All posts by jitu

দাউদকান্দিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৪

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ তিনজন এবং একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সহসভাপতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন (৩৯), মাদক মামলার আসামি মো. তুহিন (২০), গাঁজাসহ তাছলিমা বেগম ওরফে রোজিনা (৩৫) ও জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি নাজিম উদ্দিন নিজাম (২০)।

দাউদকান্দি মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দাউদকান্দি উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেনকে পৌরসভা রিফাত পার্ক থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে পুলিশ উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। গৌরীপুর বাজার থেকে মাদক মামলার আসামি তুহিন নাম এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানা ওসি মো. আবদুল বারী জানায়, আটক আসামিদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বড় আলমপুর এলাকায় একটি বেকারি ও মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন, অননুমোদিত ফ্লেভার ব্যবহার এবং একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের দুধের মোড়ক নকল করে নিজস্ব নামে বাজারজাত করার অভিযোগে ‘মিয়ামী বেকারি’কে জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া।

এই সময় অধিদপ্তরের অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং নমুনা সংগ্রহকারী মো. সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করেন।

কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের দুধের মোড়ক নকল করে নিজস্ব নামে বাজারজাত করাসহ নানা অনিয়মে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: বাসস

ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্ধে খুন সিএনজি চালক হৃদয়, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম চাঞ্চল্যকর সিএনজি চালক হৃদয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

মোটর সাইকেলের সাথে ধাক্কা লাগায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে সিএনজি চালক হৃদয় (২৪) কে গত বুধবার রাতে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হৃদয় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লার ছেলে। গত বুধবার রাত আনুমাানিক ৮টায় চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পরপর বুধবার রাতেই চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের পুত্র নুরুল আমিন পানসি (২৫),একই গ্রামের আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত (২৮), এবং পাশ্ববর্তী গাংরা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (৫৯), কে আটক করেছে। তবে ঘটনার মুলহোতা স্থানীয় যুবদল নেতা রাকিব এখনো আাটক হয়নি। রাকিবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আরও একটি মামলা রয়েছে।

জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে একটি গ্যারেজ সংলগ্ন সড়কে প্রান্তকে মারধরের উদ্দেশ্যে রাকিব তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে রাকিবের বন্ধু হৃদয় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদয়ের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. ফারুক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাদী হয়ে রাকিবকে প্রধান আসামী করে আরও ৬ জনের নাম উল্লেখ করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে রাকিব ও প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকেন। কিছুদিন ধরে রিয়ার সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে এর জন্য প্রান্তকে দায়ী করেন রাকিব। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রান্ত, পানসি ও জসীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি সামনে এসেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিয়া নামের ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

​‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল জুলাই বিপ্লব’

স্পেশাল রিপোর্ট:

​একটি সফল বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান কখনো ধূমকেতুর মতো আলো ছড়ায় না। এটি মূলত সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও লাভার বহিঃপ্রকাশ।

কোনো দেশের গণজাগরণ কেবল একটি দেয়াশলাইয়ের কাঠি নয়, বরং দীর্ঘ বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রজ্বলিত অগ্নিমশাল।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন কেবল ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না, বরং ১৯৪৭ থেকে শুরু করে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭০-এর নির্বাচনের ধারাবাহিক ফসল; ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবও কেবল ৩৬ দিনের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিগত ১৭ বছরের বৈষম্য, দুর্নীতি, লুটপাট এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ।

​​বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে যে জনমত ও গণ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তারই যৌক্তিক পরিণতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন।

এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এবং এর কৌশলগত চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন তারেক রহমান।
বিএনপির দীর্ঘদিনের কাঠামোগত আন্দোলন তৃণমূল পর্যায়ে যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল, তা-ই পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ক্ষোভের সঙ্গে মিশে এক বিশাল গণজোয়ারে রূপ নেয়।

​জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে ২০০১ সাল পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ২০০১ সালের অক্টোবর নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট এক অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করে। স্বনির্ভর অর্থনীতি, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশ পরিচালনার এক নতুন যুগ শুরু হয়। তবে দেশের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশীয় সুশীল সমাজের একটি অংশ, নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক কুশীলবরা একযোগে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যার চূড়ান্ত রূপ ছিল ২০০৭ সালের ১/১১-এর অসাংবিধানিক ও বিতর্কিত ক্ষমতার হস্তান্তর।

​২০০৭ সালের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের ছদ্মবেশী সেনা শাসনের প্রধান লক্ষ্যই ছিল রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে দুর্বল করা। বিশেষ করে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করা। এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে কারারুদ্ধ করা হয়। রিমান্ডের নামে তারেক রহমানের ওপর যে বর্বরোচিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়, তা ছিল নজিরবিহীন।

মূলত তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সেই নির্মম দমনপীড়নের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের মনস্তাত্ত্বিক বীজ রোপিত হয়েছিল।

​২০০৮ সালের একটি বিশেষায়িত নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করে। জনগণের ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নিতে সংবিধানে থাকা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কফিন তৈরির চেষ্টা করা হলে, বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয়।

​পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর কারাবন্দী ও অন্তরিন রাখা হয়। প্রবীণ এই নেত্রীর ওপর রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতা দেশের সাধারণ মানুষের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। দলের এই চরম সংকটের মুহূর্তে হাল ধরেন তারেক রহমান। সুদূর প্রবাসে থেকেও তিনি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে দলকে নতুন করে পুনর্গঠিত করেন এবং সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে আন্দোলনের মহাসড়ক তৈরি করেন।

​২০১৮ সালের ‘রাতের ভোট’ ছিল দেশের ইতিহাসে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণ কৌশলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তৎকালীন সরকারের স্বৈরাচারী ও গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচন করেন। তাঁর এই দূরদর্শী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই বিশ্ব সম্প্রদায় বুঝতে পারে যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে কী ধরনের প্রহসন চলছে। এটি পরবর্তী সময়ে জুলাই বিপ্লবের পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

​দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮২৫টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আসামির সংখ্যা ছিল ৫০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৫ জনেরও বেশি। হাজার হাজার নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে দলটির ১ হাজার ৫৫১ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪২৩ জন গুমের শিকার হয়েছেন। এই অবর্ণনীয় দমনপীড়নের মধ্যেও তারেক রহমানের সুদৃঢ় ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে দলটি ভেঙে যায়নি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে টিকে ছিল।

​২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন বৈষম্যবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের এক দফা আন্দোলনের লিগ্যাসি এর সঙ্গে যুক্ত হয়। তারেক রহমানের স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়ায়, তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয় এবং রাজপথের ফ্রন্টলাইনে থেকে বুলেট ও টিয়ারশেল মোকাবেলা করে। ২০২৪ সালের এই চূড়ান্ত গণ-অভ্যুত্থানেও বিএনপির ৪২২ জন নেতাকর্মী শহীদ হন। মূলত ছাত্র-জনতার বীরত্ব এবং বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের এই যৌথ শক্তিই ৫ আগস্টের রাজনৈতিক মুক্তি ও স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করে।

নিজ কন্যাকে ধর্ষণের মামলার পলাতক আসামি লাকসামে গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ

লাকসাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি মো. রবিউল আলম (৩৫) কে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রবিউল আলমের পিতা মৃত মকরম আলী ও মাতা ছেতারা বেগম। তিনি উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রামের উত্তরপাড়া সরদার বাড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী থানায় নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার পর রবিউল আলম আত্মগোপন করে লাকসামের হারাখাল গ্রামে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুল লাইলীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থানা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বরুড়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ: চরম দুর্ভোগে পথচারী, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া পৌর সদরের ব্যস্ততম চান্দিনা রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। অসমাপ্ত ড্রেন খোলা অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরুড়া বাজারের চান্দিনা রোডস্থ কালভার্টের দুই পাশের ড্রেন নির্মাণ কাজ কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ড্রেনের কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মধ্যে পড়ায় জমির মালিকদের আপত্তির কারণে কাজ এগোতে পারছে না। তবে যেসব স্থানে কোনো বাধা নেই, সেসব স্থানেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের গতি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চান্দিনা রোডের শুরু থেকে হয়দার মার্কেট পর্যন্ত যে অংশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানেও এখনো ড্রেনের ওপর স্ল্যাব বা ঢাকনা বসানো হয়নি। ফলে ড্রেনগুলো খোলা অবস্থায় রয়েছে এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত লোহার রডের ধারালো মাথা বিভিন্ন স্থানে বের হয়ে আছে। কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেখানে পড়ে গেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে ঝলম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কালভার্টের দুই পাশের অসমাপ্ত খোলা ড্রেন বর্তমানে যেন দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ড্রেনে পড়ে নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত খোলা ড্রেনগুলো নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “কিছু স্থানে জমির মালিকরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে সহযোগিতা করলে সমস্যার সমাধান করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া ড্রেনের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত খোলা অংশগুলো ঢেকে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই নির্মাণ কাজ ঝুলে থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। জনস্বার্থে দ্রুত জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বরুড়ার রেনেসা হাসপাতাল ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৩ জন আটক

বরুড়া প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বরুড়ায় রেনেসা হাসপাতাল ভবনের ষষ্ঠ তলায় অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, বরুড়া পৌরসভার নয়নতলা সর্দার বাড়ির মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে সবুজ (৩০), গামারুয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শরিফ (২৫) এবং কাচিয়া পুকুরিয়া গ্রামের শরাফত আলীর মেয়ে তানজিনা (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির একটি কক্ষে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের চুরিকাঘাতে সিএনজি চালককে হত্যা

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি।। 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মো: হৃদয় (১৯) নামে এক সিএনজি চালককে চুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। বুধবার (১০ই জুন) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় চিওয়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েতুল্লার ছেলে।

মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন।

হৃদয়ের বন্ধু প্রত্যক্ষদর্শী শাকতলা গ্রামের রাকিব জানান, রাত আটটার সময় ধোড়করা বাজারের পূর্বপাশে খুচরা দোকান থেকে তেল নিতে গিয়ে সাকতলা গ্রামের মৃত রতন মেয়ে ছেলে আসিফ ও একই গ্রামের নয়নের ছেলে বাদশার মোটরসাইকেলের সাথে একই ইউনিয়নের ঘোষতল প্রান্তের মোটরসাইকেলের সামান্য গসা লাগে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে ঘটনা শেষ হলেও পরবর্তীতে
ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেল যোগে তার গ্রামের রাজিব রিফাত, প্রান্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন বাজারে এসে অবস্থান করে। এসময় সাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর শুরু করে। রাজিবের গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের সিএনজি চালক হৃদয়ের পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে আমি ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সেখান থেকে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন বলেন, আমার ভাই সিএনজি চালক। আজ তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছে থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে আমি জানতে তাকে কিশোরগ্যাং সদস্যরা ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার আকিব মাহমুদ মাহি জানান, হৃদয়কে কিছু লোক রাত সাড়ে নয়টায় হাসপাতালে জরুরী বিভাগের নিয়ে আসে৷ আমরা তার বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে ধালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে তার মৃত্যু হয়।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযানে নেমে পড়েছি। তবে ঠিক কি কারণে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে তা জানারও চেষ্টা করছি।অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে মাটির পিএইচ মান বৃদ্ধি করতে হবে: কৃষি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে মাটির পিএইচ মান বৃদ্ধি করতে হবে। মাটির উর্বরতা বাড়ালে দেশের কৃষি এগিয়ে যাবে। কৃষি দাঁড়ালে এদেশের ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে যাবে বলে কৃষি মন্ত্রী মন্তব্য করেন ।

কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে অম্লতা বেড়ে মাটির উর্বরতা কমে গেছে। মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

মন্ত্রী ১০ জুন রাজধানীর খামারবাড়িস্থ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সম্প্রসারণ মোঃ সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মোঃ হাসান জাফির তুহিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গোলাম হাফিজ কেনেডি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম।

কৃষি মন্ত্রী আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে মাটির পিএইচ মান বৃদ্ধি করতে হবে। মাটির উর্বরতা বাড়ালে দেশের কৃষি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে। কৃষি দাঁড়ালে এদেশের ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে যাবে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।

মাটি ও কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘পৃথিবীর যে দেশগুলো ধনী, তারা বছরে বেশিরভাগ বরফে ঢাকা থাকে। আমাদের দেশে ১২ মাস ফসল ফলে। আমাদের
এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের। এই পৃথিবী আমাদের। চলেন, সবাই মিলে আগামীকে কিছু দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। আমি আশা করি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সবাই মিলে চলেন আমরা এগিয়ে যাই। আমরা সবাই বিশ্বাস করি, আগামী প্রজন্মের জন্য আরেকটা সুন্দর বাংলাদেশ, সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে হবে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

কৃষি গবেষকদের আহ্বান করে আমিন উর রশিদ বলেন, “মাটিকে নতুন করে সাজাতে (পিএইচ মান বৃদ্ধি) হবে। সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একটি গবেষণা ফলাফল বের করতে হবে। এই বছরেই আমি দুইটি জায়গায় গবেষণা করার জন্য বলেছি- এক ফসল থেকে আরেক ফসল ১৫ দিনের গ্যাপ পাবেন। এক বিঘা জমির ওপর আমাকে রিসার্চটা করে দেন। শুধু ৪.৫ পিএইচ এর ভূমিকে চিহ্নিত করেন। তাহলেই হয়ে গেলো, আমি আশা করি, ভালো কিছু হবে।”

মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পেছনে কীটনাশকও অনেকাংশে দায়ী ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, “এদেশে পেস্টিসাইডের অবস্থা দেখেন। আমি মনে করি, ওটা আরেকটা কঠিন জগত, আবহাওয়া ধ্বংস হচ্ছে, ফসল ধ্বংস হচ্ছে, মাটি ধ্বংস হচ্ছে ও মানব স্বাস্থ্য ধ্বংস হচ্ছে। পৃথিবীতে কি পেস্টিসাইড কেউ ব্যবহার করে না? করে। আমাদের গুণগত মান আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।”

চৌদ্দগ্রামে প্রবাসী ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধা মায়ের

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রবাসী ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হয়নি ৯৬ বছর বয়সি বৃদ্ধা মায়ের। ছেলে প্রবাসে থাকার সুযোগে বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে বাাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে পুত্রবধু। বর্তমানে বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে রাস্তায়।এবং নিজ মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে।

উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তার স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশা শুরু হয়। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে মেয়ের বাড়িতেই বসবাস করছেন তিনি। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার চালালেও মায়ের দেখভাল করে আসছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনের মালামালসহ তাকে আবার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমার অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে অনেক বছর আগে ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তার স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও খুবই অসচ্ছল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।