Tag Archives: গ্রেফতার-২

কুমিল্লায় ক্লুলেস অটোরিকশাচালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। গত ১৯ জুন বিকেলে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলে কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় যাওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২০ জুন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, নিহতের চোখ ও মাথা থেঁতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব আলম ওরফে মাসুমের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় দুই ব্যক্তি একটি সন্দেহজনক অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে।

খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশকে দেওয়া তথ্যে নাঈম জানান, তিনি ও তার সহযোগী মিলে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেন।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত আরমান সরকার (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজা জব্দ, গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে একটি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই মো: মাহতাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের উত্তর তেতাভূমি এলাকায় (রজ্জব আলী সর্দার বাড়ি) পলাতক আসামি মো: সেলিমের বসতঘরের সামনে থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, রোববার (২১ জুন) ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই মো: মাহতাব হোসেন পরিচালিত আরেক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবনের অপরাধে মো: কাউছার (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। কাউছার উপজেলার মকিমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

একই দিনে ব্রাহ্মণপাড়া থানার এএসআই মো: কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রুহুল কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বালিনা গ্রামের নূরুজ্জামানের ছেলে।

এছাড়া পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক সেবনের দায়ে দক্ষিণ তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা রুবেল (৩৫)-কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘মাদক ও অপরাধ দমনে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

চৌদ্দগ্রামে পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যা

চৌদ্দগ্রামে পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

চৌদ্দগ্রামে পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজারে পেট্রোলবোমায় যাত্রীবাহী বাসের ৮ যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যামামলায় আ’লীগ নেতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ও তাঁর পুত্র যুবলীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার রুমি।

রোববার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর ইউনিয়নের নোয়াবাজারে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত হন।

এ ঘটনায় গত বছর বাসের মালিক আবুল খায়ের বাদি হয়ে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাবেক আইজিপি শহীদুল হকসহ ১৯০জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় কালিকাপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ১১নং আসামী ও তাঁর পুত্র নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার রুমি ৭৯নং আসামী। গোয়েন্দা পুলিশ কুমিল্লা শহর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘পেট্রোলবোমা মেরে বাসের ৮ যাত্রী হত্যা মামলায় আ’লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ও তাঁর পুত্র যুবলীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার রুমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দিতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দিতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

জমি চাষের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের কথাকাটি থামানোর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে এঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় নয়ানগর গ্রামের বাবুল মিয়ার চা-দোকানের সামনে দেলোয়ার ও সোলেমান এর মধ্যে জমি চাষের নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঐ সময় একই গ্রামের হাবিব তালুকদার তাদের বিষয়টি মিমাংসার জন্য উভয়কে ধাক্কা দিয়ে সরানোর সময় সোলেমান মাটিতে পড়ে সামান্য আহত হয়। এই ঘটনায় সোলেমান উত্তেজিত হয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে হাবিব তালুকদার (৫৮)এর বাড়িতে গিয়ে আক্রমন করে এবং হাবিব তালুকদারকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা হাবিবকে চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। নিহত হাবিব ওই গ্রামের গফুর মিয়ার ছেলে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চারু ভূইয়ার ছেলে মিজান ফকির (৫০) অপরজন বাবুল ছয়ালের ছেলে শিপন মিয়া (২৪)। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাকসুদা বেগম মাসু বাদী হয়ে আজ শনিবার দাউদকান্দি মডেল থানায় ৯জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।

কুমিল্লায় ব্যাগভর্তি টাকা

কুমিল্লায় ব্যাগভর্তি টাকা ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ, গ্রেফতার ২

কুমিল্লায় ব্যাগভর্তি টাকা ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ, গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন রকমের বিপুল পরিমান মাদকসহ নগদ ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এইসময় ঘটনাস্থল থেকে দুই মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৬ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়নের শাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ শহীদ মিয়ার বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদক ও টাকা জব্দ করা হয়।

বুধবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন) আরাফাত হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা সদর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের মৃত আবদে আলীর ছেলে আবদুস সাত্তার (৫২) এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই দক্ষিন কাছার এলাকার আবদুল হাইয়ের মোঃ পারভেজ (১৫)।

প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চকবাজার ফাঁড়ীর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।

এ সময় শাহাপুর এলাকায় শহীদ মিয়ার বাড়ি থেকে ৮৪ বিদেশী মদ, ৪৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৯৩ বোতল স্কাফ সিরাপ, ৭৯ বোতল বিয়ার, ৭৭৫ পিস ইয়াবাহ নগদ ১০ লাখ ৮২ হাজার ৭০ টাকা জব্দ করা হয়। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

চকবাজার ফাঁড়ীর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মঈন উদ্দিন আসামীদেরকে বুধবার বিকেলে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

কুমিল্লার হোমনায় কিশোরীকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধ’র্ষণ, গ্রেফতার ২

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার হোমনায় ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে দুই দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উপজেলার পৌর সভার শ্রীমদ্ধি গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের তোতা সরকারের বাড়িতে গত ১৫ ও ১৬ জুন (দুই দিন) এ ঘটনা ঘটে।

ধর্ষকরা হলেন, তিতাস উপজেলার উত্তর আকালিয়া গ্রামের প্রবাসী ইনু মিয়ার ছেলে মো. রাবিব হাসান নাঈম (১৯) ও পূর্ব শ্রীমদ্ধী গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের মো. রবিকুল ইসলামের ছেলে মো. ইমন সরকার (২২)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোরী গত ১৫ জুন বিকালে গ্রামের দরগা বাড়ির মাঠে খেলতে গেলে অনুমান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উভয় অভিযুক্ত ভিকটিমকে কৌশলে পৌরসভাস্থ শ্রীমদ্দি গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের তোতা সরকারের বসত ঘরের বারান্দার রুমের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরদিনও ভিকটিমকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ১৯ জুন সোমবার বাদী হয়ে দুই জনকে আসামী করে মামলা করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ভিকটিমের মায়ের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দুইজনকেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের প্রয়োজনীয় রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নগ্ন ভিডিও ধারণ করে লাখ টাকা আদায়,গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যুবককে ডেকে নিয়ে তরুণীর সাথে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও চাঁদা আদায় চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের গাজী মেম্বার বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো.ইমন (২১) ও একই গ্রামের চাঁন মিয়া মহুরী বাড়ির তাজুল ইসলাম সজিব (২০)।

সোমবার (১২ জুন) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মো.আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন ইমন ও সজিব তাকে মারধর করে নাজনিন সুলতানা প্রিতি নামে এক তরুণীর বাড়িতে ঢুকিয়ে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে নগদ ১লাখ ১০হাজার টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে আরও চাঁদা দাবি করে । পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে। একই সাথে ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসপি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে দিনমজুরকে পিটিয়ে হ’ত্যা, গ্রেফতার ২

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জাকির হোসেন প্রকাশ শীতল (৪৫) নামে এক দিনমুজুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময় ভিকটিম জাকির হোসেন শীতল উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মেষতলা গ্রামের উত্তর পাড়ায় মুন্সীরহাট ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন নূর নবীর চা দোকানে চা পান করতে যান। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে মেষতলা গ্রামের মোস্তফার ছেলে জাকির হোসেন (৩২), চা দোকানদার নূর নবীর ছেলে সালমান (১৬), দুদু মিয়ার ছেলে খোকন প্রকাশ শিকদার (৪৮), খোকন প্রকাশ শিকদারের ছেলে নয়ন (১৫) ও বাহার মিয়ার ছেলে তারেক (১৭) অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জাকির হোসেন শীতলের উপর হামলা চালায়। হামলায় রক্তাক্ত জখমসহ গুরুতর আহত হন শীতল। পরে প্রাণে বাঁচার লক্ষ্যে পালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে স্থানীয় মাইন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির উঠোনে গিয়ে পানি পানি বলে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান শীতল। চিৎকার শুনে ওই বাড়ির লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে পানি নিয়ে এসে দেখে জাকির হোসেন শীতল মারা গেছে। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে শনিবার বিকালে জাকির হোসেন শীতলের স্ত্রী সুরমা বেগম ও মেয়ে স্বপ্না আক্তারের উপস্থিতিতে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তারেক ও নয়ন নামে দুই আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, ‘মুন্সীরহাটের মেষতলায় জুয়া খেলার সন্দেহে হামলায় দিনমুজুর জাকির হোসেন শীতল হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় তারেক ও নয়ন নামে দুই আসামীকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২  

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীল কবিরহাট উপজেলায় মো.মেজবাহ উদ্দিন রাব্বি (২৫) নামের এক অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ এজাহার নামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তবে পুলিশ এ হত্যাকান্ডের তাৎক্ষণিক কোন কারণ জানাতে পারেনি।

গ্রেফতার মো.রাসেল (৩০) উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েত নগর এলাকার হোসেন সর্দার বাড়ির মৃত সফি উল্লার ছেলে ও মাইন উদ্দিন (২৮) কবিরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষবাগ এলাকার হাসান আলী মেস্ত্রী বাড়ির মো.আবদুল হকের ছেলে।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে দুই আসামিকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার সোমবার সকালে নিহতের মা তাজনাহার বেগম বিজলী বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে কবিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। কবিরহাট থানায় যাহার মামলা নং-৫। এর আগে, গতকাল রোববার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের কবিরহাট সরকারি কলেজের পশ্চিমে এনায়েত নগর সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কবিরহাট পৌরসভার এনায়েত নগর এলাকার মো.রাসেল (৩০), তার ভাই মো. রুমেজ (২৯) ও কবিরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষবাগ এলাকার হাসান আলী মেস্ত্রী বাড়ির মো.আবদুল হকের ছেলে মাইন উদ্দিন (২৮) সহ অজ্ঞাত ২-৩জনের সাথে নিহত অটোরিকশা চালক মেজবাহ উদ্দিন রাব্বির (২৮) অটোরিকশা চালানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে গতকাল সন্ধ্যায় রাব্বি অটোরিকশা নিয়ে কবিরহাট বাজারে যাওয়ার পথে এজাহার নামীয় তিন আসামি সহ অজ্ঞাত ৮-১০জন পরস্পর যোগসাজশে তাকে ধারালো দা, ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এনায়েত নগর এলাকার পুকুর পাড়ের ঝোপে ফেলে দেয়।

স্থানীয়দের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাই করতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় একরাম নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন,স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী মুরুব্বি জানিয়েছে কবিরহাট পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের জৈনদপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির সফির ছেলে রাসেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.শ্যামল কুমার দেবনাথ জানান,ওই যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছে। তবে পুলিশ এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এজাহার নামীয় পলাতক অপর আসমিকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।