All posts by jitu

কুমিল্লার পথসভায় ব্যাপক জনসমাগম হবে—কাজী দ্বীন মোহাম্মদ

স্টাফ রিপোর্টার:

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চ চলাকালে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার পদুয়া বাজারের হোটেল নূরজাহানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে এ লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

তিনি জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন।

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে নূরজাহান হোটেল সংলগ্ন মাঠে বড় পরিসরে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন।

তিনি জানান, জাতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে কুমিল্লার পথসভায় বিপুল জনসমাগম হবে।

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, পথসভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবে।

আয়োজকেরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নূরজাহান হোটেলের পূর্ব পাশে বিস্তৃত এলাকায় পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশস্থলের পশ্চিম পাশে পূর্বমুখী করে মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা এবং ভিডিও ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য আলাদা স্টেজ থাকবে। পথসভাস্থলে পর্যাপ্ত মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, বড় কর্মসূচিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পারে। গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিষয়গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, লংমার্চ ও পথসভার মূল বক্তব্য, ছয় দফা দাবি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য যথাযথভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে বলে জানান কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, লংমার্চের রুট, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে।

সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরীর সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কায়সার, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি জিএস সামদানি, জাগপা কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন, মিজানুর রহমান, শ্রমিক নেতা মু. খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, সামনে আসছে আরও অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:

একটি সরকারের পতন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন একের পর এক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে আসে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এসবের কতটা সত্য?

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানান।

এই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে শুধু একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তই শুরু হলো না; একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

দুদকের কাছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি অংশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—এই অর্থ যদি সত্যিই লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায়? কার মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির নথিতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল কি না?

দুদকের অনুসন্ধানেই এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।

দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন, ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং বিদেশে সম্পদ রাখার মতো বিষয়।

তবে অভিযোগ জমা পড়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ উপদেষ্টাকে দিতে হতো—এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কথিত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলম এই কমিশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতেন।

অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, বরাদ্দ, ঠিকাদার নির্বাচন, বিল পরিশোধ এবং অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামের নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই নিয়োগের জন্য মোট ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা দুবাইয়ের আল-আনসারি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাঠানো এবং ২ কোটি টাকা নগদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এমন কোনো অর্থ লেনদেনের আর্থিক প্রমাণ আছে কি না।

ব্যাংক হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক বিবরণী এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগটির সত্যতা বা অসত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব।

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

এই নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০ কোটি টাকা নগদ এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ১০ শতাংশ কমিশনের শর্তে নিয়োগটি দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে এজাজের বিরুদ্ধে পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, সম্পত্তি ও দোকান বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

তদন্তের ক্ষেত্রে তাই শুধু নিয়োগের সময়কার সিদ্ধান্ত নয়, পরবর্তী সময়ে প্রশাসক হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব টেন্ডারে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে এবং কথিত প্রেস সেক্রেটারি বিভিন্ন টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

এখানে তদন্তের জন্য একটি বড় প্রশ্ন—কোন কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পেয়েছে?

প্রতিটি টেন্ডারের দরপত্র, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিশ্লেষণ করলে কোনো সিন্ডিকেট বা যোগসাজশের অস্তিত্ব থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সারাদেশে জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ৪৮টি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৬ জনকে পরবর্তীতে ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা অনুযায়ী ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে—কোন কর্মকর্তার পক্ষে কখন ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, সেই কর্মকর্তা কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক অবস্থানে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে কি না—তা পর্যালোচনা করা।

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশের পর তার সম্পদ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, দুবাইয়ে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডে ব্যাংক হিসাব থাকার দাবিও সামনে আসে।

এসব দাবির সত্যতা এখনো আলাদা করে প্রমাণিত নয়।

তবে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে তার সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে দেশীয় ও বিদেশি সম্পদের উৎস যাচাই করা দুর্নীতি অনুসন্ধানের স্বাভাবিক অংশ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এ প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হবে ব্যক্তি-নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য।

দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যদি সত্যিই বিস্তৃত হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ডও এর বাইরে থাকার কথা নয়—এমন দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি অনুমোদন এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ফ্রান্সের গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকল ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণ আমেরিকায় প্রায় ১২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাড়ার কথাও বলা হয়েছে।

এখন তদন্তের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্রে অর্থের উৎস কী দেখানো হয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্রের মাধ্যমেই বের করা সম্ভব।

ইউনূস সরকারের সময়ে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমোদন—এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর সুবিধা এবং ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের প্রধান ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল সাব-রেজিস্ট্রার বদলি।

অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভালো কর্মস্থলে বদলির জন্য ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবিও রয়েছে।

এখানে প্রশ্ন হলো—এত বিপুল সংখ্যক বদলির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং বদলির আগে-পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো মধ্যস্থতাকারীর যোগাযোগ ছিল কি না।

২০২৫ সালের ২ জুন দেশের বিভিন্ন আদালতের ২৫২ বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের একটি চক্র কাজ করেছে এবং এর সঙ্গে আসিফ নজরুলের সম্পৃক্ততা ছিল।

অভিযোগে কয়েক শ কোটি টাকা লেনদেনের দাবিও করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ফলে বিচারকদের বদলির সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন আসামির জামিন নিশ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে নির্দিষ্ট মামলার তথ্য সামনে আনতে হবে। কোন মামলায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কে আইনজীবী ছিলেন, কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে এবং কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন ঘটেছে কি না—এসবই তদন্তের বিষয় হতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে ২৫২টি নতুন প্রতিষ্ঠানকে রিক্রুটিং লাইসেন্স দেওয়া হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে—প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেছিল? লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না? কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না?

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীকেও ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়, আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেনে মধ্যস্থতার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা হাসান ও তার পরিবারের সম্পদ বেড়েছে—এমন দাবিও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হবে সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল।

শুধু আসিফ মাহমুদ, আসিফ নজরুল কিংবা রিজওয়ানা হাসান নন—ইউনূস সরকারের আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুরজাহান বেগম ও আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দুদকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রয়েছে।

এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য—অভিযোগ থাকলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। আবার অভিযোগ থাকার কারণে তদন্ত না করাও জবাবদিহির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়া তাই একটি বড় প্রশ্নের দরজা খুলে দিয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়ের দুর্নীতির অভিযোগগুলো কি একইভাবে যাচাই করা হবে?

সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, আমলা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি—কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত হওয়া উচিত।

তদন্তের ভিত্তি হতে হবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তথ্য ও প্রমাণ।

কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগের পেছনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে তাকেও দায়মুক্তি দিতে হবে।

জনগণের স্বার্থে তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও স্বাধীন তদন্ত—যেখানে নিয়োগ-বদলি, পদায়ন, টেন্ডার, উন্নয়ন প্রকল্প, বিদেশি সম্পদ, অর্থপাচার এবং সরকারি সুবিধা প্রদানের প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা হবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছিল কি না। আর সেই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বেরিয়ে আসতে হবে তদন্তের নথি ও প্রমাণ থেকে।

নদী ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষদের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার নদী ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন।

বুধবার বিকালে উপজেলার চকহরিচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের সহধর্মিণী শায়লা কবীর।

খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি লোকমান হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশনের সহায়তা পেয়ে অসহায় লোকজন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা সব সময় অসহায় মানুষের পাশে আছি এবং থাকব। এবিজি ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা শুধু মানিকগঞ্জে সীমাবদ্ধ নয়, সারা দেশেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২ জন আটক

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের হাতিমারা এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের একটি ভাতের হোটেল থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় হাতিমারা এলাকার একটি ভাতের হোটেলে অভিযান চালিয়ে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—হাতিমারা গ্রামের মৃত বজলু ড্রাইভারের ছেলে স্বপন (৫০) এবং দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ (বিটতলা) এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে ও বর্তমানে হাতিমারা বেদে বাড়ির বাসিন্দা বাঁধন (২৩)।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাঙ্গলকোটে বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি’র উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পৌর সদরে জড়ো হন। পরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পৌর সদরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নাঙ্গলকোট পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন নয়নের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

উপজেলা যুবদল সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ভূঁইয়া, গোলাম রসুল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, পৌরসভা বিএনপি সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন জসিম,সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মকুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ডা. মাঈন উদ্দিন বাহার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি নেতা আরিফুল আলম নোমান, ইউনুছ হাসান মানিক, পৌরসভা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মিজানুর রহমান খোকন, উপজেলা যুবদল সাবেক সদস্য সচিব কামারুজ্জামান টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন, শেহাব উদ্দিন খন্দকার, অহিদুল ইসলাম, কাজী ফয়সাল, পৌরসভা যুবদল সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আফসার সজল, সদস্য সচিব এনায়েত উল্লাহ কামাল, উপজেলা ছাত্রদল নেতা কামারুজ্জামান, আলী হোসাইন টিপু-সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী।

দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের মেয়ে।

জানা যায়, ইমু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়ি পূর্ব গজারিয়াতে বেড়াতে আসে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশী জসিমকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নেয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বলেন, শিশু ইমুকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় জসিম। এ সময় তাকে ধর্ষণ করে সে। এ সময় শিশু ইমু ঘটনাটি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে জসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখে জসিম। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুর মা মনজুমা বেগম জানান, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার ফাঁসি চাই। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করবো।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদের পরিচিতি, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা কান্দিরপাড়স্থ দেশপ্রিয় কনফারেন্স হলে নবগঠিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ ও পাঠাগার বাস্তবায়ন পরিষদের পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়ন বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

০২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহবায়ক কুমিল্লার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. শাহ্ মোঃ সেলিম।

সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। স্বাগত বক্তব্যে সভার সভাপতি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মরণে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে বর্তমান কুমিল্লা-৬ নির্বাচনী এলাকার নন্দিত জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী এমপি’র উদ্যোগে এই পরিষদ গঠনে কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

উপস্থিত সদস্যবৃন্দের মাঝে যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে- মোঃ মুজাহিদ চৌধুরী, শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, শেখ আবদুল মান্নান, অধ্যক্ষ তাপস বকসী, মাহবুবুল আলম চপল, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, আতিক সেলিম রুবেল, সুব্রত চৌধুরী তপু ছাড়াও নারী নেত্রী অনিমা মজুমদার, ড. জে.এন. লিলি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন বাবুল, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক পলাশ, এবিএম আহসানুল কবীর, নারী নেত্রী শাহানা হক, শেখ ফরিদ আহমেদ, অচিন্ত দাস টিটু, অধ্যাপক রাহুল তারুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার স্মৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা বশীরুল আনোয়ার এর সঞ্চালনায় উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর বিষয়ে আগামী ২ নভেম্বর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন, উক্ত অনুষ্ঠানে তার ভারতে অবস্থানরত কন্যা মনিষা দত্তকে আমন্ত্রণ জানানো, স্মরণিকা প্রকাশ, পুস্তক প্রদর্শনী, কুমিল্লাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ২/৩ টি বিদ্যালয়ে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মরণে লাইব্রেরীতে বুক কর্নার স্থাপন, স্কুল পর্যায়ে নবপ্রজন্মকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষা আন্দোলনের অবদান বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণ, বর্তমানে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় তার ঝাউতলাস্থ বাসভবনকে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ, কুমিল্লায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ভাষা বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে স্মৃতি রক্ষা ও স্থাপনা উপকমিটির আহবায়ক মুজাহিদ চৌধুরী, অর্থ উপকমিটির আহবায়ক ড. শাহ্ মোঃ সেলিম, জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বশিরুল আনোয়ার, তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির আহবায়ক নারী নেত্রী ড. জে.এন. লিলি, গঠনতন্ত্র বিষয়ক উপকমিটির আহবায়ক এবিএম আহসানুল কবিরসহ উপকমিটিতে অন্যান্য সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উল্লেখিত প্রাথমিক সিদ্ধান্তসমূহ পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর সাথে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭ টায় তাঁর কুমিল্লাস্থ মনির টাওয়ারে মত বিনিময় সভায় চূড়ান্ত করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উক্ত সভায় পরিষদের সকল সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয় ।

সভাপতির ভাষণে ড. শাহ্ মোঃ সেলিম মহান ভাষা আন্দোলনের অগ্রপথিক বাংলা পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথের স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম সর্বোতভাবে ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লার প্রতিথযশা ব্যক্তিদের স্মৃতিকথা জাতীয় ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিষয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের আন্তরিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথের স্মৃতি রক্ষার্থে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাংসদ এর উদ্যোগে বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কুমিল্লা আগমন বিষয়ে ভবিষ্যৎ কর্মসূচী সমূহ বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সকলকে এই মহতি উদ্যোগে সামিল হওয়ার উদাত্ত্ব আহবান জানান ।

হোমনায় শিশু আয়েশা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু; ১৭ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

রাসেল আহমেদ: হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার (৬) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে ১৭ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর কবরস্থান থেকে শিশুটির লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত আয়েশা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

জানা গেছে গত ১৭ আগস্ট দুপুরে দক্ষিণ চুনারচর গ্রামের একটি দোকানের পেছনের ঝোপ থেকে উলঙ্গ অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যু পানিতে পড়ে হয়েছে মনে করা হলেও মরদেহ উদ্ধারের স্থান, পোশাকহীন অবস্থায় পাওয়া এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিশুটির বাবা মো. জাকির হোসেন হোমনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার আশঙ্কা, আয়েশাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

হোমনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মদ মোফাচ্ছের বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে শিশুটির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যু পানিতে পড়ে দুর্ঘটনাজনিত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

হোমনা থানা পুলিশ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

দাউদকান্দিতে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার-১২, বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও নিষিদ্ধ টেবলেট জব্দ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের পৃথক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যাক্তিরা মাদক, ভারতীয় নিষিদ্ধ টেবলেট, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং পরোয়ানাভূক্ত আসামি বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

আজ বৃহস্পবার (৩ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে দাউদকান্দি মডেল থানার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল পৃথকভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গাঁজা, ভারতীয় নিষিদ্ধ টেবলেট(CORAZU TABLET), কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামীসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, তিন মন (১২০ কেজি) গাঁজাসহ গাজিপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মোঃ তরিকুল ইসলাম রাজন(৩১)। সে নীলফামারী জেলার জলডাকা উপজেলার গুলমুন্ড ইউনিয়নের তিলাই গ্রামের আসাদুল্লাহ ওরফে আসাদ মিয়ার ছেলে। সিলটে কোতোয়ালি থানার ঘাসিটোলা এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেল ফরহাদ মিয়া(৩০), কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার এলাকার সুখেন দেব এর ছেলে সঞ্জিত দেব(৪৫), নারায়ন দেবনাথের ছেলে বাবুল দেবনাথ(৪৭), বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মৃত জব্বর হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (৩৮)কে ভারতীয় ১,৪২,৮০০(এক লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার আটশত) পিস CORAZU TABLET সহ আটক করা হয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ দাউদকান্দি পৌরশাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম(২২), নিয়মিত মাদক মামলার আসামী সুমন মিয়া(৪৫), গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন(৫২), মোঃ রানা সিকদার, মোঃ মোক্তার(৩৬), মোঃ মোক্তার(৩৬) ও বাবু(২৫)কে গ্রেফতার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সেইলর ফ্ল্যাগশিপ Mafia Sale ফিরিয়ে আনার ঘোষণা, ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সেইলর (Sailor)—বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ফ্যাশন ব্র্যান্ড—তাদের ফ্ল্যাগশিপ Mafia Sale ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে সমস্ত প্রোডাক্ট ক্যাটাগরিতে ৪০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট প্রদান করা হচ্ছে।

সেইলরের সবচেয়ে বড় শপিং ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃত এই Mafia Sale গ্রাহকদের জন্য অসাধারণ মূল্যে ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্যের এক বিশাল কালেকশন নিয়ে এসেছে।

এই সেল বা বিক্রয় অফারে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য কিছু না কিছু থাকছে—যেমন পুরুষ, নারী ও শিশুদের পোশাকের পাশাপাশি ফুটওয়্যার, অ্যাক্সেসরিজ, হোম ও গিফটের আইটেম।

সেইলরের একজন প্রতিনিধি বলেন, “Mafia Sale আমাদের সবচেয়ে বড় শপিং ইভেন্ট এবং আমাদের গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে আনন্দদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি। এই বছর আমরা আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টে একটি বিস্তৃত কালেকশন নিয়ে আসছি, যা গ্রাহকদের আরও বেশি পছন্দ এবং সেরা মূল্য পাওয়ার সুযোগ দেবে।”

এই অফারটি সারাদেশের সবকটি ২৬টি সেইলর (Sailor) আউটলেট এবং তাদের অফিসিয়াল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশাল কালেকশন থাকায় গ্রাহকদের এই সুযোগ না হারিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কেনাকাটা করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। অফারটি সীমিত সময়ের জন্য এবং নির্বাচিত প্রোডাক্ট ও সাইজগুলো স্টক থাকা সাপেক্ষে পাওয়া যাবে।

তাই মিস করবেন না! যত দ্রুত সম্ভব আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি সংগ্রহ করুন। সেইলরের (Sailor) Mafia Sale-এ পাওয়া যাচ্ছে একটি বিশাল কালেকশন!