All posts by jitu

কুমিল্লায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার

কুমিল্লায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য ও ট্রাক আটক

কুমিল্লায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য ও ট্রাক আটক

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য ও একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ কটকবাজার পোষ্টের বিশেষ টহলদল পালপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে বিজিবি টহলদল ১৯ হাজার ৪৫০ পিস কসমেটিক্স সামগ্রী, ২০ হাজার ৬৭২ পিস চকলেট এবং একটি ট্রাক আটক করেছে। আটককৃত পণ্যগুলোর মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ ৯ হাজার ৯ শত টাকা।

এটি বিজিবির চোরাচালান ও মাদক বিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আরো একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন

মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন ২১১১ জন

মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন ২১১১ জন

ডেস্ক রিপোর্ট:

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে দুই হাজার ১১১ জন বাদ পড়বেন।

বুধবার, নিজ মন্ত্রণালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ফারুক ই আজম বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কম বয়সী ২ হাজার ১১১ জন মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ যাবেন। তাদের বয়স মন্ত্রণালয় অনুযায়ী ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বহু অভিযোগ এসেছে যে, অনেক ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং সেসব সুবিধা ভোগ করছেন। এটি জাতির সাথে প্রতারণা। আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তালিকাগুলোর বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তবে আমরা চেষ্টা করব, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।”

তিনি জানান, “তবে, তাদের একটি সুযোগ দেওয়া হতে পারে। যদি তারা স্বেচ্ছায় তালিকা থেকে বেরিয়ে যান, তাহলে তারা সাধারণ ক্ষমা পেতে পারেন। না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপদেষ্টা জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা মোট ১,৯৬,৪৫৪ জন, যার মধ্যে বীরাঙ্গনা ৪৬৪ জন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫,৮৯৫ জন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫,৩৩৩ জন এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ৩৬৮ জন। সব মিলিয়ে ভাতাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০৮,০৫০ জন।

এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের সংখ্যা ৮৯,২৩৫ জন এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা ৫৬০ জন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শাকপুর ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, অপসারণ চায় বিভিন্ন পক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় এলাকাবাসি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ এবং অভিভাবকরা। বিগত ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অনেকটা প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, শিক্ষক-কর্মচারি-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ, পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নেয়া এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিরোধীতা করাসহ নানা অভিযোগ উঠে অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম পাটোয়ারি, সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও আবুল কালাম জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠভাজন হওয়ায় এ কে এম ইউসুফকে অবৈধ উপায়ে সকল প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেন তৎকালিন সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল। তৎকালিন এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী (নজরুল) এর সহযোগিতায় অস্ত্রের মুখে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও এলাকার মানুষদের বাধ্য করে বিশাল নিয়োগ বাণিজ্যের বিনিময়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইন্টারভিউর দিনে মারধর করা হয় গভর্নিং বডির সদস্য মাস্টার মোঃ আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া ও ছাদেক হোসেন খন্দকারকে। পরে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ইন্টারভিউ’র দিনে নিয়োগ বোর্ডের ২ জন সদস্য জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা ও সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোঃ জাকির হোসেন নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন না। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে উপাধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না করে জুনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনের রায়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হয়েছে মর্মে রায় প্রদান করা হয়। নিয়োগ রেজুলেশনে গভর্নিং বডির সদস্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বাধ্য করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অধ্যক্ষ পদে এ কে এম ইউসুফের নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের কর্মকান্ডের কারণে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অধ্যক্ষের নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে মাদ্রাসাটি আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। পরীক্ষার ফি, ফরম ফিলাপ ফি, রেজিঃ ফি, মার্কসীট ও সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অধ্যক্ষ মোটা অংকের টাকা নেন, যার পরিমাণ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশী । গরীব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা টাকা দিতে না পারায় তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এই অধ্যক্ষ। অনেক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা দিতে না পেরে মাদ্রাসা ত্যাগ করেছে। নাজমুল হাসান নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী তার ফাযিল (বি.এ) পরীক্ষার সনদের জন্য অধ্যক্ষের নিকট গেলে তিনি তাকে অনেক গালমন্দ করেন। সনদের জন্য টাকা নিয়েও তার সনদ দেননি, বরং দেখে নিবেন বলে হুমকি ধমকি দেন। ফলে নাজমুল হাসানের সনদ না থাকার কারণে চাকুরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দশম শেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ হাসান, আরিফুর রহমান ও ফাযিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তালেব জানান, শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.কে.এম ইউসুফ স্যার বিগত জুলাই মাসে দেশ ব্যাপী সংগঠিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। এমনকি বিগত সময়ে মাদ্রাসার নানা অনুষ্ঠানে তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে বিভিন বক্তব্য দিয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারীদের তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনভাবে শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানাতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। মাদ্রাসার কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের মতামত কিংবা সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ না করলে তিনি নানাভাবে তাদের সাথে অসদাচরণ করেছেন। ছাত্রীরা প্রয়োজনে অধ্যক্ষের কাছে গেলে ছাত্রীদের তিনি অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে বিতাড়িত করেন এবং অসদাচরণ করেন। অধ্যক্ষ মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ পড়েন না। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ একদিন অধ্যক্ষকে মাদ্রাসা মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করতে বলায় তিনি এ ছাত্রের উপর ক্ষেপে যান এবং তাকে মাদ্রাসা হতে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবেন বলে হুমকি দেন।

স্থানীয় সূত্র ও আরো কিছু অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, মাদরাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফ অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব প্রদান করেননি। শিক্ষক-কর্মচারীরা হিসাব চাইলে অধ্যক্ষ বলতেন, শিক্ষক কর্মচারীরা হিসাব চাওয়ার কোন অধিকার নাই এবং হিসাব দেওয়া যাবে না। সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ তাকে বলেন তুই কে হিসাব চাওয়ার ? তুই কাজের বদলা বলে মারধর করার জন্য চেয়ার থেকে ওঠে তেড়ে আসেন এবং বলেন তুকে চাকরি ছাড়া করবো । শিক্ষক কর্মচারীগণ অভ্যান্তরীণ অডিট কমিটি করার জন্য প্রস্তাব করলে তিনি উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন এবং বলেন আমি যা বলবো, তাই শিক্ষক কর্মচারীগণ মানতে হবে। অধ্যক্ষ সাহেব যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কোন টাকা ব্যাংকের জেনারেল ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে নিজেই খরচ করে ভাউচার পাশ করেন। স্থানীয় কোন দাতাদের অনুদানের টাকা গ্রহণ করে রশিদ প্রদান করেন না। এক দুটি ছাড়া আয়ের কোন রশিদ কাটেন নি। অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে কোন উপকমিটি গঠন করেন নি এবং বার্ষিক আয় ব্যয়ের কোন বাজেট তৈরী করেন নি। অধ্যক্ষ সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ক্লাস রুটিন তৈরী করে শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেন। শিক্ষকগণ কারিকুলাম অনুযায়ী ক্লাস রুটিন তৈরী করে অধ্যক্ষকে প্রদান করলে তিনি তা প্রত্যাখান করেন। নতুন কারিকুলামে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ক্লাস ২০২৪ সালের শুরু থেকে এই পর্যন্ত হচ্ছে না,যার প্রমাণ ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিওয়ারী দরখাস্ত রয়েছে । এ অধ্যক্ষ যোগদান করার পর থেকে শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ করার কারনে অনেক ছাত্র-ছাত্রী মাদরাসা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। শিক্ষক কর্মচারীগণ তাঁর এহেন আচরণে খুবই অসন্তুষ্ট । ফরম ফিলাপ ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি, নির্ধারিত বেতন ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা অধ্যক্ষ ধার্য্য করেন যা সরকারি বিধির পরিপন্থী। এই কারনে অনেক ছাত্র/ছাত্রী মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) নাজমা আক্তারকে রুটিনে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্লাস দেওয়ায় নাজমা আক্তার মাধ্যমিক স্তরে ক্লাস দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে অধ্যক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং রাস্তার টোকাই ও বাদুরনি বলে গালমন্দ করেন। বাংলা প্রভাষক রাবেয়া আক্তারকে অফিসে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ বলেন- চাকুরি করতে হলে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে অন্যথায় চাকুরি করতে পারবানা ৷ এতে রাবেয়া আক্তার অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষ তাকে বলেন তুমি রেন্ডি পাড়ার মহিলা, তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দিবো। ইংরেজি প্রভাষক নাজমুন নাহার আখি মনি যানজটের কারনে মাদরাসায় আসতে একটু দেরি হওয়ায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে গেলে তাকে স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তার শরীরে হাজিরা খাতা ছুড়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অনিলচন্দ্র সরকারকে অধ্যক্ষ বলেন হিন্দু শিক্ষক টাউট বাটপার ৷ সরকারের মাথা খারাপ মাদ্রাসায় হিন্দু শিক্ষক নিয়োগ দেয়। সহকারি অধ্যাপক মলিন কৃষ্ণ তালুকদারের নিকট চাঁদা চাইলে তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অধ্যক্ষ তাকে অযোগ্য বলেন। এ সময় তিনি তার সার্টিফিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন বললে অধ্যক্ষ বলেন সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছন থেকে কুড়িয়ে এনেছেন। সহকারী মৌলভী কোহিনুর আক্তারের সাথে অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তিজনক অশালিন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ৩ মাস শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখা হয়, যা বিগত মাস থেকে চালু করা হয়।

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা নজরুল জানান, অধ্যক্ষ সাহেবকে অবৈধ উপায়ে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছের মানুষ হওয়ায় কোন নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি যা বলেন তা এখানেই নিয়মে পরিণত হয়। ১৬ অক্টোবর অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে আন্দোলন করায় অধ্যক্ষ সাহেব বাইরে থেতে সন্ত্রাসী এনে ছাত্রদের মারধর করান এবং ছাত্রীদের ওড়না ধরে টানাটানি করান। উনার অত্যাচারের মাত্রা সীমাহীন। উনার অপকর্মের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতি: জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), মাদ্রাসা অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনো কোন সমাধান হয়নি।

শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফ জানান, আমার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ মিথ্যে । কিছু শিক্ষক দুর্ণীতি করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। উনার নির্দেশমত আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে কোন্দল থাকতে পারে। ফলে এ বিষয়গুলো নিয়ে সবাই বিচলিত। এখানে অনেক অনিয়ম ছিল। আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এসব অনিয়মগুলো দূর করার জন্য কাজ করেছি। অনেকটা অনিয়ম দূর হয়েছে। সকল অনিয়ম দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা কাজ করছি।

স্কুলে ভর্তির লটারি আগামী ১৭ ডিসেম্বর

স্কুলে ভর্তির লটারি আগামী ১৭ ডিসেম্বর

স্কুলে ভর্তির লটারি আগামী ১৭ ডিসেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনকারীদের জন্য লটারি আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধিদপ্তরের আওতাধীন মহানগরী ও জেলার সদর উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অনুসারে, ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে ১ম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী ১৮ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (১/ক, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০) অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সময়সূচি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে।

ভারতের সাথে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: কুমিল্লায় আসিফ মাহমুদ

ভারতের সাথে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: কুমিল্লায় আসিফ মাহমুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সাথে নতুন ধারার পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অতীতের নতজানু সম্পর্কের ইতি টেনে জাতীয় স্বার্থকে আপস না করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচারের জন্য ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তিনি এ ঘটনাকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সুসম্পর্কের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আজ কুমিল্লার বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড)-এর আয়োজনে “আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও গ্রামীণ রূপান্তর” শীর্ষক দুই সপ্তাহব্যাপী আফ্রিকান-এশিয়ান প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বার্ড-এর মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব সাইফ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন আফ্রিকান-এশিয়ান রুরাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (আর্ডো)-এর গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. খুশনুদ আলী।

শ্রীলঙ্কা, মিশর, ভারত, ঘানা, জাম্বিয়া, নামিবিয়া, গাম্বিয়া, পাকিস্তান, ওমান, মালয়েশিয়া, কেনিয়া এবং বাংলাদেশের ২০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) আলোকে পল্লী অঞ্চলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি করাই ছিল দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। আর্ডো-এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নীতিনির্ধারক এবং আর্থিক সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

অধ্যক্ষের পদায়নকে ঘিরে

অধ্যক্ষের পদায়নকে ঘিরে উত্তাল দাউদকান্দি

অধ্যক্ষের পদায়নকে ঘিরে উত্তাল দাউদকান্দি

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কলেজ অধ্যক্ষের পদায়ন ঘিরে উত্তাল দাউদকান্দি। স্থানীয়দের হামলায় ১০ শিক্ষার্থী আহত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও ধারাবাহিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীরা। গত ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

জানা যায়, গত৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন উপজেলার বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজে স্থানীয় যুবদল নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষ জসীম উদ্দিনের অপসারণ চেয়ে কলেজের পাঠাগার ভাংচুর করা হয়। এরপর ছুটিতে চলে যায় অধ্যক্ষ জসীম উদ্দীন।

গতকাল মঙ্গলবার(১০ডিসেম্বর) অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন কলেজে যাবে এমন খবর ছড়িয়ে পরলে কিছু শিক্ষার্থীরা তাকে বরণ করে নিতে উপস্থিত হয় ক্যাম্পাসে। এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পরলে অধ্যক্ষকে কলেজে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না ঘোষনা দিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতার অনুসারীরা লাঠি নিয়ে কলেজ এলাকায় মহড়া দেয়। একপর্যায়ে ছাত্রদের সাথে বাকবিতণ্ডা ও হামলার ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। মঙ্গলবার এই ঘটনায় দুপুর ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপরে শিক্ষার্থীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে।

গতকালের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার(১১ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম বরকোটা কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে হামকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে সামনে কঠোর কর্মসূচির হুসিয়ারী দেন।
এরপরই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধের চেষ্টা করেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাধা দিলে উভয়ের মধ্য হট্টগোলসহ উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাউদকান্দি বিশ্বরোড থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসানপুর কলেজে এসে শেষ করেন।

শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা কে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে ছিলাম, তখন কোন একটি দলের কোন একটি গোষ্টি আসছে। সেই গোষ্টি এসে আমাদের সাথে মিশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে চাইছে। আমরা চাইনি ওরা আমাদের সাথে মিশুক, মিশে আমাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করুক। তাউ আমরা ওদেরকে ফেলে মহাসড়কে চলে আসছি। সড়কের একলাইন খালি রেখে আন্দোলন করেছি। আর সেনাবাহিনী আর আমাদের মধ্যে ভুলবুজাবুজি হয়েছে। সেনাবাহিনী বা আমরা কেউ কারো বিপক্ষ না।

এদিকে ছাত্রদের উপর হামলা কলেজের ঘটনায় দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের যুগ্নআহবায়ক রুহল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে সংগঠনের জেলা সভাপতি ভিপি সাহাবুদ্দিন জানান।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী কলেন, কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিতাসে ছেলেসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

তিতাসে ছেলেসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

তিতাসে ছেলেসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাসে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জগৎপুর ইউনিয়নের কেশবপুর নিজ বাড়ী থেকে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুর ও তার ছেলে জিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তিতাস থানায় দায়ের করা মামলার আসামি মজিব চেয়ারম্যান ও তার ছেলে জিমি।
স্থানীয়রা জানায়, মজিব চেয়ারম্যান ২০২১ সালে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ করে স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়ে ছিল। আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় ওই সময় পার পেয়েছে।

তিতাস থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার ওপর হামলার ঘঁনায় তিতাস থানায় দায়ের করা মামলার আসামি মজিব চেয়ারম্যান ও তার ছেলে জিমি। আমরা মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদেও নিজ বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।