All posts by jitu

অপহরণের নাটকের আড়ালে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, দাউদকান্দি থেকে শিবির নেতা জিসান প্রধান অপহৃত হননি। এক নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে ১২ জুন দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপহরণের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। জিসানকে উদ্ধারে জেলা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দি এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশ সুপার জানায়, অনুসন্ধানে আমরা জানতে পারি, গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিসান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। এমনকি গর্ভপাত না করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানায়, প্রাণনাশের আশঙ্কায় একসময় তরুণী গর্ভপাত করাতে রাজি হন। এরপর জিসান গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করে তরুণীকে খাওয়ান। পরবর্তীতে গর্ভপাত হলে, তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

পুলিশ সুপার আরো জানায়, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের বিষয়ে চাপের মুখে পড়ে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি জানান। তবে বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাত ৮টার পর তিনি নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে নিজের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে স্বজনদের মাধ্যমে থানায় জিডি করান।

পুলিশের অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে লাকসাম থানা এলাকার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে আত্মগোপনে থাকা জিসানকে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোট আসামি চারজন। মামলায় ভ্রুণ নষ্টে সহায়তাকারীদেরও আসামী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার আরো জানায়, জিসান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

জিসান প্রধান (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কসবায় লাগেজ হারানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক হজযাত্রীর লাগেজ হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার উপজেলা শহরের কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ পালন করতে সৌদি আরব যান। সেখানে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি হারিয়ে যাওয়া লাগেজের বিষয়ে জানতে আড়াইবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত একটি হজ কাফেলা প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাগেজ হারানোর দায়ভার হজযাত্রীর নিজস্ব এবং এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরে শনিবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানা জানান, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চাঁদপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সেক্রেটারী প্রার্থী রবিউল গাজী ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত রবিউল গাজী রবি (২৭) অবশেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।

তার কাছ থেকে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় রবি একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সন্ধ্যা নামলেই কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে হাতে রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত তার অনুসারীরা। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, শাহতলী গ্রামের শান্তকারী, পাইকদী গ্রামের ফারুক খান, ভাটেরগাঁও গ্রামের হৃদয় মজুমদার, কাজী বাড়ির হৃদয় কাজী, পাটোয়ারী বাড়ির শিশু পাটোয়ারী ও বেপারী বাড়ির সাহেদ খানসহ কয়েকজনকে নিয়ে রবি এই অঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিল।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও তরুণ প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, ফলে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাত প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে চাঁদপুর সদর মডেল থানার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভাটেরগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানের নির্দেশনায় এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এসআই আবু নছর নিপুর নেতৃত্বে একটি দল রবিকে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত রবিউল গাজীর বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলীর গাজী বাড়ির নূর গাজীর ছেলে। জানা যায়, রবিউল গাজী রবি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, রবির সঙ্গে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।

চৌদ্দগ্রামে যাকাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন উপহার পেল ২০টি পরিবার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন যাকাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউনিয়নের ২০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ইউনিয়নের খিরনশাল মাদ্রাসার মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশন প্রধান উপদেষ্টা ডা: শফিকুর রহমান, ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা: আব্দুর রহিম, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, ফাউন্ডেশন উপদেষ্টা নুরে আলম মিয়াজী, প্রফেসর ডা: জসিম উদ্দিন মজুমদার, ফাউন্ডেশনের সদস্য ও খিরনশাল ফাযিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা জাফর আহমেদ, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহ-সভাপতি জহিরুল হাসান, ফেলনা মানবকল্যান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এয়াছিন মিয়াজী, ফাউন্ডেশনের সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী সাঈদুল ইসলাম, শাখাওয়াত শামীম, হাফেজ বদিউল আলম, মাঈন উদ্দিন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ডা: বেলাল হোসাইন, শাহিন পাটোয়ারী, আব্দুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, শুভ পাটোয়ারী প্রমুখ।

ইউনিয়নের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে মুন্সিরহাট যাকাত ফাউন্ডেশন গড়ে উঠে।

ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত রমজানের ঈদে ফাউন্ডেশন উদ্যোগে ইউনিয়নের ১০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা জিসান: পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কেউ অপহরণ করেনি, এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে জিসানকে প্রধান করে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়ি যোগে অপহরণ করা হয়েছিল।

জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ২০ মে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় এক নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে তিনি সম্মতি দেন।

পুলিশ আরও জানান, বৃহস্পতিবার জিসান ওই নারীকে বিয়ে না করার তালবাহানায় নিজেই আত্মগোপন করেন। পরে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এদিকে জিসানের নাটকীয় উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। ওই নারী তার বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।

চৌদ্দগ্রামে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় উৎফুল্ল শিক্ষার্থীরা, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পর্যায়ে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং প্রোগ্রাম’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এ প্রতিপাদ্যে শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিযোগিতায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে। প্রতিটি টিমকে সহযোগিতা করে বিজ্ঞান বিভাগের দুইজন শিক্ষক।

বিচারকমন্ডলী প্রকল্প পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মুখে বিস্তারিত তথ্য শুনে বিজয়করা স্কুল এন্ড কলেজকে প্রথম, চৌদ্দগ্রাম হাজী জাফর আলী সরকারি পাইলট মডেল হাইস্কুলকে দ্বিতীয় ও মুন্সিরহাট তাহেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে তৃতীয় ঘোষণা করে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চিওড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বেলাল হোসেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ সালাহ উদ্দিন সজিব, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক বেলাল হোসাইন।

চৌদ্দগ্রাম সরকারি মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুপম সেন গুপ্তের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল্লাহ আল মামুন সাগর, চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের প্রভাষক আহসান উল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। প্রতিযোগিতায় বিজয়করা স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন সকলের নজর কাড়ে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সকল কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চৌদ্দগ্রামে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শতবর্ষী বৃদ্ধার ঠাঁই হলো প্রবাসী ছেলের নতুন ভবনে

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাত হোসেনের হস্তক্ষেপে শতবর্ষী মা ছামেনা খাতুনকে প্রবাসী ছেলের নতুন দালান ঘরে তুলে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১জুন) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাৎ হোসেনের হস্তক্ষেপে পুত্রবধূ রুমা বেগম তাঁকে ঘরে তুলে নেন।

এর আগে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে ছামনা খাতুনের পুত্রবধূ রুমা বেগম শাশুড়িকে নতুন ভবন থেকে বের করে দেন। গতকাল বুধবার এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ায় “ছেলের নতুন ভবনে ঠাঁই হলো না শতবর্ষী মায়ের” বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ইউএনওর দৃষ্টিগোচর হয়।

শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। আজ সকালে আমি আলকরা ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছি।”

আলকরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, “ইউএনও স্যার আমাকে শতবর্ষী ছামেনা খাতুনের বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেন। আমি ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে লক্ষীপুর গ্রামে ঘটনাস্থলে আসি। সেখান থেকে ছামেনা খাতুনকে নিয়ে ছেলে ফয়েজ আহাম্মদের নতুন বিল্ডিং ঘরে নিয়ে যাই।”

আবুল বশর আরও বলেন, এ সময়ে পুত্রবধূ রুমা বেগম আগের ঘটনার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে ছামেনা খাতুনের সঙ্গে আর কোনো অন্যায় হবে না বলে লিখিত মুচলেকা দেন।

কুমিল্লার টাউন হল মাঠে বড় পর্দায় দেখানো হবে বিশ্বকাপ ফুটবল

স্টাফ রিপোর্টার:

আজ রাত থেকে শুরু হচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও প্রতিটি আসরে সারা দেশজুড়ে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে থাকে এদেশের জনগণ। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে সেরকম উন্মাদনা বিরাজ করছে কুমিল্লা জেলাজুড়ে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী থেকে শুরু করে ফাইনাল খেলা পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করার জন্য কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে বড়পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অন্তত ১৪/ থেকে ১৫ হাজার মানুষ এ খেলা উপভোগ করতে পারবে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, কুমিল্লাবাসী ফুটবল প্রেমি। তারা এখন মজে আছে মেসি, নেইমার রোনালদো ও এমবাপ্পেকে নিয়ে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উত্তেজনা, প্রিয় দলের খেলা এবং রোমাঞ্চকর প্রতিটি মুহূর্ত একসাথে উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে চলে আসুন টাউন হল মাঠে। আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং বিশ্বকাপের আবহে মুখরিত হবে পুরো প্রাঙ্গণ। আসুন, একসাথে উপভোগ করি ফুটবল বিশ্বের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।

ব্রাহ্মণপাড়ায় একাধিক মামলার আসামি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

​কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একাধিক মামলার পলাতক আসামি, এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ও মাদক কারবারি মো. শাহীন মিয়া ওরফে গাজী মো. শাহীনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈকত মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন মিয়া ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৫ নং দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর উত্তর পাড়া (স্বপন মিয়ার বাড়ি) এলাকার মৃত স্বপন মিয়ার ছেলে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহীনের বিরুদ্ধে মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালের একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনে।

​পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দায়ের হওয়া ৫টি মামলার রয়েছে। এছাড়াও তিনি সন্ত্রাসী ও মাদক মামলার আসামি তিনি।

ব্রাহ্মণপাড়া অফিসার ইনচার্জ মো: ফারুক হোসেন জানায়, শাহীন মিয়া এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

লাকসামে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে একটি বাসা থেকে নগদ ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা চুরির ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে চুরির আরও চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাকসাম পৌরসভার উত্তর লাকসাম হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ও সালেহা টাইলস-স্যানিটারি ব্যবসায়ী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৯ জুন রাতে ব্যবসার বিক্রয়লব্ধ ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা বাসার স্টিলের আলমারিতে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে আলমারির ড্রয়ার খোলা দেখতে পান। পরে সেখানে রাখা টাকার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাকি ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাকসাম থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে মাসুদ রানাকে শনাক্ত করা হয়। পরে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুল লাইলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুল লাইলী বলেন, চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চুরি হওয়া বাকি টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।