All posts by jitu

কুমিল্লায় গ্যারেজে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ৮০টি ব্যাটারি লুট

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় একটি গ্যারেজে ঢুকে অস্ত্রের মুখে মালিককে জিম্মি করে ১৬টি অটোরিকশার অন্তত ৮০টি ব্যাটারি লুট করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১০ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

গ্যারেজ মালিক মো. মবিন মিয়া জানায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল টিনের বেড়া টপকে গ্যারেজে প্রবেশ করে। তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে চিৎকার না করার হুমকি দেয়। পরে গ্যারেজে থাকা ১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানায়, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকায় আরেকটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশার ব্যাটারি লুটের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু সেই ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফেনীর পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলার সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের সেলিম চেয়ারম্যান বাড়ির জালাল আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ দুলাল (৩৫) এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ভূঁইয়াবাড়ীর নজির আহমেদের ছেলে মানিক (৩৭)।

সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সোনাগাজীর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ওয়াহিদ উদ্দিনের নতুন বাড়িতে আইপিএস মেরামতের কাজ করছিলেন মোহাম্মদ দুলাল। কাজ করার একপর্যায়ে অসতর্কতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নে বিদ্যুতায়িত হয়ে মানিক নামে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ কক্ষে অসতর্কতাবশত বিদ্যুতায়িত হন মানিক। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুলালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন মিয়া জানায়, মানিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

*বাংলাদেশে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল হোম ‘টি স্পোর্টস*

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের কোটি ফুটবল ভক্তের জন্য আনন্দের খবর নিয়ে এলো টি স্পোর্টস। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেলটি। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বড় আয়োজন দর্শকদের দেখানোর এই ধারাবাহিকতা টি স্পোর্টসকে দেশের ফুটবলের আসল ঠিকানা হিসেবে আবারও প্রমাণ করল।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর দিল টি স্পোর্টস। আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের এক নম্বর স্পোর্টস চ্যানেলটি। বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞ নিয়মিত পর্দায় এনে টি স্পোর্টস আবারও প্রমাণ করল—দেশীয় দর্শকদের কাছে ফুটবল মানেই টি স্পোর্টস।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারই প্রথম রেকর্ড ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সর্ববৃহৎ বিশ্বকাপ। আর এই মহাযজ্ঞের প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকদের সামনে নিখুঁতভাবে তুলে ধরবে টি স্পোর্টস।

ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে এক্সক্লুসিভ ফিচার, হাইলাইটস এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টি স্পোর্টস দর্শকদের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার আয়োজন করবে। যা ভক্তদের মাঠের উত্তেজনার একদম কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

টি স্পোর্টসের সিইও ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসব যা সব সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন প্রজন্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে এক সুতোয় গাঁথে। বাংলাদেশের কোটি কোটি আবেগী ফুটবল ভক্তদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই আয়োজনটি নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। টি স্পোর্টসে আমাদের লক্ষ্য শুধু খেলা সম্প্রচার করা নয়, বরং বিস্তারিত কভারেজ, বিশেষজ্ঞদের মতামত, নতুন ধাঁচের অনুষ্ঠান এবং সবার জন্য সহজলভ্য করার মাধ্যমে আমরা একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চাই। আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, দেশের ফুটবল ভক্তরা আবারও ফিফা বিশ্বকাপের জন্য টি স্পোর্টসকেই তাদের আসল ঠিকানা হিসেবে বেছে নেবেন।’

বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা অনন্য। প্রতিটি বিশ্বকাপেই এখানকার রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা ফুটবলের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে, মেতে ওঠে উৎসবের আমেজে। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে টি স্পোর্টস নিশ্চিত করবে যেন দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠ মঞ্চের রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর অংশীদার হতে পারে।

টি স্পোর্টসের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান বলেন, ‘বিশ্বমানের খেলাগুলোকে বাংলাদেশী দর্শকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই টি স্পোর্টসের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপকে দেশের প্রতিটি ফুটবল ভক্তের কাছে সহজলভ্য করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই মাইলফলকটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সম্প্রচারক হিসেবে আমাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সাথে এটি বিশ্বমানের কন্টেন্ট, উদ্ভাবন এবং দর্শকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে আমাদের নিরলস বিনিয়োগেরই প্রতিফলন।’

বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব লাভ করা দেশজুড়ে বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টি স্পোর্টসের যাত্রায় আরও একটি বড় মাইলফলক। মানসম্পন্ন সম্প্রচার, নতুন প্রযুক্তি ও দর্শকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে টি স্পোর্টস বাংলাদেশের ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পে প্রতিনিয়ত নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহোৎসবের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। স্মরণীয় সব মুহূর্ত, ঐতিহাসিক ম্যাচ এবং নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খুঁজে নেওয়ার এই এক মাসের ফুটবল রোমাঞ্চে শামিল হতে দেশের সব ফুটবল ভক্তকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে টি স্পোর্টস।

ডিজিটাল আসক্তি থেকে অপরাধের সুড়ঙ্গ: স্মার্টফোনের আড়ালে কিশোর গ্যাং

বিশেষ প্রতিবেদন:

একসময় কিশোরদের আড্ডা, গল্প আর খেলাধুলা সীমাবদ্ধ ছিল পাড়া-মহল্লা বা স্কুলের মাঠে। যুগের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আড্ডা এখন বন্দি হয়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফেসবুক গ্রুপ, মেসেঞ্জার চ্যাট, টিকটক লাইভ কিংবা অনলাইন গেমিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোই নতুন প্রজন্মের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তির আশীর্বাদের আড়ালেই ডালপালা মেলছে এক অন্ধকার অধ্যায়। যার নাম কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। অপরাধের নীলনকশা তৈরি থেকে শুরু করে মারাত্মক মোবাইল আসক্তি, সবকিছু মিলিয়ে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে বর্তমান প্রজন্ম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংগুলোর দল গঠন, সদস্য সংগ্রহ, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া এবং অপরাধের পরিকল্পনা করার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, গত ছয় বছরে দেশে প্রায় ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশই ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা মূলত ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত।

কোথাও কোথাও গ্যাংয়ের প্রভাব জাহির করতে, অস্ত্রের ছবি প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এবং নতুন সদস্য সংগ্রহেও ব্যবহার করা হয়েছে এই সামাজিক মাধ্যমগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকটক বা ফেসবুকে সস্তা ও সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতাই অনেক কিশোরকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধমূলক পথের দিকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটেরব সহকারী অধ্যাপক — ড. মো. তৌহিদুল হক বলেছেন “আমাদের দেশে এখন যার যেমন খুশি সেভাবেই মোবাইল বা ডিভাইস ব্যবহার করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থীও অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পেয়ে যাচ্ছে।”

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে কিশোরদের আচরণে মারাত্মক নেতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তারা ক্রমে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে তাদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এখন নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ঐতিহাসিক আইন পাস করেছে। আইন অমান্য করলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ফ্রান্সও ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য একই ধরনের বিল পাস করেছে। এ ছাড়া স্পেন, ব্রিটেন, নরওয়ে ও চীনসহ বহু দেশে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ বা ‘মাইনর মোড’ চালু রয়েছে।

ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৯টি দেশে (৪০ শতাংশ শিক্ষা ব্যবস্থায়) স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাসে ফোনের একটিমাত্র নোটিফিকেশনের কারণে মনোযোগ হারালে, শিক্ষার্থীদের পুনরায় পাঠে ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোপুরি প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করা সবসময় যৌক্তিক বা কার্যকর নয়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনলাইন শিক্ষা, জরুরি যোগাযোগ ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এই বাস্তবতায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর আইনের দেশেও ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার কিডস এবং গুগল ক্লাসরুমকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেছেন, অনেক শিশু মোবাইলে ফ্রিল্যান্সিং বা বই পড়ার মতো গঠনমূলক কাজও করে। তাই জেন-জি পরবর্তী প্রজন্মের বিকাশকে অস্বীকার না করে তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। ঢালাও নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কিশোর-কিশোরী সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

এই সংকট থেকে বাঁচতে শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।

কুমিল্লায় পুলিশের ওপর হামলা-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ১৯

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় অবৈধ থ্রি-হুইলার আটকের পর হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও তাদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানান, গতকাল ৯ জুন কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কে উল্টোপথে চলাচলকারী অবৈধ থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে নিমসার আমবাজার এলাকায় একটি অটোট্রলি আটক করা হয়। এ সময় চালক ও তার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রায় ১০০-১৫০ জনের একটি দল সংঘবদ্ধভাবে হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় কনস্টেবল মো. ইউসুফ আলী ও মো. রাব্বি ইসলাম আহত হন। এছাড়া পুলিশের একটি ডাবল কেবিন পিকআপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপারে মো: আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় ডিবি ও বুড়িচং থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

কুমিল্লার বরুড়া বাজারে স্বর্ণ ও কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৫ লাখ টাকা

স্টাফ রির্পোটার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পৌর সদরের থানা রোড এলাকায় স্বর্ণ ও কাপড়ের একাধিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে দোকান মালিকরা দোকান খুলতে এসে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চোরের দল দোকানের উপরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে চুরি সংঘটিত করে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নিকেতন স্বর্ণালয় থেকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের আংটি চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক। এছাড়া বাসন্তী কাপড় ঘর-এর ক্যাশবাক্স ভেঙে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।

অন্যদিকে ব্রজানন্দ কাপড় ঘর-এও চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে দোকান মালিক উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া নূরে মদিনা জুয়েলার্স-এ প্রবেশ করলেও ভেতরের সুরক্ষিত বোল্ট ও লকার ভাঙতে না পারায় কোনো স্বর্ণালঙ্কার নিতে পারেনি চোরের দল।

ঘটনার খবর পেয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি এবং বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আগে কম চাঁদায় পাহারার ব্যবস্থা থাকলেও বাজারে চুরির ঘটনা তুলনামূলক কম ঘটত। বর্তমানে বেশি অর্থ ব্যয় করেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তারা বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বরুড়া বাজারে অপরিষ্কার পরিবেশ: পৌরসভার গাফিলতিতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া পৌর এলাকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র জিরো পয়েন্ট বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মৌসুমি ফল লিচু, আম ও কাঠালের বিক্রির মৌসুমে বাজারজুড়ে ময়লা-আবর্জনার পরিমাণ বেড়ে গেলেও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাজারে লিচু, আম ও অন্যান্য মৌসুমি ফল বিক্রি করেন। ব্যবসা শেষে তারা চলে গেলেও ফলের পাতা, ডালপালা ও বিভিন্ন বর্জ্য বাজারের সড়ক ও ফুটপাতে পড়ে থাকে। ফলে বরুড়া জিরো পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নোংরা ও অপরিষ্কার হয়ে পড়ে। এতে বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আগে নিয়মিতভাবে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রাতের মধ্যেই বাজারের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতেন। কিন্তু ইদানীং সেই কার্যক্রমে শিথিলতা দেখা গেছে। অনেক সময় দিনের পর দিন ময়লা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

একাধিক পথচারী ও ব্যবসায়ী জানান, বাজারের এমন নোংরা পরিবেশ বরুড়া পৌরসভার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাজারের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

বরুড়ায় লাইসেন্সবিহীন হাজি কাচ্চি বিরানি দোকানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে একটি খাবারের দোকানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (০৯ জুন) বিকেলে বরুড়া থানার রোড এলাকায় পরিচালিত অভিযানে **হাজি কাচ্চি বিরানি** নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আইন অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং আইনানুগভাবে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুমিল্লায় নতুন নগর ভবন নির্মাণ নিয়ে মতবিরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিভিন্ন নাগরিক সমাজের মতবিরোধের মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা নগর ভবন স্থাপন নিয়ে সিটি করপোরেশনের মতবিনিময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) অতীন্দ্র মোহন রায় সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নগর ভবন নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের তাদের অটল অবস্থান তুলে ধরেন। তবে নগরবাসীর বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।

সূত্রমতে, কুমিল্লা পৌরসভার প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া মতামতে তারা বলেন, ১৮৬৪ সালের ৩০ নভেম্বর যে স্থানে কুমিল্লা পৌরভবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক স্থান থেকেই নাগরিক সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই নতুন নগর ভবনও একই স্থানে নির্মাণ করা উচিত।

সভার শুরুতে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম তদন্ত কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বর্তমান স্থানেই নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে আবেদন করেছেন। অপরদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নগরের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। দুই পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সরেজমিন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি জানান, আমি তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আপনাদের প্রত্যেকের মতামত শুনব, লিপিবদ্ধ করব এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করব।

সভায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূঁঞা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান স্থানে নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল, আবুল হাসনাত বাবুল, মাসুক আলতাফ চৌধুরী, কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শওকত আলী বকুল, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রায়হান রহমান হেলেন প্রমুখ।

অন্যদিকে ছোট ধর্মপুর এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দেন সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন। এদিকে সংসদ সদস্যের আবেদনের কারণে নতুন নগর ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দরপত্র কার্যক্রম, টেন্ডার সিডিউল বিক্রি ও জমা গ্রহণ আপাতত স্থগিত রয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর দাবি জানান।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্র দলের আয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এর আগে গৌরীপুরে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে জরুরি সভা করে সংগঠনটি।

দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আব্দুল বাছেদ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আসিফ কবির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব ভিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ, গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সওদাগর, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম হাজারসহ দাউদকান্দি ও গৌরীপুর এলাকার বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সভায় সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সম্প্রতি দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মহাসড়কে মিছিল করার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

উল্লেখ, গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির জিংলাতুলি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ ঝটিকা মিছিল করেছে।