All posts by jitu

ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজা জব্দ, গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে একটি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই মো: মাহতাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের উত্তর তেতাভূমি এলাকায় (রজ্জব আলী সর্দার বাড়ি) পলাতক আসামি মো: সেলিমের বসতঘরের সামনে থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, রোববার (২১ জুন) ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই মো: মাহতাব হোসেন পরিচালিত আরেক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবনের অপরাধে মো: কাউছার (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। কাউছার উপজেলার মকিমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

একই দিনে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এএসআই মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রুহুল কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বালিনা গ্রামের নূরুজ্জামানের ছেলে।

এছাড়া পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবনের দায়ে দক্ষিণ তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা রুবেল (৩৫)-কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘মাদক ও অপরাধ দমনে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

কুমিল্লায় গোমতী নদীতে গোসল করতে নেমে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন গোমতী নদীতে গোসল করতে নেমে মিরাজ হোসেন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মিরাজ হোসেন উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোশাররফ হোসেন মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। মিরাজ কুমিল্লার কালাগাউছিয়া মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে এসেছিলো মিরাজ। আজ (রবিবার) দুপুরে গোমতী নদীতে গোসল করতে নেমে একপর্যায়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন নদীতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালান। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে হোমনা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ৪ ঘন্টা পর নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করে।

ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো যোগ দিবস

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (IDY) ২০২৬ উদযাপন করেছে। ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (IGCC) ব্যবস্থাপনায় ঢাকার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় এই দিবসটি উদযাপিত হয়।

এতে যোগব্যায়াম অনুরাগী, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক অনুশীলনকারী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়। যোগব্যায়াম মূলত ভারতে উদ্ভূত একটি প্রাচীন অনুশীলন, যা শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে।

২০২৬ সালের যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য (Theme) ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing), যা জীবনের প্রতিটি স্তরে দীর্ঘায়ু, শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশে যোগব্যায়ামের ভূমিকাকে তুলে ধরে।

কমন ইয়োগা প্রোটোকল ও যোগব্যায়াম প্রদর্শন অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘কমন ইয়োগা প্রোটোকল’ (CYP) সেশন। আইজিসিসি (IGCC)-র যোগ শিক্ষক মিস শাহনাজ পারভিন তাঁর শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এই সেশনটি পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশাল জনতা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে নতুন এবং মধ্যম স্তরের অনুশীলনকারীদের জন্য ডিজাইন করা বিভিন্ন যোগাসন এবং প্রাণায়াম (নিশ্বাসের ব্যায়াম) প্রদর্শন করেন।

এছাড়াও, বাংলাদেশের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় যোগব্যায়াম প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অনুষ্ঠানে যোগ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল জয়সান যোগ, হু আর্ট অফ যোগ, সেলফ হিলিং হাব, আর্ট অফ লিভিং, এভারগ্রিন যোগ স্কুল, নটরডেম যোগ অ্যান্ড মেডিটেশন ক্লাব, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এবং দ্য একাডেমি অফ আ বেটার ওয়ার্ল্ড (ব্রহ্ম কুমারী)। এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশে যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।

বিশেষ আকর্ষণ: আয়ুর্বেদ লাউঞ্জ

এ বছরের উদযাপনের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আয়ুর্বেদ লাউঞ্জ’, যা একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে আয়ুর্বেদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। এই লাউঞ্জে ‘দ্য আয়ুর্বেদ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ’, ‘ওষধি ল্যাবরেটরিজ’ এবং ‘ওশিন ন্যাচারালস’-এর ডেডিকেটেড ডিসপ্লে কিওস্ক (স্টল) ছিল, যা দর্শনার্থীদের আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশন লাইব্রেরির সৌজন্যে সাধারণ মানুষের পড়ার জন্য আয়ুর্বেদ বিষয়ক বিভিন্ন বইও এখানে প্রদর্শন করা হয়।

মাসব্যাপী প্রচার ও প্রাক-ইভেন্ট কার্যক্রম

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির এই মূল আয়োজনটি ছিল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এক বিস্তৃত প্রচারমূলক কার্যক্রমের চূড়ান্ত রূপ।

২০২৬ সালের ৬ মে একটি উদ্বোধনী (কার্টেন-রেজার) অনুষ্ঠানের পর, আইজিসিসি (IGCC) এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন যোগ প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ৩৬টিরও বেশি প্রাক-যোগ ইভেন্টের আয়োজন ও পৃষ্ঠপোষকতা করে। যা যোগব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।

সহযোগী পার্টনার ও সমাপনী: এই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে মূল্যবান অবদান রেখেছে ম্যারিকো বাংলাদেশ, টাটা মোটরস, নিটল মোটরস, বসুন্ধরা গ্রুপ, অশোক লেল্যান্ড, ইফাদ, জায়া গোল্ড, রয়্যাল গোল্ড, পিএন কম্পোজিট, প্রবৃদ্ধি অ্যাপারেলস, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড।

এই উদযাপনটি সম্প্রীতি, স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বাড়াতে যোগব্যায়ামের চিরন্তন বার্তাকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যোগব্যায়ামের প্রতি জোরালো ও ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

কসবায় রেলস্টেশনে হামলার অভিযোগ, ব্রাজিল সমর্থক আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে হামলার অভিযোগে সুমন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকালে তাকে আটক করা হয়।

জানা যায়, হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। আটক কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের রওশন মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া তিনি ব্রাজিলের সমর্থক বলেও খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সুমনের বিরুদ্ধে লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) সামনে মাছের পোনা নিয়ে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

সুমন নামে ওই যুবক এ নিয়ে শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিফোন সেট, সিগন্যালিং-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর স্টেশন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দেয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল কুদ্দুস জানায়, খবর পেয়ে থানা পুলিশ সেখানে যায়। তিনিও সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবিদ্বারে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) পরিচালিত অভিযানে মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জালাল উদ্দীন পিন্টু (২৯), মো. শাহিন (২৮), মো. তামিম (২৩) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৭)। তারা সবাই দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফয়সল উদ্দিন মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযুক্তদেরকে দেবিদ্বার থানা পুলিশ রোববার দুপুরে আদালতে প্রেরন করেন।

দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মিলবে না আর ফুটবল-হকির সেই ‘বটগাছ’ এর ছায়া

বিশেষ প্রতিবেদক:

বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট উন্মাদনায় যখন কাঁপছে চারপাশ, ঠিক তখনই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এলো এক বিষাদের ছায়া। নিভে গেল দীর্ঘ সময় ধরে আলো ছড়ানো এক অনন্য বাতিঘর। গতকাল আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিভাবক ও কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেক। ফুটবল ও হকি,দুই মাঠেই সমান দ্যুতি ছড়ানো এই বটগাছের প্রস্থানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

মাঠ কাঁপানো ‘ডাবল ক্যাপ্টেন’ ও অনন্য রেকর্ড:

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আবদুস সাদেকের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার জন্য। তারকা ফুটবলারদের ভিড়েও ১৯৭২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই মাঠে অভিষেক হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনী ক্লাবের।

ঐতিহাসিক নেতৃত্ব: তিনি একই সাথে আবাহনী ক্লাবের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার এক বিরল গৌরবের অধিকারী।

জাতীয় দলের ত্রাতা: স্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনিই। পরবর্তীতে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে জাতীয় হকি দলের কোচের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন: ১৯৭৭ সালে ঘরোয়া ফুটবলে আবাহনী যখন প্রথমবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন তিনি ছিলেন দলটির কোচ-কাম-খেলোয়াড়। তাঁর অধীনেই আবাহনী ফুটবল ও হকি—উভয় লিগেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ষড়যন্ত্রের জবাব: ষাটের দশকের শেষের দিকে বাঙালি খেলোয়াড়দের পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ না দেওয়ার সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন তিনি। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফরে ২০টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই খেলেন রাইট-হাফ পজিশনে।

সংকটে অবিকল্প ‘সংগঠক’: আবদুস সাদেক শুধু মাঠের লড়াকু সৈনিক ছিলেন না, ছিলেন সংকট মোচনের এক দূরদর্শী কারিগর।

আবাহনীর বড্ড দুর্দিন (১৯৭৫): পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবাহনী ক্লাব যখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, অন্য অনেকে যখন গোপনে সরে যান, তখন আবদুস সাদেকই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ক্লাবের হাল ধরেন। আজকের দেশসেরা আবাহনী তাঁর সেই ত্যাগের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

হকি বাঁচানোর রূপকার: বছর দশেক আগে দেশের হকি যখন চরম অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছিল এবং ক্লাবগুলো লিগ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় এক হোটেলে ক্লাবগুলোকে ডেকে শুধু বলেছিলেন, ‘তোমরা মাঠে যাও, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ওপর আস্থা রাখো।’ তাঁর সেই ব্যক্তিত্বের জাদুতে হকি আবার মাঠে ফিরেছিল। তিনি তিনবার হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৫-র ঐতিহাসিক এশিয়া কাপ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

আশির দশকে এশিয়ান কাপ হকি মানে ছিল বিশ্বকাপ সমতুল্য। বাংলাদেশে এমন আসরের আয়োজন করা তখন ছিল কল্পনাতীত। ১৯৮৫ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সভায় পাকিস্তান, ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়া আয়োজক হতে চাইলে আবদুস সাদেক ঢাকার নাম প্রস্তাব করে দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখুন। দেখবেন ইতিহাসের সেরা আয়োজন করব।’ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় সেবার ঢাকায় যে এশিয়া কাপ হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম সেরা আয়োজন হিসেবে স্বীকৃত।

আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন: ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি আন্দ্রে নেগ্রে ঢাকা এসে আবদুস সাদেককে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠেছিলেন। তিনি মাইক হাতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন— “যে দেশে সাদেকের মতো এক্সপার্ট আছে, সেখানে বাংলাদেশের হকির এই অবস্থা কেন? সাদেকের বুদ্ধি কাজে লাগাও, ঠিকই এগিয়ে যাবে।”

ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া পরিবার:

আবদুস সাদেকের ক্রীড়া রক্ত ছিল পারিবারিক।

  •  তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ছিলেন ব্রিটিশ আমলের চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু
  •  তাঁর ছোট ভাই, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ছিলেন হকির তুখোড় খেলোয়াড়, যিনি পূর্ব পাকিস্তান যুবদলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

একটি অপূর্ণ স্বপ্ন এবং জাতির হাহাকার:

বর্তমান প্রজন্ম যখন হাতেগোনা সাফল্যকেই ইতিহাস মনে করে, তখন এই কিংবদন্তিদের গল্প আড়ালেই থেকে যায়। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল— দেশের সোনালি যুগের পাঁচ অভিভাবক আবদুস সাদেক, বশির আহমেদ, জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা ও গোলাম সারোয়ার টিপুকে এক ফ্রেমে বন্দি করে একটি আড্ডার আয়োজন করা।

সতীর্থ গোলাম সারোয়ার টিপু বলেছিলেন, “সাদেক ভাই ছাড়া আয়োজন বৃথা।” প্রতাপ শংকর হাজরাও সাদেকের থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন। ওল্ড ডিওএইচএসের বাসায় গিয়ে প্রস্তাব দিলে আবদুস সাদেক খুশি হয়ে বলেছিলেন, “আমাদের একসঙ্গে বসিয়ে ছবি তুলবে, এ লোভ কি সামলানোর মতো! তবে একটু সময় দাও, শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।”

প্রথমে জাকারিয়া পিন্টু এবং এবার আবদুস সাদেক না ফেরার দেশে চলে যাওয়ায় সেই ঐতিহাসিক ফ্রেমটি আর কোনোদিন পূর্ণতা পাবে না। দরদমাখা কণ্ঠে ‘কীরে ভালো আছিস তো’ বলার মানুষটি চিরতরে বিদায় নিলেন। জাতি হিসেবে আমরা হয়তো গুটি কয়েক পুরস্কার ছাড়া এই রত্নকে তাঁর যোগ্য সম্মান দিতে পারিনি, আর সেই অবমূল্যায়নের হাহাকারই আজ দেশের হকি ও ফুটবল অঙ্গনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বিদায়, ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর!

কুমিল্লায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ রেজা হাসান।

সভায় বক্তারা তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে তামাকের প্রলোভন থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসন কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

কুমিল্লায় চামড়া বোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে চালক নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা দেবীদ্বারে ব্রিজে উঠতে গিয়ে চামড়া বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালক নিহত ও আরও ২ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার খলিলপুর বাজারের পূর্বপাশের ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

জানা যায়, নিহত ট্রাকচালক সোহেলের বাড়ি গাজীপুরে।

দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।

মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানায়, আমাদের ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছেন।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, উপজেলার খলিলপুর বাজারের পূর্বপাশের ব্রিজে উঠতে গিয়ে চামড়া বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা বিসিকে অভিযান, বিপুল পরিমাণ ওষুধসহ মালিক আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামে একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় অনুমোদনহীন ২১ ধরনের ওষুধ, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জামসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিক জুবায়ের ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে বিসিক শিল্পনগরীর ওই কারখানায় অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, এনএসআই এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির নামে মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে সেখানে ২১টিরও বেশি ধরনের ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল। উৎপাদিত এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো। এ ছাড়া কারখানাটিতে কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান বা যোগ্য কারিগরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, যা প্রচলিত ওষুধ উৎপাদন নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান জানায়, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।

জব্দকৃত সব আলামত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানায়।

অভিযানে উপস্থিত ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কুমিল্লার অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার জানায়, জব্দ করা ২১ ধরনের ওষুধের একটিরও বৈধ উৎপাদন অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া কারখানায় কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ওষুধ উৎপাদনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য প্রস্তুতকৃত কিছু ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে জানান, তাদের কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও অন্তত ১৫ ধরনের ওষুধ তৈরির কোনো সরকারি অনুমতি ছিল না। এরপরও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় সেসব ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে তিনি জানান।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা হাসান মাহমুদ, এনএসআইয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধি এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের অবৈধ ও অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুরাদনগরে নিখোঁজের একদিন পর ঝোপ থেকে অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মাহবুল (২৮) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকার রাস্তার পাশের ঝোপের আড়াল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহবুল উপজেলার গকুলনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মাহবুল তার অটোরিকশা নিয়ে দুইজন যাত্রীকে বহন করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাত গভীর হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় পুলিশ মো: নাঈম ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টিলি গ্রামের মো: বিল্লাল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মুরাদনগর উপজেলার নগরপাড় এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিউল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা ছিনতাই বা চুরির উদ্দেশ্যে চালক মাহবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, চুরি হওয়া অটোরিকশাটি কোদালকাটা-মির্জাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।