All posts by jitu

​ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ৩ যুবকের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে তিন যুবককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার সিদলাই ও চান্দলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার সিদলাই গ্রামের মুছলেমের ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৪), একই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৪৩) এবং চান্দলা গ্রামের মো. মতিন খানের ছেলে মো. রুবেল (২৬)।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিংকন কুমার নাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে তাঁদের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”

​ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে আজ বিকালেই আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লাসহ ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লাসহ দেশের ১২ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অনুষ্ঠান শেষে হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ ছবি ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠান শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ বা মধ্যমা প্রদর্শনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফ্যাসিবিরোধী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এই বিতর্কিত ও সাহসী অঙ্গভঙ্গিটি প্রদর্শন করেছেন বলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক দাবি করা হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

জানা যায়, প্যানেল আলোচনা শেষে অক্সফোর্ড থেকে বের হলে যুক্তরাজ্যের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের তোপের মুখে পড়ে হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তারা হাসনাথ আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্যে করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় গাড়িতে হাসনাত আবদুল্লাহ মধ্যমা (মিডল ফিঙ্গার) প্রদর্শনের একটি ছবি ধারণ করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সাধারণ নেটিজেনদের একাংশ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এই অঙ্গভঙ্গি নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। একজন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য হিসেবে এই ধরনের অঙ্গভঙ্গি কতটুকু সমীচীন, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক চলছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছবিটির বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, বরুড়া পৌরসভার উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল (১৪ জুন) বরুড়া পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি।

এ সময় তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিনুর রহমান খান, পৌর হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, প্রধান সহকারী সগির হোসেন, বাজার পরিদর্শক শাহজান মিয়া।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জামান হানিফ, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনির হোসেন সহ বরুড়া পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বরুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

বক্তারা সকল নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার এই জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

কুমিল্লায় পুকুরের পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় পুকুরের পানিতে পড়ে খালেদ (১৮ মাস) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রোববার (১৫ জুন) উপজেলার মহেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খালেদ ওই গ্রামের মহিন উদ্দিনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খেলাধুলার একপর্যায়ে শিশুটি সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মে মাসে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ হাজারের বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ফলে রোগীদের আস্থা বাড়ছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ হাজারেরও বেশি রোগী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে ১২টি অপারেশন ও ৩৫টি নরমাল ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। স্থানীয়দের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মান, রোগীদের খাবারের গুণগত মান, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, মে মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে (আউটডোর) ১১ হাজার ৩১১ জন, জরুরি বিভাগে ৬৫৩ জন এবং ভর্তি হয়ে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া একই সময়ে ১২টি বিভিন্ন ধরনের অপারেশন, ৩৫টি নরমাল ডেলিভারি, ১৪৮টি এক্স-রে, ১২১টি ইসিজি, ১৬৫টি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ১ হাজার ৫০টি প্যাথলজি পরীক্ষা এবং ২১টি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, “বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও চক্ষু চিকিৎসার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। রোগীরা এসব সেবা বিনামূল্যে গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা ইসিজি সেবা এবং অফিস সময়ের মধ্যে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জনসাধারণকে মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্তমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, বক্তব্য এক্সপাঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার বক্তব্যের মাঝে বিরোধীদলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গণমুখী’ বলে আখ্যায়িত করেন। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই লাইনের সার্ভে করিয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এটি করতে দেননি।

২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একটি অনুষ্ঠানে আমিসহ অনেতে ফ্যামিলিসহ দাওয়াত দিয়েছিল. আমি বউ নিয়ে যাইনি। আমি কখনো বউ নিয়ে অনুষ্ঠানে যাই না। ঐ অনুষ্ঠানে গিয়ে দিখি ‘একটা কিছু হাঁটাহাঁটি করতেছে’। তিনি তখন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে বললাম তাহের ভাই, ভাবি কই?’ বললেন যে, এই যে। বললাম, আপনি যে বদলায় আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝব?

তিনি, নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে অত্যন্ত ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। তার মুখে এমন মন্তব্য শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। তখন পুরো অধিবেশন কক্ষ জুড়ে হট্টগোল শুরু হয়। ওই সময় স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মনিরুল হক চৌধুরীর এই আচরণের মুখে স্পিকার তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা না বলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়। এই তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে, তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে সংসদে চরম হট্টগোল ও বাদানুবাদ শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ওনাদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। ১৯৬৮ সনে গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকায় আন্দোলন করেছি। আমি স্বীকার করি, জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, আপনারা লেখাপড়া করে রাজনীতি করেন।’

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

ব্রাহ্মণপাড়ায় ইয়াবাসহ তরুণ-তরুণী গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ এক তরুণ ও এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

​পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) জসিম উদ্দিনের মাদকবিরোধী বিশেষ নির্দেশনার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের মোছাঃ ফাতেমা আক্তার (২৭) এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের কান্দারপাড় গ্রামের মোঃ সোহেল রানা ওরফে কালা (২২)।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ মাহতাব হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া-শশীদল প্রধান সড়ক সংলগ্ন জসিম রোডের মাথায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের যে মাদকবিরোধী তৎপরতা, তারই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আজ রোববার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

হোমনায় গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার হোমনায় ৩০ কেজি গাঁজাসহ সৈয়দ কামরুল হাসান রনি (৩২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বহনকারী একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়।

রোববার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সাদ্দাম বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটককৃত সৈয়দ কামরুল হাসান রনি (৩২) কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার গোয়ালবাড়ি গ্রামের ছেলে।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, ‘এ ব্যাপারে মাদক আইনে থানায় মামলা হয়েছে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বাজেট বাস্তবায়নের ত্রিমুখী পথনকশা: অর্থ পাচার রোধ, দুর্নীতি দমন ও জনসচেতনতা

বিশেষ প্রতিবেদক:

সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি খুবই তাৎপর্যপূর্ন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ক্রান্তিকালে এটা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার এক অনন্য সমন্বয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটে ‘জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন’ ঘটেছে। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের এই সময়ে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এক সাহসী প্রয়াস চালিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, সুষম উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, তেল, চিনিসহ ৬০টি মৌলিক পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।

এছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিকল্পনা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।

তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বেশ কঠিন। রাজস্ব ঘাটতি হলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ বাড়বে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি করছেন, তা বজায় থাকলে এই চ্যালেঞ্জ জয় করা অসম্ভব নয়। মূলত তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করতে হবে। যেমন:

১. কর আদায়ে জনসচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তন:

আমাদের দেশে কর দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্ষমতার চেয়ে মানসিকতার অভাব বড় বাধা। কর নেটওয়ার্ক বাড়াতে জনগণকে বোঝাতে হবে যে এই দেশ তাদের এবং তাদের করের টাকাই দেশের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। এই সচেতনতা তৈরিতে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে যদি এই জনসচেতনতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

২. দুর্নীতি ও অপচয় রোধ:

গবেষণা বলে, বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে নষ্ট হয়। বর্তমান সংকটকালে এই অপচয়ের ছিদ্রগুলো বন্ধ করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বেই নিজের কার্যালয়ের ব্যয় সংকোচন এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মাঠপর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারলে করদাতারাও আশ্বস্ত হবেন।

৩. অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার:

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা) অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনেও এই ভীতিপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দেড় বছরের মেয়াদে অর্থ উদ্ধারে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, উল্টো তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এখন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। বিএনপি সরকারকে বিগত আমলের সব অর্থ পাচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তা ফেরত আনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নতুন করে যেন অর্থ পাচার না হয়, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, আপাতদৃষ্টিতে এই বাজেট বাস্তবায়নকে যারা কঠিন মনে করছেন, তারা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতাকে হয়তো খাটো করে দেখছেন। তারেক রহমানের প্রতি জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তার ওপর ভর করে এই ত্রিমুখী কৌশল সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য।