All posts by jitu

মাদকের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

মোঃ ইয়াছিন মিয়া:

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দাবিতে কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া ও বারপাড়া কৃষ্ণপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে সমাবেশ ও মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) তাপস চন্দ্র রায়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বারপাড়া বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসলে মাদক নির্মূল করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এলাকার সবাই একসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করুন। পুলিশ সবসময় আপনাদের পাশে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “কুমিল্লা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আপনারা যখনই সহযোগিতা চাইবেন, পুলিশ আপনাদের পাশে থাকবে। সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।”

তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশে এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতিই প্রমাণ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ।

সমাবেশ শেষে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী স্লোগানে একটি বিশাল র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদক নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নুরপুর (গুদিরপুকুর পাড়) এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ অমান্য করে অবৈধভাবে বসতবাড়ির জমি দখল, গাছপালা কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী মো: আবুল কালাম আজাদ সর্দার (৬০) বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন— ঐ এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে সালেহ আহমেদ (৪৫), সাদেক (৩৫) ও মাহাবুবুল ইসলাম (৪০)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে বাদী আবুল কালাম আজাদ সর্দার শর্তসাপেক্ষে আনোয়ার হোসেনের নিকট ০৬ শতক জায়গা বিক্রি করেন। তবে পরবর্তীতে শর্ত ভঙ্গ করে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল মালিককে না জানিয়ে বিবাদীগণের নিকট উক্ত জায়গা বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে বাদীর প্রিয়েমশন মামলা (নং- ৪১৮/২০২৬) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীগণ গাছপালা কেটে অবৈধ নির্মাণকাজ শুরু করলে বিজ্ঞ আদালত গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে উক্ত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Injunction) জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় বাদী আদালতে একটি ভায়োলেশন মামলা (নং- ০৫/২০২৬) দায়ের করেন। এছাড়া নক্সা অনুমোদন না থাকায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও (স্মারক নং-৩০৮) বিবাদীগণকে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণকাজ স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার নোটিশ দেয়।

ভূক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ সর্দার জানান, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ উপেক্ষা করে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিবাদীগণ ১৫-২০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে পুনরায় আমাদের বসতবাড়িতে অবৈধ কাজ শুরু করে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করা এবং বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

ঘটনা তদন্তের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন পাটোয়ারী জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো প্রকার বেআইনি কাজ বা বিশৃঙ্খলা ঘটানোর সুযোগ নেই। তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।”

দাউদকান্দিতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩০

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৭ জন।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দাউদকান্দিতে ৬৭৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২৮ জন। জুলাই মাসে ১৮২ জন, আগস্টে ৩৯৭ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছরে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৮০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৬৫ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জুলাই মাসে ৩৮ জন, আগস্টে ৭৫ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৩২৩টি ডায়াগনস্টিক কিট মজুত রয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

নাঙ্গলকোটে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পানিতে পড়ে মো. আরাফ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার হেসাখাল পদুয়ারপাড় এলাকায় একটি মাদ্রাসার পুকুরে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

আরাফ ওই মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং হেসাখাল মধ্যমপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির হাফেজ মোশারফ হোসেনের ছেলে।

আরাফের চাচা হোসেন মিয়া জানিয়েছে, আরাফ হেসাখাল পদুয়ারপাড় নূরানী মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদ্রাসার পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দিতে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, এক্স নোহাসহ গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজা ও একটি এক্স নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজার কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই মাসুদ আলম পাটোয়ারী সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট স্থাপন করেন। এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রো-চ-৫১-১২২৪ নম্বরের একটি পুরাতন এক্স নোহা গাড়ি চেকপোস্টের কাছে এলে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়ির ভেতর থেকে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা নীলফামারীর জলঢাকা থানার তিলাই এলাকার তরিকুল ইসলাম রাজন (৩১) এবং সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন গাশিটোলা এলাকার ফরহাদ হোসেন ওরফে রাহাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার তরিকুল ইসলাম রাজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাঙ্গলকোটে প্রবাসীর বাড়িতে চুরি, ছাদে মাদক সেবনের অভিযোগ

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কাতারপ্রবাসী দুই ভাইয়ের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গত এক মাস ধরে রাতের আঁধারে অপরিচিত ব্যক্তিরা পাশের ভবনের ছাদ থেকে কাঁঠালগাছ বেয়ে ওই বাড়ির ছাদে উঠে মাদক সেবন করছে বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। চুরি ও ছাদে অপরিচিতদের আনাগোনায় প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপদুয়া গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে কাতারপ্রবাসী কাজী জাফর ও তাজুল ইসলামের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের অভিযোগ, রাতের কোনো একসময় মাদক সেবনকারী ব্যক্তিরা পাশের ভবনের ছাদ থেকে কাঁঠালগাছ বেয়ে তাদের বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে মাদক সেবনের পর তারা ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় কাজী জাফরের স্ত্রী তামান্না বেগমের ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এবং আলমারিতে রাখা দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কাজী জাফরের স্ত্রী তামান্না বেগম বলেন, আমার স্বামী ও ভাসুর দুজনই কাতারপ্রবাসী। বাড়িতে আমরা সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকি। গত এক মাস ধরে রাতের বেলায় কে বা কারা পাশের ভবনের ছাদ থেকে কাঁঠালগাছ বেয়ে আমাদের বাড়ির ছাদে উঠে মাদক সেবন করছে। মঙ্গলবার রাতেও কয়েকজন ছাদে উঠে মাদক সেবন করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে একটি আইফোন ও আলমারিতে থাকা দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

কাজী জাফরের মা রোকেয়া বেগম বলেন,রাতে বাড়ির ছাদে অপরিচিত লোকজনের চলাচল ও মাদক সেবনের ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রতিবেশী রুবেল বলেন, এলাকায় কারা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত, তা প্রশাসন ও স্থানীয় অনেকেরই জানা রয়েছে। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইও কমানো সম্ভব।

এলাকাবাসী জানান, চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদক সেবন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর ইসলাম বলেন, আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে ১২ মাদকসেবীর কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে এক রাতে ১২ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

তারা হলেন- বাখরনগর গ্ৰামের মনির মিয়ার ছেলে এমরান (২৩), কোম্পানীগঞ্জ নগরপাড় এলাকার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. সবুজ (২৮), ধামঘর গ্ৰামের জজ মিয়ার ছেলে শাকিল (২০), ধনীরামপুর গ্ৰামের মিলন বর্মনের ছেলে রোদ্র বর্মন (১৮), কিছমত রহিমপুর গ্ৰামের চন্দন রবি দাশের ছেলে রনক রবি দাশ (১৮), দৌলতপুর গ্ৰামের কবিরের ছেলে মো. হৃদয় (১৮), দেবিদ্বার থানার রসুলপুর গ্রামের সুলতানের ছেলে মো. দেলোয়ার (১৮), উপজেলা সদরের জালোপাড়ার অপু চন্দ্র বর্মনের ছেলে দুর্জয় চন্দ্র বর্মন (১৮), উপজেলা সদরের রামধনীমোড়ার মো. জামালের ছেলে মো. কামাল (২২), রহিমপুর গ্ৰামের তরু মিয়ার ছেলে মো. সেলিম (২৩), উপজেলা সদরের উত্তর পাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. হাকিম (২৮) ও রহিমপুর গ্ৰামের ধনু মিয়ার ছেলে মো. কামরুল (৩০)।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের আজ বুধবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হবে।

আস্থা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ, গুলশানে হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মডেল শাখা

স্টাফ রিপোর্টার:

দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতার পর গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আবেদুর রহমান সিকদার জানিয়েছেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন ব্যাংকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, একজন গ্রাহক প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের জন্য তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখেন। সেই অর্থ প্রয়োজনের সময় দিতে না পারা ব্যাংকারদের জন্যও কষ্টের। এ কারণে গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। এমনকি কোনো গ্রাহক চাইলে তাঁর হিসাবের পুরো স্থিতিও তুলে নিতে পারবেন। পাশাপাশি মাসিক মুনাফাভিত্তিক হিসাবের গ্রাহকদের নিয়মিত মুনাফা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়াদি আমানত, ডিপিএস ও মাসিক স্কিমের গ্রাহকেরা ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যেতে না চাইলে মূল আমানত ফেরত নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি।

স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ পাওয়ার পর অনেক গ্রাহক তাঁদের পুরো অর্থ তুলে নেবেন—এমন ধারণা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ছিল। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়েছে বলে জানান আবেদুর রহমান সিকদার।

তাঁর মতে, অনেক গ্রাহক অর্থ ব্যাংকে রেখেই লেনদেন চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকলে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। ব্যাংকটির জন্য এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যেসব গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের আস্থা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন ব্যাংকটির এমডি।

তিনি বলেন, আগে কোনো গ্রাহক শাখায় এলে তাঁকে কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের উৎকণ্ঠা ছিল। এখন লেনদেনের সুযোগ বাড়ায় কর্মীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।

ব্যাংকটির প্রবাসী গ্রাহকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কয়েকজন গ্রাহক ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাঁদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অনেক প্রবাসী গ্রাহক তাঁদের অর্থ তুলে নিতে চান না, বরং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কমে আসায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আবেদুর রহমান সিকদারের ভাষ্য, ব্যাংকে অর্থ রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা। জরুরি প্রয়োজনে যথাযথ বিবেচনার ভিত্তিতে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ব্যক্তি পর্যায়ের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে বর্তমানে জমা ও উত্তোলনে আগের মতো বাধা নেই। পাশাপাশি নতুন হিসাব খোলার সুযোগও রয়েছে। কোনো গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চাইলে তাঁর মূল আমানত ফেরত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংকটির এমডির আশা, এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকের কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা শক্তিশালী হবে।

ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে খুচরা ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং করপোরেট খাত।

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ব্যবসায়িক গ্রাহক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন বাড়িয়েছেন। এখন তাঁদের আবার ব্যাংকটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, প্রথম পর্যায়ে পুরোনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগে যেসব গ্রাহক ব্যাংকটির সঙ্গে বড় পরিসরে ব্যবসা করতেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার পর নতুন গ্রাহক আকর্ষণের দিকে নজর দেওয়া হবে।

ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বড় মূলধনভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গ্রাহকদের সমন্বিত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রাজধানীর গুলশানে একটি মডেল শাখা চালুর পরিকল্পনা করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শাখাটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই শাখা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব পরিচয়ে পরিচালিত হবে। আগের পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এখান থেকে সেবা নিতে পারবেন।

আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, একই শাখা থেকে আগের পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার ধারণা থেকেই মডেল শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কাছাকাছি স্থানে আগের ব্যাংকগুলোর একাধিক শাখা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও কার্যক্রম বিবেচনায় এসব শাখাকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গুলশানের মডেল শাখাকে সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের শাখার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ব্যাংকটির।

বিদ্যমান শাখা, উপশাখা, এটিএম নেটওয়ার্ক ও কর্মীদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে সুশৃঙ্খল ও পেশাদার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আবেদুর রহমান সিকদারের মতে, আর্থিক খাতে আস্থা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে। ব্যাংকের শাখা ও সেবা বিস্তারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়।

ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা চালুর মাধ্যমে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যার সঙ্গে লেনদেন করে গ্রাহকেরা এবং কাজ করে কর্মীরা সন্তুষ্ট ও গর্বিত বোধ করবেন।

দীর্ঘদিনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের সঙ্গে থাকা গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আস্থাকে ভিত্তি করেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা।

মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
প্রায় দুই বছর ধরে সরেজমিন তদন্ত শেষে ১২ সদস্যের কমিটি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি দখল করেছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল ভবন নিরà