All posts by jitu

নির্বাচিতরা দেশের সার্বভৌমত্বকে

নির্বাচিতরা দেশের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে: কুমিল্লায় খন্দকার মোশাররফ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যত দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের দিন-তারিখ ঠিক হলে জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে যাবে।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমিল্লায় বিজয় দিবসের র‍্যালির শুরুতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতি দ্রুত একটি নির্বাচন দিলে জনগণ তাদের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচিতরা এদেশে সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করবে, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।

এসময় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহবায়ক উৎবাতুল বারী আবু, সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় র‌্যালিটি নগরের কান্দিরপাড়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিজয় র‌্যালিতে বিএনপি ও তার অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মানুষের ঢল নামে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প কর্মসূচি

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা মহানগরের উদ্যোগে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদিন ব্যাপি নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সকাল ১০ টায় মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে মেডিকেল ক্যাম্প কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৩ নং ওয়ার্ডের বাতাবাড়িয়া সরকারি বিদ্যালয়ে মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়।

২৩ নং ওয়ার্ডের কোটবাড়ি বিশ্বরোডের, বাতাবাড়িয়া গ্রামে নিয়ে গঠিত যেখানে জুলাই আন্দোলনের বহু ছাত্র-জনতা আশ্রয় গ্রহণ করে। ছাত্র-জনতা থেকে আশ্রয় দেয়ার কারণে গ্রামবাসী ও নির্যাতিত হয়। বাদ যোহর ২৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি থেকে একটি মসজিদে ‘৭১ ও ‘২৪-র শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয় এবং তারপর শহীদ পরিবারে সাথে সাক্ষাৎ ও কবর জেয়ারত করেন মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ। বাদ আসর কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয় মসজিদে ‘৭১ ও ‘২৪-র শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাদ এশা শহীদ ভাইদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এতিমও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে রাতের খাবারের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে স্বৈরাচার প্রতিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন। কারণ মানুষ মনে করে তরুণ নেতৃবৃন্দ দেশের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাই আমরা গতানুগতিক কর্মসূচির পরিবর্তে জনগণকে ভালো কিছু দেয়ার চেষ্টা করেছি।

কুমিল্লা মহানগরের সদস্য সচিব রাশেদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের পরিবর্তনে প্রতিটি ভালো কাজের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্পৃক্ততা থাকবে, জনমনে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো।

মহান বিজয় দিবসে কুমিল্লায়

মহান বিজয় দিবসে কুমিল্লায় বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের মধ্যে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ আখাউড়া-আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ মিনিট স্থায়ী সৌজন্য সাক্ষাতটি বেলা সাড়ে এগারটায় শুরু হয় এবং ১১টা ৪৮ মিনিটে শেষ হয়।

 

এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং ভারত সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে চীফ অব স্টাফ, ১০১ এরিয়া মেজর জেনারেল সুমিত রানা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে ৩ জন স্টাফ অফিসার এবং ১ জন অধিনায়ক পর্যায়ের বিজিবি অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

অনুরূপভাবে ভারত সেনাবাহিনীর ৩ জন অফিসার এবং অধিনায়ক পর্যায়ের বিএসএফ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।

উভয় দেশের প্রতিনিধিগণ নিজেদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬ই ডিসেম্বর, পহেলা বৈশাখ এর মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহে উভয় দেশের মধ্যে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাতের প্রচলন আছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ।

দাউদকান্দিতে শহীদদের স্মরণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের র‍্যালি কোরআন খতম, দোয়া মোনাজাত

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

পৌষের ভোরে কুয়াশা ভেজা শীত উপেক্ষা করে মহান বিজয় দিবসে শহীদদের স্মরণে কোরআন খতম, র‍্যালি ও দোয়া মোনাজাত করেছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তুজারভাঙ্গা জামিয়া ইসলামিয়া মোবারকিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রম আয়োজনে সহান বিজয় দিবস পালন করেন। এসময় শিক্ষাথীদের বুকে দেখা যায় লাল-সবুজ পতাকা।

মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল্লাহ আর জামি বলেন, যারা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, কোন দলের জন্য নয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্যই শহীদ হয়েছেন। এজন্য আমরাও তাদের(শহীদদের) আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেছি। আমাদের ছাত্ররাও এসেছে।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনায় আমরা কোরআন খতম দিয়েছি। প্রতিবছর আমরা এ কাজটি করি।

মাদ্রাসার পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইব্রাহিম বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা বিজয় দিবস পালন করি। এ দিনে কোরআন খতম, দোয়া মোনাজাত, র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এছাড়াও শিশু-কিশোরদের দিয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি নেতাদের সহায়তায়

বিএনপি নেতাদের সহায়তায় সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পিএসের ঠিকাদারি কাজ চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পিএস কামাল হোসেনের ১৬৩ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ চলছে বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয়ে। এ বিষয়ে এলাকায় রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দুদকের মামলায় অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ কামাল আত্মগোপনে থাকলেও তার কর্মকাণ্ড থেমে নেই।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে ওই দুর্নীতিবাজ টেন্ডারবাজি করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, এলজিইডি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বড় প্রকল্পগুলো ভাগিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কামাল আত্মগোপনে চলে যান। তবে সম্প্রতি বিএনপির কয়েকজন নেতার প্রশ্রয়ে তার থেমে যাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ আবার শুরু হয়েছে। এদিকে, দুদক তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করলেও প্রতারণা করে এসব ঠিকাদারি কাজের বিল তুলছেন।

কামাল হোসেন তার মালিকানাধীন মেসার্স মাস্টার এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামে বেনামে বড় প্রকল্প বাগিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি, তার ভাগিনা আতিকুল ইসলামের তদারকিতে এবং কিছু বিএনপি নেতার সহযোগিতায় এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে ৮ কোটি টাকার চেক তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দুদকের জব্দ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এসব টাকা তুলে নিচ্ছেন? তাছাড়া, স্বশরীরে উপস্থিত না হয়ে ব্যাংক থেকে এত টাকা কীভাবে লেনদেন করা হচ্ছে?

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে ৯৪ কোটি টাকার কাজ চলছে, যা কামাল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান “মাস্টার এন্টারপ্রাইজ” করছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম বলেন, “কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান নগরীতে ৯৪ কোটি টাকার কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৮ কোটি টাকার বিলের চেক নেয়া হয়েছে। আমরা অ্যাকাউন্ট পে চেক দিয়েছি। কিন্তু কীভাবে তিনি এসব টাকা নগদায়ন করেন সেটা আমার জানা নেই।”

কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহ বলেন, “কামাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান জেলার দেবিদ্বার পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি শোধানাগার প্রকল্পের ১৪ কোটি টাকার কাজ করছে। তবে এ প্রকল্পের কোনো বিল এখনো দেয়া হয়নি।” মেঘনা উপজেলায় কামাল হোসেনের মালিকানাধীন “চৌধুরী অ্যান্ড মাস্টার এন্টারপ্রাইজ” নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৪ কোটি টাকার একটি কাজ করছে, যা বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নানের প্রশ্রয়ে চলমান রয়েছে।

এদিকে, কামাল হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার গাজীপুর গোয়াল মাড়ি লামছড়ি সড়কের ১৬ কোটি টাকার কাজ, তিতাস উপজেলার মাছিমপুর এলাকার ১০ কোটি টাকার সেতু এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১৫ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ কাজ করছেন।

কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, “দুদক কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া তাদের নামে চেক দেওয়া বন্ধ করা যাবে না। তারা ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন করে বিল নিয়ে যাচ্ছে।” তবে অভিযুক্ত কামাল হোসেন ও তার ভাগিনা আতিকুল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি, কারণ তাদের ফোন বন্ধ ছিল।

খাদের কিনারে রাজনীতি

খাদের কিনারে রাজনীতি! কোথায় যাচ্ছে দেশ!

খাদের কিনারে রাজনীতি! কোথায় যাচ্ছে দেশ!

গোলাম মাওলা রনি:

কোনো রকম ভূমিকা, ভান ভনিতা না করেই শিরোনাম নিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। আজকের বিষয়ের পরিধি অনেক বড়, আমাদের রাজনীতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াতের হালহকিকত জড়িত। জাতীয় পার্টিসহ দেশবিদেশের গোয়েন্দাদের অর্থ-হুমকিধমকিতে লম্ফঝম্ফকারী ছোট ছোট রাজনৈতিক দলও ইদানীংকালে অতিমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সবার ওপরে এখন জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সমন্বয়কদের মতিগতি-কিংস পার্টির গঠন-আগমন ও পরিচালনা নিয়ে নানা রকম তর্কবিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, দিল্লি-ঢাকার শীতল সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণ মিডিয়া-আমলাদের মধ্যকার অস্থিরতা।

খাদের কিনারে রাজনীতি! কোথায় যাচ্ছে দেশ!উল্লিখিত সমস্যা ছাড়াও মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির বিজয়, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনজনিত সমস্যাও বাংলাদেশের রাজনীতির হিসাবকে জটিল করে দিয়েছে। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় এবং হাল আমলে দেশের অভ্যন্তরে চীন ও পাকিস্তানের অতিগুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এবং প্রো-ইন্ডিয়ান সবকিছুই ব্যাক ফুটেজে চলে যাওয়ার মাধ্যমে অর্থনীতি-কূটনীতি এবং রাজনীতিতে তিন ধরনের সমস্যা তৈরি করে ফেলেছে। সমস্যাগুলো ততটা জটিল-কুটিল এবং মহামারি রূপে যেভাবে ক্রমশ বাড়ছে, তাতে করে কেউ চাইলেই সমস্যা থেকে যেমন নিজেকে দূরে রাখতে পারবে না, তদ্রƒপ কোনো মানব-মহামানব কিংবা অতিমানবের সাক্ষ্যও এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। ফলে অন্তহীন সমস্যার জালে বন্দি হয়ে সমস্যার স্রোতে আমরা সবাই মিলে সমস্যার সাগরে পতিত হওয়ার জন্য দুরন্ত বেগে বয়ে চলেছি।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে দেশের অর্থনীতি। এখন যারা সরকার চালাচ্ছেন, তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থনীতি পেয়েছেন, তা রাতারাতি ভালো হওয়ার নয়। অধিকন্তু সামষ্টিক অর্থনীতি সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা-রাষ্ট্রপরিচালনার অনভিজ্ঞতা এবং নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার অস্পষ্টতার কারণে অর্থব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর সেক্টরে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির সব সূচক নিম্নমুখী এবং একটি সূচকের সঙ্গে অন্য সূচকগুলোর সংঘাত শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসে পর্যাপ্ত রেমিট্যান্স এসেছে। এসব অর্থের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে। সরকারের আয় রোজগার না বাড়ার কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে স্থানীয় মুদ্রা সরবরাহ বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে বেতন-ভাতা ভর্তুকি এবং খয়রাতি সাহায্য দিতে গিয়ে মূলস্ফীতি যে কোন পর্যায়ে গিয়েছে, তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আহাজারি-অস্থিরতা দেখলেই অনুমান করা যায়।

করোনাকাল থেকেই জ্যামিতিক হারে শিল্প উৎপাদন কমেছে। কর্মসংস্থান কমতে কমতে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে। হাজার হাজার শিল্পকারখানা-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান। দেশের ব্যাংক-বিমার বিরাট অংশকে রীতিমতো আইসিইউতে রেখে কোনো মতে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইসিইউ সাপোর্ট তুলে নিলে পুরো আর্থিক খাত যেভাবে ধপাস করে পড়ে যাবে, তা হয়তো দেউলিয়াত্বের সব অতীত রেকর্ড ভেঙে ফেলবে। এহেন অবস্থায় নতুন কোনো দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগ নেই- উল্টো গার্মেন্ট সেক্টরে একের পর এক অরাজকতা মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। আমদানি বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে- সরকার চেষ্টা করেও আমদানি বাড়াতে পারছে না। কারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় পণ্য আমদানি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য উৎপাদনঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

আর্থিক খাতের গত তিন মাসের টাটকা খবর হলো- কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে অথবা শূন্য হয়ে গিয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট আওয়ামী লীগের কারও নয়। এসব অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো- অথবা কোটি টাকার বেশি স্থিতি থাকত। দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক হাজার কোটিপতি লোকচক্ষুর অন্তরালে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। মন্দ ঋণ বা খেলাপি ঋণ নিয়ে হররোজ দুঃসংবাদ আসছে। প্রায় সব ব্যাংক নতুন ঋণ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাংকগুলো থেকে যেসব ব্যক্তিগত ঋণ প্রদান হতো তা-ও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অর্থনীতির উল্লিখিত বেহাল মানুষের মনমানসিকতা এবং চিন্তার জগতে নিদারুণ অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে কাউকে সম্মান করা- কারও অনুগত থাকা- কারও প্রতি আস্থা রাখার মতো অতি জরুরি সামাজিক গুণাবলিগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনাস্থা, সন্দেহ-অবিশ্বাস যেভাবে বেড়েছে তাতে করে ব্যক্তিগত পারিবারিক ও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্কগুলো ভেঙে যাচ্ছে। এসব কারণে আওয়ামী লীগবিহীন রাজনীতিতে জামায়াত-বিএনপির সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। আওয়ামী লীগের অনেক দোসরকে অনেকে কোলে তুলে নিতে গিয়ে নিজের বহু দিনের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন লোকজনকে কোরবানি দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো দলের বাইরে যেমন সন্দেহ-অবিশ্বাস-অনাস্থার কারণে দৌড়ঝাঁপ করছে। তদ্রƒপ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যেও নতুন দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ আরম্ভ করে দিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং জামায়াতের অভ্যন্তরীণ অথচ প্রকাশ্যে কিছু দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদের কথা বলব যা পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে হয়েছে এবং এসব সমস্যা দলগুলোর সর্বনাশ ঘটাচ্ছে যা কি না, রাজনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে। শুরুতেই আওয়ামী লীগের কথা বলি, ২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর দলের সভাপতির সব ক্রোধ গিয়ে পড়েছে তাঁর পোষ্য আমলা-কামলার প্রতি। তিনি মনে করছেন, যেভাবে তিনি দলবাজ আমলা-কামলা তৈরি করেছিলেন এবং ওসব দলবাজের বিত্ত-বিলাস-ভোজন-বিনোদনের জন্য অকাতরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার উজাড় করে দিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে বেইমানি করেছে। দ্বিতীয়ত আমলাদের ওপর নির্ভর করার জন্য তিনি নিজ হাতে তাঁর দলের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবদমিত, নির্বিষ, অথর্ব, অযোগ্য ও অকার্যকর করে ফেলেছিলেন। ফলে তাঁর চলমান বিপদে সাহায্য করার মতো দেশবিদেশে একজন নেতাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি অজপাড়াগাঁয়ের প্রখ্যাত ছাত্রলীগকর্মী কিংবা লন্ডন-আমেকিরায় বসবাসরত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সান্ত্বনা লাভের চেষ্টা করে চলেছেন।

শেখ হাসিনার মতো প্রায় একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াও ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর নজিরবিহীনভাবে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে লন্ডনে বসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলের তৃণমূলের সঙ্গে দিনের পর দিন ফোন, স্কাইপি, হোয়াটসঅ্যাপ প্রযুক্তির সাহায্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এসব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা বলা যাবে। কিন্তু আজকের আলোচনায় ওদিকে না গিয়ে ঘটমান বর্তমান এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে কিছু বলি।

বিএনপিতে বেগম জিয়ার প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত প্রবীণ নেতারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁরা বেশ সক্রিয় হয়েছেন, যা কিনা অনেকের মনোবেদনা ও চোখের বেদনার কারণ হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো বন্ধু বা কাছের মানুষ আছে বলে আমরা জানি না। বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতা পদপদবি রক্ষার জন্য অনেক বিষয়ে চুপ থাকেন কিংবা অনেক বিষয়ে কথা বলতে বাধ্য হন। তাঁরা নিজের বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে চমকপ্রদ কোনো কৌশল সেই ২০০৬ থেকে আজ অবধি আবিষ্কার করেছেন, তা যেমন দৃশ্যমান নয়, তেমনি দলের জন্য অকাতরে পকেটে হাত দিয়ে খরচ করেছেন, এমন মহান ব্যক্তির নাম না জানলেও, কমিটি বিক্রির বদনাম দলটির বহু নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে না। উল্টো ক্ষমতায় গেলে কে কী হবেন, এসব নিয়ে অলিগলিতে মুখরোচক কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির সম্মেলন, মহাসচিব পদ, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বেগম জিয়ার বিদেশ গমন নিয়ে দলের মধ্যে হররোজ নানামুখী কথাবার্তা হয়। দলবাজ আমলাদের বাড়াবাড়ি, সিবিএ নেতাদের দখলবাজি, পরিবহন সেক্টর, ঠিকাদারি ব্যবসায় আধিপত্যসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দেওয়া অথবা আওয়ামী লীগের লোকজনের সহায়সম্পত্তি ব্যবসাপাতি এবং চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অবৈধ আয়ের উৎসগুলো কে বা কারা দখল করল, কারা পেল, কারা পেল না, এসব নিয়ে দীর্ঘদিনের মজলুম দলের মজলুম নেতা-কর্মীরা যা করছে, তা রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত।

উল্লিখিত কারণে বিএনপির শীর্ষনেতাদের মধ্যে আগের মতো ভাব নেই। আবার প্রকাশ্য বিরোধও নেই, যা কি না, একটি দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। সবাই কেবল আজকের দিন নিয়ে ভাবছে এবং নগদ নারায়ণের হিসাব করছে। সাধ্যমতো প্রক্সি দিচ্ছে এবং পদপদবি চলে যায় এমন কথা ও কাজ থেকে কৌশলে নিজেদের বিরত রেখে আয়-রোজগারে মনোযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে রাজনৈতিক দলের চিরাচরিত কোলাহলের পরিবর্তে সর্বত্র কেমন যেন খাঁ খাঁ পরিবেশ বিরাজ করছে বিএনপির অফিসগুলোতে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো জামায়াতও বর্তমান সময়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। জামায়াত গতানুগতিক রাজনীতি করে না। ফলে তাদের বিরোধ-বিপত্তি প্রকাশ্যে আসে না। কিন্তু তারপরও জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিধায় ওই দলটি নিয়েও খোলামেলা-আলোচনা করা উচিত। আপনি যদি জামায়াতের বর্তমান আমিরের কথাবার্তা এবং তৎপরতা লক্ষ করেন তবে আপনার মনে হবে- জামায়াত ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে। কিন্তু জামায়াতের অভ্যন্তরে এমন কিছু হচ্ছে, যা কোনো অংশে আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুলনায় কম নয়।

অধ্যাপক গোলাম আযমের জমানায় অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হওয়ার আগে জামায়াতের ব্যবসাবাণিজ্য, ব্যাংক-বিমা অর্থাৎ অর্থব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্টতই দুটো গ্রুপ ছিল। একদিকে প্রয়াত মীর কাসেম অন্যদিকে আবু জাহের। রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রগতিশীল ছিলেন কামরুজ্জামান। আলী আহসান মুজাহিদ, কাদের মোল্লা প্রমুখের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং দলের ওপর প্রভাব ছিল অপরিসীম, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জনপ্রিয়তা, এটিএম আজাহারের দক্ষতা, প্রয়াত মকবুল আহমাদের প্রজ্ঞার চমক ২০১২ সালে থমকে যায়। ২০১২ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক গোলাম আযমের পরিবার, মতিউর রহমান নিজামীর পরিবার এবং মীর কাসেমের পরিবারের লোক