All posts by jitu

কুমিল্লা এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় সুমন (২৫) নামক এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম ক্রসিং থানার (ওসি) মো. ওসমনা গণি।

স্থানীয়রা জানায়, সকালেই নিহত অবস্থায় রাস্তার পাশে এক ব্যক্তির লাশ পরে থাকতে দেখে তারা, ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এবং লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিহত সুমন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।

এই বিষয়ে, লাকসান ক্রসিং থানার (ওসি) মোঃ ওসমান গনি জানান, ৯৯৯ কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এখানে, সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশও আছে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, রোড এক্সিডেন্টে নাকি হত্যা।

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা শহরের মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৭ কেজি গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ২য় মুরাদপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল। অভিযানের সময় কবরী আক্তার (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত কবরী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করে আসছিলেন। তিনি কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানার ২য় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’য় সম্পন্ন হলো জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ‘জুলকান বিটডাউন’

স্পোর্টস রিপোর্টার:

​বাংলাদেশের অ্যামেচার কমব্যাট স্পোর্টসের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর মাইলফলক স্পর্শ করলো অত্যন্ত জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট “জুলকান বিটডাউন” (Zulcan Beatdown)।

১৩ জুন ঢাকার জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এবং তুমুল উন্মাদনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে।

​দুপুর ঠিক ২:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে বক্সিং, মিক্সড মার্শাল আর্টস (MMA) এবং কিকবক্সিং-এর কেইজে (খাঁচায়) নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে প্রথমবারের মতো রিংয়ে নামেন একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ও তরুণী ক্রীড়াবিদ।

​১৮টি হাই-ভোল্টেজ লড়াই ও দর্শকদের উন্মাদনায় এই আয়োজন ছিল জমজমাট।

​দেশীয় কমব্যাট স্পোর্টস প্রতিভাবানদের সঠিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম প্রদানের লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন ওজন শ্রেণীতে পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের মধ্যে মোট ১৮টি রোমাঞ্চকর লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

​খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক লড়াই, নিখুঁত রণকৌশল এবং অদম্য সাহসিকতার সাক্ষী হন হাজারো দর্শক। খাঁচার ভেতরের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেশের মার্শাল আর্টসের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছে।

​কমব্যাট স্পোর্টসের নতুন হাব ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’য় এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​এই ইভেন্টটি বাংলাদেশে কমব্যাট স্পোর্টস সংস্কৃতির দ্রুত বিকাশকে আরও একবার প্রমাণ করলো।
ক্রীড়া প্রেমী, দর্শক এবং প্রশিক্ষকরা খেলোয়াড়দের অসাধারণ স্ট্যামিনা এবং খাঁচার ভেতরের পেশাদার আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এই আয়োজনের মাধ্যমে জুলকান ইনডোর অ্যারেনা আগামী দিনের বিশ্বমানের মার্শাল আর্টস চ্যাম্পিয়ন তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

​ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন তৈরিতে অ্যামেচার ফাইটের গুরুত্ব হবে অপরিসীম। এই
​আয়োজনটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এ প্রসঙ্গে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশন্স মাসুদুর রহমান মান্না বলেন:
​“ভবিষ্যতে প্রফেশনাল ফাইটার পেতে হলে আমাদের অ্যামেচার ফাইটকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রায় সকল কমব্যাট জিমকে সাথে নিয়ে অ্যামেচার ফাইটকে এনকারেজ (উৎসাহিত) করার জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।”

​আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা লড়াকু যোদ্ধারাই একদিন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গৌরবের সাথে তুলে ধরবেন।

ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা

বিশেষ প্রতিবেদক:

দীর্ঘ দুই দশক পর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপি সরকার। দেশের অর্থনীতি যখন এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের নানা নীতিগত স্থবিরতা, দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগে খরা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত—ঠিক তখনই এই বাজেট পেশ করা হলো।

সংকটের এই মুহূর্তে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জনমনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়নে বাজেটে কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

​যেকোনো অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের প্রথম শর্ত হলো সমস্যার সঠিক উৎস চিহ্নিত করা। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেছেন। একই সাথে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি সঠিকভাবেই অনুধাবন করেছেন যে, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে হলে বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই। বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত বেসরকারি খাতই যে অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর মূল চাবিকাঠি, তা এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করা এই বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

​নিয়মনীতি ও আইনি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতা দূর করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

​সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। উৎসে করকে চূড়ান্ত অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবি পূরণ হয়েছে।

এছাড়া শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ০.৫ শতাংশ করা, আগামী ৫ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) খাতে করছাড়ের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই (CMSME) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা ও নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত রাখা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন (E-Loan) চালুর সিদ্ধান্ত প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের উজ্জীবিত করবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে অনেক সহজতর করবে।

​অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। তবে এই পথ মোটেও মসৃণ নয়; বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নীতিগত স্থবিরতা বা ‘আবর্জনা’ পরিষ্কার করা। এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মনে পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনা।

​বিগত সরকারের আমলে দেশের শিল্প খাতে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মব জাস্টিস বা মব সন্ত্রাসের কারণে বহু কলকারখানা বন্ধ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়, যার ফলে লাখ লাখ শ্রমিক রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েন।

বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে।

বিনিয়োগের পরিবেশ এতটাই বিঘ্নিত হয়েছিল যে, দীর্ঘ দেড় বছরে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি। তদুপরি, ব্যাংক ঋণের সুদের হার অস্বাভাবিক বাড়িয়ে বিনিয়োগের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে দেশের অনেক বড় বড় শিল্প গ্রুপ আজ দেউলিয়া হওয়ার প্রান্তে। অনেক কারখানা বন্ধ থাকলেও উদ্যোক্তাদের নিয়মিত ব্যাংকের চড়া সুদ গুনে যেতে হচ্ছে।

​বিগত ১৮ মাসে সব ধরনের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব আমলাতান্ত্রিক টেবিলে ফাইলবন্দি হয়ে ছিল। ফলে বেসরকারি খাত এক অন্ধকার টানেলে আটকা পড়ে। তাই এই বাজেট সফল করতে হলে সেই অচলাবস্থা সবার আগে ভাঙতে হবে।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে প্রতিহিংসামূলকভাবে বহু ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির বিদেশ যাত্রার ওপর অন্যায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বিনা কারণে ২১ মাস ধরে এই ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেশের বাণিজ্য খাতের জন্য নজিরবিহীন ক্ষতি বয়ে এনেছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়নি, যা বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা সংশয় তৈরি করছে। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা জরুরি।

বেসরকারি খাতে একটি সম্পূর্ণ ‘ভয়হীন ও নিরাপদ’ পরিবেশ সৃষ্টি না করতে পারলে অর্থমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।

​অবশ্য সরকার এবারের বাজেটে আমলাতান্ত্রিক হয়রানি বন্ধে কিছু বৈপ্লবিক আইনি সংস্কারের প্রস্তাব করেছে। ব্যবসা শুরুর নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন ও ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ছাড়পত্র না দিলে আবেদনটি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত’ (Auto-approved) বলে গণ্য হবে। কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা থাকবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কাজ শুরু করে পরবর্তী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা সহজ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

​এই উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা বলে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক ভালো উদ্যোগও ভেস্তে যায়। একটি নতুন কারখানা স্থাপনে ভূমি অফিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ ডজনখানেক টেবিল পার হতে হয়। জামানতের টাকা দিয়েও বছরের পর বছর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া এদেশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান নিয়তি। কোনো কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের আচরণ এমন হয়, যেন দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করা কোনো অপরাধ। এই সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন দরকার।

​বাজেটের এই চমৎকার নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে আমলারা সঠিকভাবে মানছেন কিনা, তা কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি টানা যেতে পারে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অনেক আশ্বাসের কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু কর্মকর্তাদের রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে নিজেই সরাসরি মাঠে নেমে বর্জ্য অপসারণ কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি যখন দেখলেন বাস্তবতার সাথে রিপোর্টের মিল নেই, তখন তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর ও কঠোর অবস্থান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর একটি পদক্ষেপ।

​দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে গতি ফেরাতেও ঠিক এমন মাঠপর্যায়ের নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। সরকার লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদানের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মেঠো নীতি’ বা দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে। বাজেট বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সরকারের প্রকৃত ‘অংশীদার’ বা পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ সমন্বয়, ভীতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ-সহায়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই পারে এই মাইলফলক বাজেটকে সফল করতে।

চৌদ্দগ্রামে সিএনজি অটোরিকশা চালক হৃদয় হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে চাঞ্চল্যকর সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ হৃদয়(২৪) হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিওড়া রাস্তার মাথায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক বেরিকেড দেয় বিক্ষোভকারীরা।

চিওড়া ইউনিয়ন সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হৃদয়ের শাকতলা গ্রামের সমাজসেবক নেছার আহমেদ বিডিআর, ব্যবসায়ী ইউনুছ লিপন, আবদুস সালাম বেলাল, প্রবাসী মোঃ শাহীন ও ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ। স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ হোসেন নয়নের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম লিটন, জাকারিয়া সাইফুল, ব্যবসায়ী মোঃ শহীদ, সমাজসেবক জাফর আহমেদ, ব্যবসায়ী হোসনে এলাহী, মফিজুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, মোঃ নয়ন, ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম, আলামিন হোসেন রাকিবসহ শাকতলা গ্রামবাসী ও চিওড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুব সমাজ।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার মুল আসামী মোঃ রাজিবকে আটক করতে প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায়, বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেয় বিক্ষোভকারীরা।

নিহত হৃদয়ের ভাই মোঃ ফারুকের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের শাহাদাত হোসেন আসিফ, আবদুল্লাহ জনি ও মোঃ নয়ন মোটর সাইকেলের জন্য তেল নিতে বুধবার রাত আটটায় ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে জনৈক কাইয়ুমের তেল দোকানে যায়। মুহুর্তেই ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত, রাশেদ ও নজির আহমেদ অন্য মোটর সাইকেল নিয়ে বিপরীত থেকে এসে জনিদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ঝামেলা মিটিং দিলেও প্রান্ত গং আসিফ গংদের প্রকাশ্যে হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে সিএনজি চালক শাকতলা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছেলে মোঃ হৃদয় এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনে। একপর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের রাজিব, পানসি ও ডিমাতলী গ্রামের বিজয় প্রকাশ রিফাত মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাত হোসেন আসিফ ও আবদুল্লাহ জনিকে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।

তখন সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ হৃদয় হামলাকারীদের কবল থেকে আসিফ ও জনিকে রক্ষার চেষ্টা করলে মোঃ রাজিব তার কোমর থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে স্বজোরে হৃদয়ের বুকের ডান পাশে পাজরের নিচে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে চিৎকার দিয়ে রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়ে এবং মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটপট করতে থাকে।

এ সময় তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন হৃদয়কে ধোড়করা বাজারে অবস্থিত রেক্স ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে নিয়া গেলে চিকিৎসক হৃদয়ের অবস্থা আশংকাজনক দেখে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান দেন।

পরবর্তীতে হৃদয়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় রাজিবকে প্রধান আসামী করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃতরা হলো; চিওড়া ইউনিয়নের ঘোষতল গ্রামের নজির আহাম্মদের পুত্র নুরুল আমিন পানসি, আফতাব উদ্দিন খন্দকারের ছেলে তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত ও জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে জসিম উদ্দিন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় রিয়া নামের এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে আলামিন হোসেন রাকিব ও তাহমিদ আহমেদ খন্দকার প্রান্ত নামে দুই যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রিয়ার স্বামী প্রবাসে থাকে। কিছুদিন ধরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তকে দায়ী করে রাকিব। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

শনিবার বিকেলে মানববন্ধন চলাকালীন উপস্থিত চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিএনজি চালক হৃদয় হত্যাকান্ডের মূল আসামী রাজিবকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করা আপনাদের অধিকার। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে। মূল আসামী রাজিবসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

কুমিল্লায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৬ কর্মী আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার লাকসামে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ১৬ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আটককৃত ১৬ জনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে হাউজিং এলাকা, লাকসাম জংশন, পশ্চিমগাঁওসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিছিল করার সময় তাদের আটক করা হয়।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সন্তানদের রাস্তায় চলাচলের সময় বিনা অপরাধে আটক করে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে প্রিজনভ্যানে করে আটক ১৬ জনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

চৌদ্দগ্রামে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করতে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাশন ও উপজেলা বন বিভাগের উদ্যোগে আজ শনিবার দুপুরে (১৩ই জুন) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর চৌদ্দগ্রামে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ) আমির এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসাইন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সেক্রেটারি ইন্জিনিয়ার মোঃ শাহআলম রাজু, পৌর সভাপতি মোঃ তাহের পলাশী, প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপি নেতা মোঃ দুলাল, হাসান শাহরিয়ার খাসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

দাউদকান্দিতে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানাধীন মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজার প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আবু হানিফ (৩০) শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার রশিদ হাওলাদারেরকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়িতে থাকা আবু হানিফকে গ্রেফতার করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা ও জব্দকৃত প্রাইভেটকারের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দাউদকান্দি মডেল থানা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু রেখে যাওয়াই আমাদের দায়িত্ব: কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, সমাজ ও মানবকল্যাণে যারা নিবেদিতভাবে কাজ করছেন, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, মানবিক ও বাসযোগ্য সমাজ রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কুমিল্লা কবি নজরুল ইন্সিটিটিউট কেন্দ্রে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ আমরা পূর্বসূরিদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। তাঁদের সৃষ্ট ইতিবাচক কর্ম ও অবদানের কারণেই আজ আমরা একটি উন্নত ও পরিচ্ছন্ন সমাজে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছি। সমাজে নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সমাজের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষকে নিজের অবস্থান থেকে সমাজের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। অন্যকে ভালো হওয়ার আহ্বান জানানোর আগে নিজেকে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। অতীত থেকে আমরা যা পেয়েছি, আগামী প্রজন্মের জন্য তার চেয়েও উন্নত কিছু রেখে যাওয়ার প্রত্যয় থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদান ও বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লার পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘গুণীজন সম্মাননা-২০২৬’ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।

এ বছর সম্মাননা লাভ করেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল, চিকিৎসা ও মানবসেবায় অবদানের জন্য ডা. আব্দুল লতিফ, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকার জন্য জামিল আহমেদ খন্দকার, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য ডা. গোলাম শাহজাহান এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বদরুল হুদা জেনু।

বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ইয়াসমিন রীমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, সিপিবি নেতা শেখ আবদুল মান্নান, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. তরিকুল ইসলাম, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজ, দৈনিক শিরোনামের সম্পাদক নীতিশ সাহা, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান, অজিত গুহ কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আগামি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন বরুড়ায়

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বরুড়া উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের আয়োজনে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বরুড়া বাজার কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল ইসলাম স্বপন, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরীসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অন্যতম মাধ্যম। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করার আহ্বান জানান তারা।