All posts by jitu

সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় মনোহরগঞ্জে ৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় পাঁচটি মামলায় মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর উপজেলার খোদাইভিটা থেকে উত্তর বাজার সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত রোববার (১৬ আগস্ট) থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এবং রাত ৮টার পর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সকল দোকান পাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এ বিষয়ে বুধবার মাইকিং করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

অভিযান চলাকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় ভূঁইয়া ট্রেডার্সকে ৫০০ টাকা, সবুজ বাইককে ৫০০ টাকা, সানজিদা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপকে ৫০০ টাকা, উদয়ন ডিজিটাল সাইনকে ১ হাজার টাকা এবং মামুন গার্মেন্টসকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পাঁচটি মামলায় মোট ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকবে। এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সকল দোকান পাট বন্ধ থাকবে।তবে খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা, ওয়াজ মাহফিলসহ যেসব আয়োজন রয়েছে, সেগুলো রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরে চুল কাটার বিল আড়াই হাজার টাকা: সেলুন মালিককে জরিমানা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে চুল কাটাতে আড়াই হাজার টাকা বিল করার অভিযোগে সিপি হেয়ার জোন নামে এক সেলুনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোড ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিকে আগামীতে এই ধরনের অপরাধ না করা এবং সকল সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

উক্ত সেলুনে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তিনি জানান, চাঁদপুর শহরে সিপি হেয়ার জোনে এক ভোক্তার কাছ থেকে চুল কাটা, শেপ করা ও ফেসিয়ালের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা বিল দাবি করা হয়। পরে তিনি ২ হাজার টাকা পরিশোধ করে সেলুন থেকে বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরে এলে বুধবার অভিযান চালানো হয়।

এসময় সেলুনটিতে সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ যাচাই করা হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সিপি হেয়ার জোনের মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযানকালে আব্দুল্লাহ আল ইমরান আরো জানান, কোনো সেবার মূল্য আগে থেকে নির্ধারিত ও দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন না করে ভোক্তার কাছ থেকে ইচ্ছেমতো মূল্য নেওয়া হলে তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে সেবার মূল্য সম্পর্কে ভোক্তাদের আগে থেকেই অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বরুড়ায় গাঁজাসহ যুবক আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়ায় গাঁজাসহ জহির নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার সুজানগর এলাকার তকদির হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি বরুড়া পৌরসভার পাঠানপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে ভাঙারি মালামালের ব্যবসা করেন। তার শ্বশুরবাড়ি বরুড়া উপজেলার উত্তরপাড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহিরের কাছে গাঁজা পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে বরুড়া থানার এএসআই জুয়েল তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এদিকে জহিরের স্ত্রী জুসনা অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিয়মিত নেশা করেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে মারধর করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন মাস আগেও জহিরকে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি সামাজিকভাবে বিচার-মীমাংসা করা হয়। এরপরও তিনি মাদক সেবন অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরুড়ায় রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ, ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেন ইউএনও

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পুনরায় সতর্ক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দ্বিতীয়বারের মতো বরুড়া বাজার পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাটের কার্যক্রম সীমিত রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রচারের জন্য মাইকিংও করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় বাজারে গিয়ে সতর্ক করা হয়।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগেও সতর্ক করা হয়েছে এবং আজও পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমেও সবাইকে নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করবে। ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রাহ্মণপাড়া মোবাইল কোর্টের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০ জন, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি:

​ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের অপরাধে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।

​অভিযান পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ব্রাহ্মণপাড়া সদরের আব্দুস সালাম (৫০) ও পূর্ব পাড়ার মোঃ রিপন মিয়া (৪০), দধিখুলার হৃদয় মিয়া (৩০), ছাতিয়ানির মোঃ ছোটন মিয়া (২৮), মহালক্ষীপাড়ার কাজী নাজমুল হাসান (৩৫), নন্দীপাড়ার মোঃ রুমান মিয়াজি (২৯), নাইঘরের মোঃ শহীদ মিয়া (৫০), সিদলাইয়ের মোঃ জসিম উদ্দিন (৩০), জিরুইনের মোঃ বাছির বাবুল (৩০) এবং নাগাইশের মোঃ হানিফ মিয়া (২১)।
​
মাদক সেবনের অপরাধে আব্দুস সালাম ও মোঃ রুমান মিয়াজিকে ৬ মাসের এবং মোঃ রিপন মিয়া ও হৃদয় মিয়াকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মোঃ ছোটন মিয়া ও কাজী নাজমুল হাসানকে ১ মাস, মোঃ শহীদ মিয়া ও মোঃ জসিম উদ্দিনকে ১০ দিন, মোঃ হানিফ মিয়াকে ৭ দিন এবং মোঃ বাছির বাবুলকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়।
​
সাজাপ্রাপ্ত ১০ আসামিকে আজ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে মেডিকেল ছুটির আবেদন করে অবৈধভাবে আমেরিকার উদ্দেশ্যে ব্রাজিলে পাড়ি জমালেন দুই সরকারী কর্মচারী!

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পৌর কর নির্ধারক ইমতিয়াজ উদ্দিন প্রকাশ তুষার ও পাম্প চালক লোকমান হোসেন পৌর প্রশাসক বরাবরে মেডিকেল ছুটি চেয়েই আমেরিকার উদ্দেশ্যে কর্মসস্থল ত্যাগ করেছেন। জানা গেছে বর্তমানে এই দুই কর্মচারী দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় চাকুরী করার সময় বিভিন্ন উপায়ে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করে কর নির্ধারক ইমতিয়াজ উদ্দিন প্রকাশ তুষার ও পাম্প চালক লোকমান হোসেন। ইমতিয়াজ উদ্দিন প্রকাশ তুষার পৌর এলাকার পশ্চিম ধনমুড়ি ও পাম্প চালক লোকমান হোসেন পাঁচরা গ্রামের বাসিন্দা। অবৈধভাবে আমেরিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা একটি চক্রের সাথে তারা মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি করে।

সে অনুযায়ী তারা পৌর প্রশাসকের নিকট তিন মাসের জন্য মেডিকেল ছুটির আবেদন করে। যাতে কোন কারণে আমেরিকায় প্রবেশ করতে না পারলে দেশে ফিরে পৌরসভার চাকুরী আবার করতে পারে। বিষয়টি এখন চৌদ্দগ্রাম বাজার ও পৌর এলাকার তাদের পরিচিতজনদের মুখে মুখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেছেন, অসুস্থ্য হলে নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের ছুটি পাবে। তবে অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে কর্তৃপক্ষ সেটি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিবে।

তবে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বুধবার বিকেলে বলেন, ‘দুইজনই মেডিকেল ছুটির জন্য আবেদন করেছে। তবে ছুটি এখনো মঞ্জুর হয়নি। তারা অবৈধভাবে আমেরিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্রাজিল পৌঁছানোর বিষয়টি আমি অবগত নই। অনিয়ম করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’

কুমিল্লায় জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছর কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি আলোচিত মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নওগাঁ জেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে সামাদ ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, এএসসির দিকনির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার কর্নেলবাজার, মঈনপুর, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল বিওপির টহলদল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়।

অভিযানে ভারতীয় অবৈধ বাজি, গরু, বাসমতি চাল, শ্যাম্পু, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, নোনা ইলিশ, ফেসওয়াশ, ব্রাইট ক্রিম, হাইড্রা ক্রিম, অলিভ অয়েল, ফুসকা, মদ ও ইজিবাইক জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, পুশ-ইন, নারী ও শিশু পাচার, মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

হোমনায় ৭ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনে এলাকায় তোলপাড়

হোমনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় না থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করায় এলাকাবাসীর মনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির মা জানান, মেয়েকে না পেয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ঝোপঝাড়ের নিচে মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখেন। তার দাবি, শিশুটির মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাই তিনি হোমনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা আমার মেয়েকে ফেলে রেখেছে তা আমি জানি না। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং এ ঘটনায় আমার কোনো অভিযোগ নেই।

শিশুটির কাকা বলেন, আমার ভাতিজিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কেউ হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাতিজির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিতাসে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাসে মাদকবিরোধী অভিযানে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তিন মামলায় পাঁচজন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বাতাকান্দি এলাকার হাজী আ. বাতেনের ছেলে মো. আবু সাঈদ (৪৫), উত্তর আকালিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আ. মালেক ভূঁইয়ার ছেলে মো. কবির হোসেন (২৮), কড়িকান্দি এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. মনু মিয়া (৬০), দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার হিরন মিয়ার ছেলে মো. ইমন (২২) ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কলাগাছিয়া মোল্লার চর এলাকার কবির ভূঁইয়ার ছেলে মো. সুমন (১৯)। সুমনের বর্তমান ঠিকানা তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি এলাকায়।

অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনার পরিচালনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্টে উপজেলার আলীরগাঁও এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মো. হাবিব (২৫) ও আ. আউয়ালের ছেলে মো. রুবেল (২৫), মৌটুপীর মো. ফিরোজের ছেলে মো. জয়নাল (২৭) ও মধ্য আকালিয়ার মৃত রিয়াজুল হকের ছেলে মো. ডালিমকে (৩৫) আটক করা হয়।

এ ছাড়া দাউদকান্দি থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে তিতাস উপজেলার মৌটুপি এলাকার ছাদেক সরকারের ছেলে নাঈম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা তিনটি মামলায় পাঁচজন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চারজন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।