাজেরা বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। গত শনিবার (২০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টায় নাজমুল হক বাপ্পি ওই ছাত্রকে একটি কক্ষ ঝাড়ু দিতে বলে। কক্ষ ঝাড়ু দেওয়া শেষে শিশুটি ওজুখানায় গোসল করতে গেলে বিবাদী সেখানে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে সে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে।

এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো: দুর্জয় আহমদ হৃদয় (৩৪) বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। তবে লিখিত এজাহার প্রাপ্তির পূর্বেই ঘটনার সংবাদ পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ধর্ষক নাজমুল হক বাপ্পিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত বাপ্পি নেত্রকোনা সদর উপজেলার মনকানদিয়া গ্রামের মো: আব্দুর রহিম খানের ছেলে।

অপরদিকে,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আরও পাঁচ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- শ্রীমন্তপুর গ্রামের রুহুল আমীন মিঠু (৩৪), সুরিখোলা গ্রামের মো: সালাউদ্দিন ভূঁইয়া (৩৬), ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের মো: শাহিন প্রকাশ কুদ্দুস (২৫) এবং সোনাকান্দা গ্রামের রুবেল হোসেন (২০)।

এছাড়া একই অভিযানে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে শ্রীমন্তপুর গ্রামের হাজী আ: মালেকের ছেলে রুহুল আমীন মিঠুকেও গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোট ছয় আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

কুমিল্লায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত‍্যা ও হত‍্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর দেবীদ্বারের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দিন সরকারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলী আদালতে হাজির হয়ে বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেল হত্যা মামলার ১০ নম্বর এজাহার নামীয় এবং আবুবকর হত‍্যাচেষ্টা মামলার ৭২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে জামিনের আবেদন করেন।

আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা শরীফ নিশাত শুনানি শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

হত‍্যা ও হত‍্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক ২ মামলা আসামি মো. জসিম উদ্দিন সরকার, দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের রাজামেহার গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী সরকারের ছেলে। তিনি রাজামেহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য ও একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।

সোমবার আদালতে হাজির হয়ে ওই হত‍্যা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় জামিনের আবেদনচেয়ে আত্মসমর্পণ করলে, আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত‍্যা মামলার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে আটকের বিষয়টি জানা নেই। আদালতে খোঁজ নিয়ে জানাব।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের শিবপুরে সেলাই মেশিন বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বামীহারা জুলেখা আক্তারের কাছে একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার অবলম্বন। তিন সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই নারীর হাতে এখন কাজের সুযোগ।

তাঁর মতো নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০ জন অসচ্ছল নারী তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে পেয়েছেন সেলাই মেশিন। তাঁদের প্রত্যাশা, এই মেশিনের চাকা ঘুরলেই ঘুরে দাঁড়াবে সংসার, বদলে যাবে সন্তানের ভবিষ্যৎ।

দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গত শনিবার শিবপুর উপজেলা অডিটরিয়ামে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাঁদের সনদপত্র, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বইও দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন।

আলোচক ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াছমিন, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার এবং শিবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া।

স্বামী হারানোর পর সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে জুলেখা আক্তারের। উপার্জনের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় সন্তানদের খাবার ও পড়াশোনার খরচ জোগানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন প্রশিক্ষণ শেষে হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন তাঁকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপকারভোগী সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সেলাই কাজে দক্ষ হয়েছি।

এখন মেশিন হাতে পাওয়ার পর কাজ করে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারব। পরিবারের হালও ধরতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, অসচ্ছল নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেলাই মেশিনগুলো তাঁদের আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় উপকারভোগীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এর ধারাবাহিকতায় শিবপুরের নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সার্বিক নির্দেশনায় দেশজুড়ে মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনজুর এলাহী বলেন, অসচ্ছল নারীদের কর্মমুখী করে তোলার এই উদ্যোগ মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা নিজেরা আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি শিবপুরে ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা গ্রুপের এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

কুমিল্লায় ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীতে ভারি বৃষ্টির পর সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার মধ্যে একটি খোলা ড্রেনে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার রাত ৯টার দিকে ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, রোববার বিকাল থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টিতে কুমিল্লা শহরজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়; রাস্তাঘাট ও ড্রেন পানিতে তলিয়ে যায়। রাতে ওই শিশুটি জলাবদ্ধ রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায় এবং পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়।

মৃত ১০ বছর বয়সী স্মৃতি লাকসাম উপজেলার বেতিহাটি গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে নগরীর বদরপুর আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শিশুটির মা কোহিনূর আক্তার জানান, মামার বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নানা বাড়ি নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনিতে গিয়েছিল স্মৃতি। পরে তাকে নিয়ে বদরপুর এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় সন্তানের হাত ধরেই হাঁটছিলেন।

“রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা না পেয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম আমরা। হঠাৎ মেয়ে হাত থেকে ফসকে পড়ে যায় ড্রেনে। প্রায় ৩০-৪০ ফুট দূরে ড্রেনের ভেতর থেকে ২০ মিনিট পর স্মৃতিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, স্মৃতির মৃত্যু হয়েছে।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে কোহিনূর বলেন, “ড্রেনের ওপর স্ল্যাব থাকে না কিভাবে আমি জানতে চাই। আজকে আমার মেয়ে হারিয়েছে, কাল যে আর কারো সন্তান হারাবে না এই নিশ্চয়তা কে দিবে?”

দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনের স্ল্যাবগুলো না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি হলে গর্ত বা ম্যানহোল কিছুই দেখা যায় না।

নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসেন জানান, “অনেক আগে থেকেই ড্রেনটি খোলা অবস্থায় ছিল। খবর পাওয়ামাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে চলে এসেছি। সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন ।”

ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমরা খোঁজ-খবর নিয়েছি। এটি দুর্ঘটনা।”

ফুটবলে হাইড্রেশন ব্রেকের বিজ্ঞান, বিতর্ক ও বাস্তবতা

কর্নেল (অব.) নাজমুলহুদা খান:

ফুটবলকে বলা হয় ‘দ্য বিউটিফুল গেম’। নব্বই মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই, গতি, আবেগ ও কৌশলের সমন্বয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন বিষয়—‘হাইড্রেশন ব্রেক’। ম্যাচের মাঝপথে তিন মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ রেখে খেলোয়াড়দের পানি পান ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ বলছেন, আবার কেউ একে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও সম্প্রচার-সুবিধার কৌশল নামেও অভিহিত করছেন।তবে এটি সত্যি যে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির বাস্তবতায় হাইড্রেশন ব্রেক এখন বিশ্ব ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

ফুটবলে হাইড্রেশন ব্রেক

ফুটবলে হাইড্রেশন ব্রেকের ধারণা একেবারে নতুন নয়। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফিফা অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের পানি পানের জন্য আনুষ্ঠানিক বিরতি দেয়। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও এটি প্রয়োগ করা হয়।২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে। এর মধ্যে অনেক ভেন্যুতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফিফা বাধ্যতামূলকভাবে হাইড্রেশন ব্রেক চালু রেখেছে। সাধারণত প্রতি অর্ধে ৩০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে তিন মিনিটের এই বিরতি দেওয়া হয়। এছাড়া ইউরোপের দেশসমূহে ৫-১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় খেলয়োয়াড়গণ খেলে অভ্যস্থ বিধায় হাইড্রেশন ব্রেক জরুরী হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্রীড়া চিকিৎসা বিশেজ্ঞগণ।

ফুটবলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া

একজন ফুটবলার ম্যাচ চলাকালে গড়ে ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ান। তীব্র গরমে এই শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীর থেকে ২ – ৩ লিটার পরিমাণ ঘাম বের হয়। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যায় পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট।মানবদেহের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। শরীরের ওজনের মাত্র ২ শতাংশ পানি কমে গেলেও মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং শারীরিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। ৩ থেকে ৪ শতাংশ পানি হারালে দেখা দিতে পারে মাথা ঘোরা, পেশিতে খিঁচুনি এবং হিট এক্সহসশন। আর ৫ শতাংশের বেশি পানি হারালে হিট স্ট্রোকের মতো জীবন-হুমকিস্বরূপ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।হাইড্রেশন ব্রেকের সময় খেলোয়াড়রা শুধু পানি পান করেন না; অনেকেই ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করেন, যা শরীরের তরল ও খনিজের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাইড্রেশন ব্রেক

ক্রীড়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রেশন ব্রেকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি খেলোয়াড়দের তাপজনিত অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।এতেশরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে, পেশির খিঁচুনি ও ক্লান্তি হ্রাস পায়, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় থাকে এবং চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টরা খেলোয়াড়দের দ্রুত স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সুযোগ পান।বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে হাইড্রেশন ব্রেক শুধু সুবিধা নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা।

হাইড্রেশন ব্রেক বিতর্ক

হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে আপত্তিও কম নয়। অনেক সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকের মতে, ফুটবলের মূল আকর্ষণ এর নিরবচ্ছিন্ন গতি। মাঝখানে তিন মিনিটের বিরতি খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে।কোচরা এই বিরতিকে অনেক সময় অতিরিক্ত ‘টাইম আউট’ হিসেবে ব্যবহার করেন। খেলোয়াড়দের নতুন নির্দেশনা দেওয়া, কৌশল পরিবর্তন করা কিংবা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে কেউ কেউ এটিকে ফুটবলের ঐতিহ্যবিরোধী বলেও মনে করেন।এ বিরতির সময়ে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পায়। ফলে স্বাস্থ্যসুরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থও এখানে কাজ করছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

২০২৬ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় স্টেডিয়ামে দর্শকদের অসন্তোষও দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খেলা থেমে যাওয়ায় অনেক দর্শক বিরক্তি প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।তবে সচেতন দর্শক, ক্রীড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ মনে করেন, দর্শকের বিনোদনের চেয়ে খেলোয়াড়দের জীবন ও স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থাকলেই খেলার মান বজায় রাখতে খেলোয়াড়দের সুস্থতা প্রধান।

বৈশ্বিক উষ্ণতায় হাইড্রেশন ব্রেকের বাস্তবতা

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ক্রীড়াজগতেও বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঘটনা বাড়ছে। ফলে ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস কিংবা ম্যারাথনের মতো খেলায় হিট-রিলেটেড ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই বাস্তবতায় হাইড্রেশন ব্রেককে অনেকেই ভবিষ্যতের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছেন। হয়তো আগামী দিনে আরও উন্নত তাপমাত্রা-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা চালু হবে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ও জনস্বাস্থ্যগত ভিত্তি। খেলোয়াড়দের শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ, তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ এবং সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এ বিরতি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।ফুটবলের ঐতিহ্য ও আধুনিক ক্রীড়া চিকিৎসার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নেয়ার এ প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের খেলাধুলার নতুন দিকনির্দেশনা। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই খেলার সৌন্দর্য টিকে রাখার মূলচাবিকাঠি।

লেখক-
কর্নেল (অব.) নাজমুলহুদা খান,
এমফিল, এমপিএইচ, ডিএমও, ডিএই (যুক্তরাষ্ট্র)
পরিচালক, মেডিক্যালসার্ভিসেস, বিআরবিহাসপাতাল

কুমিল্লায় ক্লুলেস অটোরিকশাচালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। গত ১৯ জুন বিকেলে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলে কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২০ জুন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, নিহতের চোখ ও মাথা থেঁতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব আলম ওরফে মাসুমের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় দুই ব্যক্তি একটি সন্দেহজনক অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে।

খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশকে দেওয়া তথ্যে নাঈম জানান, তিনি ও তার সহযোগী মিলে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেন।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত আরমান সরকার (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট:

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার বহিষ্কৃত ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তা শামছুল আলম শাহ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করে তার পরিবার। পরদিন দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে একই দিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ওই রাতেই দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত ১৬ জুন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ জানান, আদালত জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জিসান মিয়া প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।